কবিতাগুচ্ছ

Reading Time: 3 minutes   আর্তি ……………….. দেখা হলো কই কাকচক্ষু কালীদহ ধর্ম সাগরের নীল জলে তার ছায়া দেখা হলো কই পরিণত অর্পিতার মুখ? তুমুল হাওয়া এসে এলোমেলো করে মেঘচুল নীল আঁচল তার আকাশী নীলের সাথে সই সই খেলে। কতো অনিন্দ্য দৃশ্য মিশে গেলো গোমতীর জলে দেখা হলো কই?   মধ্যরাত …………………… তার চোখে ঘুমের নীল সামিয়ানা। নাকফুল খুব কাছাকাছি দেখে ঠোঁটের স্বাদ পেতে নিজেকে আগ্রহী করতেই স্বপ্নের প্রজাপতি ডানা মেলে ওড়ে। ফ্যান মৃদু পায়ে হাঁটতে হাঁটতে হাসে নীল আলো হাসতে হাসতে পথ চলে নিরদ্বিগ্ন। সে বড় বিষন্ন হয় এক মাঝ রাতে।   অন্তর্গত ………………………………. ক. যদি ত্রি-ভূবন নারায়ণ চক্রে কেটে ফেলি ফালিফালি মাটি, মানুষ, রংধনুর সাত রং মিলে মিশে অন্য অবয়ব হবে নূতন মন্ডে হবে অদ্ভুত কোলাজ যুগল ভ্রুতে লেপটানো বিদ্রুপ দুই হাতে চটকে চটকে প্রশংসার শ্বেতপদ্ম আকাশে উড়ালে জানি তুমি হবে ঝরনার জল।   খ. জলের গভীর থেকে পদ্মের শিকড় তুলে ঘ্রাণের মহল গড়ি দিন রাত্রি, সারা শরীরে মেখে চন্দনের তীব্র আলোড়ন তীব্র গন্ধ প্রানবায়ু বাতাসে মিলায়।   গ. বুকের গভীরে তার ভুল আয়োজন বেহালার ছড়ে ওঠে রাত্রির ঢেউ, কেটে ছিড়ে ধাবমান আরাধ্য ক্ষণ রাত্রির পিছে ধায় সূর্যের ফেউ। ঘ. জিহ্বায় তীক্ষ্ন তীর বিধে থাকে আপাদমস্তক বিষ তার প্রভাব ছড়ায় সবেগে আকাশের ঘন নীলে চিলের চঞ্চু ঠোকরায় রাতের শরীরে শ্বেতচন্দনের প্রলেপ ঘুম ঘুম আবেশ ছড়ায়।   ঙ. অবিন্যস্ত ঠোঁট, চোখের অতলে ধ্বংস স্তুপ বারুদের উড়াউড়ি মস্তকের প্রাচীন ফসিলে শব্দহীন কান্নাহীন রাত্রির শরীরে বিবমিষা।   চ. বৃত্ত ভাঙ্গার আয়োজন হলে চোখের জল বিধে মন ও মেধায় তীব্র শব্দের কারুকাজ এক পেশে ক্ষীপ্রতায় আক্রমণ করে। কবিতাকর্মী ঠোঁটের বর্ম মেলে সামনে এগোন। উপবনে রাত্রি ……………………………….. গোল চাঁদ টুকরো টুকরো করে কাঁটা চামচেতে গেঁথে ঠোঁটে ঠোঁটে ফেরী করে চলি গাছ ছুটে, পাহাড় পর্র্বত মাতাল সমুদ্রের মুখোমুখি রাত্রির নিরব প্রহর। উড়তে উড়তে এ জঙ্গলের ধ্যানমগ্ন চৌকাঠে মণিষার মুখ হাসে কাঁদে। বিষন্নতার ঠান্ডা জোৎস্নায় উপবনের রাত্রি মাতাল হয়ে যায়।   ক্যানভাস …………………………… চায়ের সবুজ বর্ণে ঝিঁঝিঁদের কলতান ভাসে পাখিরা বিদ্রুপ ছুঁড়ে আকাশের নীলে জীবনের অন্ধকার ক্যানভাসে মানুষেরা ছবি আঁকে মৃত মৎস্যের। চোখ ……………….. মৎস্যের আত্মায় বাঁশী বাজে উত্তাল তরঙ্গে ফুল ফোটে অকস্মাৎ শব্দের কারুকাজে ম্রিয়মান হয় জলভূমি। খন্ড চিত্রাবলী …………………………………. বর্ণে গন্ধে তুমুল ভোজের মহড়া পত্র পুস্পে পল্লবিত ঘৃনার আকাশ আলোতে বিপর্যস্ত চোখ থেকে ছুঁড়ে ফেলি অচিন কুহক আলপথে সর্পের পদযাত্রা দিক চিহ্ন হীন। শালিকের চোখ থেকে ছিড়ে আনা ভালোবাসার অমিত প্রলাপ ছুড়ে দেই নদীর শরীরে ভুলের মাশুল গুনি এক দুই তিন রাত্রির শরীর থেকে ক্ষয়ে যায় আধারের বুনোট চাদর- ঘুম কই? নির্বাসনে গেছে।  

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

You may use these HTML tags and attributes:

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>