জগন্নাথদেব মণ্ডলের এক গুচ্ছ কবিতা

আজ ২৭ নভেম্বর কবি জগন্নাথদেব মণ্ডলের শুভ জন্মতিথি। ইরাবতী পরিবার তাঁকে জানায় শুভেচ্ছা ও নিরন্তর শুভকামনা।


গ্রামদেবতা
 
 
আখগন্ধে একটা লক্ষ্মীপুজো আছে।
ধানের মরাই থেকে ওঠে লন্ঠন আলো।
চৈত্রর আকন্দফুলে শিবলিঙ্গ সকলি উঠে আসে।
আমি সন্ধের গাভি হয়ে বৃন্ত উজাড় করে দি।
সন্তানহীন জননীরা টসটস পাকে।
Irabotee.com,irabotee,sounak dutta,ইরাবতী.কম,copy righted by irabotee.com

গরলের দেশ,উপশমের দেশ

রাষ্ট্রযন্ত্র ঠিক করিয়াছেন এবার সে ঠান্ডা গাড়িতে চড়ে গাঁয়ে গাঁয়ে যাবে।
পায়ে হেঁটে ঘুরবে শীতল আঙিনা, নিমগাছ, গোয়ালের চর্তুদিক!
হ্যাঁ, সত্যি বলছি পায়ে হেঁটেই ভ্রমণ!

জমিতে জমিতে কৃষকভাইদের পায়ে যাতে সাপে ঠোকর দিয়ে কিছু করতে না পারে
তাই দেওয়া হবে গামবুটের মতো শক্ত সুরক্ষা কবচ।

এতে আনন্দিত পরিবার, কৃষকভাই, স্ত্রীসকল।

কতো চন্দ্রবোড়া, আলকেউটে, খড়িশ ব্যর্থ হল।
হাসপাতালে কমে গেল কিছু ভিড়, মনসাথানেও।

তাই গণতন্ত্রের দেশে ভোটদানের দিন চাষি পরিবার হাতে হাতে নিয়ে যাচ্ছে দুধভান্ড, চাঁপাকলা।
ওরা ভোটদান পুজো ভাবছে,
বলিও হয়।

শরীর বাঁকিয়ে বিড়বিড় প্রার্থনা করছে গ্রাম্যলোক-হে দেবী, এবার যেন গাছ, টিপকল ও মানুষগুলান আনন্দে বাঁচে!

তোর পাতায় পাতায় রস
বোলপুরের আকাশে আজ নীলচে অন্ধকার। লাল কাঁকর হাঁ করে চেয়ে আছে ক্ষয়ে আসা চাঁদের দিকে।
মনে পড়ছে কেন্দুবিল্ব গ্রামের আনন্দবট; ওর নীচে দড়ির খাটিয়া,পাশেই বল্মীক স্তূপ।
গুপগুপি যন্ত্র এখানেও মিলছে,উপাসনা গৃহে রাত্রিকালে প্রবেশ নিষেধ।
 
শুধু খুচরো পুলিশভ্যান কেবলি উড়ে উড়ে যায়।
আমি নিজস্ব ফতুয়ায় লুকিয়ে ফেলছি কল্কে,গাঁজা, আগুন।
 
 
মেঘলাদিনে সাঁঝের বেলা
 
চৈত্রদিনের গোপীনাথ মেলা।
ঝড়বাদলে নৌকা উল্টে আখের টিন জলে ডুবিয়া যায়।
 
হতাহত ১। মৃতের সংখ্যা শূন্য।
শুধু দেহবেচনেওয়ালী তালবৃক্ষ বজ্রবিদ্যুৎবাবুকে ধরবার আশায় পাতা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে নীল নাচ দেখাচ্ছে!
 

মেঘের ভিতর অক্ষতযোনি সিংহী

হে আরবপুরুষ, তোমার ব্যক্তিগত প্রাণীসংগ্রহে উট নেই, নেই কুমীর, চিতাও ছিল না।
শুধু ধুঁকতে থাকা একটি সার্কাসের সিংহী।
কাছেই বালির ভিতর আশ্চর্য কুয়ো, কদম্ববন।

সিংহী দেখলে মনে হয় বর খেদানো ক্লান্তবিষণ্ণ মেয়ে।
চুল আলুশাকের চেয়েও নরম।
রাতে অই কেশ বেয়ে সাতটি বেঁটেবৃদ্ধ কুলীন পাত্র উঠে এসে উকুনের মতো নাচে।

মেয়েসিংহের একা লাগে।
তার মনে হয় বাঙালি বধূদের দেখি।
এই খাঁচার চেয়ে খারাপ পাড়া শ্রেয় ছিল বুঝি!
একখানা বটগাছ বিয়ে করলেও হতো।

এই আক্ষেপের ভিতর তথাগতর শান্ত আঙুলস্পর্শ বাতাস হয়ে বুলিয়ে দিচ্ছে চুল।

এবার দেখে দুঃখী মেয়ে নয়,সিংহীও নয়,
সুন্দর চিরকুমারী অথবা উজ্বল হেমবর্ণ সুজাতার মতো লাগছে!

প্রণাম হে প্রাণীসংগ্রহশালা!
নমস্কার এই বেঁচে থাকা

 
বৈশাখে রচিত কবিতা
 
(১)
 
কবিতা লেখা হল না আল্লা।
ভাতের থালা থেকে ডেকে ওরা আমারে দূরে নিয়ে গেল।
ভাতছানা আলুভাতে নিয়ে কতকাল আর পোড়া জিভে হা অন্ন দেওয়া যায়!
 
কর্ম নেই;
তাই পরবাসী হাওয়া দূরে পাঠায় আমারে।
বুড়ো বাপের ঘাড়ে ২১ বছরের ভূত হয়ে কতোকাল বসে থাকব?
 
 
(২)
 
 
মিনির ছা মরে গ্যাছে;
হরিতকী গাছের নীচে নস্যি ডিবের মতো ওর সন্তানকে খেয়ে গেল নেউল।
মিনি আমার পা ধরে মিউমিউ স্বরে সন্তানকামনা করে।
ডুমুরবৃক্ষের ন্যায় ঠায় দাঁড়িয়ে থাকি।
মনে মনে বলি-হা ষষ্ঠী ঠাকরুণ!
 
 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত