কিংকর চক্রবর্তী’র কবিতা

আজ ২৯ সেপ্টেম্বর কবি কিংকর চক্রবর্তী’র জন্মতিথি। ইরাবতী পরিবার তাঁকে জানায় শুভেচ্ছা ও নিরন্তর শুভকামনা।


শস্যের জনক 

শস্যের জনক আমি তারই কথকতা করি গ্রামে
নিশ্চিন্তপুরের রাতে আনন্দের থালা পেতে দিই
ভারতনামের দেশ,দু’মুঠো অন্নের পাশে নাচে
শস্য ঠোঁটে পাখিপুর ডানায় অনন্ত গেয়ে ওঠে
এরই নাম লোকগান মাটির আদরে বাজে সুর
ঐতিহ্য ধুলোর কণা,চিরকাল পায়ে লেগে থাকে
যত দূর যাবে তুমি এই নদী ;আশ্চর্য নূপুর
দু’পায়ে ফলিয়ে প্রেম ঘরে ডেকে নেয় শস্যপুর
গ্রাম তো অন্নের ধাম, শরীর ও মনের বীজতলা
রোপণের অন্য নাম মাটির শ্রীঅঙ্গে বৃষ্টিফলা।

সমুদ্র গন্ধের মাস্তুল

বালকের মতো একা হাঁটে মন
জামার বোতাম থেকে অচিনের দিকে
পায়ের দরাজে লাগে
সুন্দরের অগাধ গন্ধ

গন্ধ কুড়নো বালক
রোদ্দুরের ফুল থেকে
কিছুটা মেঘ ও বৃষ্টি সরিয়ে
অঝোর দুপুরে
কাগজের নৌকা ভাসিয়ে রাখে
বালকের মতো মন
একা একা জলে
সমুদ্র গন্ধের দিকে
মাস্তুল হয়ে থাকে

নির্জন জলের বালক

নির্জন আতুর
নদীর গোপনে ডুবে বসি
জল থেকে গল্প কুড়োই
প্রাচীন ফসলের দিকে খুলে যায় মন
শস্যের সাবেক পাণ্ডুলিপি
হলুদবর্ণের অক্ষরে
লেগে আছে
পূর্বপুরুষের
নক্ষত্র অভিসার
কতবার ভেঙে গেছে ডানা
ভুল রাতে ঝরেছে পালক
দেখো নদী, আজও আমি
জলের নির্জনে কতটা বালক!

দেবলোক 

আনন্দ লিখেছি আমি গুহাঘোর ভাস্কর্য আদিম
পুড়ে যাওয়া হাড়মজ্জা দাউদাউ দু’হাতে জড়িয়ে
ধরেছি সুদীর্ঘ নদী পায়ের পাতায় লাভাস্রোত
উন্মাদ লিখেছি আমি আনন্দ ছড়িয়ে সারাদেশ

এখন শস্যের মাস বিবেচনা গাড়ি চলে মাঠে
দু’চোখ বোঝাই করে চুপিচুপি অন্ধকার হাঁটে
জন্মঘরে গর্ভপাত,কাঁদে মাটি,শস্যেরও জনক
কবি,শিল্পী ঘনঘোর ;রেডরোড যেন দেবলোক

ধুলো 

পায়ে যে পথিক ডাক… তার কাছে ধুলো চাই,ধুলো…
পৃথিবীকে পাঠ করি প্রতিপদে চারণ কাহিনি
সমুদ্রের ঢেউ খুলে দেখি ডিঙি, জাহাজ-মাস্তুল
নাবিকের দীর্ঘ রাত… বন্দরের আনন্দবাহিনী
ধুলো দাও, চোখ ভরে দেখে নিই অনন্ত ফকির
কীভাবে বাজায় তার, অসীম নিকিয়ে আনে গান
দু”পায়ের রাঙাপথ…প্রেম এসে আলো হয় চোখে
যে-পথে পথিক ডাক… সেইপথে নারীপাখি ওড়ে
তার ঠোঁটে নক্ষত্র থেকে ঠুকরে আনা অদ্বৈত আলাপ
ধুলো,আদি পাণ্ডুলিপি ;পাঠ করি অনন্ত বিস্তার
ও পথিক,ধুলোজন্ম দাও; হাঁটি এপারওপার
ধুলো রোজ গর্ভবতী পেটে ধরে জন্মের আকার

মন্তব্য করুন




আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত