| 19 জুন 2024
Categories
কবিতা সাহিত্য

তমা সিরিজের চারটি কবিতা (পর্ব-৩) । সাজ্জাদ সাঈফ

আনুমানিক পঠনকাল: 2 মিনিট

০৯.

তোমাকে দেখি আর তিতিরের গলা নামে খুদের ওপর!

তোমাকে টোল পড়া দেখি, ফটো হয়ে চুপ করে আছো,

কতোদিন সাঁকোর ওপর।

 

আর, ঢেকে আছে ধুলার বাগান মেঘের মাথালে, ঢেকে আছে অটোরিক্সার গ্লাস!

তোমাকে একবার দেখি, উড়ে যায় তুলার ফড়িং-

 

আমার যেদিকে ঘর, বিশ্বাসে ঢেকির আওয়াজ

সেইদিকে গানের বাঁধন হতে, স্রোত লেগে চিরচেনা নৌকার কাঠে কত না বুদবুদ হলো মন; তোমাকে হাওয়ার হিজাবে দেখি, ধোয়া ওড়ে মাঠের দিকে।

 

যেন-বা হেমন্ত এক টানটান কাজলের ধ্বনি

তোমার চোখে!

 

১০.

চোখের সামনে সরাইখানার ভিড়

চোখের সামনে গ্লাস উপচানো রাত

তুমি বলে গেছো, চলে গেছো, তবু থির

এমন ভিড়েও মাথা হতে হাসো নির্ঘাত!

 

তোমার ফোয়ারা পানিহীন নদে উজ্জ্বল

চোখের সামনে তুমি নাই তবু ঢেউ ছল

মাথা চিবিয়ে সমান করে দেয় দুই পার

আজকে তাহলে নাই কিছুতেই নিস্তার!

 


আরো পড়ুন: দেবারতি মিত্রের একগুচ্ছ কবিতা


১১.

এখানে আমিও লিলিপুট দেখো

 

উদাত্ত গ্রীষ্মের দেশে, দেখা ও ছোঁয়া নেই

আজকাল আমাদের!

 

কফিনে শোয়ালে তুমি

দেখে যাবে কবির সুরত?

 

হয়তো বৃষ্টিতে কাদাপথ চারধারে, হয়তোবাজ পড়ে সর্ষে দেখবে, বিষন্ন যুবক চোখে;

কেউ বুকে ড্রপ দেয়া ঢেউ-

 

কারো থাকে মিথ্যা মায়া

ভুড়ি ছুঁয়ে মনে মনে কেউ

পাল্টাবে নিজের ছায়া!

 

সেইদিন, ফণিমনসার ধারে

ভূগোল বাজাবে নাকি ক্ষুধাতুর মানুষের গান?

হয়তো রোদে বসা কাক, শক খেয়ে

ঝুলবে তারে, আর, ভিড় ঠেলে হাঁটে যানজট-ধূলা:

 

এতো দৃশ্যের ধ্বনি শুনবো না আর?

 

কার কি-যে চিঠি এসে তাপিয়ে গিয়েছে রোদ

হুডখোলা স্মৃতির টেবিলে, অতোখানি প্রেম তুমি

দু’হাতে ছিঁড়েছো তমা, মনে পড়ে কিনা?

 

 

১২.

সেই যে পাইপ ঠেকিয়ে মুখে, বুদবুদ ওড়ানো খেলা আমাদের

ফেণা ও তরলের গতিসূত্রে যেটুকু বেমানান ছিলো প্রেমে

তুমি ঠিক সেই আলোতেই ফটোগ্রাফ, দেয়ালে-

 

কাগজের ভাঁজ অনুপাতে ভ্রু কুঞ্চিত

দু’চোখে গোলাপ, জল ছেটানো;

রাখবো না কিছুতেই আড়িপাতা ঘুম নাগালে কোথাও

জেগে থাক ঘুঘুডাক, পাখার মলাট!

 

নড়াচড়া ছেড়ে স্থির ফুলে অভিহিত হও

তহবিলও হতে পারো মেঘ জমা দেবো।

 

 

 

 

 

 

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত