| 29 ফেব্রুয়ারি 2024
Categories
কবিতা সাহিত্য

৫টি কবিতা

আনুমানিক পঠনকাল: 3 মিনিট

আমার অপরাধসমগ্র


আইনের চোখে সবাই সমান না হলেও
করোনা’র চোখে কিন্তু সবাই সমান।  
করোনা ধনী গরীব দেখে না
করোনা হিন্দু মুসলিম চেনে না
করোনা জাতপাত মানে না
করোনা এমপি মন্ত্রী গোনে না!
করোনা তাই অসাম্প্রদায়িক সাম্যবাদী ভাইরাস।

এর থেকে তুমিও নিরাপদে নেই; নেই আমিও
যে কোনো সময় আমরা আক্রান্ত হতে পারি
পতিত হতে পারি মৃত্যুর মুখে।  
এখনও কী তুমি অভিমানে বসে থাকবে?
হাজার বছর আগের পুরনো কথা মনে রেখে দূর দূর করে তাড়িয়ে দেবে?
“মরে যাব তবু ওর সাথে আর কথা নয়” -এইসব দেমাগী কথাবার্তা এখনও কী বহাল রাখবে?

যদি মরে যাই কিংবা এই যাত্রায় বেঁচে ফিরি
তবে কী লাভ এই আত্মঅহংকারে?
কী লাভ হিংসা আর ক্রোধের দাবানল বুকে রেখে?
তুমি কী প্রতিনিয়ত লালন করে যাবে না অশান্তির অনল?

হে আমার প্রতিবেশী, ভাইবোন, বন্ধু ও স্বজন
আমার অপরাধের খতিয়ানের লিস্টি দেখাও দেখি..
আহা; বেশ লম্বা লিস্টি দেখছি!
তবু আজ কোনো তর্ক নয়
নয় সত্য মিথ্যা যাচাইয়ের ক্ষণ
আসুন এক এক করে সব ভুলে যাই
নিঃশর্ত ভুলে যাই পুরনো সব বেদনার ক্ষত।
ভুলে যাওয়া কঠিন কিছু নয়-
শুধু মন থেকে একবার সরি বলতে হয়
অনুতপ্ত হৃদয়ে শুধু একবার ক্ষমা চাইতে হয়।

আর যদি এ যাত্রায় বেঁচে যাই তবে আসছে বইমেলায়
তোমাদের লিস্টি নিয়ে বের হতে পারে “আমার অপরাধ সমগ্র।”


নতুন সকালের প্রত্যাশায়


“গলিত স্থবির ব্যাঙ আরো দুই মূহুর্তের ভিক্ষা মাগে
আরেকটি প্রভাতের ইশারায় অনুমেয় উষ্ণ অনুরাগে”
———————জীবনানন্দ দাশ

আমরা কেউ মরতে চাইনা। খুব করে চাই বেঁচে থাকতে। আর কিছু নয় শুধুই বেঁচে থাকা। জীবনের অন্তিম লগ্নেও চাই আরো কিছু মূহুর্ত, আরেকটি নতুন সকাল। অর্থ, সম্পদ, যশ, মান সব কিছুর বিনিময়ে  হলেও চাই বেঁচে থাকতে। সারাদিন যিনি চিন্তা করেন পরকাল নিয়ে,
তুলসীর মালা জপেন, নিত্য পূজা আর্চা দেন, ধর্মকর্ম করেন বেশ সাড়ম্বরে। স্বর্গের সুমিষ্ট ফল, বাগান, জল, আহারের কথা ভাবেন সতত।
আর অন্যদেরকে বলেন, ইহকাল কিছু না; পরকালের জীবনডাই আসল।
কিন্তু সেই আশি বছরের অতশীপর বৃদ্ধও চান না মরে যেতে। অসুখ হলেই বলেন তাড়াতাড়ি ডাক্তার ডাক খোকা!
একমাত্র মৃত্যুই তো ত্বরান্বিত করতে পারে স্বর্গের টিকিট
অথচ সে পথে পা বাড়ায়না পরকাল প্রিয় একজনও!


বোকা মানুষেরা


আমি বহু প্রাণীকে খুব কাছ থেকে দেখেছি
করেছি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ
গভীর মনোযোগে দেখেছি তাদের
দৈনন্দিন কার্যাবলী
না, তাদের কখনো কোনো প্রার্থনা করতে দেখিনি
তাদের কোনো ঈশ্বর নেই।
হয়তো মানুষের মত তাদের নেই কুট বুদ্ধি
তাই প্রয়োজন পড়েনি কোনো কল্পিত ঈশ্বরের ।
তবে তাদের আছে একতার শক্তি
যা ওই কথিত ঈশ্বর অপেক্ষা ঢের শক্তিশালী
জগতের সকল প্রাণী তা যত ক্ষুদ্রই হোক না কেন
তারাও দল বেঁধে চলে
দূর্যোগ ও বিপদে তারা সদা পাশে থাকে
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়
মানুষও একসময় দলবেঁধে চলত
তারপর যখন আমদানি হল ঈশ্বরের, আমদানি হল হাজার দেবদেবীর
তারপর তারা দল, উপদল, জাতি, ধর্মে, বর্নে, গোত্রে, বংশে বিভক্ত হয়ে পড়ল
তখন তাদের প্রথম পরিচয় আর মানুষ থাকলো না
তার আগে চলে এলো এইসব গোত্র পরিচয়।
আর মানুষ মর্যাদার দিক দিয়ে ভাগ হয়ে গেলো প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ.. স্তরের কাতারে
এভাবে তাদের শক্তি গেলো কমে।
এখন মানুষকে হত্যা করতে তাই কোনো এলিয়েনের দরকার পড়ে না
এইসব দল উপদলের মধ্যে সংঘর্ষ করে নিজেরাই মরে।

হায়; অন্য প্রাণী অপেক্ষা মানুষ কত বোকা!!


মানুষ বড় স্বার্থপর


এক একটি দূর্যোগ আসে আর তা যেনো স্মরণ করিয়ে দেয়
ওহে মানুষ; তোমরা কত অসহায়!
অথচ আমরা নিজেরাই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জীবের তকমা লাগিয়ে-
উপেক্ষা করছি পৃথিবীর তাবৎ প্রাণীকূলকে।
আমাদের চাহিদা অার স্বার্থের কাছে
জিম্মি হয়ে গেছে অন্য সকলে।
আমরা ভুলে গেছি পৃথিবীটা শুধু আমাদের নয়।
এর অংশীদার ঘাসফড়িং, পিপড়া, পশু পাখি, সবুজ ঘাস, গাছপালা এমনকি অ্যামিবাও।

জলজ প্রাণীদের অধিকারের কথা তোয়াক্কা না করে
আমরা নদীগুলোকে হত্যা করেছি পরিকল্পিতভাবে
খাল বিলের অস্তিত্ব বিলীন করে পুকুরকে পরিনত করেছি এক একটি ভাগাড়ে।
আমাদের লোভের কারণে উজাড় হয়েছে বনভূমি
কেড়ে নিয়েছি বন্যপ্রাণীদের অভয়াশ্রম।
আর কত প্রাণীকে যে করেছি বিলুপ্ত তার তো ইয়ত্তা নাই!
আবার শিল্পকারখানা করে প্রতিনিয়ত বাড়িয়ে দিচ্ছি পরিবেশের তাপমাত্রা।

টাকা টাকা করে আমরা ভেঙে ফেলছি প্রাকৃতিক সব ভারসাম্য
তাই ভারসাম্য রক্ষার্থে যদি করোনা’র মত মানব প্রাণ সংহারকারী ভাইরাস আসে
তাহলে আমি তাকে দোষ দিতে পারিনা!


 বিভেদের কাঁটাতার


কালকে যাদের বলেছো কাফের
আজকে তারা এসে
তোমার সেবা সুস্থতার লাগি
জীবন নিয়েছে হাতে।

এত ঘৃণা কেন পুষে রাখো মনে
করো তার চাষাবাদ
মানুষের মাঝে বিভেদ তুলে
হয় তো সাময়িক লাভ!

তোমারও আছে বিবেক বুদ্ধি
আছে জীবনের ভয়
বৈজ্ঞানিক তথ্য প্রচার করো
বিশ্বাসের ভাইরাস নয়।

তোমারও জানি অন্যায়ের বিষে
বিবেক হয় দংশিত
ভালোবাসার ফুল ফোটাও বুকে
হয়ে নাকো শংকিত!

স্বপ্ন দেখি একদিন সবার
গোলাপে ভরেছে উঠোন
মনুষ্যত্ব আর মানবিকতার
সবার উপরে স্থান।

সব বিভেদের কাঁটাতার তুলে
মানুষ দাঁড়াবে ফের
ভালোবাসা আর প্রীতি বন্ধনের
উদাহরণ হবে ঢের।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত