ভয়াবহ ভূতের গল্প

আজ ২১ অক্টোবর কথাসাহিত্যিক ও গবেষক জয়শ্রী দাসের শুভজন্মতিথি। ইরাবতী পরিবার তাঁকে জানায় শুভেচ্ছা ও নিরন্তর শুভকামনা।


সেদিন ছিলো অমাবস্যার রাত। ছোট একটি শহরের সমস্ত ল্যাম্পপোস্টের আলো নিভু নিভু। রাত দশটা। মেয়েটির বয়স বারো। সে খাটের উপর শুয়ে গভীর মনোযোগে একটা গল্পের বই পড়ছে। আকস্মিক তার উপর একটি গোলাপ এসে পড়ল, সে চিৎকার করে উঠল ‘ভূত ভূত ভ‚ত’। খোলা জালনাটার দিকে সে ভয়ে ভয়ে তাকালো। তার চিৎকারে ডাক্তারি পড়া বড় ভাইটি নীচ তলা হতে দোতলায় চলে এলেন। তিনি একবারেই বুঝলেন জালনার ধারের কাঁঠাল গাছ হতে নতুন গোঁফ গজানো কোন ভূত এ ফুল তার সুন্দরী বোনের দিকে নিক্ষেপ করেছে। কিশোরী মেয়েটির ভাই অনেকটা সময় ধরে ফুলটি দেখল, হঠাৎ করেই তার চোখ আটকে গেল একটি পাপড়ির উপর যেখানে লেখা M+২, ‘M মানেতো তার বোনের নাম মধুমায়া কিন্তু ২ মানে কি? যার নাম B দিয়ে শুরু, আরে এত পাশের বাড়ির বাবাই, এত মেধাবী এক ছেলে, রাত দুপুরে এ কাজ করতে পারল!
ছেলেটির বাবা মেয়েটির মায়ের বন্ধু, ছেলেটি ভালো, সব সঠিক কিন্তু এত ছোট বয়সে এসব মানায় না। ছেলেটির বাবার কাছে এসব বলতেই তিনি বললেন, কথা ঠিক, কিছু দিন ধরেই তার ছেলেটি খুব উদাসীন। এরপর যথারীতি পরিবারের ভয়ানক অত্যাচারে ছেলেটি প্রেমের বলয় হতে বেরিয়ে আসে। বার ক্লাসের পর চলে যান দেশের বাইরে। বিদেশের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তিনি। মেয়েটি বিবাহিত। একবার ছেলেটি দেশে এসেছিলো আর মেয়েটির ভাইকে খুব মন খারাপ করে বলেছিল ‘ওতো জানে না কিন্তু আপনি তো জানতেন এরপরও ওর সঙ্গে আমার বিয়েটা কেন দিলেন না! মধুকে আমি ভুলতে পারছি না।’
দীর্ঘ দশবছর পর মেয়েটি তার বাবার বাড়িতে এল, আজও অমাবস্যার রাত, সেই ঘরটিতে মেয়েটি শুয়ে আছে, আজও তার হাতে বই, হঠাৎ করেই মেয়েটির চিৎকারে তার ভাই স্বনামধন্য চিকিৎসক ডা. শরৎ ছুঁটে এল, কি হলো রে?
‘ওই তো রক্ত মাখা গোলাপ।’
‘কোথায়, দেখতে পাচ্ছি না।’
নীচতলার ঘর থেকে কে যেন বলছে ‘শরৎ শুনছিস, বিদেশ থেকে ফোন করে কে যেন জানালো পাশের বাড়ির বাবাই কিছুক্ষণ আগে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে।’
ভয়ে কাঁদতে কাঁদতে মধুমায়া বলল ‘ভাইয়া, সেদিনের সেই ভূতটা কি বাবাই ছিল।’ ভাইটি শব্দ বলা কিছু সময়ের জন্য ভুলে গেল।

 

 

 

 

মন্তব্য করুন




আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত