এ বছরই দেখা যেতে পারে সর্বনাশা সৌর বেলোর্মী

কি ঝঞ্ঝা!
এবারে বসন্ত প্রায় ভিজেই গেছে!
মাঝে মধ্যেই
পশ্চিমী ঝঞ্ঝার দ্যোরাত্মি —
কালবৈশাখীর ভ্রুকুটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য টুকুও উপভোগ করতে দিচ্ছে না।
প্রকৃতি তে নিয়মের বেচাল। অসময়ে অবাঞ্ছিত বৃষ্টির নাচানাচি। সবসময়ই যেন গ্রীষ্মকালীন অনুভূতি।পৃথিবী মধ্যে ঋতুচক্রের চাকা প্রায় একতরফা। কখনো অনাবৃষ্টি তো কখনো অতিবৃষ্টি। কোথাও খরা আবার কোথাও বন্যা।সব কিছুই ওলটপালট।

তবে শুধু মাত্র পৃথিবীর মধ্যেই এই রকম বিশৃঙ্খলা তাই নয়— সৌর জগতেও অনুভব করা যাচ্ছে দারুন ঝঞ্ঝা।

এ বছরই দেখা যেতে পারে সর্বনাশা সৌর বেলোর্মী বা Solar Tsunami, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে পৃথিবীর উপর।

সূর্য পৃষ্ঠের প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নীচে অতিরিক্ত চাপ ও তাপে প্লাজমা তৈরি হয় যার মধ্যে মূলত তড়িদাহিত হিলিয়াম ও হাইড্রোজেন সথূলাণু উপস্থিত থাকে।ওই অবস্থায় সৌর অগ্নি তরঙ্গের দ্বারা সূর্যের মধ্যবর্তী তড়িত ও চৌম্বক ক্ষেত্র দারুন ভাবে প্রভাবিত হয়ে অকস্মাৎ প্লাজমা ও চুম্বকত্বের একটি বিশাল তরঙ্গ বহির্মুখে প্রকাশিত হয়— যা বিজ্ঞানের ভাষায় সৌর বেলোর্মী বা Solar Tsunami নামে পরিচিত।

সূর্যের মধ্যে কোন এক বিন্দু থেকে শুরু হয়ে ক্রমশ চক্রাকার গতিতে সেটা বহির্মুখী ছড়িয়ে পড়ে প্রচন্ড শক্তি নিয়ে। এই ঘটনা প্রথম ১৯৫৯ সালে আমেরিকার নক্ষত্র বিজ্ঞানী গেইল মোরেটন এবং পর্যবেক্ষক হ্যারী রামসে টেলিস্কোপের মাধ্যমে লক্ষ্য করেন। তাই সৌর বেলোর্মী কে মোরেটন-রামসে ওয়েভ ও বলা হয়ে থাকে। পরবর্তীতে বিষয়টি আরও চর্চিত ও পরীক্ষিত হয় এবং ১৯৯৭ সালে ” দ্য সোলার অ্যানড হেলিওসফেয়ার ওবজারভেটরী” (SOHO) সৌর বেলোর্মী কে আবিষ্কার করে।

সৌর বেলোর্মী নিয়ে প্রথম দিকে অনেক রহস্য থাকলেও,পরে অনেক গবেষণার মাধ্যমে নাসার “সোলার টেরেস্ট্রিয়াল রিলেশন ওবজারভেটরী” (STEREO) জানায় যে সৌর বেলোর্মী হল আদতে বাস্তবিক। সৌর বেলোর্মী বর্ণ মন্ডলের বৃহত মাত্রায় জ্যোতিরবলয় সংক্রান্ত অভিঘাত তরঙ্গ। এই তরঙ্গের ফলে বিলিয়ন টন পরিমাণ গ্যাস উৎপন্ন হয় যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় “জ্যোতিরবলয় সংক্রান্ত বস্তু নির্গমন” বা Coronal Mass Ejection বলে। এই বিষয়ে জর্জ মেসন বিশ্ব বিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী স্পাইরস প্যাটসোরাকর বলেন সৌর বেলোর্মী তে তরঙ্গ জলের নয়, এই তরঙ্গ গরম প্লাজমা ও চুম্বকত্বের।

সৌর বেলোর্মী এর প্রযুক্তিক নাম হলো “দ্রুত গতির চুম্বকীয় জলীয় গতিশীল তরঙ্গ” বা Fast-mode magneohydrodynamical wave বা সংক্ষেপে MHD wave। এই তরঙ্গ প্রায় দু’লক্ষ কিলোমিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হয়, বহির্মুখে এর বেগ প্রায় প্রতি সেকেন্ডে ২৫০ কিলোমিটার। এই তরঙ্গ প্রবাহের সময় ট্রাই নাইট্রো টলুইনের প্রায় ২.৪ মিলিয়ন মেগাটন শক্তি উৎপন্ন করে। এই সৌর বেলোর্মী খুবই ভয়ঙ্কর।

“Scientific Reports” এ প্রকাশিত একটি গবেষণা পত্র থেকে জানা যাচ্ছে যে এই বছরই সৌর বেলোর্মী দেখা যেতে পারে।যা পৃথিবীর জন্য একটি বড়সড় বিপদ সংকেত। সৌর বেলোর্মী সৌর কলঙ্কের উপরও গভীর প্রভাব ফেলে। সৌর কলঙ্কের চক্র পরিবর্তন হতে পারে এর কারণে।

তবে এ কথা অনস্বীকার্য যে, সৌর বেলোর্মী গবেষণার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিজ্ঞানী গুরমান জানান যে সৌর বেলোর্মী সূর্যের অবস্থা সম্পর্কে আমাদের জানান দেয়। সৌর বেলোর্মীই আগাম পূর্বাভাস দেয় মহাশূন্যের আবহাওয়া কেমন হবে তারও।

মন্তব্য করুন




আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত