রাজনীতি শুধু নির্বাচন আর ভোটদান নয়ঃ সেলিনা হোসেন

বাংলাদেশের দৈনিক আমাদের সময়ে প্রকাশিত সেলিনা হোসেনের এই সাক্ষাৎকারটি তাঁর জন্মতিথি তে ইরাবতীর পাঠকদের জন্য পুনঃপ্রকাশ করা হলো।


প্রশ্ন : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। এই সময়ের ছাত্র রাজনীতি ও আপনাদের আন্দোলন সম্পর্কে কিছু বলুন।

সেলিনা হোসেন : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ছাত্র ইউনিয়ন মতিয়া গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। রাকসুর নির্বাচনে দুবার অ্যাসিস্ট্যান্ট কমনরুম সেক্রেটারি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলাম। ১৯৬৬ সালে মন্নুজান হলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলাম। একবার রাজশাহী বেতারে আইয়ুব খানের প্রশংসা করে প্রোগ্রাম করতে বলা হলে আমরা পাঁচ-ছয়জন ছেলেমেয়ে প্রতিবাদ করে স্টুডিও থেকে বের হয়ে এসেছিলাম। ঊনসত্তরের গণআন্দোলন আমি পাইনি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. শামসুজ্জোহা রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক হলেও আমাদের খুব প্রিয় স্যার ছিলেন। এখনো গল্পের মতো মনে হয় স্যারের কথা। শিক্ষার্থীরা ১৯৬৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মিছিল নিয়ে বের হওয়ার সময় পাঞ্জাবি সেনারা তাদের দিকে রাইফেল তাক করেছিল। স্যার ছুটে এসে ওদের সামনে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, তোমাদের একটি বুলেট ওদের গায়ে লাগার আগে আমার গায়ে লাগবে। তাই হয়েছিল। ওরা স্যারকে বুলেট ও বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে মেরেছিল। রাজনীতির এই উত্তরাধিকার এখনো আমার মাঝে সক্রিয়।

প্রশ্ন : আপনার প্রথম লেখা কী ছিল এবং কোথায় কত সালে প্রকাশিত হয়েছিল? আপনার প্রথম গ্রন্থ গল্পগ্রন্থ ‘উৎস থেকে নিরন্তর’ রাজশাহী থেকে প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থ প্রকাশের গল্পটি বলেন? প্রথম বইয়ের সাড়া পেয়েছিলেন কেমন?

সে. হো : আমার প্রথম লেখা ছিল একটি গল্প। ১৯৬৪ সালে রাজশাহী শহরে আন্তঃবিভাগীয় সাহিত্য প্রতিযোগিতার জন্য গল্পটি লিখেছিলাম। গল্পটি প্রথম হয়। নাম মনে নেই। কোথাও ছাপা হয়নি। শুধু মনে আছে গল্পটি প্রেমের গল্প ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় যে গল্পটি মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ সম্পাদিত ‘পূবালী’ পত্রিকায় প্রথম ছাপা হয়েছিল তার নাম ‘বিষন্ন অন্ধকার’। তবে গল্প লেখার আগে প্রচুর কবিতা লিখেছি। ঢাকার কাগজ ‘পূর্বদেশ’, ‘বেগম’ ইত্যাদি পত্রিকায় কবিতা ছাপা হয়েছে।‘উৎস থেকে নিরন্তর’ ১৯৬৯ সালে ছাপা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় যে গল্পগুলো লিখেছিলাম, সেগুলো নিয়ে বইটি ছাপা হয়। আমার শিক্ষক আবদুল হাফিজ স্যার বলেছিলেন, একটি বই বের করো। চাকরি পেতে সহজ হবে। তোমার সিভির গুরুত্ব বাড়বে। বলেছিলাম, স্যার কে ছাপবে? স্যার বলেছিলেন, কেউ ছাপবে না। বাবার কাছ থেকে টাকা আনো। বাবা টাকা দিলে বই ছাপা হয়। দুজন প্রখ্যাত মানুষ বইটির ভালো সমালোচনা করেছিলেন। একজন শহীদ অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী। তিনি তখন টেলিভিশনে বই নিয়ে অনুষ্ঠান করতেন। হাফিজ স্যার আমার বইটি মুনীর স্যারকে দিয়েছিলেন। পাবলিক সার্ভিস কমিশনের ইন্টারভিউ দিতে গেলে দেখেছিলাম বোর্ডে মুনীর স্যার আছেন। চাকরির জন্য আমার জীবনের প্রথম ইন্টারভিউ। তখন ঢাকা আমার জন্য এক অচেনা শহর। স্যার বলেছিলেন, গল্পগুলো ভালো লেগেছে। লেখা ছেড়ো না। পাবলিক সার্ভিস কমিশনের ইন্টারভিউতে উতরে গিয়েছিলাম। পোস্টিং হয়েছিল সিলেটের এমসি কলেজে। আমি কলেজের চাকরিতে যাইনি। এর মাঝে বাংলা একাডেমিতে জয়েন করেছিলাম। বাংলা একাডেমিতে আসতেন কবি-গবেষক হুমায়ুন আজাদ। তিনি আমার বইটির সমালোচনা লিখেছিলেন। প্রশংসা যেমন করেছিলেন, ত্রুটির কথাও বলেছিলেন। প্রথম বইয়ের সমালোচক হিসেবে দুজন মানুষ আমার প্রিয় ব্যক্তিত্ব।

প্রশ্ন : আপনার প্রথম উপন্যাস ‘উত্তর সারথি’। এ উপন্যাসটি লেখা ও প্রকাশের গল্প বলুন। যতদূর জানি, এ উপন্যাসটিকে আপনি এখন অস্বীকার করেন। কেন? লেখক কি তার সৃষ্টিকে অস্বীকার করতে বা ফিরিয়ে নিতে পারেন অথবা সেই সুযোগ কি থাকে?

সে. হো: এ উপন্যাসটি লেখা ও প্রকাশের তেমন কোনো ঘটনা নেই। উপন্যাস লিখব বলে লেখা শুরু করেছিলাম। প্রকাশ করেছিল বাংলাবাজারের প্রকাশক এম. আবদুল হক। পরবর্তীকালে প্রথম উপন্যাস হিসেবে ‘উত্তর সারথি’ আমার কাছে দুর্বল লেখা মনে হয়েছে। সে জন্য আমার বইয়ের তালিকা থেকে লেখাটি বাদ দিয়েছি। নিজের সৃষ্টিকে বাতিল করার অধিকার লেখকের নিশ্চয়ই থাকে। পাঠকের হাতে গেলেই কি সে বইয়ে পাঠকের একচ্ছত্র অধিকার জন্মায়? মনে হয় না। লেখকেরও ভালোমন্দ চিন্তার সুযোগ থাকা দরকার।

প্রশ্ন : নানা কারণে বাংলাদেশের সাহিত্যে ষাটের দশক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনিসহ বাংলাদেশের প্রধান কথাসাহিত্যকরা এই দশকের। প্রবল বুর্জোয়া বিকাশে চাপে সাহিত্য-শিল্পের দৃষ্টিভঙ্গিও পাল্টে যেতে শুরু করে এই দশকে। ফর্ম পরীক্ষা-নিরীক্ষার অন্ত নেই। এই পরীক্ষার-নিরীক্ষার সঙ্গে নিজেকে কীভাবে সম্পৃক্ত করেছিলেন?

সে. হো : ষাটের দশক আমার লেখালেখির সূচনার সময়। শৈশব-কৈশোরের অভিজ্ঞতা তখন আমার মধ্যে দানা বাঁধতে শুরু করেছে। মার্কস-এঙ্গেলসের রচনা পড়ার কারণে নরনারীর সম্পর্কের সূত্র ব্যাখ্যা করার চিন্তা মাথায় আসছে। আমার শিক্ষক আবদুল হাফিজ বলতেন, মেয়ে বলে নিজেকে চার দেয়ালের মধ্যে আটকে রাখবে না। দুচোখ ভরে বিশ্ব দেখবে। স্যারের এ কথা আমাকে সাহিত্যের বিষয় নির্বাচনে অনুপ্রাণিত করে। অন্যদিকে লেখালেখির ফর্ম আমার চেয়ে সিনিয়র লেখকদের লেখায় আসছে। তাদের লেখা আমাকে ভাবাচ্ছে। জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত, আবদুল মান্নান সৈয়দের গল্প, শওকত ওসমানের রূপকধর্মী উপন্যাস আমাকে নতুন করে ভাবাচ্ছিল। খান মোহাম্মদ ফারাবীর প্রবন্ধ, জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী সম্পাদিত ‘পূর্বমেঘ’ পত্রিকা, আবদুল্লাহ আবু সাইয়ীদ সম্পাদিত পত্রিকা ‘কণ্ঠস্বর’, সিকান্দার আবু জাফরের ‘সমকাল’ সাহিত্য মাসিক আমাকে তৈরি হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিল। আসলে ষাটের দশক আমার লেখালেখির সময় ছিল না, ছিল শেখার সময়। এখন ফিরে তাকালে মনে হয় ওই সময় ছিল আমার লেখালেখির ভুবনে এক বিশাল সময়। তৈরি হওয়ার পাঠ নেওয়া যে সৃজনশীল সাহিত্যের জন্যও জরুরি, তা আমি বুঝেছিলাম।

প্রশ্ন : আপনার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ রাজশাহীতে কেটেছে। আপনার লেখকসত্তা নির্মাণে রাজশাহীর ভূমিকাকে কীভাবে দেখেন?

সে. হো : আমার লেখকসত্তার জন্ম রাজশাহীতে। এই শহরে বাস করার সময় আমার গল্প সাহিত্য প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় আমার গল্পের ভূমি তৈরি হয়। এই শহর থেকেই আমার প্রথম বই প্রকাশিত হয়। এই শহরে কাটে আমার স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবন। লেখাপড়ার যে ধাপটি ব্যক্তির গড়ে ওঠার সুযোগ, আমি তার সবটুকু রাজশাহীতে পেয়েছি।

প্রশ্ন : লেখক হয়ে ওঠার পেছনে পরিবার ব্যতীত অন্য আর কার কার প্রেরণা পেয়েছিলেন? আপনার লেখায় দেশ ও দেশের বাইরে কার বা কাদের প্রভাব সবচেয়ে বেশি বলে মনে করেন?

সে. হো : পরিবারের বাইরে আমার শিক্ষকদের কাছ থেকে আমি সবচেয়ে বেশি অনুপ্রেরণা পেয়েছি। রাজশাহী মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক আবদুল হাফিজ সরাসরি আমাকে অনুপ্রাণিত করেছেন। তিনি নানা বই পড়তে দিতেন। মার্কস-এঙ্গেলসের রচনাবলি কিনিয়েছিলেন। কোনো অধ্যায় না বুঝলে বুঝিয়ে দিতেন। গল্পের ভালোমন্দ বিষয়ে বলতেন। কোনো লেখা খারাপ লাগলে ছিঁড়ে ফেলতে বলতেন। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকরা অনুপ্রেরণা জোগাতেন নানাভাবে। সবটুকুর ভেতরে নিজের উপলব্ধি কাজ করত। লেখক হয়ে ওঠার নানা উপকরণ নানাভাবে পেয়েছি।

প্রশ্ন: একটি গল্প বা উপন্যাসের লেখার সময় কী ধরনের সমস্যা ও সংকটের মুখোমুখি হন এবং কীভাবে তা অতিক্রম করেন?

সে. হো : গল্প বা উপন্যাসের কাহিনির ধারা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় কখনো কখনো সমস্যার সম্মুখীন হই। তবে সব সময় না। সমস্যা হলে যেটুকু লেখা হয় তা বাদ দিয়ে নতুন করে লিখি। এ ক্ষেত্রে কাহিনির নির্মাণ প্রধান হয়ে ওঠে কিংবা চরিত্রসৃষ্টি। এ পর্যন্ত যা লিখেছি তাতে বড় ধরনের কোনো সংকটের সৃষ্টি হয়নি। পছন্দ না হলে অনায়াসে ফেলে দেওয়া আমার কাছে খুবই সহজ।

প্রশ্ন : ‘পোকামাকড়ের ঘর বসতি’ উপন্যাসে জেলেদের জীবনকাহিনি লিখতে গিয়ে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ উপন্যাসের কথা মনে ছিল? এই উপন্যাস লেখার বাস্তব অভিজ্ঞতা যদি বলেন।

সে. হো : না, ‘পোকামাকড়ের ঘরবসতি’ লেখার জন্য আমি ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ মোটেই মাথায় রাখিনি। আমরা ১৯৭৬ সালে একটি একতলা লঞ্চ ভাড়া করে বঙ্গোপসাগরের মোহনা লালদিয়ার চরে গিয়েছিলাম। রাতে দেখেছিলাম আমাদের লঞ্চের কাছে নোঙর করা জেলেদের নৌকায় টিমটিম করে আলো জ্বলছে। তখন মনে হয়েছিল জেলেপাড়া নিয়ে উপন্যাস লিখব। লালদিয়ার চরে জেলেদের কোনো বসতি ছিল না। তাই জেলেপল্লী দেখার জন্য সময় নিয়েছি। ১৯৮২ সালে গিয়েছিলাম টেকনাফের শাহপরী দ্বীপে। ট্রলারে মাছ ধরা দেখতে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল জেলেদের সঙ্গে। যে ট্রলারে চড়েছিলাম তার প্রধান জেলে ছিলেন একজন বয়সী মানুষ। চুল-দাড়ি ধবধবে সাদা। মাথায় চুপি। ভেবেছিলাম তিনি আমাকে ট্রলারে উঠতে দিতেই চাইবেন না। দেখলাম তিনি অন্য মানুষ। সঙ্গে সঙ্গে বললেন, আসেন আসেন। আমি আর আনোয়ার উঠলাম ট্রলারে। ট্রলার যখন গভীর সমুদ্রের দিকে যাচ্ছে, তিনি গুড়-মুড়ির পোঁটলা খুলে বললেন, খাবেন মাগো? এই হলো আমাদের সাধারণ মানুষের চিত্র। বিপরীতধর্মী মানুষ নেই তা নয়। তবে এরাই সংখ্যায় বেশি। সেখানে গিয়ে কাহিনি মাথায় দানা বাঁধে। ঠিক করি যে উপন্যাসের নায়ক হবে একজন সাহসী মানুষ, যে হাঙর ধরার স্বপ্ন দেখে। জেলে মালেকের এই স্বপ্নের সঙ্গে ছিল তার প্রেম, দুঃখ-বেদনার গল্প।

প্রশ্ন : লেখক হিসেবে আপনি কী ধরনের দায়বদ্ধতা অনুভব করেন? হাসান আজিজুল হক বলেছেন, ‘সেলিনা আমাদের খুব স্মরণ করেছেন। আমাদের বাঙালি জাতিকে স্মরণ করেছেন। বাঙালি জাতির কৃতী ও কীর্তি সবটাই সেলিনা মোটামুটিভাবে তার সাহিত্যে নিয়ে এসেছেন। আমি দেখেছি, সামাজিক গুরুত্ব নেই এমন জিনিস নিয়ে সেলিনা প্রায় লেখেন-ই নি।’ এই সম্পর্কে আপনার কিছু কথা শুনতে চাই।

সে. হো: শিল্পের সত্যকে সমুন্নত রেখে জীবনের সবটুকু গল্প বলাই লেখকের দায়বদ্ধতা। দেশ-জাতি-গণমানুষের প্রতি দায় থাকা আমি জরুরি বলে মনে করি। লেখক শুধু নিজেদের মতো করে কল্পনার ঘোড়া আকাশে ওড়াবেন এটা তো হতে পারে না। হাসান ভাই যা বলেছেন এটাই আমারও কথা। নারী বা পুরুষ ব্যক্তির সংকটও কোনো না কোনোভাবে আমার কাছে সামাজিক গুরুত্ব বহন করে এনেছে। আমি আমার সাহিত্যকে এভাবে দেখেছি।

প্রশ্ন : আপনার অধিকাংশ গল্প-উপন্যাসই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নির্মিত। রাজনীতিকেই লেখালেখির প্রধান বিষয় করলেন কেন?

সে. হো : রাজনীতির সূত্র ব্যাপক। রাজনীতি শুধু নির্বাচন আর ভোটদান নয়। রাজনীতি সুস্থ না হলে জনজীবন পীড়িত হয়। অসুস্থ রাজনীতির কাছে জিম্মি হয় মানুষ। রাজনীতির প্রভাবশালীরা ক্ষুধার্ত রাখে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে। লেখকরা এ সবকিছু দেখে এবং এখান থেকে খুঁজে নিতে শেখে। কেট মিলেটের অসাধারণ উক্তি চবৎংড়হধষ রং ঢ়ড়ষরঃরপধষ। কেউ কি এই সত্যের বাইরে যেতে পারে।

প্রশ্ন : মার্কোয়েজ তার ‘কেউ লেখে না কর্নেলকে’ উপন্যাসটির কর্নেলের মৃত্যুর দৃশ্য লেখার পর বিছানায় শুয়ে দুই ঘণ্টা কেঁদেছিলেন। আপনার কোনো চরিত্র নির্মাণে কি এ ধরনের অভিজ্ঞতা আছে? চরিত্র নির্মাণের সময় কোন দিকটিকে প্রাধান্য দেন?

সে. হো : ‘লারা’ উপন্যাস লেখার সময় যখন অনবরত নিজের মুখোমুখি হয়েছি, তখন মার্কেজের মতো অনুভবে আক্রান্ত ছিলাম। তবে তা বিছানায় শুয়ে কাঁদার মতো নয়। একটা বড় সময় ধরে চোখের জল নয়, অন্তর্গত ক্ষরণ আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ছিল। এখনো তা কখনো ফিরে আসে। ব্যক্তির সবটুকু নিয়েই একটি চরিত্র তৈরি হয়।

প্রশ্ন : আপনার অধিকাংশ গল্প-উপন্যাসই সংলাপপ্রধান। চরিত্রকে রক্তমাংসে সামনে আনা নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্য পূরণে সংলাপকে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন?

সে. হো : সংলাপ ছাড়া কাহিনি পূর্ণতা পায় না। চরিত্র প্রেমের কথা বলবে নাকি দার্শনিক উক্তি করবে, তা কি সংলাপ ছাড়া সম্ভব? অনবরত বর্ণনা কি কাহিনিকে গতি দেয়? সংলাপ চরিত্রের প্রাণ। সংলাপ ছাড়া চরিত্র নির্বোধ ও বোবা। যখন চরিত্রের অন্তরলোক কিংবা চিন্তার জগৎ বর্ণনা করি তখন চরিত্র নির্দিষ্ট ব্যক্তিতে আবদ্ধ থাকে। যখন সংলাপে যাই সেটা সংযোগের জায়গা তৈরি করে। চরিত্রের ভেতরের বিষয়টি বাইরে আসে এবং যোগাযোগের ক্ষেত্র তৈরি করে। সে জন্য সংলাপ জরুরি।

.

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত