দেবসভায় বুদ্ধুভুতুম

 

 

[‘সৃষ্টিদীপ’ নামক আবৃত্তি ও নাট্যকেন্দ্রের শিশুশিল্পীদের জন্য ১৯৯২ সালে রচিত হয় এই একাঙ্ক নাটক। কেকা মজুমদার, তমাল ঘোষ, পিয়ালি বড়াল, মনীষা দত্ত চৌধুরী, ডলি ভট্টাচার্য, অর্পিতা ভট্টাচার্য, মনোজিৎ সিং, কিংশুক মজুমদার ছিল অভিনয়ে। নবজাতক প্রকাশনের রজত জয়ন্তী উৎসবে এই নাটকের অভিনয় করে তারা বিশেষ পুরস্কার লাভ করে ]


মঞ্চের পেছন দিকে চেয়ারের আড়ালে ভুতুম বসে আছে। পেয়ারার মতো একটা ফল খাচ্ছে। সামনের দিক দিয়ে বুদ্ধু ঢুকল]
বুদ্ধু: কোথায় যে গেল ভুতুমটা! [জোরে] অ্যাই ভুতুম-ভুতুম…। গেল কোথায় শয়তানটা। একে নিয়ে বেরুনো মুশকিল। যা লোভ! খাওয়ার জিনিস দেখলেই হল। স্বর্গে এসেও হুঁশ নেই তার। আরে বাবা, এতো তোর চেনা পৃথিবী নয়। অচেনা জায়গা। স্বর্গ বলে কথা। কোথায় একটু সমঝে চলবি, তা নয়। নন্দন কাননে কি একটা ফলের গাছ দেখে দৌড়ে গেল, ব্যস! তারপর থেকে তার পাত্তা নেই। শয়তানটাকে একবার পেলে হয়! অ্যাই ভুতুম-অ্যাই…

[বুদ্ধু চলে যায়। আড়াল থেকে ফল খেতে খেতে ভুতুম বেরিয়ে আসে।]

ভুতুম: বুদ্ধু আমাকে বলল কি না লোভী! তা, নতুন জায়গায় এসেছি, সেখানকার খাবার-দাবার একটু চেখে দেখব না! আচ্ছা, এই ফলটার নাম কি! কে জানে! মর্ত্যে তো একে আমরা পেয়ারা বলি। স্বর্গের পেয়ারার কোন স্বাদ নেই। কেমন পানসে। [পেয়ারাটা ছুঁড়ে ফেলে দেয়।] এর নাম স্বর্গ! ছ্যা, ছ্যা। রাস্তা-ঘাটগুলোর কোন ছিরি-ছাঁদ নেই, দেবতারা সব কোথায় থাকে কে জানে! আর নন্দন কানন! তার চেয়ে আমাদের রিজার্ভ ফরেস্ট অনেক ভালো। অনেকক্ষণ স্বর্গে এসেছি। দেবতাদের দেখা পেলাম না। তারা সব গেল কোথায়? একজনকেও তো চোখে পড়ছে না।

[ অন্যদিক দিয়ে বুদ্ধু ঢোকে]

বুদ্ধু: কি রে, এতক্ষণ ছিলি কোথায়?
ভুতুম: [মুচকি হেসে] ঘাপটি মেরে এইখানেই ছিলাম। আর স্বর্গের একটা বিচ্ছিরি ফল খেয়ে অমর হচ্ছিলাম, বুঝলি! কোন দেবতার দেখা পেলি বুদ্ধু ?
বুদ্ধু: এখনও পাইনি। চল একটু এদের রাজসভার দিকে।
ভুতুম: দেবরাজ ইন্দ্রের সভা!
বুদ্ধু: সেখানে আশা করি কেউ-না-কেউ থাকবে।
ভুতুম: চল।

[দেবরাজ ইন্দ্রের সভা। কিন্তু সেখানে ইন্দ্র ছাড়া আর কেউ নেই। দেবরাজ মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে। বুদ্ধু-ভুতুম দুই উইংসের পাশ দিয়ে উঁকি মারে ]

ইন্দ্র: ঊঃ, বাবারে বাবা ! সগগের রাজা হওয়া কি ঝকমারি! দেবতাদের বায়োনাক্কার শেষ নেই। সব সময় চাই আর চাই। এই চাই, ওই চাই। এত সুখ, তবু মন ভরে না।

[ইন্দ্র উঠে পায়চারি শুরু করে]

ইন্দ্র: দেবতাদের সামলানো চাড্ডিখানি কথা নয়। বড্ড হিংসুটে আর ঝগড়ুটে তারা।

[ বুদ্ধু হঠাৎ কেশে ফেলে। ইন্দ্র এগিয়ে এসে খপ করে তার হাত ধরে]

ইন্দ্র: অ্যাই, কে রে তুই? কে তুই বল?
বুদ্ধু: আমি বুদ্ধু। আমাকে ছেড়ে দাও। অ্যাই ভুতুম…।
[ভুতুম বেরিয়ে আসে]
ইন্দ্র: আরও একটা! তোরা কারা? এলি কোথ্থেকে? বল এলি কোথ্থেকে? দেখে তো দেবতাদের বাচ্চা বলে মনে হচ্ছে না!
বুদ্ধু: আমরা মানুষের বাচ্চা। পৃথিবীর মানুষ।
ইন্দ্র: সব্বোনাশ! পিথিবি থেকে জ্যান্ত সগগে এলি কি করে?
ভুতুম: বলছি, বলছি। হাতটা একটু ঢিলে করো। যা সাপটে ধরেছ!
ইন্দ্র: [ওদের ছেড়ে দেয়] পালাবার চেষ্টা করিস না। আমি দেবরাজ ইন্দ্র। জানিস আমার কটা চোখ? চালাকি করলেই ধরে ফেলব। হ্যাঁ, এখন বলতো, কি করে এলি আমাদের সগ্গে।
বুদ্ধু: পৃথিবী থেকে একটা রকেট ছাড়া হয়েছিল। আমরা তার লেজ ধরে ঝুলে চলে এসেছি।
ভুতুম: বড্ড কষ্ট হয়েছে! হাতদুটোয় ভীষণ ব্যথা।
ইন্দ্র: কিসে ঝুলে এসেছিস বললি? রাকেট? সেটা কি জিনিস?
ভুতুম: রাকেট নয়, রকেট।
বুদ্ধু: অনেকটা তোমাদের পুষ্পকরথের মতো। তবে তার চেয়ে অনেক ভালো।

ইন্দ্র: আমাদের পুষ্পকরথ! সে কি আর আস্ত আছে রে! ভেঙেচুরে একাকার। কতকালের জিনিস। যে ওসব তৈরি করে সেই বিশ্বকম্মার বয়েস হয়েছে। চোখেও ভালো করে দেখতে পায় না। জ্বরজ্বালা লেগেই আছে। কে আর সারাবে পুষ্পকরথ।
ভুতুম: কেন, তোমাদের স্বর্গে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ নেই?
ইন্দ্র: সে আবার কি?
বুদ্ধু: যেখানে যন্ত্রপাতি তৈরির বিদ্যে শেখানো হয়।
ইন্দ্র: না রে। আমাদের ওই এক বিশ্বকম্মাই সম্বল। তা তোদের পিথিবীতে আছে নাকি?
ভুতুম: গাদা গাদা আছে। ফি বছর গাদা গাদা ইঞ্জিনিয়ার তৈরি হচ্ছে। আচ্ছা, ইন্দ্রমামা-
ইন্দ্র: কি বললি? ইন্দ্রমামা? বাঃ, শুনতে মন্দ লাগছে না। হ্যাঁ, কি বলছিলি?
বুদ্ধু: ছদ্মবেশে কিছু দেবতাকে পৃথিবীতে পাঠিয়ে দাও না! বিদ্যেটা শিখে আসুক। বড় দরকারি বিদ্যে কি না!
ইন্দ্র: মন্দ বলিস নি। দেবতাদের সঙ্গে কথা বলে দেখি। [একটো থেমে] তোরা সগগে এসেছিস কেন বললি না তো! চুরি-টুরির মতলব নেই তো!
ভুতুম: ছি, ছি, ইন্দ্রমামা, এটা কি বললে!
ইন্দ্র: তবে?
বুদ্ধু: নিজের চোখে দেখতে।
ইন্দ্র: কি দেখতে?
বুদ্ধু: স্বর্গটা কেমন, দেবতারাই বা কেমন!
ইন্দ্র: [হতাশভাবে] কি আর দেখবি বাবা, সে সগগ কি আছে রে!
[হট্টগোলের শব্দ। শিবের গলা ‘ ইন্দ্র—কোথায় সে! দেবরাজ সেজে বসে আছে! অপদার্থ। আজ তার একদিন কি আমার একদিন’ ]
ইন্দ্র: এই রে, পাগলা শিব ক্ষেপেছে! আমি লুকিয়ে পড়ছি। তোরাও লুকিয়ে পড়, বুঝলি।

[ইন্দ্র পালিয়ে যায়। বুদ্ধু-ভুতুম পুজোর ভঙ্গিতে বসে পড়ে। শিব ঢোকে]

শিব: কোথায় ইন্দ্র! কোথায় সে নিষ্কম্মা! সিংহাসন তো খালি। ব্যাটা পালিয়েছে। দেখি কতক্ষণ পালিয়ে বেড়াবি! আমার নামও শিব। মজা দেখিয়ে ছাড়ব। মশা- সগগেও কি না মশা! ঝাঁকে ঝাঁকে পালে পালে মশা! রক্ত খেয়ে খেয়ে শরীরটা ঝাঁঝরা করে দিল! [হঠাৎ বুদ্ধু-ভুতুমের দিকে চোখ যায়] অ্যাই, তোরা আবার কারা?
বুদ্ধু এবং ভুতুম: জয় বাবা ভোলানাথ। জয় শিবদাদু।
শিব: ও, আমার ভক্ত বুঝি! কিন্তু দাদু বললি কেন? দাদু কথাটার মানে?
বুদ্ধু: দাদু মানে বুড়োমানুষ।
শিব: কি, আমাকে বুড়ো বলা!
ভুতুম: ছি, ছি, শিবদাদু, তোমাকে কখনও বুড়ো বলতে পারি! তুমি তো চির নবীন, চির তরুণ, চির সবুজ। ঠিক কচি কলাপাতাটির মতো। দাদু কথাটার ঠিকঠাক মানে হল গুরু। তুমি আমাদের গুরু শিবদাদু।
শিব: তাই বল।
বুদ্ধু: স্বর্গে বুঝি খুব মশার উৎপাত? একটু আগে আপনমনে বলছিলে না!
শিব: আর বলিস কেন বাবা! এই দেখ, শরীরটা কেমন কুবো কুবো করে ছেড়ে্ছে। দেবতা বলে কি মানুষ নয়! এ শরীরে আর কত সইবে বল! আমাদের দেবরাজ তো আমড়া কাঠের ঢেঁকি। রাজা হয়েছে, কিন্তু প্রজার কোন দুঃখ ঘোচাতে পারে না।
ভুতুম: মশার হাত থেকে তোমাদের বাঁচিয়ে দিতে পারি শিবদাদু।
শিব: ফ্যাট, বাজে কথা। দেবতারা কিছ্ছু করতে পারছে না, আর তোরা দুই পুঁচকে বাঁচাবি! জানিস কি হয়েছিল?
বুদ্ধু এবং ভুতুম: কি? কি?
শিব: তোরা তো জানিস দুগ্গা আমার ধম্মপত্নী। দশ হাতে দশ অস্ত্র নিয়ে সে মহিষাসুরকে বধ করেছিল।

সেই পুরানো কথা ভেবে একদিন দুগ্গা দশ হাতে দশ অস্ত্র নিয়ে মশার বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামল। কিচ্ছু করতে পারল না সে। দশ হাতে বন বন করে দশ অস্ত্র ঘোরাচ্ছে। এদিকে তার চারদিকে পন পন করে মশারা ঘুরছে। দেবী দুগ্গা একেবারে চোখের জলে নাকের জলে একাকার। ছোট্ট মশার কাছে গো-হারান হেরে তার সে কি কান্না! এমন কান্না বাপের বাড়ি থেকে আসার সময়ও সে কাঁদে না।
ভুতুম: ওসব অস্ত্রে, মানে ঢাল-তরোয়াল দিয়ে মশা মারা যায় না দাদু।
শিব: তবে?
বুদ্ধু: দরকার তরল অস্ত্র।
শিব: কি যে তোরা বলছিস, কিছুই বুঝতে পারছি না। কিন্তু সত্যি কি পারবি তোরা?
বুদ্ধু: ঠিক পারব দাদু। মশাদের একেবারে ধ্বংস করতে পারব না। ওরা চিরজীবী। তবে বাঁচাতে পারব তোমাদের।
শিব: সত্যি? তবে তো তোদের বুকে করে রাখব। কিন্তু কি করবি তোরা?
ভুতুম: ঘরের মধ্যে বেগন স্প্রে করতে হবে। নালা-নদঘমায় ব্লিচিং ছড়াতে হবে।
শিব: কিন্তু মুশকিল কি জানিস? আমি তো বেশিরভাগ সময় পথে-ঘাটে শ্মশানে-মশানে ঘুরে বেড়াই।
বুদ্ধু: তারও উপায় আছে শিবদাদু।
শিব: আছে? বল বল!
বুদ্ধু: তোমার সারা শরীরে ওডোমস মাখিয়ে দেব। মশা আর তোমার শরীরে বসে কুটুস কামড় দিতে পারবে না।
শিব: বলিস কি রে! জবাব নেই, জবাব নেই। এই তো আসল ভক্তের কাজ। বড় আনন্দ হচ্ছে। আনন্দ হলে আমার আবার একটু নেত্য করতে ইচ্ছে হয়। দাঁড়া একটু নেত্য করি।
[শিবের নৃত্য]
বুদ্ধু: এই জন্যই শিবদাদুকে সবাই পাগলা বলে, না রে ভুতুম?
ভুতুম: ঠিক বলেছিস। এ নৃত্য কতক্ষণে থামবে কে জানে!

[তর্জন করতে করতে দুর্গার প্রবেশ]

দুর্গা: অ্যাই, কাজকম্ম ছেড়ে এখানে ধেই ধেই নেত্য হচ্ছে! [শিবের নৃত্য তৎক্ষাণাৎ থেমে যায়। ভীত চোখে তাকায়] বলি মতলবটা কি শুনি? ঘরে যে একফোঁটা দানাপানি নেই সে খেয়াল আছে?
শিব: বিশ্বাস করো পাব্বতী।
দুর্গা: তোমাকে আবার বিশ্বাস!
শিব: আহা শোনই না!
দুর্গা: গণেশটা আমার খেতে ভালোবাসে। তা, ভালো ভালো খাবার দূরে থাকুক, তার পেটে দেবার মতো একরত্তি খুদ-কুঁড়োও নেই।
শিব: আমি তো ভিক্ষায় বেরিয়েছিলাম। এই দেখো ভিক্ষার ঝুলু।
দুর্গা: জুলি কাঁধে থাকলেই হবে?
শিব: মশার কামড়ে অস্থির হয়ে এসেছিলাম ইন্দ্রের কাছে।
দুর্গা: ইন্দ্র! সে শয়তানটাই বা গেল কোথায়? তার সঙ্গে আমার বোঝাপড়া আছে। রাজা হয়েছেন! মুরোদ তো জানা আছে।
শিব: আমার ডাক শুনে সে পালিয়েছে। দেখা পেলে মজা দেখিয়ে ছাড়ব।
দুর্গা: সব দিকেই ডামাডোল। রাজ্য চলছে বটে! এক এক সময় মনে হয় সাধের সগগে আগুন ধরিয়ে দিই। ছেলেপুলেকে একমুঠো খাবার দিতে পারি না, পরনের কাপড় দিতে পারি না, সাধ-আহ্লাদ মেটাতে পারি না। দুত্তোর, নিকুছি করি সগ্গের। বলি তা হবে নাই বা কেন! তোমাদের মতো অপদাথথ পুরুষরা থাকলে হাল তো এমনি হয়।
শিব: আমার একটা কথা শোন চণ্ডী-
দুর্গা: কি বললে! চণ্ডী? আমি শুধু চণ্ডগিরি করি, না? কে সামলায় তোমার গুষ্ঠি! কে বাঁচিয়ে রেখেছে তোমার কাত্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী আর সরস্বতীকে? কোন কাজটা তোমার দ্বারা হয় শুনি! [কান্না মেশানো গলায় বলে ] অতি বড় বিদ্ধ পতি সিদ্ধিতে নিপুণ/ কোন গুণ নাই তার কপালে আগুন/ কুকথায় পঞ্চমুখ কণ্ঠভরা বিষ/কেবল আমার সঙ্গে দ্বন্দ্ব অর্হনিশ ।

[শিব দুর্গাকে সান্ত্বনা দেবার চেষ্টা করে । বুদ্ধ-ভুতুম এগিয়ে আসতে দুর্গা তাদের দিকে সন্দেহের দৃষ্টতে তাকায় ]

দুর্গা: আবার এই দুটো বাচ্চা সাগরেদ জুটিয়েছ?
শিব: এদের কথাই বলতে চাইছিলাম তোমাকে।
দুর্গা: যাই বলো না বাপু, আমি এদের খাবার-দাবার দিতে পারব না।
শিব: না, না, ওসব নয়, একটু শোনই না!
দুর্গা: বলো কি বলবে?
শিব: জানো এরা মশা তাড়াবার বিদ্যা জানে।
দুর্গা: কি একম!
শিব: কি সব ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দেবার কথা বলছিল। তাতেই নাকি মশা যাবে।

[পার্বতী ওদের দিকে এগিয়ে যেতে বুদ্ধু-ভুতুম তাকে ঢিপ করে প্রণাম করে]

দুর্গা: পারবি তোরা?
বুদ্ধু এবং ভুতুম: পারব, ঠিক পারব। একটু সময় দাও। ব্লিচিং, বেগনস্প্রে, গুডনাইট, ওডোমস এসব পৃথিবীতে আনানোর ব্যবস্থা করি।
দুর্গা: তাড়াতাড়ি আনিয়ে দে তো বাবা। মানুষই না হয় বাঁচাক দেবতাদের।

[বলতে বলতে ‘বাবা গো, মা গো’ বলে বশে পড়ে দুর্গা]

বুদ্ধু: দিদিমার কি হল দাদু?
শিব: পেটের ব্যথা। মাঝে মাঝে এরকম হয়।
বুদ্ধু: চিকিৎসা করাও নি?
শিব: আমাদের সগগের বৈদ্যরা সব অথব্ব হয়ে গেছে রে! তাছাড়া, সব রকমের রোগও তারা ধরতে পারে না ।

ভুতুম: কোন চিন্তা নেই দাদু। কলকাতায় নিয়ে চলো। পি জি বা নীলরতন বা মেডিকেল কলেজে ভর্তি করিয়ে দেব বাবাকে বলে। দিদিমা ভালো হয়ে যাবে।
শিব: [হঠাৎ রেগে] কি বললি? তোর আস্পধ্ধা তো কম নয়! সগগের দেবতার রোগ সারাবে মত্তের মানুষ! আমাদের কি পেস্টিজ নেই না কি?
দুর্গা: আহা রাগ করছ কেন! ওরা তো আমাদের ভালোর জন্যই বলছে।
বুদ্ধু: ঠিক আছে দিদিমা। শিবদাদুর যখন আপত্তি, তখন তোমাকে কলকাতায় যেতে হবে না। আমার মামা তো ডাক্তার। তাকে বললে ঠিক ওষুধ পাঠিয়ে দেবে।
দুর্গা: আহা বেঁচে থাক। মানুষের বাচ্চদের মন দেখছি বড় নরম।
শিব: চলো পার্বতী, ঘরে শুয়ে একটু বিশ্রাম নেবে। [শিব-দুর্গা চলে যায়। বুদ্ধু-ভুতুম তাদের পিছু পিছু গিয়ে আবার ফিরে আসে । সরস্বতীর ‘মা মা’ ডাক শোনা যায় ]
ভুতুম: কে আবার আসছে রে বুদ্ধু? ডাক শুনে তো মনে হচ্ছে সরস্বতীপিসি।
বুদ্ধু: তাই মনে হচ্ছে।
ভুতুম: বিদ্যার দেবী, বুঝলি। সরস্বতীপিসির কাছে কোন জারিজুরি খাটবে না।
বুদ্ধু: আরে, সরস্বতীতপিসির সঙ্গে দেখা হলে ভালোই হবে।
ভুতুম: কেন?
বুদ্ধু: বর চেয়ে নেব। বিদ্বান হবার বর।
ভুতুম: ঠিক, ঠিক। মুখ্যু কালিদাসের মতো রাতারাতি পণ্ডিত হবে যাব। ফটাফট অঙ্ক কষে ফেলব, ঝটাপট ইতিহাসের সাল-তারিখ মুখস্থ করে ফেলব, সবাই থ হয়ে যাবে। [চিন্তিত] কিন্তু বুদ্ধু, বিপদও আছে রে!

বুদ্ধু: বিপদ আবার কিসের?
ভুতুম: সরস্বতীপিসি যদি পড়া ধরে!
বুদ্ধু: সব্বোনাশ। স্বর্গে এসেও পড়া বলতে হবে। আমরা কি ঢেঁকি যে স্বর্গে গেলেও ধান ভানবো!
ভুতুম: তার চেয়ে বরং লুকিয়ে পড়ি চল।

[ওরা লুকিয়ে পড়ে। সরস্বতীর প্রবেশ]

সরস্বতী: আরে, গেল কোথায় সব? গণেশ তো বলল মা-বাবা এসেছে দেবরাজের কাছে। কিন্তু এখানে তো কেউ নেই। সিংহাসন শূন্য। শুধু হই হই করে সময় কেটে যাচ্ছে দেবতাদের। বিদ্যায় একটুও মন নেই। শুধু ফুর্তি আর আমোদ। আমি আর কত দেখব? কত বোঝাব? [নেপথ্যে ব্রহ্মার ‘ইন্দ্র ইন্দ্র’ ডাক] পিতামহ ব্রহ্মার গলা না! কিছু একটা বিপদ হয়েছে মনে হয়।
[ব্রহ্মার প্রবেশ]
ব্রহ্মা: কোথায় গেল দেবরাজ! আরে, সরস্বতী যে! জানো দেবরাজ কোথায় গেছে?
সরস্বতী: জানিনা পিতামহ। তবে অনুমান করতে পারি।
ব্রহ্মা: বলো, বলো।
সরস্বতী: হয়তো যাত্রা শুনতে গেছেন। নাচ-গান-যাত্রার যা নেশা দেবরাজের।
ব্রহ্মা: যাত্রা শোনার উপযু্ক্ত সময়ই বটে!
সরস্বতী: কেন পিতামহ, কোন বিপদ হয়েছে না কি!
ব্রহ্মা: বিপদ বলে বিপদ! সগগে জলের ভাণ্ডার শেষ।
সরস্বতী: সে কি!
ব্রহ্মা: নদী-নালা-খাল-বিল সব শুকিয়ে চৌচির। একফোঁটা জল নেই কোথাও।

[ লুক্কায়িত অবস্থায় বুদ্ধ-ভুতুম চেঁচিয়ে বলে : ঠাকুর্দা ডিপ টিউবওয়েল বসান]

ব্রহ্মা: কে? কে বলল কথাটা? ছেলেদের গলা। সরস্বতী, তুমি ছাড়া এখানে আর কেউ নেই তো!
সরস্বতী: মনের ভ্রম।
ব্রহ্মা: বলছ কি! নিজের কানে শুনলাম।
সরস্বতী: জলের অপর নাম জীবন। জল না থাকলে কি হবে পিতামহ!
ব্রহ্মা: বড় চিন্তার বিষয়। তাই তো দেবরাজের কাছে ছুটে এলাম। [ বুদ্ধু-ভুতুমের চিৎকার : ডিপ টিউবওয়েল ঠাকুর্দা] সরস্বতী, শুনতে পাচ্ছ! তাহলে কি শেষে সগগেও ভূত এসে ঢুকল? ওরে, বাবারে বাবা, ভয়ে হাত-পা হিম হয়ে আসছে। আমি… আমি পালাই। ভূতের কাছে জারিজুরি খাটবে না। তুমিও পালাও।
[বেগে ব্রহ্মার প্রস্থান]
সরস্বতী: ভূত-প্রেত অবিদ্যার ব্যাপার। আমি তো বিদ্যার দেবী। আমি অবিদ্যাকে ভয় করব কেন! [ লক্ষ্মীর ডাক]
এই লক্ষ্মী আসছে। পোড়ারমুখী। একটুও শান্তিতে থাকতে দেবে না।
[লক্ষ্মীর প্রবেশ]
লক্ষ্মী: এই সরু, শুনেছিস?
সরস্বতী: কি শুনব?
লক্ষ্মী: পিথিবী থেকে দুটো বাচ্চা এসেছে সগগে!
সরস্বতী: বোকা বোকা কথা বলিস না তো!
লক্ষ্মী: না রে সত্যি। বাচ্চাদুটো কত কিছু জানে জানিস!
সরস্বতী: এসব আবার কোত্থেকে জোগাড় হল!

১০

লক্ষ্মী: মা-বাবার কাছে শুনে এলাম। ওদের নাম বুদ্ধু-ভুতুম। ওরা মশা তাড়াবার বিদ্দে জানে, মায়ের পেটব্যথা সারাবার বিদ্দে জানে। এতটুকু বাচ্চারা যখন এসব জানে, তখন সেখানকার বড় মানুষেরা আরও কত কি জানে! বুঝলি, এবার বোধহয় মত্তের মানুষদের গুরু বলে মানতে হবে।
সরস্বতী: বাজে কথায় সময় নষ্ট।
লক্ষ্মী: বাজে কথা নয় রে।
সরস্বতী: যা জানিস না তা নিয়ে তর্ক করিস না।
লক্ষ্মী: [রাগত স্বরে] তুমি একেবারে সব জেনেশুনে বসে আছ।
সরস্বতী: হ্যাঁ, আমি বিদ্যার দেবী।
লক্ষ্মী: বিদ্দার দেবী না হাতি! সগগের বিদ্দার আর বড়াই করিস না। সে বিদ্দা যা ছিল তাই আছে। পিথিবীর বিদ্দা এগোয়, পালটায়।
সরস্বতী: আকাট মুর্খের সঙ্গে কথা বলতে চাই না।
লক্ষ্মী: কি বললি পোড়ারমুখী! আকাট মুখ্খু! দাঁড়া, ভাঙছি তোর গুমর। [চিৎকার করে] অ্যাই বুদ্ধু-ভুতুম, কোথায় তোরা? সাড়া দিচ্ছিস না কেন? শিগগির আয়। না এলে এমন কাতুকুতু দেব বুঝতে পারবি। [বুদ্ধ-ভুতুম উঁকি মারে] এই যে তোরা। আয় তো বাবা একবার। তোরাই পারবি।
বুদ্ধু এবং ভুতুম: কি পারব লক্ষ্মীপিসি?
লক্ষ্মী: এই সরস্বতীর গুমোর ভাঙতে। তোদের কেলাশে যা যা পড়া হয়, সেসব একবার ধরত দেখি!
বুদ্ধু এবং ভুতুম: বিদ্যার দেবীকে পড়া ধরব! সে আমরা পারব না।
লক্ষ্মী: তোদের ঘাড় পারবে। না পারলে এমন কাতুকুতু দেব না! [ওদের দিকে এগিয়ে যায়] কি রে কাতুকুতু দেব?
বুদ্ধু+ভুতুম: [বেরিয়ে আসতে আসতে বলে] ধরছি, ধরছি। কাতুকুতুকে বড্ড ডরাই। তার চেয়ে পড়া ধরা ভালো। [সরস্বতীকে বলে] লক্ষ্মীপিসির কথায় পড়া ধরছি। দোষ দিও না।

১১

বুদ্ধু: সরস্বতীপিসি, সূর্য কি?
সরস্বতী: সূর্য একজন দেবতা।
বুদ্ধু: না গো পিসি, সূর্য একটা আগুনের গোলা।
ভুতুম: বলতো জোয়ার-ভাটা কেন হয়?
সরস্বতী: দেবতার ইচ্ছায়।
[বুদ্ধু-ভুতুম হেসে ওঠে ]
সরস্বতী: হাসছিস কেন তোরা?
ভুতুম: বিদ্যার দেবী হয়েও ভুল-ভাল বলছ বলে।
বুদ্ধু: বলতো পঁচিশে বৈশাখ কার জন্মদিন?
[সরস্বতী চুপ। বুদ্ধু ভুতুমকে ফিসফিস করে বলে, ‘বিদ্যার দেবী যে কিচ্ছু জানে না রে’। ওরা মজা পেয়ে যায়। দুজনে একনাগাড়ে প্রশ্ন করে যায়।]
ভুতুম: পরিবেশদূষণ কেন হয়?
বুদ্ধু: চার্লি চ্যাপলিন কোন দেশের লোক?
ভুতুম: লুই পাস্তুর কি আবিষ্কার করেছিলেন?
বুদ্ধু: স্যাটেলাইট কি?
ভুতুম: লোহায় মরচে ধরে কেন?
বুদ্ধু: কাকে নেতাজি বলা হয়?
ভুতুম: পৃথিবীতে কটি মহাদেশ আছে?
বুদ্ধু: জলের তলা দিয়ে যে জাহাজ যায় তাকে কি বলে?

১২

ভুতুম: প্রথম বিশ্বযুদ্ধ কবে হয়?
বুদ্ধু: শচীন টেন্ডুলকার কোন খেলায় নাম করেছেন?
ভুতুম: আইফেল টাওয়ার কোথায় আছে?
বুদ্ধু: ঢাকা কোন দেশের রাজধানী?

[সরস্বতী তখন ঘেমে-নেয়ে অস্থির। লক্ষ্মী হাততালি দিচ্ছে ]

সরস্বতী: ওরে তোরা থাম এবার। ও লক্ষ্মী, লক্ষ্মীরে, আমার শরীরটা কেমন করছে রে। মাথাটা বনবন করে ঘুরছে রে। [বলতে বলতে সরস্বতী এক পা এক পা পিছিয়ে যেতে থাকে]
লক্ষ্মী: পালাচ্ছিস কেন রে পোড়ারমুখী? কি মজা, কি মজা, বিদ্দার দেবীর থোঁতামুখ ভোঁতা। [বাচ্চা মেয়ের মতো লক্ষ্মী নাচতে থাকে ] কি মজা, কি মজা।
[ত্রস্তভাবে ব্রহ্মার প্রবেশ]
ব্রহ্মা: মজা বৈকি। এবার আসল মজা টের পাবে সকলে। হায় ভগবান । কি যে হবে!
লক্ষ্মী: এ কি পিতামহ, নিজে ভগবান হয়ে ভগবানকে ডাকছেন?
ব্রহ্মা: সাধে কি ডাকছি! ঠেলার নাম বাবাজি। এতদিন দেবতা সেজে খুব হম্বিতম্বি করেছ সবাই, এবার বুঝবে কত ধানে কত চাল।
লক্ষ্মী: হয়েছেটা কি?
ব্রহ্মা: যা হবার তাই হয়েছে। আগুন ধরেছে সগ্গে। হ্যাঁ রে হ্যাঁ, নন্দন কাননে আগুন ধরে গেছে। দেখে এলাম দাউ দাউ করে জ্বলছে। লকলক করে উঠছে শিখা। কি ভীষণ! হায় হায়, সাধের সগ্গে আগুন ধরে গেল! জিনিসটা কি খাঁটি ছিল না?
[বেগে ইন্দ্রের প্রবেশ]
ইন্দ্র: পিতামহ! পিতামহ!

১৩

ব্রহ্মা: এখন আর গাধার ডাক ডেকে কি হবে? যাও নাচা-গানায় সময় কাটাও।
ইন্দ্র: বিশ্বাস করুন পিতামহ, নন্দন কাননে আগুন লাগার কথা জানতাম না।
ব্রহ্মা: আগুন কি তোমাকে জানিয়ে লাগবে নাকি!
ইন্দ্র: একটা পথ বাতলান পিতামহ।
ব্রহ্মা: আমি জানি না পথের হদিশ। ওই দেখো আগুনের লাল আভা। এদিকে ছুটে আসছে বৈশ্বানর।
ইন্দ্র: লক্ষ্মী একছুটে মহাদেবকে ডেকে আনো। তিনি যদি পথের কথা বলতে পারেন।

[লক্ষ্মীর প্রস্থান। অন্যদিক দিয়ে সরস্বতীর প্রবেশ]

ইন্দ্র: এই যে সরস্বতী, বিদ্দার দেবী, আগুন নেভাবার উপায় জানো?
সরস্বতী: না দেবরাজ, আমার বিদ্যা যে বহু পুরানো।
[শিব-দুর্গা-লক্ষ্মী ছুটে আসে। ব্রহ্মা ছুটে শিবের কাছে যায়]
ব্রহ্মা: বাবা ভোলানাথ, আর তোমার সঙ্গে ঝগড়া করব না। স্বীকার করছি আমার চেয়ে তুমি বড়, এখন একবার তোমার জটা খুলে গঙ্গাকে নামিয়ে দাও দেখি।
শিব: আমার কথায় গঙ্গা নামবে না।
দুর্গা: সতীনটি হাড় বজ্জাত কি না!
ইন্দ্র: চুপ করো পাব্বতী। বিপদের সময় ঝগড়া নয়।
ব্রহ্মা: কার কথায় গঙ্গা নামবে ভোলানাথ?
শিব: পিথিবীর ভগীরথের কথায়।
ব্রহ্মা: হায় ভগবান, এখানেও পিথিবীর মানুষ!

১৪

ইন্দ্র: তারা কোথায় গেল? সেই যে পিথিবী থেকে রাকেটের লেজ ধরে দুটো ছোকরা এসেছিল!
সরস্বতী: হ্যাঁ হ্যাঁ, শ্রীযুক্ত বুদ্ধু ভুতুম, পরম পণ্ডিত, পরম জ্ঞানী।
লক্ষ্মী: ঠিক ঠিক, ওরাই পারবে।
ইন্দ্র: ওদের একবার ডেকে আনো তো।
[শিব চিৎকার করে ডাকে, ‘ও দাদুভাই, দাদুভাই’ । বুদ্ধু-ভুতুম ঢোকে]
ভুতুম: কি ব্যাপার শিবদাদু? [চারদিকে তাকিয়ে] আরে এযে দেখছি সবাই হাজির। ব্যাপার কি!
ইন্দ্র: নন্দন কাননে আগুন লেগেছে।
বুদ্ধু: লাগল কি করে!
ইন্দ্র: জানি না বাবা। তোমরা আগুন নেভাবার একটা উপায় বের করো।
দুর্গা: আমাদের সগ্গটা পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে।
শিব: দেবতা বলে কিছু থাকবে না।
লক্ষ্মী: আমরা বেঘোরে মরব।
বুদ্ধু: কিন্তু আমরা কি করে আগুন নেভাব? আগুন নেভাতে গেলে জল দরকার। দমকলকে খবর দেওয়া দরকার। তোমাদের স্বর্গে সেসব তো কিছু নেই।
ইন্দ্র: তাহলে?
সরস্বতী: ওই দেখো, রাজসভার ডানদিকটায় আগুন ধরে গেছে।
ভুতুম: তোমাদের কে এক জলের দেবতা আছে না?
শিব: হ্যাঁ, বরুণদেব। সে ব্যাটা পালিয়েছে। ইন্দ্রের সঙ্গে তার রেষারেষি কি না!
ভুতুম: এখানেও দলাদলি!

১৫

ইন্দ্র: [করজোড়ে] হে রাকেটের লেজুড়ধরা পিথিবীর ছোকরারা, আমাদের রক্ষা করো।
[ছোটাছুটি। হট্টগোল। বুদ্ধু-ভুতুম মঞ্চের সামনের দিকে চলে আসে।]
ভুতুম: স্বর্গে আগুন লেগেছে। আমরা কি করব! এ যে লোভ আর স্বার্থপরতার আগুন। জলে কি এ আগুন নিভবে! আমাদের কিচ্ছু করার নেই। বুদ্ধু, তুই দরদ দেখাতে যাস না।
বুদ্ধু: ওই দেখ, কেমন দাউ দাউ করে জ্বলছে আগুন। কেমন হাউমাউ করছে দেবতারা। এরা নাকি সর্বশক্তিমান!
শিব: বুদ্ধু-ভুতুম আমাদের ফেলে যেও না।
ব্রহ্মা: অসহায়কে ফেলে যেতে নেই বাপ।
ইন্দ্র: আমাদের বাঁচিয়ে দে। তোদের অদ্দেক সগ্গ দেব।
ভুতুম: স্বর্গের দরকার নেই ইন্দ্রমামা। আমাদের পৃথিবী অনেক ভালো।
শিব: জাদুবিদ্দা শিখিয়ে দেব।
বুদ্ধু: ও ভুতুম, শিবদাদু ম্যাজিক শেখাবে।
ভুতুম: ম্যাজিক শিখতে হলে পি সি সরকারের কাছে শিখব। শিবদাদুর কাছে শিখব কেন?

[চিৎকার। ‘মরে গেলাম’ ‘বাঁচাও’]

দুর্গা: আমাদের নিয়ে যা ওরে সোনা ছেলে।
বুদ্ধু: কোথায় নিয়ে যাব?
দুর্গা: তোদের পিথিবীতে।
সব দেবতা: আমরা পিথিবীতে যাব, আমরা বাঁচতে চাই।
ভুতুম: শোন দেবতারা, পৃথিবীতে যেতে হলে মানুষ হয়েই যেতে হবে। দেবতার দম্ভ ত্যাগ করে তোমরা কি মানুষ হয়ে যেতে পারবে? পারবে না। তাই তোমরা তোমাদের জায়গায় থাকো। আমরা ফিরে যাই পৃথিবীতে।

১৬

[বুদ্ধ-ভুতুম সামনের দিকে এগিয়ে আসতে থাকে। পেছনে আগুনের আভা। চিৎকার। ‘আমাদের নিয়ে যা আমাদের নিয়ে যা’]

 

 

*নাটকটি অভিনয় করতে হলে ‘ইরাবতী’ পত্রিকার সম্পাদকের মাধ্যমে লেখকের অনুমতি নিতে হবে।

    

 

 

 

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত