| 2 মার্চ 2024
Categories
এই দিনে সাক্ষাৎকার

এখন থিয়েটার অনেক সহজ হয়ে গেছে ।। শিমুল ইউসুফ

আনুমানিক পঠনকাল: 2 মিনিট

মঞ্চকুসুম শিমুল ইউসুফ। ছোটবেলা থেকেই সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সঙ্গে জড়িত। অভিনয়, নাট্যনির্দেশনা, সঙ্গীতসহ শিল্পাঙ্গনের প্রায় সব বিষয়েই প্রতিভার পরিচয় দিয়ে আসছেন দীর্ঘদিন। বাংলা নাট্যের অভিনয় রীতির সঙ্গে আধুনিক কৌশল বুনন করে এরই মধ্যে তিনি হয়ে উঠেছেন অনন্য। সকলের প্রিয় এই শিল্পী আজ তেষট্টিতম বছরে পা রাখলেন। ইরাবতী পরিবার তাঁকে জানায় শুভেচ্ছা ও নিরন্তর শুভকামনা। ২০১৭ সালের জন্মদিনে এই সাক্ষাৎকারটি নিয়েছিলেন গৌতম পাণ্ডে।


চলতে চলতে ষাট বছর, কেমন মনে হচ্ছে?

শিমুল ইউসুফ : জীবনের এক দীর্ঘ সময় অতিক্রম হলো। অনেক ভাল লাগছে। আমি পাঁচ বছর বয়সেরও আগে থেকে শিল্প-সংস্কৃতির সঙ্গে আছি। এখনও নিরলস এই অঙ্গনেই কাজ করে যাচ্ছি। অসংখ্য মানুষের ভাললাগা, ভালবাসার মধ্যে কেটে যাচ্ছে জীবন। এটাই আমার বড় পাওয়া।

ফেলে আসা দিনের স্মৃতি কিভাবে নাড়া দেয়?

শিমুল ইউসুফ : এত কাজের মধ্যে ব্যস্ত থাকি যে, স্মৃতিগুলো সব একাকার হয়ে যায়। আমি বসে নেই এখনও। প্রতিদিন থিয়েটারসহ অনেক কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকতে হয়। আনন্দের মধ্যেই জীবন কাটাই। আসলে আমি খুবই সৌভাগ্যবান যে, এসব কাজের মধ্যে নিজেকে মগ্ন রাখতে পেরেছি।

আপনার কাজের সফলতা-ব্যর্থতার বিষয়কে কিভাবে দেখেন?

শিমুল ইউসুফ : আমার সফলতার পাল্লা ভারি। ব্যর্থতা বলতে আরও কাজ করা উচিত ছিল কিন্তু করতে পারিনি। নাটকের মতো একটা বড় বিষয় নিয়ে কাজ করেছি। নিজের মতো করে করার চেষ্টাও করেছি। কিন্তু অনেক বিষয় এখনও অসমাপ্ত রয়ে গেছে।

আগের নাট্যচর্চা আর এখনকার চর্চার মধ্যে মূল্যায়ন করবেন কিভাবে?

শিমুল ইউসুফ : প্রায় ৪৩ বছর ধরে নাট্যচর্চার সঙ্গে আছি। তখন ভাঙ্গাচোরা মঞ্চকে ধুয়ে-মুছে সবাইকে এ চর্চা শুরু করতে হয়েছে। সে সময় এ জায়গাটা ছিল ভাললাগার এবং শ্রদ্ধার। এখন সে জায়গা থেকে প্রায় সবাই দূরে সরে গিয়েছে। নাটকের প্রতি ভালবাসা কমে গিয়েছে। নাটকের জন্য আমরা যে স্ট্রাগল করেছি এখনকার প্রজন্ম তা থেকে অনেক পেছনে। এই অঙ্গনের প্রতি আমাদের যে কত গভীর ভালবাসা ছিল তা বলার অপেক্ষা রাখে না। একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধও ছিল প্রবল। এখন তা থেকে সরে এসেছে। থিয়েটার আমার দ্বিতীয় সংসার ছিল। এখন থিয়েটার অনেক সহজ হয়ে গেছে। কিন্তু আমাদের সময় এতটা সহজ ছিল না।

আপনার আগামীর পরিকল্পনা কী?

শিমুল ইউসুফ : আল্লাহ যদি আমাকে সুস্থ রাখে, আগামীতে দুটি প্রডাকশন মঞ্চে আনব। এ নাটক দুটিই সেলিম আল দীনের লেখা।

মঞ্চ নাটকে সেলিম আল দীনের অবদান সম্পর্কে কিছু বলুন।

শিমুল ইউসুফ : সেলিম অনেক ছোট বয়সে লিখেছেন ক্লাসিক্যাল নাটক ‘শকুন্তলা’। বুঝতেই হবে আগামীতে তিনি কি লিখতে পারতেন। মানুষের সঙ্গে দেবতার যে মিল হয় না, তা তিনি এই নাটকের মাধ্যমে সুন্দরভাবে দেখিয়েছেন। আজ তারই প্রচেষ্টায় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হচ্ছে নাট্যকলা। হারিয়ে যাওয়া নাট্য ঐতিহ্যকে ফিরে পাওয়ার প্রচেষ্টায় ব্যস্ত থেকেছেন আমৃত্যু। বাংলা নাট্যকোষ রচনার মাধ্যমে বাঙালীকে বিশ্বে তুলে ধরাসহ অল্প সময়ে নাট্যজগতের অনেক কাজ করে গেছেন।

আমাদের দেশের মঞ্চ নাটক আন্তর্জাতিক মানের মনে করেন?

শিমুল ইউসুফ : অবশ্যই পৌঁছিয়েছে। যদি না-ই পৌঁছায়, তাহলে সাড়ে ৪ শ’ বছর পরে ইংল্যান্ডের শেক্সপিয়ার গ্লোব থিয়েটারে আমাদের ‘টেম্পেস্ট’ নাটক মঞ্চায়নের জন্য আমন্ত্রিত হয়ে যায় কি করে? তারা আমাদের দুই বাংলা থেকে বাছাই করে ঢাকা থিয়েটারকেই আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

মঞ্চ নাটকে নতুন নাট্যকর্মীদের আগ্রহ কেমন?

শিমুল ইউসুফ : দেখা যাচ্ছে নতুন যারা আসছে তাদের মঞ্চ নাটকের প্রতি প্রচুর আগ্রহ, কিন্তু তাদের বেশিরভাগ ফেসবুককেন্দ্রিক হয়ে যাওয়ার কারণে কিছুটা ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। আমার মতে, মঞ্চে ভাল কাজ করতে হলে তাদের প্রচুর পড়াশুনা করতে হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত