| 5 মার্চ 2024
Categories
ভ্রমণ

হিমালয়ের গহীনে : প্রকৃতি ও সংস্কৃতির মাঝে যাত্রা (পর্ব-৩)

আনুমানিক পঠনকাল: 6 মিনিট

পোর্টার এসে মালপত্তর রাখে “দি নেষ্ট” নামে লজ এর চাতালে। শীতল হাওয়া গায়ে কাঁপন ধরাতে সময় নেয় কারণ বিমানের ভেতর ভয় ধরানো অনুভবের উত্তেজনায় এখনো ডুবে আছি। বইয়ে পড়া অনুসারে সব ধরনের গরম কাপড় নেবার নির্দেশ আছে। আমিও নির্দেশের বাইরে যাইনি। চমৎকার রোদ উঠেছে আজ। হঠাৎ মন ভালো হয়ে গেল, কাঠমন্ডুর দ্বিপেন এর দেয়া খাম পোর্টার পেশাল এর কাছে হস্তান্তর করি। পেশাল ফোনে যোগাযোগ করিয়ে দেয় দ্বিপেন এর সাথে। পেশাল জানায় সে বাড়ি যাচ্ছে প্রস্তুত হয়ে আসতে। এই ফাঁকে আমার খাওয়া দাওয়া করতে চাইলে যেন করে নেই। এমন পোশাক আশাক আমার কাছে অস্বস্তিকর বটে তবু অভ্যস্ত হবার চেষ্টা করি। সেই র্দীঘদেহী জেসানও এসে জুটলো এই বিশ্রামে। অবাক হলাম একটি হাফ প্যান্ট আর পাতলা র্শাট ছাড়া কিছুই অতিরিক্ত নেই তার পরনে। সংকোচে আর জিজ্ঞেস করা হলো না সে শীত কেন অনুভব করছে না। খাওয়া সেরে নিলাম এখানে। লুকলাতেও খাবারের দাম বেশী, কারণ বিমানে নয়, জিরি থেকে র্পোটার নিয়ে আসে সব। রুক্ষ ভূমির ফাঁকে ছোট ছোট সবজির বাগান চোখে পড়লো। পেশাল ঢাল এসে হাজির। আমার ঢাউস সাইজের হ্যাভারস্যাকের গায়ে রেইন প্রটেকটর লাগিয়ে যাত্রা শুরু করলাম। প্রথমে লুকলা শহরের মাঝ দিয়ে। চারপাশে দোকানপাট প্রচুর। পাহাড়ে ওঠার সরঞ্জাম ছাড়া স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজনের জিনিসপত্রের বিকিকিনি। শহর ছাড়ার মুখে বিশাল প্রেয়ার হুইল আর একটি সুদৃশ্য গেইট। তারপর হালকা বনের মধ্যে দিয়ে নিচে নামা। বইয়ে পড়া বর্ণনা প্রথম দিন সামান্য হাঁটা পথ পাড়ি দিয়ে ফাঁকদিং এ পৌঁছে বিশ্রাম নিন। কিন্তু লুকলা থেকে ফাঁকদিং এর দূরত্ব মোটেও সামান্য নয়। লুকলার চাইতে কম উচ্চাতায় ফাঁকদিং গ্রাম ৮৭০০ ফুট। শুরুতে চারপাশের দৃশ্যাবলী চমৎকার কিন্তু ঘন্টা খানেক হেঁটে এই উচ্চতায় বেশ ক্লান্ত অনুভব করি। অনেকটা নিচে নেমে একটা ঝুলন্ত ব্রিজ, চাঙ্গা অনুভব করি এমন ব্রিজ ছবিতেই দেখেছি। বহু নিচে খরস্রোতা নদী বয়ে চলেছে, নদীর নাম দুধকোশী। এ অঞ্চলে নদীকে বলে কোশী। নদী পেরিয়ে উঁচুতে ওঠা ছবির মত সুন্দর গ্রামের মাঝ দিয়ে হাঁটা পথ। আমার চারপাশে সব সাদা চামড়ার সহযাত্রী।আমাকে ফেলে এগিয়ে যাচ্ছে কেউ আবার কেউ লুকলায় ফিরে আসছে। যারা ফিরে আসছে তাদের চোখ মুখ উজ্জ্বল চক চক করছে আনন্দে, প্রথম দিন তাই ভেবেছি সাফল্যের সাথে ট্রেকিং সমাপ্তির আনন্দ হয়তো তাদের চোখে মুখে। পড়ে মনে হয়েছিল তাঁর সাথে অমানুষিক কষ্ট সমাপ্তির আনন্দ যুক্ত ছিল। সকলে হাসি মুখে সম্ভাষণজানায় সকলকে। নানা দেশ থেকে এসেছে কত মানুষ। মনে হল এভারেষ্ট হাইওয়ে বলার পেছনের কারণ এটাই মূখ্য- পৃথিবীর বহু দেশের মানুষকে এক পথে পেতে এটাই অন্যতম। এই পথে চেপলু বড় গ্রাম তারপর একটু সমতল স্থানের নাম ঘাট। এটি কোন নদীর ঘাট নয়। অনেক সবুজ এক উপত্যকা। সব ক্লান্তি দুর হয়ে গেলো এই জায়গায় পৌঁছে, অপূর্ব সব বাড়িঘর, আকাশ মেঘলা, পাহাড়ের গায়ে মেঘ জমে উঠেছে। আর অনভিজ্ঞ আমি মোটামুটি গায়ে যা চাপিয়ে ছিলাম পরিশ্রমের ফলে গরমে খুলে একটি হাতাওয়ালা টি শার্টে এসে নামিয়েছি। একটা রেস্তোরাঁ দেখে মনে ধরলো পেশাল কে বললাম এখানে থামি, আসলে বিশ্রাম নেয়াটাও কিন্তু অন্যতম উদ্দেশ্য। আমার এই রেস্তোরাঁয় কেমন স্বপ্নময় মনে হয়। ছবিতে দেখা লামাদের আসবাবপত্রের সাথে মিল। ক্ষিদে নেই আমার। তাই ঠিক করেছি ফাঁকদিং পৌঁছেই খাব, যেহেতু পথ বেশী নয়। এই পর্যন্ত যাত্রা মোটামুটি সহনীয় ছিল আমার জন্য। তারপরের পরিশ্রম আমাকে বিধ্বস্ত করে তোলে প্রথম দিনই। রেস্তোরাঁর সবুজ বাগানে সাদা চেয়ার টেবিলে বসে চা-এর কাপে চুমুক দেই। প্রতি কাপ ৫০ রূপি। বেশ সস্তাই মনে হলো। এক শেরপানী চালায় রেস্তোরাঁ, তার ছোট বাচ্চা সারা জায়গায় ঘুরে বেড়াচ্ছে মনের আনন্দে। হাওয়া উঠলো কনকনে শীত গায়ে এসে বিঁধে। শুধু এক কাপ চা খাওয়ার বিনিময়ে রেস্তোরাঁর ভেতরে ঢুকতে বাঁধে কিন্তু যখন বৃষ্টির বড় বড় ফোঁটা পড়া শুরু হলো অগত্যা আশ্রয় নিলাম ভেতরে। হুড়মুড় করে আমাদের চামড়ার রঙে রাঙা আরও তিনজন ঢুকলো। পরিচয় হলো এই তরুণ দল এসেছে পুনে থেকে। নিয়মিত পাহাড়ে ওঠে, তাদের পোশাক আশাক আর ব্যাগের আয়তন দেখেই বোঝা গেল। কোন পোর্টার নেয়নি তারা। খুব প্রাণোচ্ছল এই দলটিকে আমার বেশ ভাল লাগলো। বৃষ্টিতে কিছুক্ষণ আটকা থাকার সময়টুকু আনন্দময় হলো এদের সান্নিধ্যে। এই রেস্তোরাঁয় ওদের একজন ১০ রূপীর রা-রা নুডুলস ২০০ রূপীতে কিনে খেলো। আর একজন কাঠমন্ডু থেকে নিয়ে আসা খাবারে দুপুরের আহার সারলো। বৃষ্টির তোড় কমলেও ঝিরি ঝিরি বৃষ্টির মাঝেই যাত্রা আবার শুরু করলাম। একটু দীর্ঘ বিশ্রামে ক্লান্তিও যেনো যেকে বসলো আমার উপর। পেশাল তাড়া দিল নইলে সন্ধ্যা হয়ে যাবে। ঘাট পেরুলেই নারনিং, চমৎকার জায়গা বড় বড় পাথরের চাইয়ে শেরপারা তাদের প্রার্থনা বাক্য অপূর্ব সৃজনে ভরিয়ে রেখেছে। আর কিছু পর পর প্রার্থনা চক্র তো আছেই। পথে যাবার কালে এই চক্র ঘোরালে র্দূভোগ কমে বলে শেরপা ও স্থানীয়রা বিশ্বাস করে। আমিও ঘোরাই কয়েকটা। বৃষ্টির তোড় বাড়ছে নারনিং পার হতেই জোরে এলো, রাস্তার পাশেই একটি জীর্ণ ঘরে আশ্রয় নিলাম। বুঝলাম এ ঘরে ইয়াক আর মানুষ একসাথে থাকে। চাও বিক্রি হয়, গৃহের অস্বস্তি দূর করতে আমার আর পেশাল এর জন্য চা’র অর্ডার দিলাম। ছাদে অসংখ্য ফুটো। গা বাঁচিয়ে ঘরের এদিক সেদিক ঘোরাঘুরি অবশেষে আর ধৈর্য্য কুলালো না বৃষ্টির মাঝেই রওনা দিলাম। আমার সদ্য কেনা বুট জোড়া কাদা পানিতে করুণ অবস্থা। আর সংকীর্ণ পাহাড়ি পথে একটু পিছলে গেলে সর্বনাশ। চুখ-হাওয়া নামে এক জায়গায় পৌঁছালাম, এবার পেশাল আরও তাড়া দিলো যাতে না থামি। পথ যেনো ফুরোচ্ছেই না। দেহে মনে ক্লান্তি বিপুল বিস্তার ঘটিয়ে চলেছে। এক সময় ক্লান্তিতে পা ভারী হয়ে পড়ে তবু থামা যাবে না। এগিয়ে চলি ফাঁকদিং এর পথে। অবশেষে বৃষ্টি কিছুটা কমে আসে। ফাঁকদিং এরও দেখা মেলে। পথে এর ওর কাছে কয়েকটা ভাল লজ এর নাম জেনেছিলাম এখন আর সেগুলো খোঁজার সামর্থ্য নেই। পেশাল একটা ভদ্রসমেত লজে এ নিয়ে গেল। রুম ভাড়া ২০০ নেপালী রূপী। বলে রাখা ভালো নেপালী রূপী আর বাংলাদেশী টাকা সমান সমান। ভাড়া কম হলেও খরচ কম তা নয়।আমার প্রয়োজন গোসলের। গরম পানির গোসল ৩০০ টাকা। ঠান্ডা পানিতো অসম্ভব এখানে। প্রচন্ড ক্লান্তির কিছুটা দূর হলো গোসলে। সব ভিজে যাওয়া জিনিস শুকাতে দিলাম ঘর জুড়ে। ডাইনিং হলটা বেশ উষ্ণ। মাঝে একটা চুল্লিতে আগুন জ্বলছে, তার চারপাশে বসে সবাই। একটা জাপানী দল এখানে উঠেছে, উদ্দেশ্য খুম্ব হিমবাহের কোন পুকুরে গোসল করে পূণ্য লাভের। বাতাসে গোসল করেই বেঁচে থাকা দায় আর পুকুরে!এই দলে বয়স্ক ব্যক্তি সত্তোরর্ধ্ব আর তরুণটির বয়স ২৫। তাদের সাথে গাইড পোর্টার ছাড়াও ভ্রমণ আরামদায়ক করার নানা উপকরণ। এই উষ্ণ রুমেও আমার শীত কমছে না। কাঠমন্ডু থেকে কিনে আনা কুখরি রাম গরম পানিতে ঢেলে নেই আমার পোর্টার কাম গাইড পেশালকেও দেই একটু। শীত কমার বদলে আরও বেড়ে গেলো তীব্র। উচ্চতা জনিত কারণে এ্যালকোহল একেবারেই নিষিদ্ধ বিশেষ করে আমরা যারা পুরো সমতলের। সন্ধ্যে ৭ টায় রাতের খাবার শেষ করে ঘরে পৌঁছে বিছানায় যেতে না যেতেই ঘুম এসে ভর করে। উচ্চতা জনিত অসুস্থতা রোধে ডায়ামক্স নামক এক ধরনের ওষুধ আছে। আমাকে ঢাকায় এক সুহৃদ ডাক্তার অনেকগুলো কিনে দিয়েছিল। তা খেয়ে সোজা ঘুম। ডায়ামক্স এর বাংলাদেশে নাম এসিমক্স। খেলে প্রচুর পানি খেতে হয় আর বাথরুম লাগে। মাঝরাতে ঠক ঠক করে কাঁপতে কাঁপতে কমন বাথরুমে যাই। এভারেষ্ট অঞ্চলে বেশীর ভাগ লজ-এরই কমন বাথরুম। যে দু’একটা লজের সংলগ্ন বাথরুম তার খরচ অনেক বেশী। ভোরে ঘুম ভাঙ্গলো পেশাল এর ডাকে। দ্রুত তৈরী হয়ে নেই। বইয়ে লেখা আছে এখান থেকে মানজো হয়ে জোরেসাল তারপর নামচে বাজার। যতটা সহজ বর্ণনা তার চাইতে সহস্রগুণ পরিশ্রমের বটে। তাশি তেগারি লজ এন্ড রেষ্টুরেন্ট এ দ্রুত সকালে খাবার খেয়ে অতি ভোরে বিদায় জানালাম এর মালকিনকে। চমৎকার রাত্রীবাস উপহার দেবার জন্য। ফাঁকদিং ছোট্ট জয়গা। গ্রাম পেরুতেই একটা ঝুলন্ত ব্রিজ। ঐ নদী দুধ কোশীই ঘুরে ফিরে চক্রে পিছেআঁকড়ে রেখেছে। ফাঁকদিং এ খুব দামী থাকার ব্যবস্থাও আছে ‘ইয়েতি মাউন্টেন হোম’ বিলাসবহুল হোটেল কিন্তু শেরপা সংস্কৃতির আধুনিক উপস্থাপনা। বেশীর ভাগ সাদা চামড়ার মানুষজন আসেন গ্রুপ ট্যুর এ, ট্যুর অপারেটরদের মাধ্যমে খরচ একটু বেশী কিন্তু সব কাজকর্ম অপারেটররাই করে দেয়, আমার এ বিশেষ অপছন্দ। ঝুলন্ত ব্রিজ পেরুতেই আমার জিভ বেরিয়ে পড়লো। বিশ্রাম নিচ্ছে ইয়াক আর ঘোড়াগুলো, পিঠে সাহেবদের বোঝা, কিছু সাদা চামড়ার আবার মানবাধিকার নিয়ে কড়া নির্দেশনা, কোন পোর্টার এর পিঠে তাদের মালামাল চাপিয়ে দেয়া অমানবিক। কিন্তু এ অঞ্চলে বিপুল সংখ্যক নেপালীর প্রধানতম জীবিকা পোর্টার হয়ে মালপত্র টানা। পথে ইয়াক আর ঘোড়ার দলের দেখা মিললে সাবধান হতে হয়। সরু পথের এক পাশে সরে গিয়ে সারিবদ্ধ হয়ে গলায় ঘন্টা বাজিয়ে তারা এগিয়ে চলে। ফাঁকদিং-এ রাতের বিশ্রামের ফলে যাত্রা শুরুতে মধুর ছিলো নদীর কলকল শব্দের পাশ দিয়ে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য্য দেখতে দেখতে। সকালের মিষ্টি রোদ বনের ভেতরে এক অদ্ভূত মায়াময়তা সৃষ্টি করেছে। পথে প্রচুর পরিব্রাজক, সবাই যে এভারেষ্ট এর পথেই চলেছে তা নয়, কেউবা নামচে বাজার অবধি,কেউবা দেখতে চলেছে থ্যাংবোচে মনাষ্ট্রি, কেউ চলেছে গোকিয়ো লেক, চোলা পাস দেখতে, কেউবা ইমজা সে’র চূড়ায় উঠতে। বিচিত্র বর্ণের আর দেশের মানুষের সমারোহ পথ জুড়ে। সাইন বোর্ড চেখে পড়ল একটি বাঁ দিক দিয়ে উঠে যেতে হবে পানঝুং গ্রামের দিকে। ইউএনডিপির সহয়তায় সেখানে আদি সংস্কৃতির সংরক্ষণের ব্যবস্থা আছে, সেটা দেখতে চাইলে উঠে যেতে হবে। যে সমস্ত পরিব্রাজক হাতে প্রচুর সময় নিয়ে এসেছেন তাঁরা কেউ কেউ যান, ওখানে থাকেনও। আমার গাইড কাম পোর্টার এর কাছ থেকে শোনা গেলো অনেক সুন্দর এ গ্রামটা। আমার ভাগ্যে নেই এদিকে যাবার তাই ডানদিকের উঁচু নিচু পথ ধরি, তেমন জটিল পথ না হলে কষ্ট কম হয়। নদীর পার ধরেই বেশীর ভাগ হাঁটা। রিমিসুং পৌঁছে খানিকটা বিশ্রাম। অনেক সুন্দর সুন্দর লজ আর রেস্তোরাঁ। বিশ্রামের আর্দশ জায়গা, কিন্তু আমার সময় সীমাবদ্ধ। রিমিসুং থেকে টকটক পুরোটা পথই নদী, তীব্র স্রোতের শব্দ শুনতে শুনতে পথ চলায় অদ্ভূতমায়াময় আলো পাহাড়ের খাঁজ গলে এসে গায়ে লাগে। ‘টকটক’-এ দোকান পাট আছে। লজ এর সামনে সাজানো নানান উপকরণের পশরা। অবশ্যই অনেক বেশী দাম। এই পথটা পাড়ি দিতেই ক্লান্তি এসে ভর করে, আমার পরবর্তী গন্তব্য ‘মানজো’ অনভ্যস্ত আমি হাঁপিয়ে উঠি। সকালে তীব্র শীতে যথেষ্ট পোশাক পড়ে বেরিয়েছিলাম। একে ভারি পোষাক পড়ে হাঁটা কঠিন তার উপর ঘেমেএকাকার অবস্থা। ধীরে ধীরে আমি স্বাভাবিক পোশাকে ফিরে আসি। পিঠের ব্যাগের ওজন খুব বেশী ভারী মনে হয়। ‘চুমওয়া’ পৌঁছে ক্লান্তিতে পর্যুদস্ত আমি। কিন্তু থামা যাবে না মানজোর আগে। পেশাল আমাকে তাড়া দেয়। এখানে কিছু সবুজ ক্ষেত চোখে পড়ে যেখানে গম বা যব চাষ হয়েছে। উজ্জ্বল কড়া রোদ। একটা ছোট কোশী বা নদী পেড়িয়ে মানজো। ক্ষিদেয় আমার কাহিল অবস্থা। কিন্তু মানজোর শেষ মাথায় হলো নেপাল সরকারের অফিস যেখানে অনুমতি পত্র এন্ট্রি করে ঢুকতে হয় ‘সাগরমাথা’ ন্যাশনাল পার্কে। সাগরমাথা ন্যাশনাল পার্ক ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট। আয়তন ১১৪৮ বর্গ কিলোমিটার। যদি সমতল ভূমিতে অবস্থান হতো হয়তো অনেক বিশাল নয় কিন্তু এই পার্কেই। অবস্থান বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের আর পার্ক পুরোটাই দূর্গম পাহাড়ী বুনো রহস্যে ঠাসা। পুরোদস্তুর গেইট আছে প্রবেশ মুখে।

 

 

 

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত