| 23 ফেব্রুয়ারি 2024
Categories
শিশু-কিশোর কলধ্বনি

গোসা

আনুমানিক পঠনকাল: 2 মিনিট

                                

                                                 

বিল্টুর মন ভালো নেই। সকাল থেকে মুখ ফুলিয়ে বসে আছে বারান্দায় । কারোর সাথে কথা পর্যন্ত বলতে সে নারাজ। কথা ছিলো বাবা তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরবে। তার জন্য কিনে আনবে রং পেন্সিল। জল রং। কারণ ছবি আঁকতে খুবই ভালোবাসে সে কিন্তু তাড়াতাড়ি ফেরা তো দুরের কথা! তিনদিন বাসায়-ই আসেনি বাবা। পচা হওয়ার তো একটা লিমিট থাকে। তাই না! একবার আসুক। কথা বলবে না সে। এমনকি তার পছন্দের মিল্ক চকলেট দিলেও না। এই কষ্টে সে সবার উপর নারাজ।

বিল্টুর বাবা পেশায় একজন পুলিশ। বিভিন্ন কাজে তাকে সবসময়ই রাতবিরেতে বাইরে থাকতে হয়। দেশে মহামারী লেগে যাওয়ায় তিনি আরো ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। প্রতিনিয়তই ডিউটি থাকছে। কিন্তু নয় বছরের বাচ্চাকে তো ডিউটি বোঝালে বুঝবে না! তাই বিল্টু বারবার রেগে যায় তখন বাবা তাকে চকলেট দিয়ে রাগ ভাঙায়।

মাত্র তিনি বাসায় ঢুকলেন। কিন্তু বাসায় এসে তো ছেলের কাছে যাওয়া চলবে না। গোসল করতে  হবে। নিজেকে পরিষ্কার করে জীবাণুমুক্ত করতে হবে। তারপর বাকি কাজ। বিল্টু ততক্ষণে বারান্দায় বসে পাখির খাওয়া দেখছে। সে টিভিতে শুনেছে বারান্দায় পানি আর শস্য রেখে দিতে হবে। যাতে পাখিরা পর্যাপ্ত খাবার পায়। সে তাই প্রতিদিন পাখিদের খাবার দেয়। বাবার উপর রাগ করলেও পাখির উপর করা যাবে না।

মা ডাকছেন, “বিল্টু সোনা দেখে যাও, বাবা কি নিয়ে এসেছেন।” যাই নিয়ে আসুক বাবা এবার আর সে যাবে না। বাবার উপর প্রচন্ড রাগ। হঠাৎ বিল্টু দেখে একটা পাখি আরেকটা পাখিকে খাওয়ানোর চেষ্টা করছে কিন্তু সে কথা শুনছে না। তাই অন্য পাখিটিও খাচ্ছে না। যেন কষ্ট পাচ্ছে। বিল্টুর অবাক লাগলো। আচ্ছা পাখির মতো বাবাও কি কষ্ট পাবে, যদি সে বাবার সাথে কথা না বলে। এমন ভাবতে ভাবতে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখে বাবা দাঁড়িয়ে। বলছেন, ”সরি বাবা। আর লেট করবো না, এই নাও তোমার রং পেন্সিল।” বিল্টুর অনেক রকম রাগ করার পরিকল্পনা থাকলেও সে হাত বাড়িয়ে পেন্সিল নেয়। আর বলে, “থ্যাংকস বাবা।”

 

 

 

 

 

 

 

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত