লেখা একটা জীবনযুদ্ধের মতো: সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

দুই বাংলার প্রখ্যাত কবি ও কথাসাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ২০০৩ সালের ২৩ অক্টোবর দীর্ঘ ৫৫ বছর পর নিজ জন্মভূমি বাংলাদেশের মাদারীপুরে এসেছিলেন। কবির জন্ম ১৯৩৪ সালে রাজৈর উপজেলার আমগ্রামে মাতুলালয়ে। তার পৈত্রিক নিবাস কালকিনি উপজেলার মাইজপাড়া গ্রাম। তার পিতা কালিপদ গঙ্গোপাধ্যায় ছিলেন পেশায় শিক্ষক। ১৯৪৮ সালের শেষের দিকে তারা সপরিবারে কলকাতায় চলে যান।

কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বাংলাদেশে অবস্থানকালীন ছোটকাগজ ‘মরাল’র জন্য সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছিলেন গল্পকার রাহাদ আবির। কবির জন্মতিথিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করা হলো।]



রাহাদ আবির: দুই বাংলার সাহিত্যে কোনো আলাদা বৈশিষ্ট্য আপনার চোখে ধরা পড়ে?

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়: খুব একটা আছে বলে মনে হয় না, ভাষা তো একই।

রাহাদ আবির: অনেকে বলে ওপার বাংলায় সাহিত্যে যতোটা উন্নতি ঘটেছে, এপার বাংলায় ততোটা নাকি ঘটেনি, সত্যি কি?

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়: গদ্য সাহিত্যে কলকাতা আগেই উঁচুতে উঠেছিল, এখানেও কাজ হচ্ছে এখন। কবিতা ওপারে যেমন হয় এখানেও ভালো লেখা হয়, প্রবন্ধও ভালো লেখা হয়।

রাহাদ আবির: পশ্চিমবাংলায় জনপ্রিয় লেখকদের লেখার মান নিয়ে তেমন প্রশ্ন ওঠে না, এপার বাংলায় ওঠে, কেন?

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়: ওঠে নাকি!

রাহাদ আবির: এখনকার প্রতিষ্ঠিত অনেক লেখকই এক সময় বাম রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, পরবর্তীতে তা প্রত্যক্ষভাবে না করার কারণ কী?

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়: উপায় নাই। তবে লেখাতে বামের ছাপ রয়েই যায়। কিন্তু কোনো রাজনীতিই আসলে প্রত্যক্ষভাবে করা উচিৎ না। আদর্শ থাকে না, দলীয় স্বার্থ যখন কাজ করে। দল যা চাপিয়ে দেয় সেটাই মেনে নিতে চায়। আর স্বাধীন থাকলে কখনো প্রতিবাদ করা যায়, সমর্থন করা যায়।

রাহাদ আবির: ‘অর্ধেক জীবন’ পড়ে জেনেছি আপনার সমসাময়িক অনেকেই, আপনি বলেছেন, এমনকি কেউ কেউ আপনার চেয়ে ভালো লিখতো। তারা অঙ্কুরেই ঝরে পড়লো কেন? লেখালেখি ধরে রাখতে হলে নবীন লেখকদের কী করা উচিৎ?

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়: লেখা একটা জীবনযুদ্ধের মতো। অনেক অপমান, কষ্ট সহ্য করতে হয়, প্রতিবাদ করতে হয়, দারিদ্র সহ্য করে টিকে থাকতে হয়।

রাহাদ আবির: বাংলাদেশে কার লেখা আপনার সবচে’ ভালো লাগে?   

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়: নির্দিষ্ট করে বলা কষ্ট, অনেকের লেখাই ভালো লাগে।

রাহাদ আবির: নীরা’কে নিয়ে আপনি অনেক কবিতা লিখেছেন, আসলে এই নামে কি কেউ আছে?

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়: সেটা তো বলা যাবে না!

রাহাদ আবির: নিজেকে কী হিসেবে পরিচয় দিতে আপনার ভালো লাগে, লেখক না কবি?

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়: আমি আসলে কবিতা দিয়েই প্রথম শুরু করেছিলাম। এখনও কবিতা লিখি, লিখে আনন্দ পাই। মনে মনে নিজেকে কবি হিসেবেই ভাবি।

রাহাদ আবির: এখনকার তরুণরা যারা লিখছে তাদের জন্য কিছু বলুন।

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়: কলকাতা থেকে অনেক লিটল ম্যাগাজিন বের হয়। ওখানকার ভালো লিখিয়েরা বড় পত্রিকায় উঠে আসে। আর বাংলাদেশে তো তরুণদের লেখার জন্য তেমন ক্ষেত্রই তৈরি হয়নি।

রাহাদ আবির: একজন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় হতে হলে কী করতে হবে?

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়: কিছু করতে হবে না। পড়তে হবে, লিখতে হবে এবং লেগে থাকতে হবে।

 

 

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত