‘আওয়ার ডেমোক্র্যাসি’ ও কানাইয়া কুমার

দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সাবেক সভাপতি কানাইয়া কুমার।
ভারতের পার্লামেন্টে হামলার দায়ে কাশ্মিরের নাগরিক আফজাল গুরুর ফাঁসির প্রতিবাদে ২০১৬ সালে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ দেখান তিনি। সে সময় একটি সমাবেশে তীব্র ব্যঙ্গাত্মক ভাষায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভাষণের সমালোচনা করেন। পরে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ উঠে এবং সেই অভিযোগে তাকে গ্রেফতারও করা হয়। পরে অবশ্য জামিনে মুক্তি পান।

ভারতের আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে বিহারের বেগুসরাই থেকে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিআই) মনোনীত সম্মিলিত বাম জোট প্রার্থী হয়ে আবারও আলোচনায় এসেছেন কানাইয়া কুমার।

ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রার্থী পিছু সর্বোচ্চ ৭০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারে খরচ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সেই টাকা কানাইয়া কুমার সংগ্রহ করছেন ক্রাউড ফান্ডিংয়ের মাধ্যমে।
সেখানে একদিনের মধ্যে ৩১ লক্ষ টাকা সংগ্রহ করে ভারতজুড়ে সাড়া ফেলেছেন সিপিআই প্রার্থী।

কানাইয়া কুমার তার অর্থ সংগ্রহ মঞ্চের প্রতীকী নাম দিয়েছেন ‘আওয়ার ডেমোক্র্যাসি’। এই মঞ্চ মারফত কেউ দিয়েছেন ১০০ থেকে ১৫০ টাকা, কেউ আবার লক্ষ টাকা। প্রাক্তন এক প্রকাশকের পক্ষ থেকে অনুদান এসেছে ৫ লক্ষ টাকা। তিনি জানিয়েছেন, ৭০ লক্ষ টাকা উঠে গেলে ক্রাউড ফান্ডিং বন্ধ করে দেওয়া হবে।

সিপিআই সেক্রেটারি সত্য নারায়ণ সিং ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেছে, “সাধারণ মানুষ ভালবেসে আমাদের যা অনুদান দিয়ে থাকেন, সেটাই আমাদের ভরসা। কানাইয়া আমাদের অর্থ সংগ্রহের পুরনো ব্যবস্থাকে বদলে ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করেছে। সারাদেশ থেকে আমরা অভূতপূর্ব সাড়া পেয়েছি। বিদেশের অনুদান আমরা নেব না বলেই জানিয়েছি”।

‘আওয়ার ডেমোক্র্যাসি’-র প্রতিষ্ঠাতা বিলাল জাইদি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে জানিয়েছেন, “কানাইয়ার জন্য অর্থ সংগ্রহের লক্ষ্যে আমরা ২৬ মার্চ এটি চালু করি। এক দিনের মধ্যে ৩০ লক্ষ টাকা উঠে গেছে। সার্ভার কিছু সময়ের জন্য ডাউন ছিল”। তিনি আরও জানান, ক্রাউড ফান্ডিং-এর পুরো পদ্ধতিটি খুবই স্বচ্ছ, এবং যারা অনুদান দিচ্ছেন, তাঁদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যও নিয়ে রাখা হচ্ছে।

বেগুসরাই থেকে সিপিআইয়ের প্রার্থী কানাইয়া কুমারের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং।

 

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত