চন্দ্র তাপসের কবিতা


রাসানুষ


 

এমন কী হতে পারে

অনান্য গ্রহের মতো একদিন পৃথিবী হবে বিরাণ

আর পৃথিবীর প্রাণ যাবে মঙ্গল অথবা চন্দ্রে!

বিজ্ঞানের কল্যাণে কোন কিছু আর অসম্ভব বলা যায় না

মানুষের মানবিক চিন্তা লোপ পাচ্ছে

বাড়ছে এলিয়েনিক ভাবনা।

এমনতো হতেই পারে রক্ত তৈরি হচ্ছে সয়ংক্রিয় মেশিনে

রাসায়নিক বিক্রিয়ায় উৎপাদন হচ্ছে খাদ্য

কৃত্রিম গর্ভে জন্ম নিচ্ছে মানুষ।

তখন হয়তো মানুষের নাম বদলে হবে রাসানুষ

মানবিক পৃথিবী রাতারাতি রূপ নেবে রাসানিক বিশ্বে

এমন কত কিছুইতো আজকাল ঘটছেই!

 

 


সময়


সময় আমাকে রাস্তার মোড়ে
ফেলে দুইহাতে তালি বাজায়।
কোষ্ঠ্যকাঠিন্যে সময় আমার
কাপড় খুলে পাইলস খোঁজে।
প্রতিনিয়ত এই সময় আমার
তিল তিল শুষে নেয় জীবন রস
কালের পথে নামে নবীন ব্রাজক।

বড়বেশি বেরহম বেসামাল সময়
টালমাটাল টানে লক্ষ্যে কক্ষপথ
সংকুচিত সময় আমাকে ছিন্ন
করে ভিন্ন করে বেঁচে থাকার পথ।
আবার এই সময় আমাকে
মাথায় নিয়ে বৃত্তাকার পথ
ভ্রমণ করে, কেন্দ্রে রেখে শূন্য।

 

 


দৃষ্টি


একাকী চাঁদ জ্বলছে আকাশে
নিভন্ত চুল্লির আলোয়
আরো দূর নীলিমায় তারকাপুঞ্জ
জ্বাজল্যমান নক্ষত্র দৃষ্টিসীমায়
এর বাইরে কী সকলই শূন্য
নাকি আছে আলোহীন কিছুটা আঁধার
প্রসারিত দৃষ্টি পৌঁছে যায় অসীমের কাছাকাছি
শূন্য থেকে মহাশূন্যে
সংকোচনে কেবলই অন্ধকার
ঘিরে থাকে চারপাশে

 

 


নন্দিনী


অন্য সবার মতো আমিও তোমার দক্ষতায় মুগ্ধ
বৃত্তাবদ্ধরাজা ভেঙে করেছো চুড়মার
বুদ্ধিজীবি লেখেকের অস্ত্রে দিয়েছো শান
কৃষক মজুর শ্রমিকের মনে আলো
এমন কী
কঠিন হৃদয়ের সর্দার
তারও সাথে সদ্ভাব
পথেপথে রঞ্জন ঘরে ফেরার গান
নৃত্যানন্দে সেজেছে কুসুমকমল

চেয়ে দেখ
তোমার রঞ্জন
অন্ধকার গুহাঘরে
বধিরতা খেয়েছে সময়
পলেপলে তোমায় দেখার অন্তিমাশা
মৃত্যুসত্য জেনে আলোর
শতরশ্মি রাতাকাশে মেশা
এইতো জীবন
সকলেই নেয় মেনে

 

 

 

 

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত