‘খড়িবোলি’ ভাষার অনুবাদ কবিতা বৃদ্ধ চাঁদ 

মূল ‘খড়িবোলি’ ভাষায় কবিতা – সুমিত্রানন্দন পন্থ্
   
  
 
বৃদ্ধ চাঁদটি
আকাশরেখার ফর্সা বাহুডোরে
খানিকক্ষণ শুয়ে ছিল।
অমৃতকলা ছিল ওটি
চন্দ্রভাস শোভিত,
ওই বৃদ্ধ প্রহরী
প্রেমের ছলনামাত্র।
হাতির দন্তসূচক
স্বপ্নের মিনার
সুলভ নয় মোটেও,
না হোক।
ও বাহ্যিক
শূন্যগর্ভ আদলে
সাপ দাঁত
বিষদাঁতের আবাদ
ওকে উন্মোচিত হতে দিও না।
অমাবস্যার ঘুরপ্যাঁচের জন্য অঙ্গারের মতো
বৃদ্ধ চাঁদ
উজ্জ্বলতার বিচ্ছেদে
ম্লান ছিল,
নতুন অধরের অমৃতপান হেতু
অমর রয়েছে ।
চন্দ্রিমার নিঃশেষিত শোভায়
কুয়াশার জঠরে
আকাশরেখার কৃশ বাহুডোরে ঝুলন্ত
পুরনো চাঁদটাই
নতুন আশা
সামগ্রিক রূপে প্রতিভাত ।
ওই উজ্জ্বলতা
পূর্ণ শশী
ওই বৃদ্ধ চাঁদ,
ছায়াশশী হয়ে গেছে ।
 
সুমিত্রানন্দন পন্থ 
কবির জন্ম হিমালয়ের সুরম্য স্থান আলমোড়া কাছে কৌশানী শৈলশহর। (১৯০০-১৯৭৭)। আধুনিক ‘খড়ি বোলি’ ভাষায় রচিত তাঁর সেরা রচনা উত্তরা, স্বর্গকিরণ, বীনা, পল্লব, গুঞ্জন, চিদাম্বর, যুগান্ত, লোকায়ত, কলা অওর বুড়া চাঁদ প্রভৃতি। হিন্দি সাহিত্যে ‘ছায়াবাদ’ আন্দোলনের স্তম্ভ ছিলেন তিনি। ‘চিদাম্বর’ রচনার জন্য জ্ঞানপীঠ পুরস্কার, পদ্মভূষণ পুরস্কার, ‘কলা অওর বুড়া চাঁদ’ এর জন্য সাহিত্য আকাদেমি সম্মাননা পান।
.

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত