কস্তুরী সেনের কবিতা

Reading Time: 2 minutes

আজ ২৮ সেপ্টেম্বর কবি কস্তুরী সেনের জন্মতিথি। ইরাবতী পরিবার তাঁকে জানায় শুভেচ্ছা ও নিরন্তর শুভকামনা।


  গান যে স্পর্শ লেখনীমাত্র, যে সকলই আকুলতা ঘটে গেছে সুরমাত্র সার.. যে আর্ত আরোহণে পর্দা দুলে ওঠা যে যথার্থে, আচম্বিত দিলীপকুমার
সে দীপ্তি শ্রবণই জানে প্রতিবার- বাকি অংশে লাল মেঝে, মুখবন্ধ খাম নিজস্ব বালুঘড়ি জানে কবে থেমেছিল এইখানে; ‘কুঞ্জনবন ছাড়ি হে মাধব,কাঁহা যাও গুণধাম’।
মুহূর্তমাত্র ভুলে এই তো অকালে ডাক, এই তো হাতের পাতা বুঝেই আকুল এই তো সহজে সব, যা কিছু মৃত্যু ছিল অসম্ভব ভুল! এই তো অপূর্ব শোক, দু’পা দূরে ইতস্তত হে ন্যায়-অন্যায় এই বিদ্যুতের মতো কাছাকাছি আসা আর ফিরে যাওয়া, যেইভাবে যায়। এই তো তোমার দৈব, স্তবকে স্তবকে রোদ এই বৃষ্টি এই! বলো কী সান্ত্বনা দেব? নির্বাসন, পুনর্জন্ম, নির্বাপণকেই? এই তো ওষধিগুল্ম, আর এই একই হাতে ক্ষতে দিই নুন.. আমারও পর্যায় পূজা মুহূর্তমাত্র ভুলে ভালোবেসে খুন!     অনুচিত স্বপ্নের মতো যেসব বারণ থাকে, হাঁটতে হাঁটতে পাশের সিটে, বারান্দায় যাওয়া নিয়ে ফিরে আসা, পর্দা সরানো নিয়েও যেসব বারণ থাকে — বোলপুরে থাকে, গগনেন্দ্র প্রদর্শনশালায়, যেসব বারণ … সেসবের, সবকটিই, জুটেপুটে ভোররাত্রে স্বপ্নে এলে যা হয় আর কি … কী হয়, সত্যি বলতে সেখানেও? কবিতা ছাড়া? যেমন এখনই হচ্ছে, অনুচিত স্বপ্নের মতো, খুব অনুচিত।     দিগন্ত অর্থে নিদারুণ   দুর্বলতা ছাড়া যদি দোষ নেই কোনও তাহলে প্রভূত কিছু শোনো, জানো দোষ উল্কাবর্ণে উচাটন অশ্রুখেলাধুলো, জানো দোষ দ্বিতীয় তৃতীয় ডাকে নির্বিকার চপলতাহীন ; দোষও দোষের মত আলো অহঙ্কারে পাশাপাশি ভাসে, দোষের শিহর লাগে,মহোল্লাসে,তবু কিন্তু অনিচ্ছা অধীন!   জানো কি পুরানো খুব, জানো কি দোষের নামে, -‘বলিনি না?’ -‘কী বলেছি?’ বক্ষমুঠো,সোজা থেকে চিরদিন জড়ো হয় ভুরু তৎক্ষণাৎ মরে যাচ্ছে দিগন্তেই, যারা খুব ভালোবেসেছিল, তৎক্ষণাৎ দিগন্তেই, দিগন্ত অর্থে নিদারুণ ভালোবাসা শুরু।     রজনি উতলা হলে সামান্য ভিজেছ বঁধু, আঙিনায় অথচ পরান দ্যাখো, ফেটে চৌচির ; এবং পরান দ্যাখো গোঁয়ার্তুমি সেই এক, চিরকাল যা বুঝেছে স্থির। কিন্তু সে স্থিরতা ধুয়ে আমি জানি স্রুত জল পাব কি নেব না — রজনি উতলা হলে, ‘ধীরে’ বলো অকস্মাৎ প্রাণ তা শোনেনি, তার বোঝা সম্ভবও না… আমি বুঝি।পড়ে থাকা রাতশেষে আমি বুঝি,উচ্ছেদ হব হব প্রীতি! যে বাজি নিজের সঙ্গে, সে বাজিতে বরাবরই ক্ষমাহীন জিতি। মৃত্যুটি তৃতীয় যাম কে জ্বালে সমস্ত আলো আর সেই সমস্তেরও পর, ঋষভ দুর্বল হয়, কে সমস্ত নিখাদ জানে, আর সে-ই সব জেনেশুনে চন্দ্রাহত হতে হতে সামান্য সামলে নিল, আর বলল এসো প্রেম, ব্যর্থ হও তবু ফুৎকারে মৃত্যুটি জ্বালো, মৃত্যুটি তৃতীয় যাম হোক!        

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

You may use these HTML tags and attributes:

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>