কেমন হলো জ্যেষ্ঠপুত্র

।। শ ত রূ পা ব সু।।

ছবির পোস্টারেই ছিল যে ছবির মূল ভাবনা ঋতুপর্ণ ঘোষের — তাঁর হাতে পড়লে এ ছবি কেমন হত সে কথা বলার আর সুযোগ নেই। তবে কৌশিকের হাতে পড়ে যে ছবি যথার্থই সুন্দর হয়েছে তা বলতেই হয়।
দুই ভাইয়ের গল্প বলে ‘জ্যেষ্ঠপুত্র’। দাদা সুপারস্টার, কলকাতার গ্ল্যামার দুনিয়ায় তার বিচরণ। ছোটভাই ‘দেশের বাড়িতে’ থাকে। ছোটখাটো নাটক আর চাকরি করে তার দিন গুজরান। বাবার মৃত্যু সংবাদ পেয়ে দাদা ফিরে আসে গ্রামের বাড়িতে এক যুগ পর। সে সুপারস্টার হতে পারে, নিজের বাড়িতে না থেকে, মুখ্যমন্ত্রীর ঠিক করে দেওয়া বাংলো বাড়িতে থাকতে পারে, কিন্তু মনে মনে তার কী কোনও বদল ঘটে? সে বাড়ির সমস্ত দায়িত্বই পালন করতে চায়, সারাক্ষণ তাকে ঘিরে জমতে থাকা ফ্যানেদের সামলায় সুচারু হাতে।

কিন্তু রক্তের সম্পর্কে বড় ভাই হলেই কি সে জ্যেষ্ঠপুত্র হতে পারে? তার ভাই, যে এতদিন বাড়ির সব কিছু সামলেছে, বাবার দেখাশোনা করেছে, তার অধিকার কি তার দাদার থেকে বেশি? এই দ্যোতনা নানা স্তরে কৌশিক খুব সূক্ষ্ম হাতে বুনেছেন ছবিতে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ছবিটি দুই ভাইয়ের ইগোর লড়াই হয়েই থেকে যায়। কোনও উত্তরণ ঘটে না কাহিনির। সে কারণেই চার দেওয়া গেল না এই ছবিটিকে।

দাদার ভূমিকায় প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় দারুণ। তাঁর অভিনয়ে ধরা পড়েছে অনেক স্তর। একই কথা প্রযোজ্য ভাইয়ের ভূমিকায় ঋত্বিক চক্রবর্তীর অভিনয়েও। তাঁদের ভারসাম্যহীন বোনের ভূমিকায় সুদীপ্তা চক্রবর্তীর অভিনয় চোখে জল এনে দেয়। তাঁর নাচের দৃশ্য বা দূরে রেললাইনের ওপর দিয়ে হুইসেল বাজিয়ে ট্রেন চলে যাওয়ার দৃশ্য মনে পড়িয়ে দেয় ঋতুপর্ণ ঘোষের ছবির কথা। প্রবুদ্ধ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গীত, শীর্ষ রায়ের চিত্রগ্রহণ খুব ভালো। তবে সম্পাদনা আরেকটু ভালো হতে পারত।

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত