| 1 মার্চ 2024
Categories
কবিতা সাহিত্য

রাজার কাছে কবির চিঠি (শেষ পর্ব) । সাজ্জাদ সাঈফ

আনুমানিক পঠনকাল: 7 মিনিট

পুড়ে গেছে হাড়

 

তুমি হেলদোল নও, এরদোগান

 

 

বসন্তে শেলের আঘাতসহ 

পুড়ে গেছে হাড়, উহুদ পাহাড়

ডাকে ঘুমে দুঃস্বপ্ন, মানুষের বিদিক রচনা!

 

 

যে লেখা ঘামের ফোটায় ভেজা নয়

তাজা নয় ককটেলে, সব ক্ষয় তার বুকে

বংশবৃদ্ধি ঘটাক!

 

 

 

Burnt bones

 

You are not that meaningless, Erdogan!


With shell injuries in the spring

Bones have been burned down, Mount Uhud has been too-

Nightmare is calling in sleep 

No meanings are set by the writers, here.

 

The writing that is not wet with sweat, not fresh like cocktail

may all the reproductions of decay occur in it’s chest.

 

 

 

 

 

চলুন প্রধানমন্ত্রী

 

অনেকদিন হয়ে গেলো আমরা মেঝেতে চট পেতে

ভাত খেতে বসতেছি না

 

আর মগডাল হতে টসটসে লেবু একটানে সরকি দিয়ে টেনে

নামিয়ে আনছে না কেউ পাতে;

 

আসুন প্রধানমন্ত্রী আমরা চটে বসে লাঞ্চ করি আজ!

 

বহুদিন ব্যাকফুটে এসে অন্তর এক টিকিট কাউন্টার

বুক ভরা দম নিয়ে, ট্রাভেলিং ব্যাগ নিয়ে

যে কোন অতীত বাসে উঠে যাবো আজ;

বহুদিন দাড়িয়াবান্ধা ছেড়ে আমাদের জল ঘোলা হলো

জল ছেড়ে মাঝির ছাওয়াল কায়ক্লেশে চৌধুরী হলো;

এতোসব গ্লামার আমার , ভালোও লাগে না কেনো?

 

চলুন হে মাননীয়া, গ্রামঘরে হারিকেন জ্বালিয়ে

এক দান লুডু খেলে আসি!

 

 

 

 

Let’s go dear Prime Minister

 

It’s been a long time since we got a sack on the floor

and we nobody are sitting down to eat rice-

 

And from the highest branch of lemon tree, pulling the lemon with a fork like stick 

no one is bringing down it to serve lemon on plates.

Let’s have lunch together sitting on a sack, Prime Minister! 

 

For a long time coming backfoot, heart is the ticket counter

With a full breath, with a travelling bag

I’ll get on any past bus today;

 

After leaving childhood game for a long time, our water became muddy and 

Leaving the water, the boatman’s boy turned to Chowdhury like aristrocrat one.

I have not so much interest for glamor and don’t know why;

 

Let’s turn on the hurricane lights in the village then

Come on Dear Prime Minister, let’s play a ludu game. 

 

 

 


আরো পড়ুন: রাজার কাছে কবির চিঠি (পর্ব-১)


 

 

সাঁকো ভিজিয়ে

 

আর আসে গান, অডিটরি;

আসে ফিউশন, বাউলবর্ণ

 

আমাদের শাখাগুলি দোল খায়।

পাখাগুলি কল্পনায় আরো বিস্তারিত।

একটা সাঁকো ভিজিয়ে বৃষ্টি নামে, একটা

পাথার, আমাদের জন্য সারি সারি মিছিল

অপেক্ষা করে আছে!

 

 

 

keeping the bridge wet

And the song comes here, as the auditory perception;

Fusion comes as the baul harmony-

 

Our branches are swing.

The wings are detailed in our imaginations.

A bridge is being wet in rain, like a far sea, number of processions are waiting for us!

 

 

 

 

হাসপাতাল

 

দুঃখের করিডোরগুলা থাকে হাসপাতালে 

তোমার কবর ঝুঁকে যাচ্ছে ঝড়ে, যেভাবে

নিজের দিকে চেয়ে তুমি ছিলে উন্নাসিক

ছিলে ক্ষমতাবান, পেশীবহুল;

 

দুঃখগুলা হাসপাতালে কাঁদে, বুক বাঁধে 

যার নাই শোকের তাড়না চোখে, যার প্রেম সন্দেহ চাষ করে কাঁদে;

সকলের থাকে ঝড় একান্ত নির্জন, ছাতিমের নিচে গান

প্রশস্ত উদ্যান বুকে, খেলা করে অবচেতনে

সবার স্বপ্ন থাকে, তার বেশি দুঃস্বপ্নে গিয়ে

কলার চেপে ধরছে পুলিশ, অপঘাত, যেনো চশমার গ্লাস

ঘোলা হয়ে গিয়ে ইতিহাস দেখতে পাচ্ছো না পরিস্কার!

 

এতসব জেনে নেয় হাসপাতাল

করিডোরে নৈরিৎ পায়চারি!

 

 

 

Hospital

 

There are sadnesses sorrounding the corridors in the hospital.

Your grave is swaying in the storm, the way you were arrogant towards yourself

were strong, muscular;

 

The mourners cry in the hospital, they tie chests with hope

Who has no grief in his eyes, whose love is  cultivating doubt, everyone has a storm

Very lonely, song under the canopy

Spacious garden is beneath the chest, playing subconsciously.

Everyone has dreams, even more nightmares show

the police are holding the collar, accident, likely glasses

are not clean and you can’t see the history 

Clearly!

 

The hospital knows all this and walks towards southern west in the corridor! 

 

 

 

 

আম্মা

একটা আগুনবলয়ে থমকে রয়েছি মা
আমরা একটা মুখোশধর্মে থিতু

এইখানে বসে থেকে দেখি আমাদের দেশ ভুলে গেছে
সবুজ গালিচা, ভুলে গেছে স্বপ্নের উদ্যান।

আমরা শিক্ষিত কুকুর লেলিয়ে দিয়ে বেঁচে আছি আম্মা
আমরা শিক্ষিত নেকড়ের মতো খাঁমচে ধরেছি মানচিত্র

যেনো এক সরাইখানা গমগম করে সন্ধ্যায়
আর সমস্ত দেশাত্মবোধ সেখানে নিশ্চুপ।
যেনো মিঠা নদী ভুলে গেছে তার ঢল।

বলে আয়না আমাকে ডাকে, যেন এক প্রাচীণ ভাষার ঝর্ণা;
এইদিকে গেঁথে গেছে মেঘ বুকে, এই রাত অতন্দ্র সৈনিক?

বহুদূর, দিঘার কিনার ঘেঁষে, নাটমন্দির; সে চায় চিরল বাতাসে ডানা, জোয়ার বালুকা ঢাকে; যেন ডাকে পূর্ণচন্দ্র জ্ঞান, যেন তুমি পাঠ নিতে বহুদূর, সোমপুর;

যেন ভোর নিজেই প্রতিমা ছিলো, চর্যার অক্ষরে নীল!
নিজেই বয়েছে পিঠে, মাহিসওয়ার!

পথ মানে ধূলির সহিত কাঁধ
একসাথে নালন্দা বহুমুখে
পৃথিবীর ধ্বনি জুড়ে পুস্তকপাঠ
সুদৃশ্য করছে মিথ

হাতঘড়ি, থেমে গেছে সে কবে, রাষ্ট্র কাটছে পোকা; নাগরিক মানে বোকা, নাগরিক মানে দরদ উথলানো কান্নার প্র্যাক্টিস!

আমরা এখন শিক্ষিত শুয়োরে ভরে গেছি আম্মা!

 

 

 

 

Mother

We are stopped here inside a fire circle, mom.
We are stable here covered by a mask.
Sitting here, I see that our country has forgotten her
green carpet, forgotten the garden of dreams.

We live with educated dogs, mother.
We clutched the map like educated wolves

It’s like an inn is buzzing in the evening.
And all patriotism is silent there.
As if the sweet river has forgotten its slope.

This is what the mirror calls me, like a fountain of ancient language; The clouds are built in the chest, is this night a vigilant soldier?

Far away, near the shores of Digha, may be there is a Natmandir that also wants the wings in the eternal wind, where tide covers the sand; As if the full moon is calling, as if you are far away to take lessons, in Sompur;

As if the dawn itself was an idol, blue in the letters of Charya!
It flows on its own back, like the historic man who came sitting on the back of a fish!

Path means shoulder with dust, together Nalanda is versatile. Reading books all over the sound of the world is making the myth colourful.

Wrist watch, that has been stopped for long days like the state is cutting insects; Citizen means fool, citizen means the practice of crying out of pity!

We are now full of educated pigs, mother!

 

 

বাক স্বাধীনতা 

দেশটা কড়কড়ে বাসি ভাত হবার অপেক্ষায় আমরা চুপ করে আছি, আমাদের পিছমোড়া বাঁধা ইচ্ছাশক্তির সামনে কতগুলা হাইরাইজ ঘরের লাইট জ্বলছে, স্বপ্নের ভিতর বুক ধড়ফড় করছে, গলা শুকিয়ে যাচ্ছে, আমার মেয়ের মুখ ভেসে উঠছে, মায়ের শাড়ির রং জ্বলে যাচ্ছে আড়াল কারো কান্নায়

 

দেশটা আমাদেরই সামনে স্লিপ খেতে খেতে টাল সামলাচ্ছে; আমাদের দোকানবাকির হিসাবে বৃষ্টি পড়ছে, বিশ্বাস ঝরে পড়ছে, ফটো উঠছে, ফটো নামছে নিউজপেপারে!

 

স্বাধীনতা উচ্চ স্বরে ডাকছে মিছিল, কেউ শুনছে না, কেউ না।

এমনকি পতাকা নিজেও পোষা কবুতর, হাততালি পেয়ে নামে, শিস পেয়ে ভাসমান!

 

ভিতরে বিষের ফণা, বুক পেতে ছোবল খাচ্ছে ইতিহাস, ভূত ভবিষ্যত; হাসতেছে দেশপ্রেম, বিদ্রূপে অট্টহাসি!

 

A freedom to speak 

We are silent waiting for the country to become stale rice, how many highrise house lights are burning in front of our will power tied behind our backs! our chests are pounding inside our dreams, our throats are getting dry, my daughter’s face is floating within my memory, the color of my mother’s sari is burning in someone’s cry! 

 

The country is struggling to slip in front of us; It’s raining on our pending bill papers in shop, faith is falling, photos are coming up, photos are coming down in the newspapers. 

 

Freedom is marching loudly, no one is listening, no one is taking care of freedom, even the flag itself is a pet pigeon flies after claps and come back hearing whistles!

 

Poisonous hood is here inside our hearts, history is being bitten in it’s chest, this time and future too; 

Our patriotism is laughing, laughing sarcastically.

 

কবি ও তাঁর কবিতা নিয়ে অগ্রজ কবি 

রবীন্দ্রনাথপুরষ্কারকবিতায় দেখিয়েছেন, রাজ দরবারে যাবার কথা বলাতে কবি কী ভীষণ প্রমাদ গুনেছিলেন। তবু বহু রাজ দরবারে কবি থাকার একটি প্রথা চালু ছিল। এমনকি যুগেও টেড হিউজ রাজকবির মর্যাদায় ভূষিত ছিলেন। তবে কিনা এসব ক্ষেত্রে রাজকবি রাজার গুনকীর্তন করেই পদ রচনা করেন, যেমনটা হীরক রাজার দেশে ছবিতে আমরা দেখেছি। আর যারা রাজাকে চোখে আঙুল দিয়ে কিছু দেখিয়ে দিতে চায়, তাদের সাহিত্যকর্ম এবং জীবনদর্শন সবই সম্পূর্ণ ভিন্নধারায় প্রবাহিত হয়ে থাকে। স্বভাবত কবি তার নিজ স্বপ্ন, জীবন পাওয়ানাপাওয়ার উল্লাস এবং আক্ষেপে তাঁর সৃজনকর্মে নিমগ্ন থাকেন। কিন্তু কালখণ্ডে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, তখন নির্মোহ থাকা প্রকৃত কবির পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠে না, অন্তত মানবিক মূল্যবোধে যিনি উচ্চতায় উন্নীত। তিনিই প্রকৃতার্থে সময়কে ধারণ করে কালোত্তীর্ণ হবার সুযোগ পেয়ে থাকেন। এরা যে রাজরোষেও পড়েন, তেমন নজিরও ভুরিভুরি। আমাদের যে কবির হৃদয়মায়ার মলাট’- আবৃতআকীর্ণ থাকে, যেকবি নেবে যীশুর যন্ত্রণা’, সেই কবি আমাদের প্রিয় সাজ্জাদ সাঈফবহুদিন ব্যাকফুটে এসেনিজস্ব ক্ষোভ ক্লেদ নিয়েভাষার সীবিচেতাঁর অসামান্য মেধা প্রতিভার নজির রেখে চলেছেন। তবে আজ কী এমন কারণ আমাদের কবিকে উচ্চকিত উচ্চকন্ঠ হতে উদ্যত করেছে? এই একবিংশ শতকের প্রথমাংশে আমরা যে অদ্ভুত মনুষ্য সমাজ কাঠামো আচরণ অবলোকন করছি এবং যে লুম্পেন পুঁজির কাছে দীর্ণ জীর্ণ হচ্ছি প্রতিদিন, প্রতিদিন দলিত মথিত হচ্ছে মানবতার সম্ভ্রম, সভ্যতার সৌকর্য; জাহেলি যুগের মতো, নিরন্ন মানুষ কেবল সংখ্যায় পরিণত, নারী শুধু ভোগ্য পণ্যে পর্যবসিত। এখন ক্ষমতা যেন শুধু রাজসভা, আর সকল নারীই আজ দ্রৌপদীর ছতরলুপ্ত রূপ। এমন দিনে কবি বাধ্য হন রাজার কাছে পত্র লিখতে। হয়তো, এই চিঠি রাজকর্ণকূহরে প্রবেশ করবে না, তবু যখন সকল শক্তিই পাণ্ডববৎ নতমস্তকস্থানু, তখন শুনুক আর না শুনুক বিকর্ণের মতো কবিকেই তুলতে হবে শোর, তেজোদ্দীপ্ত করতে হবে স্বর। আর আমরা তো প্রতিনিয়ত দেখি——“রাষ্ট্রকে জড়িয়ে ধরেছে রোদ / রক্ত শুকিয়ে কটকট করছে / সমস্ত ইনজুরি!” কিন্তু মূক সমাজের আচরণ কবির ভাষায়——“এই যে অনন্তনাগ এই সমাজ / চূর্ণ রোদের মতো নদীর পানি বৃদ্ধির / দিকে চেয়ে আছে আমাদের এই চেয়ে থাকা যেন কালান্তরের যুগান্তরের কাজ। আমরা টের পাই, এই অনন্ত যন্ত্রণা যাপনের শেষ আশ্রয় হাসপাতাল। আর সেই হাসপাতালেই কবি সাজ্জাদ সাঈফ অবলোকন করেন ——“দুঃখগুলা হাসপাতালে কাঁদে, বুক বাঁধে / যার নাই শোকের তাড়না চোখে, যার প্রেম / সন্দেহ চাষ করে, সকলের থাকে ঝড় / একান্ত নির্জন,” এমন গভীর যার উপলব্ধি, তিনি নিশ্চয় চিঠি লিখবেন রাজাকে, তিনি নিশ্চয় সামিল হবেনধর্ষণ বিরোধী মিছিল’-এ। আর আমরা শুনতে পাই যেন মেঘমন্দ্র স্বর——“পৃথিবীতে শুধু মৃত্যুর গল্প / লিখছে বাতাস, ব্যর্থ মিছিল;” কিংবাএকটা সেপ্টেম্বর পেরিয়ে যেতে যেতে লজ্জায় ভারী হয়ে উঠছে অক্টোবর তাই কবির পত্রে উচ্চারিত হয়——“আমাদের গন্তব্যের দিক থেকে পাহাড়ী ঝর্ণাধ্বনি আসে, / বাংলাদেশ সেই পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে সূর্য হাতড়ায় তাই হয়তো একসময় কবি তার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেন——“রাষ্ট্র ঘিরে শুধু অনাবিল হাওয়া বয়ে যা এই অনাবিল হাওয়ার আকাঙ্ক্ষা হয়তো একসময় এমন তীব্রতা লাভ করে যে, কবি রূপকের আশ্রয় ছেড়ে, সরাসরি সুস্পষ্ট ভাষায় প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে উচ্চারণ করেন তাঁর পংক্তি। হয়তো প্রধানমন্ত্রীর কাছে শ্বাশ্বত বাংলার জীবনাচরণ তিনি তুলে ধরতে চান একটি ভিন্ন ভাষাভঙ্গিতে——“আসুন প্রধানমন্ত্রী আমরা চটে বসে লাঞ্চ করি আজ!” কিংবাচলুন হে মাননীয়া, গ্রামঘরে হারিকেন জ্বালিয়ে / এক দান লুডু খেলে আসি!” যেমনটাই হোক না এই কবিতাগুলোর প্রকাশভঙ্গি ভাষা, সবগুলোর ভেতরেই সাজ্জাদ সাঈফের নিজস্ব ভঙ্গি স্বর গভীরে বহমান——কবির সার্থকতা হয়তো এখানেই।

কবি জিললুর রহমান

One thought on “রাজার কাছে কবির চিঠি (শেষ পর্ব) । সাজ্জাদ সাঈফ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত