যিনি কোকাকোলা ও কার্ল মার্ক্সের সন্তানদের জন্য সিনেমা বানান

আজ ০৩ ডিসেম্বর প্রখ্যাত ফরাসী-সুইস চলচ্চিত্র নির্মাতা জাঁ লুক গদ্যারের জন্মতিথি। ৩রা ডিসেম্বর, ১৯৩০-এ ফ্রান্সের প্যারিসে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। মূলত: পঞ্চাশের দশকের শেষ এবং ষাটের দশকে ‘নিউ ওয়েভ’ গোষ্ঠির একজন হিসেবেই তাঁর উত্থান ও আত্মপ্রকাশ। অদিতি ফাল্গুনীর লেখায় ইরাবতী পরিবার জাঁ লুক গদ্যারকে জানায় শুভেচ্ছা ও নিরন্তর শুভকামনা।


তরুণ জীবন কাজের শুরুটা

জীবনের শুরুর বা গড়ে ওঠার বছরগুলোয় জেনেভা হ্রদের সুইস অংশে গদ্যার কাটিয়েছেন যেখানে তাঁর বাবা একটি ক্লিনিক পরিচালনা করতেন। প্যারিসের বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃতত্ত্ব বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন এবং ছাত্রদের কাফেতে অন্তহীন আলাপচারিতা বা আড্ডা ও পাশাপাশি একটি বাঁধে খাটুনির চাকরি করতে করতে ‘অপারেশিও বেতো (১৯৫৪; অপারেশন কংক্রিট)’ নামে তাঁর প্রথম স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রয়াস পান। অপর এক নৃ-তাত্তি¡ক ও তথ্যচিত্র নির্মাতা ও তাত্ত্বিক জাঁ রুশ দ্বারা তরুণ গদ্যার যে প্রভাবিত হয়েছিলেন সেটা গদ্যারের কাজে নৃ-তাত্তি¡ক  বিষয়াদির প্রতি আগ্রহ থেকেই বোঝা যায়। জাঁ রুশ ‘সিনেমা ভেরিতে (সিনেমা ট্রুথ বা সত্য সিনেমা)’ নামের তথ্যচিত্র জাতীয় সিনেমা বানাতেন। এই ঘরানার সিনেমা নির্মাতারা হাল্কা টেলিভিশনের যন্ত্রপাতি দিয়ে এবং এমন সব বিষয়ে এত অনাড়ম্বর নানা সিনেমা বানান এবং এতটাই কোন পূর্বানুমান ভিত্তিক ঝোঁক ব্যতীতই সিনেমা বানান যে এমনকি ছবিটির শ্যুটিং চলাকালে বা তারপরেও ছবিটির সম্পাদনা পর্বেই মূলত: ছবিটির থিম বা মোটিফ কিম্বা সহজ করে বললে ছবিটির মূল ভাবনা বা মোটিফগুলো বিকশিত হতে থাকে।

ব্রেথলেস (শ্বাসরুদ্ধ) এবং সিনেমা নির্মাণের কৌশল থিম

‘আ ব্যুত দ্যু স্যুফল (ব্রেথলেস/শ্বাসরুদ্ধ)’ হচ্ছে গদ্যারের প্রথম কাহিনী চিত্র (১৯৫৯)। ফ্রাঁসোয়া ত্রুফো ছবিটি প্রযোজনা করেন। ত্রুফো ছিলেন চলচ্চিত্র সংক্রান্ত পত্রিকা ‘কাইয়ে দ্যু সিনেমা (সিনেমার খাতা)’-য় গদ্যারের সহকর্মী। প্রথম ছবিতেই গদ্যার ‘জাঁ ভিগো’ পুরষ্কার অর্জন করেন। এভাবেই শুরু হয় গদ্যারের একের পর এক কাহিনীচিত্র বানানোর পর্ব যার সবগুলোই সিনেমা বানানোর সেটে গদ্যারের ইম্প্রোভাইজ করার প্রবল খামখেয়ালীপনার অভিনবত্বের কারণে সমাদৃত হয়। অবাক করা বিষয় হলো যে ‘ব্রেথলেস-এ কোন চিত্রনাট্য ছিল না। রাতের বেলাই গদ্যার সংলাপগুলোর একটি স্কেচ বা খসড়া দাঁড় করাতেন এবং রিহার্সালের সময় বা মধ্যবর্তী সময়ে সংলাপগুলো পরিমার্জ্জনা করতেন। পরবর্তী ছবিগুলোয় এমনকি গদ্যার ক্যামেরার পেছন থেকে চরিত্রগুলোর সংলাপের উত্তরও অভিনেতাদের বলে দিতেন। এভাবেই তিনি বাস্তবতা প্রত্যক্ষণ, কখনো বা নিজস্ব ভাবনাকে আরোপ করা এবং কখনো বা এই দুই কাজের ভেতরই সমন্বয়ের মাধ্যমে তাঁর চলচ্চিত্রে এক অদ্ভুত, বিমূর্ত আবহ সৃষ্টিতে সক্ষম হন। ‘ব্রেথলেস’ এক তুচ্ছ জালিয়াত ব্যক্তির দূর্ভাগ্য ও দূর্ঘটনাগুলোর গল্প শোনায়। মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন জাঁ পল বেলমোন্দো যিনি প্রায়ই স্ক্রিনে গদ্যারের অল্টার ইগো হিসেবে আসেন। কাহিনীতে সে হামফ্রে বোগার্টের অনুরাগী এবং এক মার্কিনী নারী তাকে প্রতারণা করে পুলিশের কাছে ধরিয়ে দেয়। মেয়েটি যেহেতু নিজের কাছেই নিশ্চিত ছিল না যে সে এই মানুষটিকে ভালবাসে কিনা, তাই সে নিজেই নিজের পরীক্ষা নেয় যে এই ব্যক্তিকে সে পুলিশের কাছে ধরিয়ে দিতে পারে কিনা।

পরবর্তী বছরগুলোয় গদ্যারের কাজে বারবার নর ও নারীর চারিত্রিক চপলতা, অমর্যাদা, খামখেয়ালীপনা এবং অন্যের চাপে পড়ে হোক বা ভাবাদর্শ, নিজের মন বা শিল্পের চাপে পড়ে হয়েও অর্থপূর্ণ কিছু করতে না পারার অসম্ভাব্যতা দেখা দিতে থাকে। ১৯৬০ সালে  ‘লো পতি সোলদাত (ক্ষুদে সৈনিক/দ্য লিটল সোলজার’ সিনেমায় গদ্যার তাঁর তদানীন্তন স্ত্রী এবং অভিনেত্রী আন্না কারেনিনার মুখাবয়ব খানিকটা স্ফিংক্সের প্রতিমার মত করে ব্যবহার করেন যা কিনা মানুষের অস্তিত্বগত দ্বিচারিতার প্রতীক। এই ইমেজ তাঁর বেশ কিছু সিনেমায় এলেও ‘ক্ষুদে সৈনিক’ সিনেমাতেই সবচেয়ে প্রবলভাবে আসে। এক পরিহাসপূর্ণ কৌতুকময় ট্র্যাজেডি যা কিনা অত্যাচার ও পাল্টা অত্যাচারের কাহিনী বলে। সিনেমাটি বহু বছর নিষিদ্ধ ছিল। ‘ভিভরে সা ভি (১৯৬২- মাই লাইফ টু লিভ/আমার যে জীবন যাপনের)’ প্রকাশ করে প্যারিস শহরের এক তরুণী গণিকার কাহিনী যে কিনা ব্যবহৃতা এবং ছবিটিতে কৌতুকপূর্ণ আত্মজ্ঞানবাদ ব্যবহার করা হয়েছে। সিনেমার তথ্যচিত্রের আঙ্গিক ও নানা ক্লিনিক্যাল পরিভাষার এক জোড়াতালি দেওয়া অদ্ভুত শিল্পরীতি এই সিনেমায় ব্যবহার করেছেন গদ্যার।

তাঁর ১৯৬৩ সালের সিনেমা ‘লো মেপ্রিস (কনটেম্পট/অবজ্ঞা)’ ইতালীয় ঔপন্যাসিক আলবার্তো মোরাভিয়ার একটি গল্পের উপর ভিত্তি করে নির্মিত। একমাত্র এই ছবিতেই গদ্যার সিনেমার সনাতনী এবং তুলনামূলকভাবে অধিকতর ব্যয়বহুল পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন। এরপর তিনি এক নিরঙ্কুলম, স্বাধীন ¯্রষ্টার জীবন কাটান যিনি কিনা অসম্ভব সস্তা আলফ্রেস্কো প্রযোজনা শৈলী ব্যবহার করেছেন এবং ‘আর্ট ফিল্মে’র আন্তর্জাতিক বলয়গুলোয় ধারাবাহিক সাফল্য লাভ করতে থাকেন। ১৯৬৫ সালে ‘পিয়েরো লো ফ্যু (পিয়েরো দ্য ম্যাডম্যান/উন্মাদ পিয়েরো)’ সিনেমাটি বানানোর পর মার্কিনী ছবি ‘বনি এ্যান্ড ক্লাইড’ বানানোর প্রস্তাব দিলেও হলিউডি সিনেমাকে ঘৃণা করেন বলে তিনি সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন।

সিনেমায় দৃশ্য ও শ্রাব্য উভয় ইমেজই এক বিভ্রান্তিকর বা ছলনাপূর্ণ মোহজালের মত ছড়িয়ে দেন গদ্যার যার অর্থ কিনা অপুনরুদ্ধারযোগ্য ভাবেই হারিয়ে গেছে অথবা যা কিনা অন্তর্নিহিতগত ভাবেই অদ্ভুত। সিনেমায় গদ্যার যেসব ইমেজ ব্যবহার করেন তা তাঁর আত্মগত গভীর ও বিস্তৃত সাংস্কৃতিক চৈতন্যের প্রকাশ। সিনেমায় সহসা নানা বইয়ের মলাট বা পাঠ অথবা রাস্তার নানা চিহ্ন বা পোস্টার কি সংলাপ তিনি হুট করে ব্যবহার করে বসেন যাতে করে মনে হয় যে অভিনেতা-অভিনেত্রীরা যেন তাঁদের চরিত্র থেকে বিচ্ছিন্ন এবং তারা যেন নিছক কোন গ্রন্থ থেকে পাঠ করে চলেছে। ঐতিহাসিক ভাবে অসম্ভব অথবা সূক্ষèভাবে চমকপ্রদ নানা সেটিংস তিনি পাশাপাশি জুড়ে দেন। আর এভাবেই তাঁর সিনেমা দর্শক ও শ্রোতাকে সিনেমা নামে মাধ্যমটি সম্পর্কেই সচেতন হতে বাধ্য করে। তাঁর সিনেমাগুলোর তিনি নানা জটিল প্রতিরূপ গঠনে সর্মথন হন। ‘ক্ষুদে সৈনিকে’র নায়িকার নামের পদবী যেমন রাখা হয় ‘ড্রেইয়ের’ যা কিনা গদ্যারের প্রিয় এক পরিচালক কার্ল ড্রেইয়েরের নামে রাখা; আবার ‘মাই লাইভ ট্যু লিভ’ সিনেমার নায়িকা ড্রেইয়েরের এক সিনেমার অংশ দেখছে। ‘আলফাভিল (১৯৬৫)’ সিনেমায় ‘মেট্রোপলিস (১৯২৬)’ সিনেমার দৃশ্যাবলী দেখানো হচ্ছে যেখানে কিনা পরিচালক ফ্রিটজ ল্যাং ‘কনটেম্পট’ সিনেমার পরিচালক হিসেবে অভিনয় করছেন। এভাবেই গদ্যারের সিনেমা হয়ে ওঠে যেন বৌদ্ধিক নানা নিবন্ধ: অতীতের মোশন পিকচার্সে ব্যবহৃত বা অভিনীত নানা কাহিনী বা গল্পাংশ ১৯৬০-এর দশকে এসে গদ্যারের সিনেমায় ব্যবহৃত হয়, রূপান্তরিত হয় ভাবাদর্শগত সিনেমা হিসেবে। ১৯৬৬ সালে নির্মিত তাঁর দু’টো ছবি- ‘মেড ইন ইউএসএ’ আমেরিকাকে উদ্দেশ্য করে এবং ‘দ্যু উ ত্রোয়া শোজে কো জু সে দেল (টু অর থ্রি থিংস আই নো এ্যাবাউট হার)’ প্যারিস শহরকে উদ্দেশ্য করে নির্মিত- যা কিনা গদ্যারের সাধারণীকৃত হতাশা বা নির্বেদের উন্মাদ আরতিকে প্রকাশ করে। এই দুই ছবিতেই সমাজ ও আন্তর্ব্যক্তিক সম্পর্ক উন্মোচিত হয়। ‘লা শিনোয় (১৯৬৭; ছবির এই শিরোনাম প্যারিসের মাওবাদীদের গালি হিসেবে ব্যবহৃত)’ ছবিতে গদ্যারের বাম চিন্তাভাবনায় বর্দ্ধিত আগ্রহ ও ১৯৬৮ সালে প্যারিসের ছাত্র বিক্ষোভ ও অন্যান্য নানা প্রতিবাদ-বিক্ষোভে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণের স্বাক্ষর। ১৯৬৭ সালে নির্মিত তাঁর ‘উইকএন্ড’ ছবিটি আধুনিক ফরাসী সমাজের প্রতি কঠোর প্রত্যাখ্যান। ততদিনে গদ্যার তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী অভিনেত্রী এ্যানি উইয়াজেমস্কিকে বিয়ে করেছেন এবং গল্প আর নান্দনিক তন্ময়তা থেকে হার্বার্ট মার্ক্যুইজ, চে গ্যুয়েভারা ও ফ্রাঞ্জ ফ্যাননের মার্ক্সবাদী আদর্শে ঝুঁকে পড়েছেন। ‘লো গাই সাভোয়া (১৯৬৮; দ্য জয় অফ নলেজ)’ এমিলি রুশো এবং প্যাট্রিসিয়া লুমুম্বা নামে দুই শিক্ষার্থীর পরিষ্কারভাবে চিত্রিত সংলাপ। পরের একটি দশক তাঁর সিনেমার টেক্সট দর্শকের কাছে সিনেমার আবেদন বিষয়ে একেবারেই নির্বিকার এবং তাত্তি¡ক প্রচারণা-আন্দোলনের অস্ত্র হয়ে ওঠে। গদ্যারের নিজের ভাষ্যেই এই ছবিগুলো কোন ‘শো নয়, বরং সংগ্রাম।’ ভাবাদর্শের এই মোচড়ে গদ্যার তাঁর অনেক অনুরাগীকে হতবুদ্ধি বানিয়ে ছাড়েন। যদিও তাঁর অনুরাগীরা গদ্যারের সিনেমা আঙ্গিকের নৈপুণ্য, জটিল সাংস্কৃতিক নানা ধাঁধাঁ উত্থাপনের দক্ষতা বা পশ্চিমা পুরুষের অস্তিত্বগত সঙ্কট নথিবদ্ধকরণের শান্ত অথচ বিষাদময় ক্ষমতা ঠিক কিকারণে মুগ্ধ তা’  বলা কঠিন।

তাঁর বিবর্তন তাঁর নিন্দুকদের জন্য কিছু সমস্যাও তৈরি করেছে। তাঁর সমালোচকেরা তাঁকে আত্মজ্ঞানবাদ, নৈরাজ্যবাদ অথবা বিপ্লবের ছায়ায় বুর্জোয়া জীবনের সন্দেহজনক, আত্মতুষ্ট উদযাপন কোনটির জন্য সমালোচনা করেছেন বা করবেন সেটা বলা দুষ্কর। এমনকি হাতে গোণা যে সমালোচকেরা তাঁর আগের ছবিগুলোকে ‘সম্মানজনক ব্যর্থতা’ অথবা ‘ক্লান্তিদায়ক বুদ্ধিবৃত্তি’র চর্চা বলে ঘোষণা দিয়েছেন, তাঁরাও স্বীকার করেছেন যে সব পরিচালকের ভেতর গদ্যার ছিলেন সবচেয়ে বেপরোয়াভাবে অস্থির ও তাঁর বিকাশই সবচেয়ে আকর্ষণীয়ভাবে অনির্ণয়যোগ্য।

১৯৭০-এর দশকে গদ্যার টেলিভিশনের জন্য রাজনৈতিক ভাবে উগ্রবাদী প্রোগ্রাম আয়োজনে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ‘নিউমেহো দ্যু (১৯৭৫- নাম্বার টু)’ সমকালীন ফ্রান্সের পারিবারিক জীবন এবং ভাবাদর্শ ও গণমাধ্যমের শক্তি বিষয়ে একধরণের ভিডিও নিরীক্ষা করেন যা কিনা বাণিজ্যিক ভাবে অসফল হয়।

 

এক নজরে জাঁ লুক গদ্যার : সেরা কাজগুলো

–        কনটেম্পট,

–        এভরি ম্যান ফর হিমসেল্ফ

–        হেইল মেরি

–        দ্য লিটল সোলজার

–        লা শিনোয়

–        আ উম্যান ইজ আ উম্যান

–        দ্য ইমেজ বুক

–        মাই লাইফ টু লিভ

–        আলফাভিল

–        নাম্বার টু

আন্দোলন/শৈলী

–        নিউ ওয়েভ

পুরষ্কার ও সম্মাননা

-একাডেমি এ্যাওয়ার্ড (২০১১)

– সম্মানসূচক অস্কার (২০১১)

– প্রিমিয়াম ইম্পেরিয়াল (২০০২)

– সিজার্স (১৯৮৭ ও ১৯৮৮)।

 

পরবর্তী কাজ

১৯৭৯ সালে গদ্যার আবার সফল ও বর্ণনামূলক কাহিনী চিত্র বানাতে শুরু করেন। ‘স্যোভ কি পো (লা ভি)- এভরি ম্যান ফর হিমসেল্ফ’ হলো তিনজন তরুণ স্যুইসের কাজ ও প্রেম বিষয়ক জটিলতার গল্প। আশির দশকে নিজের বাসায় ফিল্ম প্রজেক্ট ছাড়াও ক্যালিফোর্নিয়া ও মোজাম্বিকেও তিনি সিনেমা বানানোর কাজে জড়িয়ে পড়েন। এই দশকে তাঁর শ্রেষ্ঠ কাজ ‘ট্রিলজি অফ দ্য সাবøাইম’-এর আওতায় তিনটি ছবি ‘প্যাশন (১৯৮২),” ‘প্রেনোম কার্মেন (১৯৮৩: ফার্স্ট নেম: কার্মেন)’ এবং অত্যন্ত বিতর্কিত ছবি ‘জো ভ্যু সাল্যু, মেহি (১৯৮৫- হেইল মেরি)’ সিনেমা বানান। শেষ ছবিটি নারীত্ব, প্রকৃতি এবং ক্রিশ্চিয়ানিটি বিষয়ে গদ্যারের ব্যক্তিগত বয়ান।

১৯৯৯০-এর দশকে গদ্যার কিছু কাহিনীচিত্র বানান যেখানে তিনি বেশ কিছু খন্ডে প্রচারিত টেলিভিশন তথ্যচিত্র ‘হিস্তোয়া দ্যু সিনেমা- চলচ্চিত্রের ইতিহাস’ বিষয়ে মনোনিবেশ করেন এবং এখানে তিনি একশো বছরের মোশন পিকচার্সের ইতিহাস বিষয়ে তাঁর কালাপাহাড়ি চিন্তা-ভাবনার প্রকাশ ঘটান। ২০০১-এ তাঁর ‘ইন প্রেইজ অফ লাভ’ একটি বিবরণমূলক চলচ্চিত্র যেখানে তিনি সিনেমায় প্রকৃতি প্রেম ও সিনেমায় জীবনের বিষয়ে আলাপ করেন এবং এই ছবিতেও হলিউডি সিনেমা নির্মাণ রীতির কঠোর সমালোচনা করায় গদ্যার আবার বিতর্কিত হয়ে ওঠেন। তাঁর শেষদিকের সিনেমাগুলোর ভেতর ‘আওয়ার মিউজিক (২০০৪)’ যুদ্ধ বিষয়ে তাঁর অনুধ্যান প্রকাশ করে; ‘সোশ্যালিজমো (২০১০- সোশ্যালিজম)’ ছবিটি যেন এক পরীক্ষামূলক কোলাজকর্ম এবং ‘গুডবাই টু ল্যাঙ্গুয়েজ (২০১৪)’ এক পুরুষ, এক নারী ও একটি কুকুরের ছিন্ন কাহিনী যা কিনা থ্রি-ডি’তে নির্মিত হয়। ‘লো লিভ্রে দ্যু ইমাশ (২০১৮- দ্য ইমেজ বুক)’ যেন তাঁর রচিত এক সিনেমা বিষয়ক প্রবন্ধ যেখানে নানা ফিল্ম ক্লিপস, আলোকচিত্র এবং যুদ্ধদিনের ফুটেজ ব্যবহৃত হয় আর স্বয়ং গদ্যার সেখানে ধারাভাষ্য দিচ্ছেন।

নিজেই নিজের সম্পর্কে একবার বলেছিলেন যে ‘আমি কার্ল মার্ক্স ও কোকাকোলার সন্তানদের জন্য সিনেমা বানাই।’

…আজ তাঁর উননব্বইতম জন্মদিনে চলচ্চিত্রের এই চির মায়েস্ত্রোকে জানাই প্রণতি। বিশুদ্ধ বাঙ্গালী কায়দায় বলি; ‘হে নূতন/ দেখা দিক আরবার/জন্মের প্রথম শুভক্ষণ।’

 

 

 

 

 

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত