| 26 ফেব্রুয়ারি 2024
Categories
এই দিনে সময়ের ডায়েরি

আমাদের হক স্যার

আনুমানিক পঠনকাল: 2 মিনিট

আজ ৩০ এপ্রিল গবেষক ও অধ্যাপক সৈয়দ আজিজুল হকের শুভ জন্মতিথি। ইরাবতী পরিবার তাঁকে জানায় শুভেচ্ছা ও নিরন্তর শুভকামনা।


আজ ৩০ এপ্রিল।

১৯৫৯ সালের আজকের এইদিনে পিরোজপুর জেলার সেহাঙ্গল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন বাংলা সাহিত্য ও শিল্প বিষয়ক গবেষক, স্বনামধন্য শিক্ষক সৈয়দ আজিজুল হক। তাঁর পিতার নাম সৈয়দ নুরুল হক এবং মাতার নাম মোসাম্মৎ হাজেরা খাতুন।

সৈয়দ আজিজুল হক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন ২০০০ সালে। এর আগে তিনি ১৯৮৭ সাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটে প্রভাষক, সহকারী অধ্যাপক এবং সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। শৈশব, কৈশোর নিজ গ্রাম সেহাঙ্গলে কাটিয়ে সেহাঙ্গল হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। এরপর ১৯৮০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ অনার্স এবং ১৯৮১ সালে এমএ সম্পন্ন করেন।

১৯৮৪ সালের জানুয়ারি মাসে বৃত্তিপ্রাপ্ত এমফিল গবেষক হিসেবে ‘ময়মনসিংহের গীতিকা : জীবনধর্ম ও কাব্যমূল্য’ শীর্ষক গবেষণা কর্ম শুরু করেন। গবেষণায় তাঁর তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরই আর এক স্বনামধন্য শিক্ষক ড. সৈয়দ আকরম হোসেন। নানান প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে ১৯৮৮ সালের অক্টোবর মাসে তিনি অভিসন্দর্ভটি উপস্থাপন করেন। পরে ১৯৮৯ সালের জুন মাসে এই অভিসন্দর্ভটির জন্য বিশ্ববিদ্যালয় তাকে মাস্টার অফ ফিলজফি উপাধি প্রদান করে সম্মানিত করেন। এরপর ১৯৯৫ সালে ’মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছোটগল্প: সমাজ চেতনা ও জীবনের রূপায়ন ‘শীর্ষক অভিসন্দর্ভটি রচনা করে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তীকালেও শিক্ষকতার পাশাপাশি গবেষণাধর্মী লেখনি তিনি চালিয়ে গিয়েছেন সমান দক্ষতায়। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে- দীনেশচন্দ্র সেন (১৯৯০), ময়মনসিংহের গীতিকা: জীবনধর্ম ও কাব্যমূল্য (প্র.প্র ১৯৯০, দ্বি.প্র ২০০৩), মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছোটগল্প : সমাজ চেতনা ও জীবনের রূপায়ন (১৯৯৮), কামরুল হাসান : জীবন ও কর্ম (১৯৯৮), আমি নারী : তিনশ বছরের বাঙ্গালী নারীর ইতিহাস (মালেকা বেগম ও সৈয়দ আজিজুল হক) (২০০১), জীবনানন্দের শুভ -অশুভের দ্বন্দ্ব ও বিবিধ প্রবন্ধ (২০০৬), বাংলাদেশের শিল্প আন্দোলন ও আমার কথা (২০১০), মন ও মনন (২০১১), আজিজুল গীতি (২০১৪), জয়নুল আবেদিন সৃষ্টিশীল জীবনসমগ্র (২০১৫), সফিউদ্দীন আহমেদ (২০১৫), কাইয়ুম চৌধুরী : শিল্পীর একান্ত জীবনকথা (২০১৫), বাংলা কথাসাহিত্যে মানবভাবনা (২০১৭) , কথাশিল্পী মানিক (২০২০) ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

গবেষণাধর্মী গ্রন্থের পাশাপশি তিনি সম্পাদনাও করেছেন অনেক গ্রন্থ। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল- দীনেশচন্দ্র সেন সংকলিত ময়মনসিংহ গীতিকা (১৯৯৯), আবদুল হক: স্মৃতি-সঞ্চয়, সংগ্রহ ও সম্পাদনা ১ (২০০৩), আবদুল হক: স্মৃতি-সঞ্চয় (চল্লিশ বছরের সাহিত্য পরিক্রমা ২) (২০০৫), রবীন্দ্রনাথের শ্রেষ্ঠ চিঠিপত্র (২০০৮), মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমগ্র (খন্ড ১-৬), কিশোর রচনাসমগ্র মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় (২০০৯), জয়নুল আবেদিন জন্মশতবার্ষিক শ্রদ্ধাঞ্জলি (২০১৬) ইত্যাদি। অনুবাদ করেছেন তেরেস ব্লঁসে রচিত ‘বাংলাদেশের শিশু অধিকার’, ‘হারানো শৈশব: তার ইতিকথা (১৯৯৭)।`
পরিশ্রম, সততা, মেধা, সমায়ানুবর্তিতার সমন্বয়ে প্রতিনিয়ত শিক্ষা, শিল্প-সাহিত্য জগতকে সমৃদ্ধ করে যাওয়া এই আদর্শ শিক্ষককে তাঁর জন্মদিবসে আমরা স্মরণ করছি পরম শ্রদ্ধায়। তাঁর মত জ্ঞানীজন, গুণজনদের ব্যক্তিত্ত্ব আর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে যেন নিজেদের সমৃদ্ধ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যায় আগামী প্রজন্ম।
প্রচ্ছদ  ছবি : শান্তা শিরীন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত