মনিকর্নিকাঃ দ্য কুইন অব ঝাঁসি

 

চলচ্চিত্র: মনিকর্নিকা: দ্য কুইন অব ঝাঁসি
পরিচালক: কঙ্গনা রনৌত ও রাধা কৃষ্ণ জগরলামুড়ি

কলাকুশলী: কঙ্গনা রনৌত, অতুল কুলকারনি, যিশু সেনগুপ্ত, সুরেশ ওবেরয় প্রমুখ
সাল: ২০১৯
দেশ: ভারত
রেটিং: ৩/৫

 

“মনিকর্নিকা: দ্য কুইন অব ঝাঁসি” সিনেমাটি বলিউড অভিনেত্রী কঙ্গনা রনৌত পরিচালিত প্রথম সিনেমা। এই সিনেমাতে অভিনয়ও করেছেন তিনি। পরিচালক হিসেবে এই সিনেমা দিয়েই তিনি নাম লেখালেন।
সিনেমা তৈরী করার ক্ষেত্রে তিনি প্লট হিসেবে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে বেঁছে নিয়েছেন। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে ঝাঁসি রানী লক্ষ্মী বাই এর বিপ্লবের কাহিনি সিনেমার মূল সুর। তবে এই সিনেমায় পরিচালনার চেয়ে অভিনয় দক্ষতায় এগিয়ে গেছেন কঙ্গনা।
সিনেমার শুরুতেই দেখা যায়, কী করে ব্রিটিশরা ভারত বর্ষের সব ধন-সম্পদ লুন্ঠন করে, তার বিবরণ শোনা যায় অমিতাভ বচ্চনের কণ্ঠে। যেহেতু ছবিটি ঐতিহাসিক ঝাঁসি রানির কাহিনি নিয়ে তৈরি হয়েছে তাই ঝাঁসির রানির ভূমিকায় কঙ্গনা থাকেন সিনেমার আগাগোড়া।
সিনেমাতে কঙ্গনা খুবই বিথুর সাধারণ এক মেয়ে। এক সময় তিনি হয়ে যান ঝাঁসির রানি এবং পরিবর্তিকালে দেখা দেন একজন যোদ্ধা হয়ে অধিকার আদায়ের সংগ্রামে ঝাপিয়ে পড়া নারী হিসেবে। সিনেমায় দেখা যায় ঝাঁসির রানি কী করে সাধারণ প্রজাদের মন জয় করে তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে ব্রিটিশ রাজের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। দেখা যায় রাজ পরিবারের নিজেদের ভেতরকার সংকট ও সংগ্রামও। ব্রিটিশদের আক্রমণ রুখে নিজের রাজ পরিবার ও রাজ্যকে বাঁচাতে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে লড়াইয়ের কাহিনি এই সিনেমার মূল প্রাণ।

কিছু কিছু দৃশ্যায়ন বেশ ভালো ছিল। আবার কিছু কিছু দৃশ্য দেখে মনে হয়েছে এখানে আরো ভালো করা যেত। বিশেষ করে ঝাঁসি রানির সন্তান যখন রাজ পরিবারের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়। তবে রানির কাজে ও সংলাপে পরিচালক যে দেশপ্রেম জাগিয়ে তুলেছেন তা সিনেমার দর্শকের মনে দেশপ্রেম জাগায় এ বলা যায়। এবং এটি সিনেমাটিকে অন্য মাত্রা যোগ করে।
সিনেমার গানের চিত্রায়নে কলাকৌশলগত ঝামেলা আছে অল্প বিস্তর। বিশেষ করে ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট এর ক্ষেত্রে কৌশলগত সুক্ষ্ম ভুল চোখে পড়ে। তবে ঐতিহাসিক প্ৰেক্ষাপটের কারণে গানে প্রজাদের উপস্থাপন করা ছিল চোখে পড়ার মতো। সিনেমার শেষ ভাগে রাখা হয়েছে চূড়ান্ত ক্লাইমেক্স। যা দর্শক কে পরবর্তি দৃশ্যে কী হবে তার জন্য একটা আগ্রহের সৃষ্টি করে। এ জন্য চিত্রগ্রাহক ও পরিচালক ধন্যবাদ পেতেই পারেন।
সিনেমার শেষ দৃশ্যটি দর্শকের মনে গেঁথে থাকবে। এক সময়ে রানি আহত হওয়ার পরও যখন ব্রিটিশ সেনারা তাকে হত্যা করতে আসে, তখন ঝাঁসির রানি নিজেকে তাদের কাছে সমর্পণ না করে নিজেকে নিজে শেষ করে দেন। এটা ছিল অসাধারণ।
ঝাঁসির রানির চরিত্রে কঙ্গনা মাত করে দিয়েছেন। তাঁর দাপুটে অভিনয়ের সামনে ফিকে হয়ে গেছে বাকি সব অভিনয়শিল্পীরা।

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত