| 18 এপ্রিল 2024
Categories
গল্প সাহিত্য

দিদি নাম্বার ওয়ান

আনুমানিক পঠনকাল: 7 মিনিট

“ ওমন হাঘরে ফ্যামিলি … দেখো তাও দিদি নাম্বার ওয়ান জিতে এল!” একটু মন দিয়ে শুনলেই এ কথা এখন শোনা যাবে অমুকপুরের তমুকপল্লীতে। তবে এজাতীয় হিংসের কথা বাঙালী জাতিতে নতুন কিছু নয়। এখানে কেউই নিজের ব্যাপারে ভাবে না, অন্যের ব্যাপারে ভাবে। এবং নিজের ব্যাপারে ভাবেনা, তারও কারণ আছে, সে জানে তার কথা আর সবাই ভাবছে। এভাবেই বাঙালী জাতি বিশ্ব-কমিউনিটেরিয়ান জাতি হয়ে উঠেছে। আপনি যে কোন ফ্যামিলিতে খোঁজ নিন, সারা পাড়ার খবর সেখানে পাবেন। কোন বাড়ীর মেয়ে কার সাথে পালিয়ে গেল। কে কার বৌকে ছেড়ে পাশের বাড়ির অন্যকারোর সাথে লটরপটর করছে। কার মেয়ে রাত করে বাড়ি ফেরে। কার ছেলে মদ গাঁজা সিগারেট খায়। কার ছেলে কোন কাজ না করে বাপের পয়সায় বসে বসে খায়। আত্মীয় জ্ঞান না করলে কে আজকালকাল দিনে আর অন্যের সম্পর্কে এত খবর রাখে? তো যা হোক… তো এমন কথা শুনতে শুনতে স্বামীরাও বলে নিশ্চই “তোমাকে ওমন না খেয়ে থাকতে হয়েছে? … নাকি টাকার জন্য লোকের কাছে ঘুরতে হয়েছে! ওদের জীবনে কষ্টের গল্প আছে… তাই দিদি নাম্বার ওয়ানে চান্স পেয়েছে… নয়ত পেত না! তুমি গিয়ে কি বলবে ?”
যথারীতি এই কথা শুনে বৌ’রা তাদের সারাজীবনে শুধু পরিবারে খেটে যাওয়ার আর জীবনে কিচ্ছু না পাওয়ার গল্প চিৎকার করে শুনিয়ে বোঝাবার চেষ্টা করবে তার বরেরা কতটা ভুল যে তাদের জীবনে কোন কষ্টের গল্প নেই।
রাস্তায় বেরলেই এখন লোকজন ডেকে রাখালকে বলছে “ কি হে রাখাল বছরান্তে ভালোই তো মালকরি কামালে বৌয়ের দয়ায়!” রাখাল মুখের ওপর এর কোন প্রতিবাদ করে না! সে সবার সামনে বড়ই নিরিহ মানুষ। তার ওপর কারখানায় হাত কাটা পড়েছে একটি! আর একটি নৈব নৈব চ! টুকটাক কাজ করতে পারে! কিন্তু মনে মনে সবার কাছ থেকে তার “বৌয়ের দয়া”র ফিরিস্তি শুনতে ভাল লাগে না! তাকে আলম বলেছে , যাদের এরম সেন্টিমেন্টাল গল্প থাকে তাদেরই চান্স দেয় চ্যানেল। তার বৌও নাকি অডিশানে গেছিল রিম্পির (দিদি নাম্বার ওয়ান। এপিসোড ঃ ৭৪ ) সাথে। ওখানে নাকি জিজ্ঞাসা করে জীবনে কোন মনে রাখার মত ঘটনা কিছু আছে কি না! তা রিম্পি তৈরিই ছিল। সে কেঁদেকেটে খুব করে তার দুঃখের গল্প শুনিয়েছে। বেচারা নাজমা (আলম গাজীর বৌ) ,সে তো রিম্পিকে সামলাতে সামলতেই নিজের গল্পটা ঠিক করে বলতেই পারল না! সে অবশ্য বলতই বা কি! সে ঠিক করে গেছিল বলবে ঃ প্রথমে শ্বশুর ঘরে এসে খুব জোরাজুরি পেয়েছে ছেলে বিয়ানোর। কিন্তু হল মেয়ে। সে কিছুতেই বাড়ির লোকেরা আর ঘরে তুলবে না! তারপরের আলমের ব্যাবসায় উন্নতি হল। তখন শ্বাশুড়ির মনে হল স্বয়ং খুদাই মেয়েটিকে পাঠিয়েছেন। তখন সে নাতনিকে সোনার চেন দিয়ে মুখ দেখে মেনে নিল। অবশ্য এ গল্প সে বলতে পারেনি। সে বলেছিল একবার হঠাত করে তার বোন রিজিয়ার সাথে বেড়াতে বেরিয়ে দশটাকার লটারীর টিকিট কিনেছিল। এমনি! টাকার লোভে না! ছেলেটার সাথে রিজিয়া প্রেম করত। রিজিয়া বলেই রেখেছিল যাতে দশটাকার হলেও লটারীর টিকিট কেনে সে। তাই কিনেছিল। সেবার দশ হাজার পেয়েছিল। সে তো কতই হয় , কত লোকেই পায়, তাই তাতে তো চ্যানেলের টি আর পি বাড়বে না! ফলে নাজমা’র আর চান্স হল না! তবে সে’ও এখন থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছে, আরো কত করুণ করে আগের ঘটনাটাই সাজানো যায়!
রাখাল মনে মনে ভাবে তার যদি ওমন করে হাতটা মেশিনে ঢুকে না যেত তাহলে রিম্পিকে এত কষ্ট করতে হত? নাকি এত রসালো গল্প সে ফাঁদতে পারত? দিদি নাম্বার ওয়ানে সে চান্স পেত নয়ত? চান্স না পেলে জিততোই বা কি করে? সব তো তার হাত মেশিনে ঢুকে যাওয়ার জন্যেই! সব তো তাহলে তার জন্যেই পেয়েছে। এতে রিম্পির “দয়া” কোথা থেকে এল?
অবশ্য এখন আর কিছুই করার নেই। আর সেই নিয়ে রাখালের দুঃখ হলেও ক্ষোভ নেই! ক্ষোভ তার অন্য বিষয় নিয়ে! তার বৌ দিদি নাম্বার ওয়ান জিতে এসে থেকে সারা ঘর ভরতি করে দিয়েছে ঐ ছেলেটার ছবিতে। কোথা থেকে পাচ্ছে কে জানে! ছেলেটার নাম সে জানত না! তবে আগে তাকে সিরিয়ালে দেখেছিল। কূটের রোল করে। আগে রিম্পি তো সিরিয়াল দেখতে দেখতে গালাগালিও দিত! মাঝে মাঝেই চ্যাঁচিয়ে উঠত “ ওরে বদ্‌, তোর মরণ হয় না কেন?” সেই ছেলেটি সেদিন এসেছিল দিদি নাম্বার ওয়ানে। ঐ শব্দ বলে, কানে গান চলে, শুধু ঠোঁট নাড়া দেখে বুঝতে হয়! সেদিন ওদের সাথে নেচেওছিল ছেলেটা! তারপর থেকে ছেলেটা যে কি করেছে রিম্পিকে! সারাদিনে আগে একটা সিরিয়াল দেখত। এখন ঐ ছেলেটি যে যে সিরিয়ালে আছে, সব দেখে! আগে দেখতে দেখতেও চটপট কাজ করে চলত রিম্পি, এখন ঐ ছেলেটাকে দেখালে, হাসি হাসি মুখ করে তাকিয়েই থাকে তার দিকে। কোই তারও তো রচনা ম্যাডামকে এত ভাল লাগে। সে ওরম করে? তার বিয়ের আগে ঘর ভর্তি রচনা ম্যাডামের ছবি ছিল। এখন আছে? প্রেম করে বিয়ে করেছে বলে বিয়ের আগেই সব ছবি খুলে দিয়েছে সে। এখন ছবি বলতে শুধু মানিব্যাগে একটা। তাও সারাসময় তো বাবা-মা-র ছবির আড়ালেই লোকানো থাকে! আর রিম্পি? সবার সামনে? তার সামনে? আর যে যে আসছে তার কাছে দিদি নাম্বার ওয়ানের গল্প শুনতে, তাকে রচনার ম্যাডামের ব্যাপারে কটা কথা বলে রিম্পি? বলে, সেদিন রচনা ম্যাডামকে সামনে থেকে কত সুন্দরী লাগছিল?- ছাই বলে! সামনে থেকে দেখে আর ছবিতে দেখতে ইচ্ছা করেনা তার। সে তার পরেও তো তিনচার দিন গেছে দমদমের ঐ স্টুডিওর বাইরে। শুধু সামনে থেকে একবার রচনা ম্যাডামকে দেখবে বলে? দেখতে পায়নি যদিও! অবশ্য তাতে কি? সেদিনিই সে প্রাণ ভরে দেখে নিয়েছে তাকে। রিম্পি সেসব কথা বলে না! কাউকে বলেছে যে রচনা ম্যাডাম কি সুন্দর করে সবার সাথে কথা বলেন? তিনি কত বড় মাপের অভিনেত্রী, কত টাকাপয়সা, তাও কত আপন করে কথা বলে? তাকে হাত জড়ো করে নমস্কারও জানিয়েছেন। কোন সেলিব্রেটি করে? রিম্পি খালি আওড়ে চলেছে “জানোতো ওকে সিরিয়ালে যতটা খারাপ লাগে, ছেলেটা ততটাই ভাল। হাসিটা কি সুন্দর কি বলবো! আর গালে আবার টোল পড়ে তো! কি মিষ্টি করে কথা বলে… আর যখন নাচছিলাম… কি সুন্দর গন্ধ বেরচ্ছিল গা থেকে… যেন মনে হচ্ছিল জড়িয়ে ধরি!” বলে সে কি হাসি! ডাইনি একটা! পরপুরুষে চোখ দেয়। পুরুষমানুষের ওমন একটু দোষ থাকে… তাই বলে ঘরের বৌয়ের? একটা বাচ্ছাকাচ্ছা দেওয়ার নাম নেই! বললেই বলে “বাচ্চা আনবে খাওয়াবে কি?” ও মেয়েছেলেকে কে বোঝাবে ওরে সময় থাকতে থাকতে বংশরক্ষা না করলে আর হবে না! আর খাওয়ানোর কি! আসলে সে খাওয়ার সংস্থান করেই আসবে! কে কাকে খাওয়ায় ? সে নিজের ভাগ্যেই খায়! রাখাল ভুলে গেছে এখনকার হাওলার যুগে নিজের-ভাগ্য-নিজে-নিয়ে-আসাটাও একটা প্রতিযোগিতা। দিদি নাম্বার ওয়ানের মতই একটা রিয়ালিটি সো! ওখানেও নাম্বার ওয়ান হতে হয়!
সেদিন কারখানা থেকে ফিরে এসে শুনল রিম্পি নাকি সিনেমা দেখতে গেছে! তার ভীষণ খিদে পেয়েছিল! সে সারা বাড়ীময় খুঁজে দেখল কিচ্ছুটি রেখে যায়নি। সে রেগে মেগে ঘরে যত ছবি ছিল ছেলেটার সব টান দিয়ে ছিঁড়ে ফেলল। বরের দিকে খোঁজ নেই… সিনেমা গেছে! দিদি নাম্বার ওয়ান হয়ে কি মাথা কিনে নিয়েছে নাকি! একদিন ছেলেটার সাথে নেচে কি হিরোইন ভাবছে! ঐ তো ঢেপসি চেহারা! রাখাল ভালোবেসে বিয়ে না করলে কে বিয়ে করত ওকে! জুটত হয়ত কেউ, মোটা টাকা পণ নিয়ে ঝুলে পড়ত! অবশ্য মোটা টাকা দেওয়ার সামর্থ্য কি তার বাড়ির ছিল? সে বিয়ে করেছে, এক টাকা পণ নিয়েছে বলতে পারবে? না একটা সোনার চেন, না একটা লকেট, নিদেন পক্ষে না একটা সাইকেল! আর সে কি না বিয়ের চার পাঁচ বছরের মধ্যেই উড়ছে! তাও আবার কি না, দিদি নাম্বার ওয়ান জিতে! আসুক আজকে … দেখাবে ভাল করে!
অবশ্য সে আর কি দেখাবে? এসে যখন দেখল রাখাল ছেলেটার ছবিগুলো ছিঁড়ে দিয়েছে, সে কি চোপা! রাখালের একটা হাত নুলো হয়ে যেন তার শক্তি ও রোয়াবও কমে গেছে! সে কি বলবে, বৌ-ই চিৎকার জুড়ল “তুমি ওকে হিংসে করো? কি আছে তোমার যে তুমি ওকে হিংসে করো?”
“তুই যে ওর হয়ে বড় ওকালতি করছিস… তুই ওর বাড়ীর কাজের লোক হওয়ার যোগ্যি? দিদি নাম্বার ওয়ান হয়ে কি ভাবছিস টাকি তুই? সাপের পাঁচ পা দেখছিস?”
“ তোর খুব রোয়াবে লেগেছে না? পুরুষ মানুষ হয়ে বসে বসে বৌ’কে জিততে দেখে খুব আঁতে লাগছে না?” রিম্পিও তুইতে নেমে আসে।
“বেশি কথা বলিস না…” রাখাল ভাবল রিম্পির সাথে ঝগড়া করে লাভ নেই! সবে জিতে এসছে, এখন পাড়ার লোকেদের সেন্টিমেন্ট ওর দিকেই। তারমধ্যে দেওয়ালে ছবি মারা দেখিয়ে কি’ই বা প্রমাণ করবে সে? কত জনই তো দেওয়ালে কত লোকের ছবি আটকায়! তাতে ক’জনের বাড়িতে এরম ঝামেলা হয়! তাই সে চুপ করে যায়! রিম্পিও কিছুক্ষণ গজরগজর করতে করতে চুপ করে যায়!
আর সব সংসারেই ঝামেলা হয়, ঝামেলা মিটেও যায়! ওদেরও গেছে! দেওয়ালে আরো ভরে উঠেছে ছেলেটার ছবি! ছেলেটা নাকি সিনেমাও করছে এখন! পোস্টার পড়েছে কারখানার দেওয়ালে! একটা মেয়ের সাথে খালি গায়ে! নিশ্চই ওসব সিন আছে! আর সস্তার অ্যাক্টর আর কি করবে? সস্তার না তো কি? এই যে দেব এত বড় অভিনেতা? ছবিতে কটা চুমু খেয়েছে? কটা ওরম দৃশ্য করেছে! আর শুধু দেব কেন… রচনা ম্যাডামও তো! রচনা ম্যাডামের সব সিনেমা ও দেখেছে! কটা ওরম সিন আছে! সস্তার অ্যাক্টররাই ওসব করে! রাখাল মনে মনে ভাবে, রিম্পি দেখতে যাবে না? যাক… যাক! এইবার সে সত্যিই চায় রিম্পি যাক। সিনেমাটা দেখুক। দেখুক গিয়ে ঐ সিনটা! দেখুক এরম সস্তার আক্টররা যে হিরোইন পায়, সে তার থেকেও কত নীচে? আর ওই সিনটা দেখে একটু জ্বলুক!
কিছুদিনের মধ্যেই গেল। তারপর আরেকদিন গেল। তারপর আরেক দিন! একদিন রাতে নিজে থেকে কাছে সরে এসে বলল “কাল তোমার বুকের লোমগুলো চেঁচে দেবো! লোম ছাড়াও ছেলেদের বুক ভাল লাগে… দখোনি… শাহরুখ খান, সালমন খান ওরা! ওদের বুকে কি লোম নেই? সব চেঁচে রাখে!”
রাখাল ভাবে রিম্পি বুঝি এতদিনে বুঝেছে, যেমন হোক তেমন হোক সে’ই তার হিরো! তাই বুঝি সে তাকে হিরোর মত করে সাজাতে চাইছে!
“এই শোনো… কালকে চলো সিনেমা দেখে আসি!”
“কি সিনেমা?”
“ঐ যে মন যে তোমার আমার!” ঐ ছেলেটার ছবিটা!
“কতবার দেখবে আর?”
“কতবার দেখেছি?”
“তিনবার তো হল!”
“ কেন বিয়ের আগে আমরা ‘দুজনে’ সিনেমাটা পাঁচবার দেখিনি?”
“সে তো… রাস্তায় ওসব করা যেত না… তাই হলের পিছনের সীটে…”
“তাই চলো… পিছনের সীটেই বসবো! আর সিনেমাটায় অনেক কিছু শেখার আছে!”
“ কি শেখার আছে?”
“ কাল দেখবে চলো! নিজেই বুঝবে!”
*
সিনেমা দেখে বেরিয়েও রাখাল ভাবছে রিম্পি যে বলল শেখার আছে! না, সে পড়াশোনা করেনি বেশি, রিম্পি তাও উচ্চমাধ্যমিক দিয়েছিল। ব্যাক পেয়েছিল যদিও, তাও তার থেকে পড়াশোনায় ভাল! কি শেখার বিষয় কে জানে! তবে রাখাল ঐ সিনটার সময় রিম্পির দিকে তাকিয়ে দেখছে! মুখটা চুন হয়ে গেছিল পুরো! ঠিক হয়েছে… ঠিক হয়েছে! কি যে আনন্দ হচ্ছিল তার!
রাতের বেলায় শুয়ে রাখালের খুব মনে হল অনেক দিন কিছু হয়নি! সে রিম্পির দিকে সরে শুল! গলার কাছে মুখ নিয়ে ঘষে দিল! “কি করছ?”
“অনেকদিন তো হয় নি!”
“ধুস… তুমি করতে পারো? খালি তো নিজের টুকুই!”
“কি বলছিস তুই?”
“ঠিকই তো বলেছি! ঐ যে দেখলে ওরা করার আগে কতকিছু করল! তুমি কবে করেছ? বললাম না কালকে বইটায় অনেক কিছু শেখার আছে ”
“আচ্ছা করব…”
অনেকদিন পর যেন আজ এই টিনের ছাদের তলায়ও বৃষ্টি নামল। বৃষ্টি পড়লে যেমন কুয়াশা জমে যায়, ঘরেও যেন জমে উঠতে থাকে জমাট মেঘ। এতদিনের ভুল বোঝাবুঝির বুঝি সমাপ্তি।এত পাওয়া না পাওয়ার সমস্ত পুরনো হিসাবনিকাশের খাতা ফেলে দেওয়া হবে, নতুন খাতা তৈরী হবে!
বাইরের মুষল বৃষ্টিতে খাটের অহরহ চেঁকর চেঁকর শব্দ ঢাকা পড়ে গেছে আজ। ঘরের কোনার টিনের চাল থেকে জল পড়ছে টুপটুপ করে! তার আওয়াজ বেশ জোরে শোনা যাচ্ছে। রিম্পির মনে সিনেমার দৃশ্যটা ভেসে ওঠে। ওখানেও তো বৃষ্টি পড়ছিল, না? বৃষ্টির মধ্যেই ও ভালবেসেছিল মেয়েটাকে! তখনই যেন রাখালের জিভের গরম ছোঁয়ায় তার ভেতরটা নড়ে ওঠে… সামনে ওর মূর্তি ভেসে ওঠে, সুপৌরুষ দুটো হাত যেন চেপে ধরেছে তাকে। ঐ চোখগুলো দিয়েই যেন সারাশরীরে সে বুলিয়ে দেবে আনন্দের অমৃতসাগরের ঢেউ। সে আর নিজেকে সামলে রাখতে পারে না। “আহ… আহ… ঋষি… আসতে “

রাখাল থেমে গেল। কোন জিনিষ প্রথমবার করলে তা এক মনে করতে হয়। তাই রিম্পির শব্দগুলো কানে ঢুকে স্নায়ুপথে মতিষ্কে গিয়ে অর্থ তৈরি করতে একটু সময় লেগেছে রাখালের। যখন অর্থ তৈরি হল তখন রাগে তার গা’টা রি রি করে উঠল। এমন শীতল ঠান্ডা রাতেও কানদুটো গরম হয়ে উঠল। তার সাথে শুয়ে তার স্ত্রী, যাকে সে প্রেম করে বিয়ে করেছে , সে অন্য এক পুরুষকে কামনা করছে? সে এখন আর তাহলে টিভিতেই আটকে নেই! নেই’ই তো! তার সাথে নেচে এসেছে রিম্পি। ওর ছোঁয়া পেয়েছে, এখন ও শরীর চায়? বজ্জাত মেয়েছেলে!
রাখাল কোনমতে এক হাতে ভর দিয়ে উঠে দাঁড়িয়েছে। রিম্পি জিজ্ঞাসা করল “কি হল…?”
“কি হল? কি হল দেখাচ্ছি! ওর সাথে করবি? ওর সাথে করবি…হারামজাদি… খানকি..” বলে সে খাটের তলা থেকে দাঁওটা বার করে, অশক্তিশালী হাতেই কোপাতে আরম্ভ করল। বাইরের বৃষ্টির শব্দ রিম্পির চিৎকার সেদিন ঢেকে দিয়েছিল, যেভাবে এই মেয়ে জন্ম তার কামনা বাসনা সব মেয়েদের-ওসব-পেতে-নেই-র শিক্ষার বাক্সে লুকিয়ে দিয়েছিল। রাখাল কিছুক্ষণ আগে যে রিম্পির শীৎকার শুনে নিজের পৌরুষ উপভোগ করছিল সে আরো দ্বিগুন পৌরুষে রিম্পির চিৎকার উপভোগ করতে থাকে! মেয়ে মানুষ হয়ে, বর বাদে অন্য কাউকে কামনা করলে তো এমনই হয়!

(এপিসোড নাম্বারটি কাল্পনিক, বাস্তবের সাথে এর সম্পর্ক নেই)

 

 

 

 

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত