| 22 ফেব্রুয়ারি 2024
Categories
কবিতা সাহিত্য

পান্ডুলিপি ‘সুরের দ্বিতল’ হতে

আনুমানিক পঠনকাল: 2 মিনিট

 

কাছেই ফারাও

আমাদের স্বপ্নের মুখ তালাবদ্ধ
প্রত্যাশার গলা ধরেছো বল দিতেছে সাপ;
সুদূর কোন‌ও গ্রামে,ঢুকে পড়া অতিথি পাখির
বিপন্নতার মতো, ফ্যালফ্যাল করে আছে আমাদের চোখ!

আর, গলনালীর জখম লুকিয়ে করতালি সমেত আমরা
হেসে উঠি মাঝে মধ্যে, যেহেতু আমাদের নগর-জীবন
বাউন্সিপিচ; আমাদের বেঁচে থাকাটা পোশাকি-
প্রতিশ্রুতি, খামখেয়ালীর ধূলি!

এর ভিতর গভীর রাতে
অতলান্তিক বীণার উজ্জয়িনী শুনি;
ডুমুর ধরেছে ডালে, লেবুগাছ পেয়ে
কাঠবিড়ালী, দ্রুতই উঠে গেলো একা!

বাক-ভণিতা পেরিয়ে আসি, সঞ্জিবনী হাওয়ার কাছে;
মৃতপ্রায় নদীটির সাথে দেখা, মৃতপ্রায় আছিয়ার সাথে দেখা;

কাছেই ফারাও, কাছেই কড়াই, ফুটন্ত তেল!

 

 

 

 

কবি ফখরুল ভাই

আমাদের থাকে স্মৃতি, অবাধ-জাতক সুরে

একে অপরের দিকে, শিসের মিতালি ছুঁড়ে!

 

কতোদিন ঘাসের গতরে হাসে

পাতা ওড়া-শরত-বাঁধানো ভাষা;

কতোসব সাঁকোর কিনারে বসে

রোদ ঝরা সুর, মেঘের কবিতা!

-কতদিন হেশেল নিভছে ফুলে

ধরা দেয়, দখিনা বাতাস গায়ে!

 

আর তুমি আগুনে বিদিত কোনো, ধ্যানী মাছ নীল?

মেঘের তিয়াস কিছু, জমে আছে বুকে?

সাঁতারে ছেড়েছো নাকি, ব্যাথার বাবল?

 

রক্তে রোপিত পয়ার, উড়ালে টানানো মিথ-

সন্ধ্যাকে সার্থক লাগে, মগেরা আগুন জ্বালে;

আগুনে পুড়ছে রুহু; পৃথিবীকে তাবু মনে হয়!

ইস্যু ঘোরে শরণার্থীর, সূর্যকে তাওয়াফ করে!

 

এতোসব ছায়া বিনিময় শেষে, এতোসব নিবিড় আলাপে আসে র্যাবোর নরক।

এসে, কফি নিয়ে হাঁটু তুলে বসে চেকভের ছোটগল্প;

আমাদের বাড়ে নাকি পালস্, তাতে?

কাছাকাছি ইলিয়াস, পাইপ-মুখে আগুন ধরান!

 

এতোখানি সুদূর সুলভে হেঁটে, ভারবাহী জীবন-সফরজুড়ে

ধমনীরা বন্দীশালা নাকি?

 

 

 

মা

(কবি সুলতান স্যান্নালকে)

এটাই কি সে-ই অলকানন্দা নদী? অচেনা বীথিকা ঘেরা অতল-নিবাস?

চাতুরীবিহীন হাসি-খুশি নিয়ে ফুটছে বকুল? ভাসছে হৃদয়?

এতো এতোসব অর্ঘ্যমাল্যফুল, চারিদিক হতে চাইতেছো তুমি, আহা কর্তা, বিশ্ববিধাত্রী!

এ-ই কি তোমার আত্মকেন্দ্র নয়! অথবা মোজেস, কিংবা বিধুর কোনও ঈসায়ী বিতর্ক নয়!

-অদৃশ্যের কোনো ঘোড়া, রাত বাড়তেই মগজে আগুন জ্বালে। ধূলাবালি উড়ে আস্তর জমে বুকে;

সে কোনো আড়ালচারিণী জ্বর? কাল্পনিক মেঘ নাকি সে? জিকির-জবান কোনো?

সে-কি দৌরাত্ম্যের চেয়ে ধীরে, আরো ধীর হেঁটে, বেঁচে থাকাটাকেআষ্ঠেপৃষ্ঠে বাঁধে?

যেখানে পাল্লায় বসে মাপছে নিজেকে মানুষ, মানুষের পাল্লায় পড়ে

কাঁদতেছে ক্রীতদাস! যেখানে নদীতে ছুঁড়ে, নবজাতকের ডুবে যাওয়া দেখছে জননী;

ডুবে যেতে দিচ্ছে এবর্শন!

-এমন করে হতাশা তোমাকে ডাকে? অন্তঃসার? যেই দিকটাতে চলে গেছে একা

মিথের কচ্ছপ হেঁটে; সে-ই কিনা হাওয়াই জড়ানো পথে, পোহাবে চিবুক রোদে?

আজ, একবার কোনো প্রেমের গল্প হবে? আর একবার শুধু মৃত্যুকে ল্যাং মেরে

পিতার ক্রোধেরা গর্জে উঠুক আবার-

ঐ যে খোঁয়াড়, ঐ যে ক্রমশ সাদা-রঙ এসে, পায়রাগুলিকে ছিটিয়ে দিচ্ছে খুদ-

বাতাস বইছে জোরে। মধ্য প্রহর একা, দানবের রাগ নিয়ে, ডাকছে ফুঁপিয়ে কারে?

ঘরে ফেরেনি বাবা! নির্ঘুম আম্মাকে, পাহারা দিচ্ছে ছেলে!তুমি ভালো জানো, সন্ন্যাসী যে নই আমি।

এ’ও জানো, বুকের ভিতর বসে একটা কিশোর-বয়স, ব্যাগ্র-ক্লান্ত হয়ে ডাকছে তাহার মা’কে! কতোখানি

দূরে চলে গেছি, জানো? হেমন্তে, আত্মহনন পেতে;ক্ষমাহীনতার কাঁটা, কতোখানি দূর, ধাওয়া করেছে

জানো?জানো না মাবুদ? আর ববিতা, জানো নাকি তুমি?

-বাংলা ভাষার একটা অক্ষরকে, চোখের সামনে পেলে, কেনো বলো রাতে অনিদ্রাকে

বাল্যবন্ধু ডাকি, সহোদর ডাকি? এতো এতোসব হর্ন-কলরব-ধুলি, অক্ষর-পদাবলী, পেরিয়ে এসে মা

হাইফেন হয়ে, টানটান হয়ে, আমাদের মাঝে শুয়ে পড়েছেন আজ!

 

 

 

তোমার অসুখে

তোমার অসুখে আমি ইনসমনিক;
হেরার ভিতর যেমন অন্ধকার, বাতাসের বুলবুলে
জলের প্রকম্পন, আমাদের জোড়া দেয়া রুহু
কতনা আহত জীনে, যেভাবে ছুতার দেখে
নকশার ক্ষয়-

যেন-বা উৎকণ্ঠায় ভেজে সুরের দ্বিতলসুর, প্রখর রোদের দিকে এসে
আনন্দ কে বলে বলে দেয় প্রশ্নোত্তর।

তোমার অসুখে আমি
ঘামতে থাকি, নিরাপদ নৌ-পারাপারে ফুলে ওঠে নদীও, নিচে!

আর তুমি কতখানি জানো?
সুতার গায়ে গায়ে কাঁচের টুকরা ফেলে
হৃদয়ের সমস্ত রঙ, কি ভেবে আজ তার
ঘুড়িটা ওড়ালো বলো!

 

 

 

 

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত