| 23 ফেব্রুয়ারি 2024
Categories
ধারাবাহিক সাহিত্য

ইরাবতীর কথা (পর্ব-১১)

আনুমানিক পঠনকাল: 3 মিনিট

নারীর নিজের মুক্তির জন্য, নিজের স্বাধীনতার জন্য নিজের উপর নিজেকে আস্থা রাখতে হবে, লড়াইটা নিজেকেই করতে হবে। নারীবাদ বলি কী নারী স্বাধীনতা বা নারী মুক্তি- অর্জন না করলে পাওয়া যাবে না। নরওয়ে নারী-পুরুষের সমতার জন্য একটি পারফেক্ট দেশ বলা চলে। তারপরও এই দেশেও তেমন নারীর সাক্ষাৎ মেলে যে নিজে ডাক্তার হয়েও ডাক্তার স্বামীর ভয়ে তটস্ত থাকে।স্বামী শুধু স্যান্ডউইচ দিয়ে লাঞ্চ করতে চায় না বলে স্ত্রীকে সাথে স্যুপও বানাতে হয়। আর এই স্যুপ বানানোটা ভালোবেসে বানানো না রীতিমতো আতঙ্কিত হয়ে বানানো। এর জন্য নিজের অফিসিয়াল কাজ শেষ কোথাও বসে দু’দণ্ড জিরায় না, পাছে বাসার কাজে দেরী হয়ে যায়। অথচ নরওয়ের সমাজে স্বামী-স্ত্রী সপ্তাহের দিনগুলো ভাগাভাগি করে রান্নাসহ ঘরের যাবতীয় কাজ করার নিয়ম। দেখা যাচ্ছে, আইন থাকলেও সব নারী তা যথাযথ নিতে পারছে না। এমন শিক্ষিত নারীকে কে নারী-স্বাধীনতা এনে দেবে বা তার কাছে নারী স্বাধীনতা বা নারীমুক্তির সংজ্ঞা কী কে জানে! ’ইরাবতীর কথা’ ধারাবাহিকে ইরাবতীকে নারীর অনেক না বলতে পারা কথায় ও রূপে সাজিয়েছেন বিতস্তা ঘোষাল আজ থাকছে ইরাবতীর কথা ধারাবাহিকটির ১১ পর্ব।


Irabotee.com,irabotee,sounak dutta,ইরাবতী.কম,copy righted by irabotee.com

ক্লাস থেকে বেরিয়ে লনে খানিকটা  এলোমেলো হাঁটল প্রান্তি। কাল মায়ের সঙ্গে রাতে কথা কাটাকাটি হবার পর থেকে মনটা ভালো লাগছে না। মায়ের চোখের জল তার সহ্য হয় না। মা কাঁদছিল। আমি মাকে বড্ড আঘাত দিয়েছি, ভাবতে ভাবতে চায়ের দোকানের দিকে এগুচ্ছিল সে। 

কলেজের পিছনে ছোট্টুর দোকানে বসে চা খেতে আর ইচ্ছা করে না তার। প্রথম প্রথম সেখানে বসেই সে আড্ডা দিত সদ্য পরিচিত বন্ধুদের সঙ্গে। নানান বিষয় নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি লেগপুলিংও হতো।যতদিন এগিয়েছে তত সেই বন্ধুদের থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছে সে। এটা তার একটা বাজে অভ্যাস। খুব বেশি দিন কাউকেই পছন্দ করতে পারে না। মনে হয় সে যে মানসিকতার তার সঙ্গে মানাতে পারছে না অন্যরা।

একই সঙ্গে আরেকটা বিষয়ও লক্ষ করেছে সে ছোট্টুর দোকানে সিগারেট খাবার পাশাপাশি গাঁজাও লুকিয়ে বিক্রি হচ্ছে। তার খালি মনে হয় যদি চায়ের মধ্যে গাঁজা মিশিয়ে দেওয়া হয় তবে সেতো ক্রমশ নেশা গ্রস্ত হয়ে পড়বে! 

নেশা বিষয়ে তার চরম অনিহা।একমাত্র নাচ আর কোরিওগ্রাফি করা ছাড়া কোনো বিশেষ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত আসক্তি নেই।

প্রান্তি হাঁটতে হাঁটতে চারপাশ তাকালো। না, কোনো পরিচিত বন্ধু বান্ধব দেখতে পেল না।হঠাৎ তার মার জন্য মন খারাপ করে উঠল। ব্যাগ থেকে মোবাইল বের করে রিং করল। কল ওয়েটিং। মায়ের ফোন এনগেজড। কল কেটে গেল। একটু বিরক্ত হয়ে ফোনটা হাতে নিয়ে কিছু ভাবার আগেই মোবাইল বেজে উঠলো ।

 ইরাবতী কল ব্যাক করেছে। হ্যাঁ , প্রান্তি , বলো, বেরলে? 

না মা, ক্লাস শেষ হয় নি। ব্রেক চলছে।তাই ভাবলাম তোমার সঙ্গে একটু কথা বলি।

ও: খেয়েছ তুমি? 

হ্যাঁ মা। তুমি কী ব্যস্ত? 

একটু, কেন বলো? কোনো কথা আছে ? 

না , এমনি, মা মিস ইউ, লাভ ইউ। তুমি কাজ করো। আমার ক্লাসের সময় হয়ে গেছে। প্রান্তি কল কেটে দিল।

পাগল মেয়ে একটা! কিছুক্ষণ মার সঙ্গে কথা না বলে থাকতে পারে না, মা ছাড়া চলে না, এদিকে কিছু বললেই, মুখের কাছে উত্তর প্রস্তুত। দাঁড়াও, দাঁড়াও, আর তো কয়েক বছর। চলে যাব যখন টের পাবে। কেউ জানতেও চাইবে না তুমি কেমন আছো, বুঝলে! থাকবে তখন নিজের বরকে নিয়ে একা, বুঝবে কত ধানে কত চাল! ইরাবতী হাসে মেয়ের কথা শুনে।ঐহিক কী কোনোদিন থাকবে তার সঙ্গে!এখন যে আছে সেটা হয়তো সাময়িক বিরতি। ক’দিন বাদেই আবার ফিরে যাবে নিজের পুরোনো জীবনে।

একটা নিঃশ্বাস টেনে প্রান্তির কল রেখে ফাইলে মন দিল ইরাবতী।

অমল ঘরে ঢুকল। ম্যাডাম, মিনিস্টারের ফোন, বলেই- হ্যাঁ স্যার, কথা বলুন, বলে ফোন এগিয়ে দিল ইরাবতীর দিকে।

ইশারায় ইরাবতী জানতে চাইল কার ফোন?

উন্নয়ন- শুনে নিয়ে বলল, হ্যাঁ দাদা বলুন, কেমন আছেন? অনেকদিন কোনো খবর নেই। শরীর ঠিক আছে তো!

আরে তুমি তো আমাকে ভুলেই গেছ ইরাবতী। একেবারেই খোঁজ নাও না। আমি তো এখন বেশিরভাগই নিজের জেলাতেই থাকি। আজ এলাম। ভাবলাম, দেখি মেয়েটা কেমন আছে, তারপর কাজকর্ম কেমন চলছে তোমার? শরীর ঠিক আছে?

হ্যাঁ দাদা, আপনাদের আশির্বাদে সব ঠিক আছে।

আচ্ছা ইরাবতী, একটা কাজ করে দিতে হবে আমার।

হ্যাঁ, নিশ্চয়ই, বলুন কী কাজ?

তুমি যদি ফ্রি থাকো, চলে আসতে পারবে আমার কাছে?

আপনার অফিসে?

ইরাবতী ইশারায় অমলকে বলল, যেতে বলছেন, এখন,

হ্যাঁ, ইরাবতী। আমি বিধানসভা থেকে বেরোলাম। ঘণ্টা খানেকের মধ্যেই পৌঁছে যাব অফিসে। তুমি চলে এসো। কিছু কথা আছে।

আচ্ছা দাদা, দেখা হচ্ছে। বলে অমলকে ফোন ফেরত দিল।

কেন হঠাৎ যেতে বললেন বুঝলাম নাতো!

এত ঘাবড়াচ্ছেন কেন! অফিসেই তো বলেছেন, অন্য কোথাও তো না। আর লোকটা ভালো লোক। আপনার প্রতি একটা দূর্বলতা আছে। যান, গিয়ে দেখুন কী বলেন! হেসে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল অমল।

হুম। বলে ইরাবতী ঘড়ি দেখল। মিনিট দশেকের মধ্যেই বেরতে হবে। যতই নিজে থেকে কল করুন না কেন, তিনি দপ্তরে ঢোকার আগেই তাকে পৌঁছতে হবে। এই সৌজন্যবোধ একজন মন্ত্রীর প্রতি রাখতেই হবে। তাতে গিয়ে বসে থাকতে হলেও ঠিক আছে।

ইরাবতী দ্রুত কাজগুলো সেরে নিয়ে বাবুকে ডাকল।

 

 

 

 

 

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত