জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু

চমক দিয়ে ২০১৯ বিশ্বকাপে শুরু বাংলাদেশের। ওভালে প্রথম ম্যাচেই রানের রেকর্ড। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে প্রথমে ব্যাটিং করে বাংলাদেশ ৬ উইকেট হারিয়ে ৩৩০ রান তোলে। বিশ্বকাপে তো বটেই একদিনের ক্রিকেটে এটিই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ দলগত রান। সেই সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২১ রানে হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল এশিয়ার টাইগাররা।
২৭তম ওভারে মেহেদী হাসান মিরাজের চতুর্থ বলটি ফ্যাফ ডু প্লেসিসের স্টাম্প ভেঙে দিতেই উল্লাস শুরু হয়ে গেল বাংলাদেশ শিবিরে। টাইগারদের ছুঁড়ে দেয়া ৩৩১ রানের বিশাল লক্ষ্যে পথের কাঁটা হতে পারতেন যিনি সেই প্লেসিস ২৩ ওভার আগে ফিরতেই জয় হাতছানি দিতে লাগলো টাইগারদের। ডেভিড মিলার-জেপি ডুমিনিরা অবশ্য ছিলেন। কিন্তু সব বাঁধা উড়িয়ে ২০১৯ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই দুরন্ত এক জয় তুলে নিলো মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার দল!

দ্য ওভাল স্টেডিয়ামে টসে জিতে দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসিস আগে ব্যাটিংয়ে পাঠায় বাংলাদেশকে।

ব্যাট করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা করে বাংলাদেশের দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। ৭ ওভারেই স্কোর বোর্ডে ৫০ রান তোলেন দুই ওপেনার। দলীয় ৬০ রানের মাথায় আন্দিল পেহলিকায়োর বলে ব্যক্তিগত ১৬ রান করে ফেরেন তামিম ইকবাল । তামিম ফিরে গেলে স্থায়ী হতে পারেননি সৌম্য সরকারও। দলের ৭৫ রানের মাথায় ক্রিস মরিসের শিকার হন তিান। ৩০ বলে ৯ চারে ৪২ রান করেন সৌম্য। তৃতীয় উইকেট জুটিতে সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিমের ১৪২ রানের জুটতে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন দলকে। ৭৫ রানে বাংলাদেশ যখন ২ উইকেট হারায় সেখান থেকে দলকে দুজনে মিলে টেনে নিয়ে যান ২১৭ রানে। ইমরান তাহিরের শিকার হয়ে ৮৪ বলে ৮ চার ও এক ছয়ে ৭৫ রানে ফিরে যান সাকিব। সাকিব আউট হলে, ব্যাট করতে নেমে মোহাম্মদ মিথুন করেন ২১ রান। দলকে এগিয়ে নেয়া মুশফিক ৮০ বলে ৮ চারে ৭৮ রান করে দলীয় ২৫০ রানের মাথায় পেহলিকায়োর দ্বিতীয় শিকার হন তিনি। রান। শেষ দিকে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও মোসাদ্দেক হোসেন মিলে ছয় ওভারে তোলেন ৬৬ রান। মোসাদ্দেক ২০ বলে ২৬ রান মরিসের শিকার হন। রিয়াদের ব্যাট থেকে আসে ৩৩ বলে ৩ চা্র ও এক ছয়ে ৪৬ রান। ৪ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন মেহেদি হাসান মিরাজ। শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ৩৩০ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।

আফ্রিকান বোলারদের মধ্যে আন্দিল পেহলুকায়ো, ইমরান তাহির ও ক্রিস মরিস ২টি করে উইকেট শিকার করেন।

৩৩১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হলেও দলীয় ৪৯ রানের মাথায় মুশফিকের হাতে রান আউটের শিকার হয়ে ২৩ রান করে ফেরেন ডি কক। ওয়ানডাউনে নেমে ডু প্লেসিস ওপেনার মাকরামকে নিয়ে বড় জুটির ইঙ্গিত দিলেও তা বড় করতে দেননি সাকিব। জুটিতে ৫৩ রান আসলে দলীয় ১০২ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ৪৫ রানে মাকরামকে বোল্ড করে জুটি ভাঙেন সাকিব। ১৪৭ রানের মাথায় ৩৩তম হাফসেঞ্চুরি (৬২) করে মিরাজের শিকার হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন ডু প্লেসিস। চতুর্থ উইকেট জুটিতে ডেভিড মিলার ও ভ্যান ডার দুসেন মিলে করেন ৫৩ রান। দলীয় স্কোর ২০২ রানের মাথায় মিলারকে ৩২ রানে ফিরিয়ে বেক থ্রো এনে দেন মোস্তাফিজ। ৪১ রান করা ভ্যান ডার দুসেনকে ফেরান সাইফউদ্দিন। দুসেনের উইকেট ছিল বিশ্বকাপের সাইফের প্রথম উইকেট। নিজের পঞ্চম ওভারে ফের আঘাত হানেন সাইফ। আন্দিল পেহলুকায়োকে ফেরান ৮ রানে। দলের বিপর্যয়ের মুহূর্তে ব্যাট করতে নেমে ক্রিস মরিস ১০ রান করে মোস্তাফিজের শিকার হয়ে দলকে আরো বিপদে ঠেলে দেন। শেষ দিকে দলের যখন ১৭ বলে ৪৪ রান প্রয়োজন তখন ছয় নাম্বর পজিশনে ব্যাট করতে নামা জেপি ডুমিনি ছিল একমাত্র ভরসা। মোস্তাফিজের অষ্টম ওভারে ৩৭ বলে ৪৫ রান করে বোল্ড হয়ে ফেরেন ডুমিনি। শেষ দুই ওভারে আফ্রিকার প্রয়োজন পড়ে ৪০ রান। কিন্তু বোলারদের দ্বারা তা অসম্ভবই ছিলো। রাবাদা ইমরান তাহির। রান করতে সক্ষম হয়।আর তাতে বাংলাদেশ পায় বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ঐতিহাসিক জয়।

বাংলাদেশী বোলারদের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান ৩টি, সাইফউদ্দিন ২টি, সাকিব আল হাসান ও মেহেদি হাসান মিরাজ একটি করে উইকেট শিকার করেন।

 

 

 

 

.

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত