| 21 এপ্রিল 2024
Categories
এই দিনে কবিতা সাহিত্য

সেবন্তী ঘোষের গুচ্ছকবিতা

আনুমানিক পঠনকাল: 2 মিনিট

আজ ১৯ মার্চ কবি সেবন্তী ঘোষের শুভ জন্মতিথি। ইরাবতী পরিবার কবিকে জানায় শুভেচ্ছা ও নিরন্তর শুভকামনা।


 

নেটিভ

আস্ত বেকারি যেন, কান্ট্রি স্বাদে
ধোঁয়া-ওঠা পাঁউরুটি, কেকপ্যান
পরিজ সেদ্ধ আলুখানি
সাজানো ক্রুশ কাজে ছিমছাম
নিখুঁত গৃহিনীপনায় ডাইনিং হলে
‘আয়ালোগ’ ‘খানসামা’ হিমশিম খান
ভিতরে দাসীরা জানে ফিশ কারি সহ
দ্বিপ্রহরে মেমসাব ভাত ঘুমে যান

 

 

হিল স্টেশন

কাঠের মেঝে জুড়ে হিলের শব্দের মতো
খসখসে পর্দার, শাটিনের নচ্ছার জামেওয়ার
যে যার ন্যানির কাছে প্র্যাম ছেড়ে কুয়াশার মোড়ে
বার, ক্লাব একঘেয়ে, চড়াই-উৎরাই, কদাচিৎ ডুলি,
কেচ্ছা ঢলানি, হোম ছেড়ে আসা সদ্য যুবতীর
পরকীর্তনে রাত শেষ হয় যেন উলের গোলায়
সানডে প্রেয়ারে কেউ মাথা ঠোকে, ঝরে যায় কেউ
ফলকে তাঁদের নাম, ঢেকে যায় গোলাপ লতায়

 

 

সহ্য

অপেক্ষার জন্য একটা
দীর্ঘ শীতকাল পেরোতে হবো।
প্রেতকালও বলা যাবে তাকে-
নিজেরা নিজেদের খেয়ে ফেলেছি তখন,
আত্মারা কেটে নেওয়া গাছের শ্মশানে
হতভম্ব হয়ে বসে আছে!

শরীরই পাচ্ছে না য়ে আবার থিতু হবে।
মাটি জল ফুল সব চেপ্টে গলে
মণ্ড পাকানো পাঁক!

আহা! একটা কাম ক্রোধ দুঃখময়
শরীর না পেলে আত্মার চলে, বলো?
খলবল করা মুণ্ড, না শিশ্ন,
না হৃদয়ের বালকদল-
খিলখিল করা, না স্তন, না জন্মদ্বার,
না মুঠির আঙুল বালিকা-
তোমার ঘাড় কামড়ে ধরছে,
তোমার গর্ভ ফাঁক করে উঁকি দিচ্ছে
শেষ ট্রেন ছাড়ার মতো,

সীমান্ত দেশভাগে গাদাগাদি করা
শোক আর ক্ষমা বিবাগী দুই ভাইবোন,
ছেড়ে চলে যাচ্ছে এই শরীর,
পারো তো ধরে রাখো,
পারো তো তুমিই একটা ফাটল হয়ে
ওদের টেনে নাও,
সারাদিনমান এমন ধ্বংসের অপেক্ষা,
এতো সহ্য, সোজা আর কী বলো?

 

 

 

ওল্ড সিমেট্রি, দার্জিলিং

ওই আঠারশো সাতষট্রি, দুটি কাচের মতো ডানা মেলে তিরতিরে হাওয়ায় মাথা
দুলিয়েছো আশ্বিন, নির্মম মাস আমার- ধুনকির হুঁশ নেই, এমন রোদ ঝিমিয়ে নামছে
কর্কশ ঘাস গুচ্ছের কষায় গন্ধে- দু-চারটে পিঁপড়ে ঘাসফড়িং ঠেলে বুকে ভরে উঠিয়ে
নিচ্ছো শ্বাস, সবে দু-দিনের জীবন বই তো নয়!
পাথর ফাটিয়ে তোমার ফ্যাকাশে গোলাপ ত্বক হাসছে, যেভাবে একদিন বছর বাইশ,
রোজলিন লয়েড, এই ফাটলের তলায় চলে গেছিলে ছুরির বিনম্র আঘাতে-

ঘুমোতে এসেছে এখানে চাঁদের আলো, নির্লজ্জ, ঘাড়ত্যাড়া- নির্ঘুম পরীরা সব উঠে
বসেছে, স্টিলেটো আর ভিক্টোরিয়ান ঘাঘরা ছাড়িয়ে কচি পায়ের গোছে শ্বেতী হয়েছে
ভেবে চোখ বুজে ফেলছে ঘোড়াওয়ালা- হুকোবরদার-
পরোয়া নেই ওদের- কান্ট্রি চিজের মতো তুলতুলে জঙ্ঘা ঝলসে যাচ্ছে হাসির
হুল্লোড়ে- ভার্জিন কুইন মেরি- বেলের আওয়াজ অস্পষ্ট থেকে ক্রমে ঘোড়ার খুরের
মতো দৃঢ় হয়ে উঠেছে-

থোকা থোকা ফুল পড়েছিল, তাদের প্র-মাতামহীদের মতো পুষ্ট, শীতে উষ্ণ
ফুলের গুচ্ছের ওপর পায়ের ছায়া ফেলে যাচ্ছিল এমন সন্তর্পণে, মনে হল, নিশ্বাস
ছাড়ছে যেন মৃত ফুল,
চেককাটা স্কার্ট আর হাইল্যান্ডার, বিউগলের একঘেয়ে সুরে মুড়ে রাখছিল মেঘের
কম্বলে মোড়া নেটিভ কুইন-
রেল লাইন আর ম্যালরিয়ার পেটে যাওয়া ভাগ্যান্বেষীর ভীড়ে মার্বেল স্ল্যাবের যোগান
দেখতে দেখতে ডুলি নামছিল কৌতূহলী দেশী রমণীদের-
পিছনে পিছনে বাবু বাঙালি

 

 

 

অ্যাসিড

ঝুটো মালা, রং কানেকশন, দৈবাৎ মিলন- এই মর্গের
মতো মল-এ হাতে হাত, গলায় মিলেছে গলা, যেন একই
উদরে আহ্লাদে এসেছি দুইজনা!
কেউ কারো না। এর বউ হা-পিত্যেশে
বসে, ওর ভিনদেশে স্বামী ছবিতে চুমু ঠেকাচ্ছে! কেউ কাউকে
‘হ্যাঁ’ বলছে না, কেউ কাউকে ‘না’-ও না। সাঁকোর মাঝে
অবলীলায় দুলছে শুধু বোতল, তীব্র, অ্যাসিডময়-

 

 

 

 

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত