| 19 এপ্রিল 2024
Categories
শিশু-কিশোর কলধ্বনি

মন হারানো উজলপুরে

আনুমানিক পঠনকাল: 2 মিনিট

মন হারানো উজলপুরে

খুব সুন্দর একটি গ্রাম উজলপুর। গেরুয়া মাটির পথ আর সবুজ গাছপালায় ঢাকা এই গ্রাম। গ্রামের পথে খেলা করে দুই ভাই-বোন। বোন মুগ্ধতা আর ভাই বিস্ময়। সেই গ্রামে ছিল এক বিশাল বট গাছ। গাছের সবুজ পাতার জালে আটকে আছে বিকেলের কমলা রঙের সূর্য। ওদিকে নীল আকাশে ভাসছে সাদা হাওয়াই মিঠাইয়ের মতো মেঘ।
গ্রামের পাশ ঘেঁষে বয়ে চলছে রূপালী স্রোতের এক সুন্দর নদী উতলমনা। তখন বিকেল। মুগ্ধতা আর বিস্ময় দুই ভাইবোন মিলে নদীর পাড়ে খেলছে। খেলতে খেলতে হঠাৎ তারা দেখল, লাল গোলাপ ফুলের একটা পাল তোলা নৌকা নদীতে ভেসে যাচ্ছে। নৌকার গুণ টানছে একঝাঁক হলুদ পাখি। মুগ্ধতা আর বিস্ময় অবাক চোখে তাকিয়ে দেখে। তাদের চেখের যেন পলক পড়ে না।
এদিকে সন্ধ্যা নেমে আসে। মুগ্ধতা আর বিস্ময় দৌড়ে বাসায় ফিরে আসে। মুগ্ধতা ওর বাবাকে বলে, জান বাবা, আজ আমরা একটা মজার জিনিস দেখেছি! কী দেখেছি জান? দেখেছি, দারুণ সুন্দর একটা নদী আর ফুলের নৌকা। বিস্ময় হাঁফাতে হাঁফাতে বলে, আর কী দেখেছি শুনবে, মা? একঝাঁক হলুদ পাখি নৌকাটাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে! নৌকাটা কোথায় যাচ্ছে, মা?
মা বললেন, নৌকাটা যাচ্ছে মনোহরা গ্রামে। মনোহরা এক সোনালী রংয়ের গ্রাম। সেই গ্রামে গেলে সবার মন হারিয়ে যায়। কারও মন হয় প্রজাপতি, কারও ফড়িং আর কারওবা জোনাক পোকা। মনগুলো তখন ফুলে ফুলে, বনে বনে, পাতায় পাতায় উড়ে বেড়ায়। উড়ে বেড়ায় আর গান গায়। মুগ্ধতা আর বিস্ময়েরও ফুলের সাথে, পাখির সাথে উড়ে বেড়াতে ইচ্ছে করে। তখন ওরা শুনতে পায় অনেক দূরে, নদীর ওপার থেকে কে যেন ওদের নাম ধরে ডাকছে, “মুগ্ধতা, বিস্ময়, ওঠোনা দুষ্টুরা! আর কত ঘুমাবে? বিকেল হল, খেলতে যাবে না!
ওরা আস্তে আস্তে চোখ খুলে দেখে, ব্যালকনির ওপারের মাঠে মিষ্টি বিকেল। আর মাথার কাছে দাঁড়িয়ে আছে মিষ্টি মামণি।

 

 

Irabotee.com,irabotee,sounak dutta,ইরাবতী.কম,copy righted by irabotee.com

 

ফুল-পাখিদের মেলা

(উজ্জয়িনী-আত্মদীপের জন্য)

একটা সবুজ পাখি। বসেছিল একটা গাছের ডালে। গাছের পাশে ছিল একটা বাগান। বাগানে ছিল একটা হলুদ ফুল। সবুজ পাখিটা খুব হাসছিল। হলুদ ফুলটাও হাসছিল। পাখিটা ফুলকে বলল, তুমি এত হাসছ কেন? ফুলটা বলল, আগে বল, তুমি কেন হাসছ? পাখি বলল, আজ সকালে আমি একটা গান গেয়েছি। মামণি গান শুনে অনেক হাততালি দিয়েছে। আমার খুব ভাল লাগছে। তাই আমি হাসছি। ফুল বলল, আমিও তো একটা গান গেয়েছি। মামণি আমার গান শুনে অনেক আদর করেছে। খুব ভাল লাগছে আমারও। তাই আমি মনের খুশিতে হাসছি।

পাখি ফুলকে বলল, আমাকে একটা গান শোনাবে? সবুজ পাখির জন্য ফুল গাইল, “ওমা আমি টিয়া হব, সবুজ টিয়া পাখি”। এবার ফুল পাখিকে বলল, তাহলে তুমিও একটা গান শোনাও! পাখি ফুলের জন্য গাইল, “হলুদ গাঁদার ফুল, রাঙ্গা পলাশ ফুল, এনে দে, এনে দে মোরে, নইলে বাঁধব না চুল”।

গান শেষ হলে দুজনই দুজনের জন্য অনেক হাততালি দিল। ওরা একসাথে অনেক হাসাহাসি করল। মজা করল। দুজন দুজনের বন্ধু হয়ে গেল।

তারপর দুজন একসাথে গলা মিলিয়ে বলল,

আজ সকালে
আমরা দুজন
বন্ধু হলাম।
অনেক গল্প
অনেক গান
শুনিয়ে গেলাম।

কাল বিকেলে
আমরা আবার
করব খেলা।
ফুল-পাখিদের
হাসির সুরে
বসবে মেলা।

 

প্রচ্ছদ: উজ্জয়িনী অবন্তিকা
নালন্দা বিদ্যালয়
শ্রেণি – মঞ্জরী
বয়স-৬

 

 

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত