বাংলাদেশকে ১০ রেল ইঞ্জিন দিল ভারত

ভয়াবহ করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যেও বাংলাদেশকে উপহার পাঠাতে ভুলল না ভারত। এ বছর নয়াদিল্লির তরফে পড়শি এই দেশকে ১০টি লোকোমোটিভ রেল ইঞ্জিন উপহার পাঠানো হয়েছে। সোমবার ভারতীয় সময় দুপুর আড়াইটে নাগাদ ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে ভারত সরকারের তরফে এই উপহার আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। নয়াদিল্লি থেকে এই ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে যোগ দেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। অন্যদিকে, বাংলাদেশের রেলমন্ত্রী মোহম্মদ নুরুল ইসলাম সুজন ও বিদেশমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন সে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন।

এর পরে বিকেল সাড়ে ৩টে নাগাদ গেদে সীমান্ত হয়ে ১০টি রেল ইঞ্জিন বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলওয়ে স্টেশনে এসে পৌঁছায়। সে সময় স্টেশেনে উপস্থিত হাজার খানেক মানুষ ভারতের পাঠানো এই উপহারকে করতালি দিয়ে স্বাগত জানান বলে বাংলাদেশের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

গত বছর অক্টোবরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নয়াদিল্লি সফরের সময়ই সে দেশের রেল ব্যবস্থার উন্নয়নে সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। এক্ষেত্রে অনুদান হিসেবে রেল ইঞ্জিন দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিল ভারতীয় রেল। যার অঙ্গ হিসেবে এই ১০টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ পাঠানো হল। সূত্রের খবর, উন্নত মানের এই সমস্ত ইঞ্জিন কমপক্ষে আগামী ২০ বছর ব্যবহার করা যাবে।

অপ্রতুল লোকোমোটিভের অভাবে বাংলাদেশে সামগ্রিক রেল পরিষেবা দারুনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুসারে, বাংলাদেশ রেলের সংগ্রহে যতগুলি ইঞ্জিন রয়েছে তাদের মধ্যে অধিকাংশের ইকোনমিক আয়ুষ্কাল (২০ বছর) পেরিয়ে গিয়েছে। তবুও সংকটের কারণে খুঁড়িয়ে চলা এইসব ইঞ্জিন দিয়েই চলছে রেল। ফলে প্রতিনিয়ত ইঞ্জিন বিকলের সমস্যার কারণে পরিষেবা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আমেরিকা থেকে ৪০টি ও কোরিয়া থেকে আরও ৩০টি ইঞ্জিন কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শেখ হাসিনা সরকার। এর মধ্যে ভারতের দেওয়া উপহারে বাংলাদেশের রেলের গতি ও পরিষেবার মান আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত