| 18 জুলাই 2024
Categories
কবিতা সাহিত্য

ঠিকানা অনন্ত জংশন ও চারটি কবিতা । আবু তাহের

আনুমানিক পঠনকাল: < 1 মিনিট
ঠিকানা অনন্ত জংশন
 
গভীর রাত, স্টেশনে নামিয়ে দিলো ট্রেন, ট্রেন এক ফেরারি কফিন
কফিন ও লাশের সম্পর্ক কবর পর্যন্ত
কফিন ফিরে যাচ্ছে,
মানুষগুলো ফেলে যাচ্ছে শেষ চিহ্ন
অশ্রু ও হাসি মিশে যাচ্ছে স্বচ্ছ ও ঘোলা জলের ভেতর
প্রবাসী জানে- পরিবারের বাইরে পৃথিবী এক গোরস্থান।
 
 
 
 
 
মায়ের শুশ্রূষা
 
বাবাকে ধানগাছ, মাকে ধান বলে জানতাম, বাবা সবুজ হয়ে উঠলে মুখে হাসি ফুটত
বুঝতাম আলো ভরে ঘরে আসছে মা
মা উঠানে এলে,
ভাতের মতো ফর্সা হতো বাড়ি
মায়ের কোলে বসে চাঁদকে মনে হতো
থালা ভর্তি ভাত
ক্ষুধায় অসুস্থ হয়ে জেনেছি, ভাত মানুষের প্রধান শুশ্রূষা।
 
 
 
 
জলবায়ু পরিবর্তন
 
হাওয়ায় নুন বেশি হলে ঠোঁটে ফুটে না আর কোনো ভাষা,
সারি বা ভাটিয়ালি মানুষের ভাষা থেকে লুপ্ত হয়ে গেছে
রাতের মথ ভুলে গেছে জারির আসর,
কদম গাছটা আছে, কৃষ্ণ হারিয়ে গেছে অজানায়
কিছু বাকী নেই, ওবাড়ি থেকে এবাড়িতে আসা তরকারির গন্ধটুকু ছাড়া!
 
 
 
 
 
ইরিন
 
বিছানায় পীঠ ঠেকার আগে তিনবার পাঠ করি ইরিন ইরিন ইরিন
তারপর ধ্যান করি তাবৎ সমূহ সুন্দর
একটি নামের ভেতর সেটে গেছে সমস্ত পৃথিবী
ইরিন সকল কাজের দোয়া অথবা একটি বেহেস্তখানা
যাকে আবিষ্কার করেছি শৈশবের মক্তবে
একশো পূণ্যে কিনেছি একটি মাত্র পাপ
তাহাজ্জুদে দাঁড়ালে ইরিনকে দেখি, ইরিন আমাকে দেখে?
 
 
 
 
 
পরিস্থিতি
 
ফুল একটি বুর্জোয়া শব্দ, বউ ভালোবাসে ঘামকে
ফুল, ঘাম দুটোর গন্ধই সুক্ষ্ম অথচ তীব্র,
ঘরটা ছোটো, ফুলের গন্ধ আসে না, ঘামের গন্ধ দীর্ঘকালীন
ঘামের গন্ধে কেনা হাসি, ঠাণ্ডা কুয়াশায় তুলে রাখি।
 
 
 
 

One thought on “ঠিকানা অনন্ত জংশন ও চারটি কবিতা । আবু তাহের

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত