| 23 মে 2024
Categories
গল্প সাহিত্য

স্বপ্নের দেশ কন্যেপুর

আনুমানিক পঠনকাল: 6 মিনিট

 

শিবেনের অর্বাচীন পেট আরো একবার মোচড় দিয়ে ওঠে। এই নিয়ে তিনবার। শিবেন মনে মনে হিসেব করে। প্রথমবার সকাল আটটায়। দ্বিতীয়বার ন’টা ঊনষাট। আর শেষবার এই এগারটা সাঁইত্রিশ। শিবেন বুঝতে পারে, সকালের খিস্তি খেউড় অপমানটা এখনও হজম হয়নি। তাই পেটের এই বারবার মোচড় দিয়ে জেগে ওঠা। অনেকটা ঠিক মৃত আগ্নেয়গিরির মত।

ঘটনাটা ঘটেছিল সাতসকালে। শিবেনকে ছুটতে হয়েছিল মোড়ের মাথায় ওষুধের দোকানে। নিরাময় ফার্মেসী। শিবেনের পেটে ভীষণ ব্যাথা। এটা অবশ্য প্রায়শই ঘটে। মাসের কয়েকটা অচ্ছুৎ দিন কেটে যাওয়ার ঠিক পরেই। মালিক বিপদতারণবাবু সেই সবেমাত্র দোকান খুলেছেন। ধূপ ধরিয়েছেন। শিবেনের অপরাধ, সঙ্গে কোনও পয়সা নিয়ে যায়নি। আসলে হাত বড্ড ফাঁকা। ও ওষুধের দাম ওর অনেকখানি জানা। নিদেন পক্ষে শ’খানেক তো হবেই। ঠিক এই সময়েই মোক্ষম বাক্যবাণ ছেড়েছেন বিপদতারণ। বলি ওষুধ কি আর মাঠে ফলে! নেহাত তুমি বলে তাই। নচেৎ অন্য কেউ হলে মাথার ঘিলুতে লঙ্কা ঘষে দিতুম। এই ঘিলুতে লঙ্কা ঘষার ব্যাপারটা শিবেনের মাথায় ঢোকে না। ন্যাংটো বেলা থেকে খিস্তি খেউড় খেয়ে বড় হয়েছে সে। ভাত মুড়ির মতই। কিন্তু এমন খিস্তি বাপের জন্মেও শোনেনি। ঘিলুতে লঙ্কা ঘষার রসায়নটা যে কি, তা মেলাতে হিমসিম খেতে হয়।

সেই থেকে মেজাজটা খোঁচে আছে শিবেন চাষার। এই চাষা অপবাদটা ওর জীবনে আর ঘুচল না। নাই ঘুচুক। বাপের দৌলতে ঐটুকু বংশ পরম্পরায় নামের পাশে সেঁটে গেছে। বাপ ছিল খানদানী চাষার ঘরের ছেলে। বাঁধাকপির চাষ করে কৃষিমেলায় রূপোর মেডেল পেয়েছিল। খবরটা চাউর হতে দেরি হয়নি। আর পায় কে? মাধব মন্ডলের নাম হল মাধব চাষা। একেবারে রাতারাতি বাপের সে কি আনন্দ! তার ছেলে শিবনাথ মন্ডল শিবেন চাষা হবে এ আর বিচিত্র কি? তবে বাপের চাষের ধরনটাই ছিল আলাদা। বাপ ছিল কুলীন চাষা। মেঘের ফন্দি ফিকির দেখে বাপ খুব সহজে চাষের বতরের কথা জানতে পারতো। মেঘ ডাকতে তর নেই, মাধব চাষা ছড়া কেটে চাষীদেরকে আগাম জানিয়ে দিতো। বাপের সেই ছড়া-কাটা চেহারাটা এখনও মনে ভাসে শিবেনের। বাপ নেচে নেচে গাইতো –
কোদালে কুড়ুলে মেঘের গা
ঘন ঘন দিচ্ছে ঘা,
বাঁধগা চাষী জমির আল
আজ না হলেও ঝরবে কাল।

বাপের এই নাচ দেখে চাষীরা সব ততক্ষণে মাঠে নেমে পড়তো। যে সে নয়, এ একেবারে খোদ মাধব চাষার কথা। কাল নির্ঘাৎ বর্ষা নামবে। আর দেরি করা ঠিক নয়। সারা মাঠ জুড়ে জমির আল বাঁধা শুরু হয়ে যেতো। চাষীরা বলে শিউলি দেওয়া। ময়রা পুকুরের পাড়ে দাঁড়িয়ে শিবেন হাপুস নয়নে মানুষগুলোকে চেয়ে চেয়ে দেখতো। কত আর বয়স হবে তখন? বারো কি তেরো। একদিনের কথা মনে আছে শিবেনের। কৌতুহল চাপতে না পেরে বাপকে জিজ্ঞেস করেছিল, ‘ হ্যাঁ গো বাবা, কাল তুমি কি করে জানলে যে কালকেই বৃষ্টি হব্যাক?’

বৃষ্টির বড় বড় ফোঁটার মত চোখ তুলে মাধব বলেছিল, বলি ল্যাংটো বিলার থেকে চাষ করচি, মিঘের গতিক বুঝবো নাই? তাইলে আর চাষা কীসের? এই ছিল মাধব চাষা। আর সেই চাষার বেটা শিবেন। বাপকা বেটা সিপাই কা ঘোড়া, কুছ নয়তো থোড়া থোড়া। নিজের অজান্তে শিবেনের বুক চিতিয়ে ওঠে। কচ্ছপের পিঠের মতো। বাপের কথা ভাবতে গিয়ে শিবেনের চাষের ভাবনা পেয়ে বসে। শিবেন জানে,এখন আর বাপের দিনকাল নাই। চাষের ভোল এখন বেবাক পাল্টে গেছে। চাষীদের এখন সব লেবার বলে ডাকে। ধান রুইতে লেবার, ধান কাটতেও লেবার। আর দিনে রেতে মাটির বুক চিরে চলেছে চাষের কলের ঘষটানির শব্দ। চাষটা এখন কৃষি না, শিল্প, শিবেন ভেবে পায় না। সাত পাঁচ ভাবতে গিয়ে শিবেনের আরও বেশি করে বাপের কথা মনে পড়ে। বেশ দশাসই মানুষ ছিল মাধব চাষা। তবু অল্প বয়সেই চলে গেল। সেই যে কথাতে বলে না, ভালো জিনিস বেশি দিন টেকে না। ঠিক তাই। বাপ যখন ম’ল, শিবেন তখন মাধ্যমিক দেবে। শিবেনকে ইস্কুলে পড়িয়েছিল মাধব নিজেই। শিবেনের মনে আছে, ভত্তি করার সময় বাপ বলেছিল, বুঝলি শিবে, দিনকাল বদলাচ্ছে, চাষ করতেও একন নিকা পড়া নাগে। অন্তত একটা পাশ দে। বাপের কথা রেখেছিল শিবেন। বেশ ভালোভাবেই মাধ্যমিক পাশ করেছিল। আবার সেই পেটে মোচড়। বারোটা দশ সেই লঙ্কা আর ঘিলুর সিঁড়িভাঙা অঙ্কের খেলা। রসায়নে বেশ তুখোড় ছিল শিবেন। তবু এই ঘিলু আর লঙ্কার জটিল সমীকরনে ও হোঁচট খায়। এই দুইয়ের রাসায়নিক বিক্রিয়া কি হতে পারে? ভেবে ভেবে শিবেনের দেহ সাঁই সাঁই করে। শিবেনের মাথা দপদপ করে। শিবেনের ঘিলু কিলবিল করে। শিবেনের পাঁজর তক ফুঁসে ওঠে।
-এই শিবেন, একা একা বসে কি ভাবছিস রে? বলি এতদিন বিয়া হল, একটা মেয়ে তক্ করতে নারলি? রতনের হেঁড়ে গলা শিবেনের ভাবনার জট ছিঁড়ে কুটি কুটি করে দেয়।
রতনের এই এক দোষ। দূর্বলতায় খোঁচা দেওয়া। শিবেনের সঙ্গে দেখা হলে রতনের ঐ একই কথা। বাচ্চা না হওয়া নিয়ে খোঁচা, কানু বিনে গীত নেই। শিবেনের ইচ্ছে হয়, জোর গলায় প্রতিবাদ করে। হ্যাঁ হ্যাঁ, করতে লেরেছি তো হয়েছেটা কি? কত মানুষেরই তো বাচ্চা হয় না। তবু তো শিবানি আমার বউ। আর মেয়ে বলে এত ছোট চোখে দেকচিস? খবর রাখিস যে মেয়েদের সংখ্যাটা দিনে দিনে কত কমচে? টিভি ফিভি দেকিস? কিন্তু ঐ ভাবাই সার। শিবেন একটা কথাও বলতে পারে না। বরং ওদিকে রতন আরো একপ্রস্থ গাইতে শুরু করে। বলি কি শিবেন; ওসব ডাক্তার-ফাক্তারে কিছু হবেনি,ইবারে জুড়িবুটি কর। ভালো করে দেক্ তু না তোর বউ বাঁজা।

শিবেনের রাগে শিরা লাল হয়ে দিপ্ দিপ্ করে। কথাটা ঠিক। আজ প্রায় দশ বছর হয়ে গেল ওদের। কোনও বাচ্চাকাচ্চা হয়নি। ডাক্তারবদ্যিও কম হল না। এই নিয়ে অবশ্য ওদের মধ্যে কষ্ট থাকলেও তেমন কিছু অশান্তি নেই। কিন্তু ঐ যে বলে না, যার বিয়ে তার গ্রাহ্যি নেই, পাড়াপড়শির ঘুম নেই। বিশেষ করে ঐ রতনটার জন্যে শিবেনের জীবন এখন জেরবের। খোঁচা আর খিস্তি খেতে খেতে শিবেন এখন নিজের নামটা পর্যন্ত ভুলে গেছে। রতনের ঐ কথাটা অবশ্য শিবেনের মনে ধরে। ঐ জুড়িবুটির ব্যাপারটা। শিবানীও সেদিন বলছিল। কোন এক সাধুবাবার কথা। তাঁর ওষুধে নাকি কথা বলে। বউয়ের কথা শুনে শিবেন বলেছিল, চলনা, একদিন দুজনে যাই। সাধুবাবার আশ্রমে। কোতায় থাকেন বলতো?

-ঐটেই তো মুশকিল। বাবার নাম চড়কি বাবা। শুধু ঘুরে বেড়ান। হঠাৎ হঠাৎ দেখা দেন। শিবানী বলেছিল। শিবেনের ইচ্ছে হয়, রতনের কাছে একটু খোঁজ খবর নেয়। কিন্তু তা আর হয়ে ওঠে না। রতন ততক্ষণে সাইকেলে অনেকখানি এগিয়ে গেছে। ঘরমুখো গরুর মতন। শিবেনের মন মেজাজ খেঁচে ওঠে। আর ভালো লাগে না। শালা, জগতের এতো লোকের বাচ্চা হয়, শিবেনেরই হয় না। শুধু খিস্তি খাও আর বেঁচে থাকো। এটা কি বাঁচা! আজ একটা হেস্তনেস্ত করতেই হব্যাক। হয় এসপার নয় ওসপার।
শিবেন লক্ষ্য করে, বটগাছের নীচে বেশ ঘনছায়া জমাট বেঁধে আছে। দেখলেই লোভ হয়। ধ্যানে বসতে ইচ্ছে করে। এসব শিবেনের অভ্যেস আছে। মাথা থেকে পাগড়িবাঁধা গামছাটা খুলে নেয়। শিবেন পরিপাটি করে মাটিতে পাতে। তার ওপর পদ্মাসনে বসে পড়ে শিবেন। দু’চোখ বন্ধ করে ধ্যানস্থ হয়। একমনে চড়কিবাবাকে ডাকতে থাকে। কতক্ষণ এভাবে ছিল কে জানে। শিবেনের খেয়াল নেই। কি যেন আজ ভর করেছে ওর দেহে। কিন্তু একি? এ যে মেঘ না চাইতেই জল? সামনে দাঁড়িয়ে এই জটাধারী সাধুবাবা কে? এই কি তবে চড়কিবাবা? শিবেনের অস্বস্তি কাটিয়ে সাধুবাবা ততক্ষণে নিজেই বলে ওঠেন

–হ্যাঁ রে বেটা। আমিই সেই চড়কি বাবা। ডাকছিলি কেনে? বল কী চাস? শিবেনের চোখে মুখে উৎসাহের লালা ঝরতে শুরু থাকে। বাবার পায়ে লুটিয়ে পড়ে শিবেন। আকুল হয়ে বলে,

–আমাকে একটা ছেলে দ্যান বাবা। আর যে পারি নে। চড়কিবাবা মুচকি হাসেন। হেসে বলেন, আমার কাছে তো ছেলে পাবি না ব্যাটা। আমি তো শুধু মেয়ে দিই। শুধু কন্যে ভুরুন। মেয়ে নিবি?
-তাই দেন বাবা। তাই দেন। জোড় হাত করে বলে শিবেন। আকুল হয়ে বাবার দিকে চেয়ে থাকে। চড়কিবাবার পা নড়ে ওঠে। চলতে শুরু করেন। মুখে বলেন, আয় আমার সঙ্গে। শিবেন পিছনে পিছনে হাঁটতে থাকে। অনেকখানি পথ হেঁটে একসময় ওরা বনের মধ্যে প্রবেশকরে।শিবেন দেখতে পায়, মাটির নীচ বেয়ে একটা সুড়ঙ্গ পথ চলে গেছে। শিবেনকে নিয়ে চড়কিবাবা সেই পথে এগিয়ে চলেন। কি সুন্দর পথ! দুধারে হরেক রকম ফুলের গাছ।

সেখানে লাল নীল সবুজ ফুলের মেলা। কি মিষ্টি গন্ধ। সামনেই এক মন্দির। হঠাৎ চড়কিবাবা শিবেনকে বলেন, এই জায়গাটার নাম জানিস?
-না তো। কি নাম বাবা?
-কন্যেপুর।
-কন্যেপুর! বড় অদ্ভুত নাম তো! শিবেন কথার পিঠে কথা চাপায়। মন্দিরের সামনে এসে চড়কিবাবা ভিতরে প্রবেশ করেন। শিবেন স্থাণুবৎ বাইরে দাঁড়িয়ে থাকে। চোখ মুখে অধীর আগ্রহ। একটু পরে চড়কিবাবা বাইরে বেরিয়ে এলেন। হাতে একটা সাদা রংয়ের চকচকে গোলাকার বস্তু। দেখে মনে হয় কিছু একটার ডিম। শিবেনের হাতে সেই বস্তু তুলে দিয়ে চড়কিবাবা বলেন, ‘এই নে ধর। এই ডিমে তা দিতে বলবি।’ শিবেনের শরীর আনন্দে কাঁপতে থাকে, আর দেরি করে না শিবেন। আনন্দের দমকে ছুটতে শুরু করে। চিৎকার করতে থাকে। ‘এই শিবানী, শিবানী তুই কোথায়? এই দ্যাক্ কি এনেছি। ভোরহয়ে এলো বলে। তা দিবি নে …’

প্রবল চিৎকারে শিবানীর ঘুম ভেঙ্গে যায়। ঠেলা মেরে শিবেনকে শিবেনকে জাগিয়ে দেয়। ধমকের সুরে বলে, ‘শিবানী শিবানী’ বলে এতো চিৎকার করছিলে ক্যানে? কি হয়েছে কি? শিবেন ততক্ষণে বিছানার উপর উঠে বসেছে। এদিক ওদিক তাকিয়ে কি যেন খুঁজছে সে। শিবানীকে বলে, আমার কন্যে ভুরুন কোথায় গেল রে? আমার ডিম? তা দিবিনে… শিবানী বল তুই, তা দিবিনে?
শিবানী আবার ধমকে ওঠে। কি বলচ কি? কন্যে ভুরুন… ডিম… আমি তো কিছুই বুঝছি নে।
– বিশ্বেস কর শিবানী। আমি মিথ্যে বলচি না। চড়কিবাবার আশ্রমে গেচলাম। কন্যেপুর। কি সুন্দর জায়গারে। চড়কিবাবা আমাকে একটা ডিম দিলেন। তোকে সেই ডিমে তা দিতে বললেন…
-তুমি স্বপ্ন দেকছিলে। শিবানী বলে।
-স্বপ্ন! কি বলচিস তুই ? তোর পেটে ব্যাথা হয়নি ? আমি ট্যাবলেট কিনতে যাইনি…
-না না ওসব কিছু হয়নিকো। তুমি স্বপ্ন দেকছিলে। স্বপ্ন দেকেই তো আমরা এ্যাদ্দিন বেঁচে বর্তে রয়েচি গো। হতাশ স্বরে শিবানী বলে।
-স্বপ্ন? ই কথাটা আমাকে তুই কি শুনালি শিবানী?

শিবানী বুঝতে পারে, মানুষটা খুব কষ্ট পেয়েছে। কিন্তু ওর কি দোষ। ও তো সত্যিটাই বলছে। তাই সান্ত্বনা দিতে বলে,‘এই জানো, ভোরের স্বপ্ন কিন্তু সত্যি হয়। মানুষ বলে।’ শিবানী খুব ঘনিষ্ট হয়ে শিবেনের শরীরের দিকে ঢেউয়ের মত এগিয়ে আসে। যেন এখনই আছড়ে পড়বে। চোখের পাতা বন্ধ হয়ে আসছে। শিবেনও ঠিক তাই, আর নিজেকে সরিয়ে রাখে না। আবেগী হয়ে বলে, তুই ঠিক বলচিস বউ, ভোরের স্বপ্ন সত্যি হয়। সত্যি হতেই হবে। হেই শিবানী, চ, আমার সঙ্গে কন্যেপুর যাবি…
বলতে বলতে নিজেকে শিবানীর শরীরে গেঁথে ফেলে শিবেন। কি ভীষণ আকৃতি! দুজনের শরীর থেকে একটা মিষ্টি গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে বিছানায়, ওরা জোরে জোরে নিশ্বাস নেয়। গোপালভোগ চালের গন্ধে জোড়া শরীর বুঝি ভেসে চলেছে অন্য কোন স্বপ্নের দেশে। শিবেন মিহি সুরে বলে, জানিস বউ, আমি এ্যাকন কন্যেপুরের রাজা, আর তুই হলিস রানী…
শিবেন অনুভব করে, তার সারা শরীর ঘিরে এক নতুন উন্মত্ততা পেয়ে বসেছে। এত জোর পেল কোথা থেকে? শিবেন এখন পৃথিবীকেও ফালা ফালা করে দিতে পারে। ডাক্তার বদ্যি জুড়িবুটি এই সব কিছুকে দু হাতে সরিয়ে সরিয়ে শিবানীর শরীরের অনেকখানি অতলে সে তলিয়ে যায়। এ যেন অন্য এক পৌরুষের জাগরন, সব কিছুকে তেড়ে ফুঁড়ে।
ওদিকে শিবানীও তখন অপার আনন্দে বেহুঁশ। আর সেই অফুরান উচ্ছাস আর আবেগে ডুবতে ডুবতে শিবানী এক ফাঁকে টুক করে বলে ফেলে – ইবারে কন্যেপুরে যাবোই আমরা।

                  

 

 

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত