আমার মন চেয়ে রয় মনে, ভ্রমণে (শেষ)

পর্ব – ২

এবার তাঁর  অনবদ্য ভ্রমণকথা  “উত্তমাশা অন্তরীপ এবং’ ( মিত্র ও ঘোষ পাবলিশার্স )  প্রকাশকাল ২০১০ । ভূগোল ব‌ইতে পড়া দক্ষিণ আফ্রিকার চারটি শহর ডারবান, জোহানেসবার্গ, প্রিটোরিয়া আর কেপটাউন নিয়ে লেখিকার কলমে জীবন্ত জাদুময়তা এই ব‌ইতে। একজন ভারতীয় লেখিকার মনে  ভারতীয় দেশনেতা, গান্ধীজির পিটার মারিতসবার্গ স্টেশনে হেনস্থার ঘটনাটি দাগ কেটে যাওয়াটা যেমন স্বাভাবিক ঠিক তেমনি দক্ষিণ আফ্রিকায় পা রেখে গান্ধীর স্মৃতি বিজড়িত অঞ্চলগুলি ঘুরে দেখার বাসনাটিও ততটাই স্বাভাবিক। এ ব‌ইয়ের ছত্রে ছত্রে উঠে আসে সে সব।  কি করে আর পাঁচটা সাধারণ শিক্ষিত ভারতীয়ের মত লেখিকাও ভুলবেন ফার্স্ট ক্লাস টিকিট থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র গান্ধীর বাদামী চামড়ার অপরাধে  ট্রেন থেকে তাকে ফেলে দেবার ঘটনা?  আবার নেলসন ম্যান্ডেলার দীর্ঘ কারাবাসের সেই একক কামরাখানি, সেটিও তো অনুভব করার। কিম্বা  জোহানেসবার্গে গিয়ে নোবেল বিজয়ী নাদিন গার্দিমারের বাড়িতে চা খাওয়া…সে অভিজ্ঞতাও তো স্মৃতির ক্যামেরায় বাঁধিয়ে রাখার মত। আর হাতের পাঁচ তো ছিল‌ই আটলান্টিক মহাসাগর আর ভারত মহাসাগরের মিলনস্থলটি নিজের চোখে পরখ করার। মানচিত্রে এতদিন দেখা সেই ভূখন্ড, সেই কেপ বা অন্তরীপ অর্থাত যে ভূখন্ডের তিনদিকে জলময়তা তা দেখার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা যে কত সুন্দর  হতে পারে তা এই ব‌ইখানি পড়লে বোঝা যায়। ছবির মত সুন্দর এই প্রকৃতি তাঁর কাছে বড়োই অকৃপণ লেগেছিল। মুক্তহস্তে এই অকৃপণ দান বর্ষণ করে প্রকৃতির বরণডালা তো সাজানোই আছে আর তাকে নিয়ে পাতার পর পাতা লেখা?  সেই কাজটি যিনি করেন তিনি হলেন এক প্রকৃত সাহিত্যশিল্পী। 

এই ব‌ইখানির প্রথম পর্বে ডারবান ডায়েরী তে দেখতে পাই বেড়ানোর তুচ্ছ অথচ প্রয়োজনীয় তথ্যাদি।  তাঁর ভারতীয় বন্ধুর সঙ্গে জোবার্গে দেখা হবার উত্তেজনা, একসাথে দেখা হবার জন্য থৈ থৈ আনন্দ পরক্ষণেই প্ল্যান সব ভন্ডুল। প্রিপোন হল বন্ধুর  সে যাত্রা। ছোটমেয়েকে একগাদা গচ্চা দিয়ে আবার টিকিট বদল করতে বলা…এগুলি যদিও একান্ত নিজস্ব অভিজ্ঞতা কিন্তু এত আটপৌরে এবং আন্তরিক যে পড়তে পড়তে মনে হয়  এ তো আমার ঘরের গল্প। বড় কন্যার ডারবানবাসী  কনসোল জেনারেল বন্ধুর আপ্যায়নে সে যাত্রার সব অনিশ্চিত কেটে আকাশের কালো মেঘ সরে নতুন সূর্যোদয়ের ইঙ্গিত। ভ্রমণের আনন্দে লেখিকা তখন উদ্বেলিত। এবার জোহানেসবার্গ দেখবার উত্তেজনায় ভ্রমণপথের আনন্দ জমে দৈ। ভাগ করে নিলেন তিনি পাঠকের সাথে।

মাননীয় গোপাল গান্ধীর পরামর্শে জোবার্গের সোয়েটো পরিদর্শণ এবং দুই নোবেল লরিয়েট অমর্ত্য সেন এবং নাদিন গর্ডিমারের কথোপকথন শুনতে এক স্বর্ণালী সন্ধ্যেয় উইটস ইউনিভার্সিটিতে হাজিরা দেওয়া…এসব উনি লিখলেন বলে আমাদের জানতে পারা।  জানতে পারা গেল আফ্রিকান জ্যাজ সঙ্গীতের প্রতি লেখিকার আকর্ষণের কথা।  মধ্যে মধ্যে এগিয়ে চলল পাঠকের সঙ্গে জোবার্গের প্রকৃতি, মেলভিলের মিকাসা-সুকাসা অর্থাত “আমার বাড়ি-তোমার বাড়ি’  অতিথিশালার সৌন্দর্য বর্ণনা, সেখানে মা-মেয়ের আপ্যায়ণ ইত্যাদি পর্ব। 

এবার সোয়েটো বা সাউথ ওয়েষ্টার্ণ  টাউনশিপে  সোনার খনির শ্রমিকদের বস্তিতে সোফিসোর সাথে আলাপ পর্বে জানা গেল তিন বোনের পর এক ভাই সোফিসোর ও কত কদর সে দেশে। বেশ চাঞ্চল্যকর তথ্য। সোফিসোর নামের অর্থ ওদের ভাষায় “উইশ’  । সোফিসোর বড় বোনের নাম ডার্লিং, অর্থাত সে পেয়ারের পাত্রী। মেজো হল হ্যাপি কারণ তখনো তাঁরা ভাবছেন পরের জন অবশ্যই পুত্র হবে। না পুত্র আসেনি যথারীতি। এসেছিল সোফিসোর তিন নম্বর বোন “ইনাফ’  অর্থাত “আর না’  বা আমাদের যেমন  আন্নাকালী। আর সোফিসো আসায় উত্ফুল্ল পিতামাতার ইচ্ছাপূরণ। এইসব ছোটখাটো ব্যাপারগুলো নাড়া দেয় আমার মত পাঠক কে।  

এবার তাঁর ফিরে যাওয়া ইতিহাসে। ঐ অঞ্চলে নেলসন ম্যান্ডেলা, উইনি ম্যান্ডেলা এব্ং বিশপ ডেসমন্ড টুটুর ঘরবাড়ি দেখতে। ক্লিপটাউনে লিখিত সেদেশের ফ্রিডম চার্টার এর খসড়ায় আমরাও চোখ রাখি। কত মিল আমার দেশের সাথে। জাতিভেদ থেকে জমি-জিরেত, মানবাধিকার থেকে ধর্ম নিরপেক্ষতার মত স্পর্শকাতর বিষয়গুলির প্রতিধ্বনি যেন শোনেন লেখিকা। সেইসাথে শুনি আমরাও।

এরপরে নোবেল লরিয়েটসদের সঙ্গে উজ্জ্বল নৈশভোজে আফ্রিকান ক্যুইজিনের পরিচয় মেলে নবনীতা দির লেখায়। উটপাখির বড়া, কুমীরের মাংস ভাজা, কাঁকড়ার চচ্চড়ি, ঝিনুকের মাংসের চাটনী, আর আফ্রিকান মশলা সহযোগে মাংসের ভুনি খিচুড়ি। বিদেশের খাবারদাবারে বিশেষতঃ আমিষে খুব একটা উত্সাহী ন‌ই কিন্তু লেখিকার উত্সাহব্যঞ্জক নামকরণে পুলকিত হয়ে উঠেছিল এহেন পাঠক মন। আফ্রিকান পদ চেখে পরখ করার জন্য তাঁর কি আকুলতা! জীবনের প্রতিটি মূহুর্ত যাপনের অনুষঙ্গেরা বুঝি রম্য লেখিকার কাছে নতুন রূপে প্রতিভাত হয়। সেখানে উট থেকে কুমীর, ঝিনুক থেকে কাঁকড়া কেউ বাদ পড়ে না। 

এরপর মি কাসা-সু কাসা ছেড়ে আসার সময় তাঁর মন দুর্বল হয়ে ওঠে। উষ্ণ অভ্যর্থণাকে তিনি ইংরেজী তে “কোজি’ বলেই বাংলায় কিভাবে বলব? ওম্‌ না কবোষ্ণ?  এই  নিয়ে দোটানায় পড়েন। আমরা শিখি। বাংলাভাষার প্রতি নতজানু হয়ে প্রণাম জানাই।

পিটারমারিত্সবার্গে গান্ধীজির ফলকটির সম্মুখে দাঁড়িয়ে তাঁর সঙ্গে আমাদেরো মন ভারি হয়। বর্ণবৈষম্য নীতি নিয়ে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল যাঁর। ছোট কন্যা নন্দনার সঙ্গে তার শ্যুটিংএ ও সামিল হওয়া, অন্তরঙ্গতায় ভরে ওঠে আফ্রিকান সাফারি। মানস ভ্রমণে সামিল হ‌ই আমরাও।    

তারপর তো কত গল্প জানা গেল।  খবরের কাগজে টুকরোটাকরা পড়েছি, বহু আগে, সেগুলো এবার স্পষ্ট হতে লাগল। নাবালক কিশোর স্টাম্পিকে চাবুক মেরে হত্যার অপরাধে দন্ডিত হয়েছিলেন উইনি। আদপে ছেলেটি উইনির ভক্তই ছিল। আর এমন অপরাধমূলক কাজ করেও উইনির পার পেয়ে যাওয়া  অথবা আদালতে ছেলেটির জন্য বিন্দুমাত্র অনুশোচনা প্রকাশ না করায় তার ভক্তবর্গেরও পর্যন্ত তাকে পাগল রূপে মনে করা…এতসব তথ্য উঠে এল।  এবার ম্যান্ডেলার বন্দীদশা ঘোচার পর উইনির পরকীয়ায় লিপ্ত হওয়া এবং তার ফলে ম্যান্ডেলা দম্পতির বিবাহ বিচ্ছেদ এবং নেলসন ম্যান্ডেলার পুনর্বিবাহ ..এতসব দু মলাটের মধ্যে পড়া তো হল।

চটকদার,আকর্ষণীয়া  উইনি চরিত্রের বিশ্লেষণ আমাদেরো জানার দরকার ছিল। তার বহুগামীতা, নবীন প্রেমিকের প্রতি আসক্তি, প্রচন্ড পান ও মাদকাসক্তি আর সর্বোপরি কিশোর খুনের অপরাধ এখনো সে দেশের বহু মানুষ যেমন তাকে ক্ষমা করতে পারেনি তেমনি জোহানেসবারগ, ডারবান ও কেপটাউনের অনেকেরি  মনে তিনি মাম্মা উইনি হয়ে দিব্যি বেঁচে আছেন ।

এরপর পাঠক প্রবেশ করে নতুন একটি অধ্যায়ে। সেই মারণ ব্যাধি এডসের যেখানে প্রথম থেকেই মৌরসীপাট্টা। রবীন্দ্রনাথ কি সব জেনে শুনেই এই গান টি লিখেছিলেন? “বাসনা যখন বিপুল ধূলায়, অন্ধ করিয়া অবোধে ভুলায়…’ 

হ্যাঁ, নবনীতা দেব সেন এই অধ্যায় শুরু করেছেন এই গানটি দিয়ে। সেখানেই সার্থকতা একজন সাহিত্যিকের। রিলেট করতে পারা অর্থাত গানের লাইনটির সঙ্গে এই এডস রোগের ভয়ঙ্করতা, তখনি যেন মনে হল সবটুকু বলা হয়ে গেল তাঁর মুখ দিয়ে।

তাঁর লেখাতেই পড়েছিলাম সেবার। কি অসম্ভব আগলহীন দক্ষিণ আফ্রিকাবাসীর যৌনজীবন নিয়ে ! বহুচারিতা এখানে দোষের নয়। আর সেই কারণেই এখানকার তথা সারা বিশ্বে এক নম্বরে এডস রোগীরা এইখানে। স্থানীয় মানুষজনের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি জানতে পারেন এক একজন মেয়ের অজস্র বয়ফ্রেন্ডের কথা, নির্লজ্জের মত এরা সেক্স করে সকলের সাথে, নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধি করে, চাহিদা পূর্ণ করে। এদেশে গ্রামীণ নিয়ম অনুযায়ী  বারো বছরের কিশোরের নারী সঙ্গ সুখের জন্য পৃথক ঘরের ব্যবস্থা থাকে । আর কোনো রকম জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি এদের না পসন্দ। লেখিকা যখন ওদেশে ছিলেন তখন রাস্তায় ঘাটে এই এডস নিয়ে সেদেশের মাথাদেরও কোনো হেলদোল চোখে পড়েনি তাঁর। না কোনো হোর্ডিং, না জনস্বার্থে প্রচারিত কোনো বিজ্ঞাপন। তাই বুঝি মনের সুখে সে রোগ মহামারীর রূপ নিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের কোণায় কোণায়।

এবার তিনি আসেন ফিনিক্স সেটলমেন্ট অর্থাত দক্ষিণ আফ্রিকার নাটাল প্রদেশে যেখানে প্রচুর ভারতীয়ের বাস এবং বেশীর্ভাগই গুজরাটি এবং মুসলমান। হিন্দু, মুসলমান, পার্সী, ক্রিশ্চান সকলেই এসেছিল এই অঞ্চলে কুলিগিরি করতে অর্থাত ক্রীতদাস হয়ে। আখের খেতে চাষের কাজ করতে। পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় আসত তারা। তারপরেও চুক্তি মাত্র দুবছরের জন্য নবীকরণ করতে পারত। বসবাসের অধিকার চাইলে সরকারকে বার্ষিক ট্যাক্স দিতে হত। তাই বলে ভোটাধিকার পেত না তারা। এদের বংশধরেরাই আজ চাকরী অথবা ব্যাবসা করছে। এরপরেই গান্ধী এপিসোড। তিনি এদেশে এসেছিলেন কুলি ব্যারিষ্টার হয়ে, আবদুল্লা শেঠ নামে গুজরাটি এক ব্যাবসায়ীর হাত ধরে। আর যার সঙ্গে গান্ধী এসেছিলেন তিনি হিন্দী ঔপন্যাসিক শ্রী গিরিরাজ কিশোর, দক্ষিণ আফ্রিকার ভারতীয়দের জন্য লেখা তাঁর উপন্যাস “পহেলা গিরমিটিয়া’ র জন্য সাহিত্য আকাদেমী পুরষ্কার পেয়েছিলেন। বিহারী কুলিরা এগ্রিমেন্ট শব্দটি উচ্চারণ করতে পারত না তাই চুক্তিবদ্ধ ভারতীয় শ্রমিকদের উচ্চারণে এগ্রিমেন্ট থেকে গিরমিটিয়া চালু হয়েছিল। ভারি মজা লাগল পড়ে। ঠিক যেন আমাদের দোখনে কাজের লোকেরা আজো নমিনি করা কে বলে নমিনা কিম্বা এনকোয়েরি কে বলে ঋণকুমারী। 

ফিনিক্স সেটলমেন্ট মানে যেখানে আমাদের গান্ধী স্বয়ং হাজির হয়ে অনেকটা ফাঁকা জমি কিনে ফেলেন ১৯০৩-৪ নাগাদ, কড়কড়ে ১০০০ পাউন্ড দিয়ে। ফলগাছে ভর ভরন্ত হয়ে উঠেছিল এই অঞ্চল। গুজরাট থেকে সপরিবারে গান্ধীর অনেক বন্ধুরা গেলেন সেখানে। খেতখামার হল।ঘরবাড়ি, সর্বোদয় আশ্রম তৈরী হল। ইন্ডিয়ান প্রিন্টিং প্রেস তুলে আনা হল। মানে এককথায় চরকা বিহীন গুজরাটের সাবরমতী আশ্রম। ইন্ডিয়ান ওপিনিয়ন নামে চারটি ভারতীয় ভাষাতে সাপ্তাহিক পত্রিকা বেরুতে লাগল ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্রিন্টিং প্রেস থেকে। এর পরের পর্ব অপমানের, লাঞ্ছনার। 

নাটালের রাজধানী এখন সেই জায়গায়, পিটারমারিত্সবার্গে। এখানেই ট্রেন থেকে কালো চামড়ার ভারতীয় গান্ধীকে একদিন ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। মস্তবড় আভিজাত্যপূর্ণ রেল স্টেশনে দাঁড়িয়ে লেখিকার হাত ধরে আমাদেরো অনুভব করতে হবে সেই নৃশ্ংসতার কাহিনী।হাতে প্রথম শ্রেণীর টিকিট অথচ কতবড় হেনস্তা, কেবলমাত্র বর্ণবৈষম্যের নিরিখে। দক্ষিণ গোলার্দ্ধের জুনমাসের এক প্রচন্ড শীতের রাতে, গান্ধীকেও কাটাতে হয়েছিল একরাত সেখানে, ১৮৯৩ সালে। আর সেই থেকেই গান্ধীর মনের মধ্যে দানা বেঁধেছিল সক্রিয় অহিংস আন্দোলনের নীতি। আজ সেখানে থাউজেন্ড হিলস এর ঢেউ খেলানো শৈলশ্রেণি, প্রস্রবণগিরি, কিন্তু ভারতীয় স্বাধীনতা অন্দোলনের নতুন মোড়, নতুনধারার রাজনৈতিক বীজবপন। তাই গায়ে কাঁটা দেয় আজো। মনে হল যেন আমিও ঘুরে এলাম পিটারমারিত্সবার্গ। 

জানেন? এখানে রেডিওতে এখন দুটি ভারতীয় চ্যানেল, লোটাস আর হিন্দবাণী। এখানে গান্ধীজির জমিজমা সরকার অনেকটাই অধিগ্রহণ করেছিল যেটুকুনি আছে সেটি ফিনিক্স ট্রাস্টের কাছে, গান্ধীর আত্মীয় মণিলাল গান্ধীর মেয়ে ইলার কাছে। ওরা সব লন্ডভন্ড করে, আগুণ লাগিয়ে দিয়েছিল। গান্ধীর নিজের হাতে বানানো ঘরবাড়ি থেকে সর্বোদয় আশ্রম, সব ভস্মীভূত হয়ে গেছিল। সে বসতবাড়ি আজ নেই। শুধু দেওয়ালে আছে অগণিত ছবি। আর সবচেয়ে আশ্চর্য হতে হয় ডারবানের পয়েন্ট রোডের মত খতরনক জায়গা, একটি বেশ্যাপল্লী, যেখানে খুনখারাপি হয় সবথেকে বেশী সেই রাস্তার নাম বদলে মহাত্মা গান্ধী রোড রাখা হয়েছে। লেখিকার সঙ্গে আমারো মন ভারি হল তা পড়ে। তাঁর মতে এ যেন দুর্ভাগা পল্লীর শুদ্ধিকরণ হল গান্ধীর স্পর্শে। 

সব মিলিয়ে সুন্দর অনুভূতি। শুরু করলে পড়তেই হল সবটা।  বিস্ময়ে তিনি ভ্রমিবেন, পাঠক মনের  ক্ষুধা মিটাইবেন, সেই আশায়। তবে সে ভ্রমণ পারলৌকিক জগতে। চির নবীনার সুস্থতা কামনা করেও পারলাম না তাঁকে ধরে রাখতে। অগত্যা তাঁর এই সৃষ্টিগুলিই আঁকড়ে আমাদের বেঁচে থাকা। আমাদের প্রতিনিয়ত যাপন। আজও মনে হয় সেই হাসিমুখে তিনিই কথা বলে চলেছেন। এত প্রাঞ্জল সেই ভঙ্গিমা। এত আন্তরিক সে নিবেদন।

 

 

 

 

 

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত