| 17 জুন 2024
Categories
গল্প সাহিত্য

সাদা আমি কালো আমি

আনুমানিক পঠনকাল: 2 মিনিট

মেয়েদের যে কত রকম সুখ তার শেষ নেই। মুক্তোদানার মত এক ই মালায় গাঁথা। সাদা সুখ কালো সুখ।মন্দ গমন, শুভ গমন– কিন্তু গমন। হঠাৎ করে বহুদিনের হারিয়ে যাওয়া কানের দুলের একটা খুঁজে পাওয়া, দুটো ফ্রিতে পাওয়া ছাপার শাড়ি, বা একটা কাঁচের সেট, এক্টা কিনলে আর একটা ফ্রি,তার আনন্দ অঢেল। ভাই বউকে লুকিয়ে মার পুরোনো ভাঙ্গা বালা জোড়া হাতানো, বা পেঁজা তসরের শাড়ি তারপর সেটাকে মেরামত করে নিয়ে নতুন বলে চালানো, ভাবা যায় না এ কত বড় জিত! আপনারা ভাবছেন এতো ঘুরপথে বোকা বানিয়ে নেওয়া,তা হোক! সুখ কি সাদা কালো দেখে! সুখের নাম সুখ ই! অসুখ হতে যাবে কোন দুঃখে!

আরো আছে, পাশের বাড়ির কাজের মেয়েকে কান ভাঙানি দিয়ে নিজের বাড়ি কম টাকায় কাজে লাগানো, কাছের বন্ধুর ছেলেমেয়ের থেকে নিজের ছেলে মেয়ে মাত্র দু নাম্বার বেশি পেলেই ছেলে মেয়ে যেন বিদেশ যাত্রা করে ফেলল, এই বার্তা, এই অমলিন সুখের কি দাম হয় দাদা রা! উহু খবরদার কালো কয়ে যাতনা দেবেন না! ওই সবের দিন গত! এখন না দেখাতে পারলে আমাদের মেয়ে জম্ম বৃথা! দু হাজার টাকার শাড়িটা পাঁচছাজার, পনেরহাজারের ফ্রিজ টা মুখে মুখে কুড়ি হাজার টাকা না হলে শান্তি আছে মনে! একদম নেই। জেতা বলে কথা। প্রতিযোগিতা ইজ প্রতিযোগিতা– কি বন্ধু, কিবা বউদি কিবা বহিন, তারা মেয়ে হলেই হলো। ওগুলো মিথ্যা নয়, চালবাজিও নয়, গমনের সুখ!

তা বলে কি সরল সুখ নেই, হ্যাঁ তাও আছে বইকি! আগেরবারের রথের থেকে কেনা পেয়ারার চারা টা যখন মাথা চাড়া দেয়, গোলাপি রঙ্গন চারাটার ফুল এসে যখন বারান্দাটা খেলিয়ে দেয়, তার সাথে হাওয়ায় দোলে জমানো টাকার জ্যামিতিক নকশার পর্দা,সেই আত্মসুখের বিস্তার ভোরের ভৈরবীর মত। বেলা শেষের প্রেমিক, যাকে ধরে গেটে দু ধারে জড়িয়ে ওঠা মাধবীলতার মত বিনম্রা হয়ে থেকে যাওয়া যায় নিরুচ্চারে, এক কাপ চা, কফিশপের লুকনো সেল্ফি সেও কি কম সুখ! হোক না পরের তবু নিজের করে ভাবার মধ্যে কি কম সুখ থাকে!
এই মালকোষের মীড়ের মত ছোট্ট ছোট্ট খাঁজে বসা সুখ গুলি অমূল্য! পঁচিশ বছরের পুরোনো বর যেদিন সাজলে গুজলে চোখ সরায় না, নয়ত পিছু ছাড়ে না, সেদিন ছেলেবেলার লুকোনো প্রেমের মতএক নিষিদ্ধ ভালোলাগা জড়িয়ে থাকে সারা টা দিন– এই অবেলার ওম, সাদা কালো সব মমেয়েদের জন্যই।এই সুখের কাঁটাছেড়া করতে যাবেন না প্লিজ!

মেয়েরা কি গভীরের সুখ পেতে জানে না তবে! নিশ্চয়, সেই সাদা আমিতেই তো আমাদের মধ্যে সবাই দেবী দেখেন বন্ধু!
বাবার অপারেশনে সেই রাজ্যজয় করা বালাজোড়াই আবার বিক্রি করতে পারি এই আমরা মেয়েরাই! বরের মাইনে তিন মাস আটকে গেলে ডিম খেয়ে লোককে বলতে পারি” আর বলো না, এই অবেলায় আবার মাটন করতে হলো”। রোজগারের জন্য চাকরী, ঘর বার করে উদয়স্ত পরিশ্রম করেও বলে দিই, কি করবো বলো সময় কাটে না, চাকরীতে টাইম পাস করি। যেই শাশুড়ীর সাথে দিনরাত খুটুর খুটুরের জ্বালায় বাড়িতে কাক চিল বসতে পারে না সেই শাশুড়ি অসুস্থ হলে দিনরাত এক করে বডি ফেলে দিই আমরা! আরো আছে, কুঁদুলি ননদের সাথে ঝগড়া ঝাটি হলেও তার বিয়েতেই বর কে বলি মোটাটাকার জোগাড়ের ব্যবস্থা করতে। হ্যাঁ এই আমরাই।
পাশের বাড়ি,যার সাথে আমাদের ইঞ্চি তে ইঞ্চিতে শত্রুতা তাদের শরীর খারাপ হলে সব ফেলে ছুটে নিয়ে যাই ডাক্তারের কাছে। অক্লেশে ক্ষমা করে দিতে পারি পাপী তাপী এমন কি স্বামীর গোপন পরকিয়া কেও। কাঁচের ঘরে দাঁড়িয়ে ভাবতে পারি তুমুল নিরাপত্তার ছাদ। এই সাদা আমি কালো আমি আসলে মনের ফিল্ট্রেশনের এক চমকপ্রদ সিস্টেম– দিবা রাত্রি চলে, শ্বাস প্র:শ্বাসের মত। চন্দ্র সূর্যের মত,কেউ জানে না, শুধু মেয়েরাই জানে! মেয়েরাই যে সে ভাবে মেয়েদের চেনে–

 

 

 

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত