| 23 ফেব্রুয়ারি 2024
Categories
চলচ্চিত্র ধারাবাহিক

ভারত গৌরব জ্যোতিপ্রসাদ আগরওয়ালা (পর্ব-২) । বাসুদেব দাস

আনুমানিক পঠনকাল: 2 মিনিট

ডিব্রুগড় শহরের তামোলবাড়িতে ১৯০৩ সনের ১৭ জুন জ্যোতিপ্রসাদের জন্ম হয়। পিতা পরমানন্দ সেই সময় তেজপুর সমবায় সেন্ট্রাল ব্যাঙ্কের চেয়ারম্যান ছিলেন। শৈশব থেকেই রঙের প্রতি জ্যোতির বিশেষ আকর্ষণ ছিল।সোনালি।রূপালি,সবুজ এবং আকাশের নীল রঙ ছিল তার খুবই প্রিয়। পাকা ঘরের একটি রুম ছিল তার নিজস্ব। সেই ঘরটিকে নানা ধরনের ফুল,প্রজাপতি,নানা রঙের পাখি দিয়ে সাজিয়ে গুছিয়ে রাখতে ভালোবাসতেন। সিলিং দেওয়াল নানা রঙে সজ্জিত করে রাখা ছাড়াও নানা রঙের বাক্স এবং রঙিণ পেন্সিল দিয়ে টেবিল সাজিয়ে রাখতেন। বাড়ির সামনের ফাঁকা জায়গাটিতে বেডমিন্টন এবং টেনিসের কোট কেটে নিয়মিত খেলাধুলো করতেন। তেজপুর সরকারি স্কুলে তিন বছর শিক্ষালাভ করার পরে ডিব্রুগড় চলে যান। সেখান থেকে ফিরে এসে পুনরায় তেজপুর হাইস্কুলে ভর্তি হন।জ্যোতিপ্রসাদ বেড়াতে খুব ভালোবাসতেন।সুযোগ পেলেই কলকাতা ,বোম্বে,আহমেদাবাদ বেড়াতে চলে যেতেন।

 

জ্যোতি যখন নবম শ্রেণির ছাত্র তখনই স্কুলের কয়েকজন বন্ধুর সহায়তায় হাতে লেখা পত্রিকা ‘জোনাকী’প্রকাশিত হয়।তাঁর নিজের আঁকা নানা রঙের ছবি জোনাকীর পাতায় প্রকাশিত হয়ে পত্রিকাটির মান বৃ্দধি করেছিল।‘জোনাকী’ সেই সময়কার ছাত্রসমাজে সাহিত্যের প্রতি যথেষ্ট অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল। তেজপুর হাইস্কুল থেকে ১৯২১ সনে ম্যাট্রিকের টেস্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে অসযোগ আন্দোলনে যোগদান করেন।চিত্তরঞ্জন দাশ প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দ্বিতীয় বিভাগে ম্যাট্রিক পাশ করেন।কলকাতার ন্যাশনেল কলেজে আই-এ দ্বিতীয় বর্ষের যখন ছাত্র তখন কলেজ উঠে যাওয়ায় কলেজের শিক্ষার সমাপ্তি ঘটে।


আরো পড়ুন: ভারত গৌরব জ্যোতিপ্রসাদ আগরওয়ালা (পর্ব-১)

১৯২৬ সনের সেপ্টেম্বর মাসে জ্যোতিপ্রসাদ বিলেত যাত্রা করেন।এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় অবতীর্ণ হন।প্রথমবার অকৃতকার্য হয়ে দ্বিতীয়বার সর্ত সাপেক্ষে এম-এ পড়ার অনুমতি লাভ করেন।প্রথমে অর্থনীতি,সংস্কৃত,পাব্লিক ল এবং পরে দর্শন এবং অর্থনৈ্তিক ইতিহাস অধ্যয়ন করেন।সেই সময় এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংস্কৃতের একজন অধ্যাপক ছিল। অধ্যাপকের সাজপোশাক,কথা বার্তা,কাজকর্ম একেবারে আমাদের ভারতীয় সংস্কৃত অধ্যাপকের মতো।ইনিই ছিলেন বৃটেনের সুপ্রসিদ্ধ সংস্কৃত পন্ডিত বেরীডেল কিথ। সেই সময়ে সঙ্গীত ছিল জ্যোতিপ্রসাদের ধ্যানজ্ঞান। সুরের জগতের মধ্যেই তিনি সীমাবদ্ধ থাকতে চেয়েছিলেন।বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা টার্ম শেষ করেই জ্যোতিপ্রসাদ মনপ্রাণ দিয়ে সঙ্গীতচর্চায় ডুবে গেলেন।তিনি প্রায়ই সঙ্গীত অনুষ্ঠান অপেরা ইত্যাদিতে যেতেন।পাশ্চাত্ত্য সুরের সঙ্গে অসমের দেশজ সুরের সংমিশ্রণ ঘটিয়ে নানা ধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষার প্রয়াস চালান। বিলেতে থাকাকালীন বহু খ্যাতনামা সঙ্গীতস্রষ্টার সিম্ফনী শোনার সৌভাগ্য হয়।সঙ্গীত এবং চলচ্চিত্রের প্রতি অত্যধিক আকর্ষণ হেতু উচ্চ শিক্ষা অসমাপ্ত থেকে যায়।জার্মানিতে সাত মাস ফিল্ম-শিল্প সম্পর্কীয় শিক্ষা লাভ করে ১৯৩০ সনে দেশে ফিরে আসেন।ফেরার পথে তুরস্ক,বাগদাদ,ব্যবিলন,কারবালা ইত্যাদি বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেন।

 

১৯২১ সনে মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলন পৃথিবী জুড়ে আলোড়নের সৃষ্টি করে। অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের সেই ঢেউ এসে অসমেও আছড়ে পড়ল।হাজার হাজার ছাত্র ছাত্রী দেশমাতার দাসত্ব শৃঙ্খল মোচন করার জন্য আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ল। জ্যোতিপ্রসাদও পিছিয়ে রইলেন না।তেজপুর হাইস্কুল থেকে বেরিয়ে এসে আন্দোলনে যোগ দেওয়া ছাত্রদের মধ্যে জ্যোতিপ্রসাদ ছিলেন অন্যতম। জ্যোতিপ্রসাদ তখন প্রবেশিকা পরীক্ষার ছাত্র। টেস্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন মাত্র।নিজে অগ্রণী হয়ে ছাত্রদের মধ্যে দেশপ্রেমের মনোভাব জাগিয়ে তুল্লেন।গান্ধীজির প্রভাবে রচনা করলেন সেই অমর সঙ্গীত-

‘শঙ্কা নকরা নকরা ভয়

জয় মহাত্মারে মহাত্মার জয়।’

পশ্চিমী সাহেবি পোশাক পরিত্যাগ করে খদ্দেরের দেশীয় পোশাক পরে তুফানের গতিতে রায়ত সভা,রাষ্ট্রীয় সম্মেলন ইত্যাদি নতুন করে সেবক সেবিকা দল গঠন করে  নিজে তার অধিনায়ক হন। রচনা করলেন সেই অমর সঙ্গীত-

‘বিশ্ববিজয়ী নওজোয়ান বিশ্ববিজয়ী নওজোয়ান,

শক্তিশালী ভারতের ,ওলাই আহা ওলাই আহা

সন্তান তুমি বিপ্লবর।’

এই গান অসমের যুবক যুবতিদের স্বাধীনতার অগ্নিমন্ত্রে দীক্ষিত করল।বিদেশে বসবাস কালীন সময়েও জ্যোতিপ্রসাদের মন স্বদেশে্র চিন্তাভাবনায় ভরপুর ছিল।সুদূর জার্মান থেকে অসমবাসীর জন্য তিনি লিখে পাঠিয়েছিলেন দুটি দেশাত্মবোধক গান।প্রথমটি ‘সাজু হবরে হল ডেকা লরা’ এবং অন্যটি ‘আই আই আই লুইতর পাররে আমি ডেকা লরা মরিবলৈ ভয় নাই।’

           

       

[চলবে]

 

 

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত