অ- আ- ই -ঈ

(১)

অ -য়ে অজগর আসছে তেড়ে
লিখতে গেলে প্রথম যে অক্ষরটি শিখতে হয় তার নাম ‘অ’। অ -য়ে অজগর হয়। অনেক কিছু হয়। অলস, অকর্মণ্য, অদ্ভুত, অস্থির। এই যে ধরুন আমি, অজগরের মতোই একপেট খিদে নিয়ে বসে একটা গল্প লেখার চেষ্টা করে চলেছি। গল্পটা যখন আপনারা পড়বেন, ততক্ষণে আমার খিদে মরে ভূত হয়ে গিয়েছে। ভূতটা তিন লোকে চক্কর মেরে ঠোক্কর খেতে খেতে শেষে এই আমার পেটেই স্থিত হতে চাইছে। মানে সারাদিনের মতো পার্মানেন্টলি ঠেক নেওয়ার চেষ্টা করে চলেছে আর কি!

ন্যুট হ্যামসুনের লেখা ‘হাঙ্গার’ উপন্যাসের নায়ক ট্যানজেনের অবস্থা অনেকটা ওইরকম হয়েছিল।
আমার রোগের সংক্রমণটাও সেখান থেকেই ছড়ায়। একদিন ঢাকুরিয়া পাবলিক লাইব্রেরিতে গিয়ে দেখি
কিছু পুরনো বই স্তুপাকার করে রাখা। উইপোকা খাচ্ছিল বলে ওনারা বইগুলো বাতিল করে দিয়েছিলেন। অকর্মণ্য এই আমি সেই বইয়ের স্তুপ ঘেঁটেই উপন্যাসটা টেনে বার করে এনেছিলাম– হাঙ্গার। লাইব্রেরিয়ান ভদ্রলোক হাঙরের মতো হাঁ করে আমাকে দেখছিলেন। কি জানি! আমাকেই উইপোকা ভাবছিলেন হয়তো!

বাড়ি ফিরে বইটা পড়বার পর কেমন যেন ঘোর লেগে গেল। আর উইপোকা সমেত গোটা বইটাই চিবিয়ে জল দিয়ে গিলে ফেললাম। তারপর থেকে যেটা হয়, খিদে ব্যাপারটা অ -য়ে অকারণ মাথাব্যথা ঘটায়না। লিখতে বসে দিব্যি কনসেন্ট্রেট করা যায়।
কিন্তু সমস্যা হল কী নিয়ে লিখব? বিকেলে বিল্টু এল। সাদা পাতায় কলম তাক করে পেঁচার মতো গুম মেরে বসে আছি দেখে জানতে চাইল,
– ব্যাপার কী?
বিল্টু ভাষা সাহিত্যে পি এইচ ডি, মানে পথে হল দেরি আর কি! মাধ্যমিকে ল্যাঙ্গুয়েজ গ্রুপে তিনবার আটকে শেষে এগ্রিগেডে উতরেছে। তবে মাথাটা খুব শার্প। অঙ্কে বরাবর ভালো। এখন একটা জুয়েলারির দোকানে ক্যাশবাক্স সামলায়। বাক্সে প্রচুর টাকা। ওর পকেটেও তাই। আমার পকেটে তো কিছু খুচরো পয়সা আর খুচরো শব্দ ছাড়া কিছুই নেই! তাই বাধ্য হয়ে ওকেই সমস্যাটা বললাম, -দ্যাখ
না, প্লট পাচ্ছিনা!
বিল্টু বলল, –সে কি রে! তোর প্লটের অভাব? তুই তো খিদে নিয়ে কতদিন ধরে গবেষণা চালাচ্ছিস!
শুনলাম আজকাল নাকি প্র্যাকটিসও চলছে রেগুলার। তা সেটা নিয়েই শুরু করে দে না!আইডিয়াটা বেশ মনে ধরল। কুন্ডলী পাকানো অজগরটা আমার পেট ছেড়ে এবার মাথার ভেতর হাঁ করে উঠেছে। চমৎকার বলেছে তো বিল্টু! স্বপ্নে ন্যুট হ্যামসুন দেখা দিলেন। হাত তুলে কনফিডেন্স
ফিরিয়ে দিয়ে বললেন। –তথাস্তু!

(২)

আমটি আমি খাবো পেড়ে। আ -য়ে আইডিয়া। মানে আমার ‘অ’কে বিল্টু যেটা দিয়ে গেল। কিন্তু শুধু আইডিয়া থাকলেই তো হবেনা! ক্যারেক্টার চাই। অবজার্ভেশান দরকার। সচক্ষে দেখা কোনো এক্সপিরিয়েন্স হলে আরও ভালো হয়। অতএব সেজেগুজে বেরিয়ে পড়লাম। বুক পকেটে কলম।কাঁধে নিলাম প্রিয় ঝোলাটা। ঝোলার মধ্যে ডায়েরি, কিছু সাদা কাগজ, স্কেচ পেন্সিল, একটা ডিকশনারি, আর একটা বড়সড় ম্যাগনিফাইং গ্লাস। ভালো করে সব খুঁটিয়ে দেখে টেখে একটা স্কেচ করে ফেলতে হবে। শ্রাবণের বিকেল। এই হাসে তো এই কাঁদে।চলতে চলতে কখনো থামি, কারো বাড়ি বা বন্ধ দোকানের শেড পেলে মাথা বাঁচাই। বৃষ্টি কমলে আবার হাঁটি। হাঁটতে হাঁটতে একসময় পৌঁছে যাই আমার সাধের বাগানে। এ বাগানে হিরো হিরোইন ছড়াছড়ি। সামনেই জল টলমল লেক। মাথার ওপর প্রাচীন গাছপালাদের সবুজ সংসার। চারধারে সারি সারি বেঞ্চ। বেঞ্চে জোড়া জোড়া উত্তম সুচিত্রা। “তুমিই বলো।“ “না না তুমি…” চলছে তো চলছেই। শেষমেশ কেউই কিছু বলে উঠতে পারছেনা।

আমার পামেলাকে মনে পড়ল। সেই যে এক আষাঢ়ে সন্ধ্যায় এখানেই ওর হাতদুটো ধরে বলেছিলাম, “বিশ্বাস করো তুমি যে আমার কাছে ঠিক কী…” পামেলার চোখের পাতায় তিরতির্ কম্পন। গাছের পাতায় ঝিরঝিরে হাওয়া…।” থামলে কেন? বলো না!
কী?”
“তুমি আমার কাছে…আমার কাছে…ঠিক যেন আমার পেটের খিদের মতো!” “হোয়াট!” ছেঁড়া তারের মতো ছিটকে গিয়েছিল পামেলার দুই হাত। চোখে একশো পাওয়ারের ডিমলাইট। হাসবে না কাঁদবে যেন বুঝেই উঠতে পারছিলনা। যাওয়ায় আগে শুধু বলেছিল “বলদ কোথাকার!” আমার এই ট্র্যাজেডির কথা শুনে বিল্টু হো হো করে হেসেছিল। তারপর জিভ কেটে বলেছিল। –”আসলে ব্যাপারটা খুব অড”।

ওকে কিছুতেই বোঝাতে পারিনি অ -য়ে অড আমি হতে পারি, কিন্তু অ -য়ে অজগরের মতন পেটের খিদেটা আমার সর্বক্ষণের সঙ্গী। পামেলাকেও সেটাই বোঝাতে চেয়েছিলাম। বুঝলনা! “নেবেন দাকি দাদা চিপস পপকর্ন চালের পাঁপড়! পেটে খেলে মনে সয়, ভালবাসা সোজা নয়!” হকাররা হাঁকছে। প্রেমের মজলিসেও পেটের ধান্দা! এখানে এখানকার দস্তুর এই। দুই হিজরে রোমান্টিক জুটিগুলোর মাঝখানে ঢুকে পড়ে চটাস্ চটাস্ তালি মারছে। –”পকাটের মাল ছাড় সোনা বাবু আমার! সাবধান রাধাদিদি কেষ্ট তোমার কিপ্টে বটে! “অবশেষে পঞ্চাশটি টাকা হাতে বাগিয়ে আশির্বাদ ছুঁয়ে যার অর্ধনারীশ্বর। “সুখে থাকো বাছারা”! না দিলে উল্টে খিস্তি…এখানকার দস্তুর এই। আর একটু পরেই অন্ধকার ঘনিয়ে আসবে। যা যার মতো কুঞ্জে কুঞ্জে শরীর গুঁজে খুনসুটি শুরু করে দেবে। তখন আর আমাকে অ্যালাউ করবেনা কেউ। তার আগেই কাজ হাসিল করে নিতে হবে।

বৃষ্টিটা কমেছে। আমি একটা শেড দেওয়া বেঞ্চির গা ঘেঁষে দাঁড়ই। ইতিমধ্যেই গপ্পো জমে ওঠে। একটু অন্যরকম গপ্পো। চারটে চ্যাংরা ছেলে চটুল চুটকি ঝাড়ছে। পাশে বসে চাওয়ালা শুনছে, আর খানিক জিরিয়ে নিচ্ছে সেই ফাঁকে। আর অন্যদিকে বেঞ্চে পিঠ ঠেঁস দিয়ে একজোড়া প্রেমিক প্রেমিকা। হাতে হাতে প্লাস্টিকের কাপে চা। ঠোঁটে ঠোঁটে চায়ে চুমুক।
ওদের সামনে হাত পেতে দাঁড়িয়েছে বছর দশের একটা ছেলে। ধূলো কালো চেহারা। কোমরেরর তাগায় গিট্টু মারা হাফপ্যান্ট। জামার বোতাম ছেঁড়া, ছেঁড়া বোতামের ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে জীর্ণ শরীরের
জিরজিরে হাড়গুলো…কাঁধে চটের বস্তা। সেটা থেকে ভ্যাপসা গন্ধ ছাড়ছে। দয়ালু প্রেমিক এক কাপ চা তুলে দিল ছেলেটার হাতে। তাই দেখে প্রেমিকা চুকুস করে হামি খেল
প্রেমিকের গালে। –” সো সুইট ডার্লিং !”
–“ভিক্ষে করিস কেন রে?”
–“হ্যাঁ কেন করিস বলতো!!” প্রেমিকা সঙ্গত করল প্রেমিকের কথায়। ছেলেটা যেন শুনতেই পায়নি। এমন একটা ভাব। লম্বা লম্বা চুমুকে চা শেষ করতেই সে ব্যস্ত।
–“ইস্কুলে যাবি? খেতে পাবি। ইচ্ছে থাকলে বল! আমি সব ব্যবস্থা করে দেবো”।
–“ওউ ডার্লিং! ইউ আর রিয়েলি গ্রেট!”
আবার চুমু। লম্বা চুমু — উমম্-আঃ!
আমি আমি নড়েচড়ে সজাগ হয়ে উঠি। সাথে নড়ে ওঠে আমার অজগরের আইডিয়া! তুখোড় গপ্পো!
তাজা গপ্পো…ব্যাপক খাবে। রোমান্স আছে। সেন্টিমেন্ট আছে। আমার গল্পের ‘ই ‘আমি পেয়ে গেছি। ইচ্ছে। ইস্কুলে যাবার ইচ্ছে। আম বাঙালি স্কুলকে বাংলায় ইস্কুলই তো বলে! ইয়েস! এখন শুধু দেখতে হবে ইঁদুর ছানাটা কী চায়। ওই তো আসল ক্যারেক্টার!

(৩)

ইঁদুর ছানা ভয়ে মরে

–“ কী রে, বল!”
সাড়া নেই। ছেলেটা খালি কাপ ফেলে দিয়ে আবার ওদের সামনে হাত পেতেছে। প্রেমিক অবাক।
–“এই তো চা খাওয়ালাম তোকে! আবার কী চাই? ব্যাটা খালি পয়সা চিনেছো তাই না! ভালো কথা বললাম কোনো উত্তর নেই! যা ফোট্ এখান থেকে!”
ছেলেটা সরে গেল। কিন্তু আমার তো দাঁড়িয়ে থাকলে চলবেনা। ছেলেটাকে ধরে করে যেভাবে হোক একটা ইন্টারভিউ নিতে হবে।

ছুটলাম ছেলেটার পেছনে। আম পাবলিককে গল্প খাওয়াতেহলে অজগরের মতো অকর্মণ্য আমিও যে
অস্থির ভাবে ছুটবো সেটাই তো স্বাভাবিক! তা সে যতই অদ্ভুত লাগুক। কিন্তু ছেলেটা পালাল কই?
ওই যে, ধরে ফেলেছি। একটা ক্ষিরীষ গাছের আড়ালে দাঁড়িয়ে হিসি করছে। আমায় ওরকম পড়িমরি করে ছুটে আসতে দেখে মাঝপথেই হিসি বন্ধ হয়ে যায় ওর। প্যান্টে তো জিপ্-এর বালাই নেই!
কোনওরকমে ভাঁজ মেরে কোমরের তাগায় গুঁজেই পিছন ফেরে।
–“অ্যাই শোন শোন একবারটি! যাসনা, দাঁড়া…”
আমি ওর পথ আগলাই।
–“কী নাম রে তোর?”ছেলেটা ফ্যাল ফ্যাল তাকিয়ে।
–“বাড়িতে কে কে আছে?” উত্তর নেই।
–“সারাদিনে কত রোজগার করিস?” তবুও চুপ। আশ্চর্য!
–“আচ্ছা বুঝেছি, পড়াশোনা করতে ভালো লাগেনা তাই তো! গান শুনতে ভালো লাগে তোর? তাও না!…তবে নিশ্চয়ই গোলাপ ফুল ভালবাসিস? কিছু তো একটা বল!” ছেলেটা কেমন জড়সড়। আমার দিকে অদ্ভুত মুখভঙ্গি করে পায়ে পায়ে পিছু হটছে। এইবার রীতিমতো সন্দেহ হল। ঝোলা থেকে ম্যাগনিফাইং গ্লাসটা বার করলাম। ধরলাম ওর মুখে চেপে। –“অ্যাই হাঁদা! হাঁ
করতো দেখি! জিভ বার করে এইভাবে, অ্যা-অ্যা…”
অমন হাঁ আমি জীবনে দেখিনি। আতস কাচের ওপারে তাকিয়ে আশ্চর্য হয়ে গেলাম।দেখি অনেক অনেক না বলা শব্দ জট পাকিয়ে ওর আলজিভে আটকে রয়েছে! এতক্ষণে বুঝলাম কেন সে কোনো কথাই বলছে না। তার মানে ও জন্ম থেকেই বোবা কালা। তার মানে চারপাশের কিছুই শব্দ দিয়ে চেনেনা ও! এই ঝিলপাড়..সবুজ গাছগাছালি …ছেলেমেয়েদের ভিড়, কেটলি, দোকানদার …চা- চুম্বন -আলিঙ্গন, যা কিছু ও দেখছে তার সমস্তটাই ছবির মতো স্কেচ করা আছে ওর মগজে! জলজ্যান্ত সব বয়ে যাওয়া ছবি…। মুহূর্তে বুদ্ধি খেলে গেল। ইন্টারভিউ নাই বা করলাম! ওকে দিয়ে লিখিয়ে নিতে তো পারি? অবশ্য তার আগে বর্ণ পরিচয় করাতে হবে। অ, আ, ই, ঈ সব চেনাতে হবে। বললাম, –“আমার বাড়ি যাবি?

আমার বাড়ি মানে মামারবাড়ি নয়, দুধভাত দিতে পারবনা। ভাতেভাত খেতে পাবি। যাবি?” ছেলেটা হাত উল্টোল। যার মানে কী? কেন? বা কোথায়…আবার তিনটেই হতে পারে। আমি বলি, –“এই
তো কাছেই। তবে লেখা শিখতে হবে কিন্তু! স্বরবর্ণ, ব্যঞ্জনবর্ণ এসব চিনতে হবে।” ছেলেটা আবারও হাত ওল্টায়। আমিও বোকা তেমনি! শব্দ দিয়ে তো কিছুই বুঝছেনা ও। পকেট থেকে এবার মোক্ষম অস্ত্রটা বার করলাম। কলম। কলমের মাথাটা চেপে ছুঁচোলো নিবটা দেখিয়ে ইশারা করলাম –এই যে এটা দিয়ে, যা বলব যেমন বলব ঠিক তেমনি করে লিখতে হবে বুঝলি? ছেলেটা কী বুঝল কি জানি! কলমটা আমার হাত থেকে নিল। নিয়ে ছুঁচোলো নিবটায়হাত বুলিয়ে নাড়াচাড়া করল বেশ খানিকক্ষণ। যেন পরীক্ষা করছে। তারপর….হঠাৎ কী মনে হল, সেটা নিয়েই লাগালো উল্টোদিকে ছুট!
–আরে কী হল কোথায় যাচ্ছিস? দাঁড়া…।

(৪)

ঈগল পাখি পাছে ধরে

ছেলেটা দৌড়চ্ছে। দৌড়চ্ছি আমিও। এমন দৌড় যে, শব্দে বর্ণনা করা যায়না। গার্ডেন পেরিয়ে, সুইমিং ক্লাব ছাড়িয়ে সোজা রাস্তায়। বাঁদিকের ফুটপাথ বরাবর ছুটতে ছুটতে ওকে ধাওয়া করে এসে ফ্লাইওভারের নিচে ঝুপড়িগুলোর কাছে পৌঁছে থমকে গেলাম। সেখানে ততক্ষণে ভিড় জমে গেছে। ঘটনাটা বুঝে নিতে দেরি হলনা। ছেলেটার পাতাখোর বাপ বসে বসে ধুঁকছিল। নেশায় একেবারে আচ্ছন্ন। ছেলেটাকে সামনে দেখে রোজকার মতোই মুখ খিঁচিয়ে চিলের মতোই ছোঁ মেরেছিল ওর পকেট লক্ষ্য করে –“দে হারামজাদা পয়সা দে শিগগির!”…ব্যস আর কোনও বুলি ফোটাতে পারেনি, কারণ তার আগেই ছেলেটা কলমের ছুঁচোলো নিবটা সজোরে ফুটিয়ে দিয়েছে বাপের ঘাড়ে। গলগল করে বেরিয়ে আসছে রক্তধারা। লোকে লোকারণ্য । ভিড়…।
ভিড় টপকে এসে ছেলেটা আমার কলম আমার দিকে মেলে ধরল। আর ওকে ভিক্ষে করে হবেনা। হাত ধরে টেনে ইশারায় বলল –“চলো”।

আমি নির্বাক। মনে হচ্ছে গলার ভেতর সব শব্দ জড়িয়ে দলা পাকিয়ে যাচ্ছে। ছবির মকোই চোখে ভাসছে দৃশ্যগুলো। অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন শুনতে পাচ্ছি।একটা বডি উঠল। লোকটা তখনও হয়তো বেঁচে! বডিটা কাতরাচ্ছিল।
তারপর একা নীল গাড়ি এল। বোধহয় পুলিশ ভ্যান। আমরা দুজনেই হাত ধরাধরি করে উঠে বসলাম।গাড়ির দরজা বন্ধ হয়ে গেল। সেটা থামল গিয়ে একটা লাল বাড়িতে।

ছেলেটা মাইনর। ও চলে যাবে হোমে। অস্ত্রটা আমার ছিল। অতএব খুনের প্ররোচনাও আমারই। অন্তত অ্যাটেম্পট্ টু মার্ডার তো বটেই! একটা টেবিলের চারদিক ঘিরে জনা পাঁচেক ইউনিফর্ম পরা লোক। টেপ রেকর্ডের মতো সমানে একটাই প্রশ্ন করে চলেছে –”আপনার মোটিফটা ঠিক কী ছিল বলুন তো?”

আমি আমার কলমটা চাইলাম। সাদা কাগজে জোর দিয়ে ঘষে ঘষে লিখে চললাম – অ, আ, ই, ঈ…।
কলম থমকে গেল…।
ঈ -তে ঈগল কেন? ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরও তো হয়!

 

 

 

 

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত