কল্প প্রেমিক

গল্পটির নাম পড়েই গল্পের আভাস পেয়েছেন নিশ্চই।ধরে নেওয়া যাক আমার একজন প্রেমিক আছে।আচ্ছা বলুন তো তার কি নাম দেওয়া যায়? খুব মুস্কিলে পড়ি এই নাম বাছতে, জুতসই নাম কিছুতেই দিতে পারি না। থাকনা নাম না হয় নাইবা  দিলাম, কোনো কোনো সম্পর্কের তো নাম হয় না, এও ধরুন তেমন নাম না জানা প্রেমিক। এবার তাঁকে নিয়ে গল্প শুরু করা যাক।
আজ সারাদিন সে আমার সাথে ছিল। সকালে অনেক্ষন ঘুমিয়েছিলাম সে এসে মৃদু স্বরে ডেকে বললো কি গো ওঠো অনেক বেলা হলো যে বলে আমার কপালে চুমু এঁকে দিলো। আমি এলো চুল কপাল থেকে সরিয়ে তার দিকে গাঢ় চোখে চেয়ে রইলাম, দেখি সে আমার জন্য এক কাপ চা নিয়ে এসেছে, আমরা দুজনে সে চা ভাগ করে খেলাম। সে তার কথা বলতে থাকলো আমি বললাম আজ তোমার জন্য রান্না করবো, আমার খুব ইচ্ছা হয়েছে তোমাকে আজ নিজে হাতে রান্না করে খাওয়াবো! সে বললো আচ্ছা বেশ, চলো তোমাকে সাহায্য করি। আমি খুব যত্ন করে তার জন্য মাংস , চাটনি, মিক্সড ফ্রাইড রাইস রান্না করে প্লেটে বাটিতে সাজিয়ে তার সামনে দিলাম। সে টেবিলে বসে আমাকে কাছে আসতে বলে প্রথম চামচ আমার মুখে দিয়ে বললো ‘এবার দাও আমায় খাইয়ে’। আমি তাঁকে খাইয়ে দিতে দিতে তার চোখে তৃপ্তির ঝলক দেখলাম। সে হঠাৎ বললো আজ তুমি যা চাইবে তাই হবে , বলো কি চাও? আমি বললাম চলো আজ তবে হারিয়ে যাই কিছু সময়ের জন্য যেখানে তুমি আর আমি আর কেউ থাকবে না।থাকবে না সংসার , থাকবে না টিভি, থাকবে না ফোন। দুজনে বেরিয়ে পড়লাম। প্রথমে সে গাড়ি চালালো আমি পেছনে বসে তাঁকে দুহাতে জড়িয়ে ধরলাম। কিছুদূর যেতেই বললাম ওই যে দূরে মাঠে সোনালী ধান, ওখান থেকে এক ছড়া ধান চাই আমার। সে গাড়ি থামিয়ে আমাকে দুহাত ভোরে ধান এনে দিলো। আর ও কিছুটা গিয়ে বললাম ওই যে ওখানে পুকুরপাড়ে কলমি ফুল ফুটেছে এনে দাও না আমার মাথায় গুঁজে। সে কিছুটা জলে নেমে কলমি ফুল এনে মাথায় গুঁজে বললো কলমি লতায় কি গোলাপ ফোটে গো! আমি বললাম গোলাপ তো চাইনি আমি! এবার আমি গাড়ি চালাবো তুমি আমাকে জড়িয়ে পেছনে বসবে। সে আমার কোমর জড়িয়ে বসলো, কানে কানে ফিস ফিস করে গাইলো-
” আমায় একটু আড়াল দেবে কি লুকোবো, ভিজতে ভিজতে আমার এ চোখ শুকবো। “
আমি বললাম বৃষ্টি এলে বেশ হয় তোমায় ওড়নার আড়াল দেব তুমি লুকোবে আমার বুকে। কিছুদূর গিয়ে আমি বললাম এই পথে নয় আমি নদীর পথে যাবো , সেখানে মাটির ভাঁড়ে  চা খাবো , শুধু চা। পথ বদলে আমরা নদীর কিনারে একটি ছোট্ট খুপরি দোকানের বেঞ্চে বসে পশ্চিম আকাশে সূর্য নদীর জলে স্নান করতে দেখলাম। সে দুই ভাঁড় চা নিয়ে এলো, প্রথমে এক চুমুক দিয়ে সেই এঁঠো চা আমার দিকে এগিয়ে দিলো, আমি চায়ে চুমুক দিলাম, সে বললো এবার আমার চা আমাকে দাও! সে আমার এঁঠো চা চোখ বুজে চুমুক দিয়ে বললো অমৃত কি এর থেকেও মিষ্টি! আমি মৃদু হেসে বললাম তুমি ছুঁয়ে দিয়েছো যা সে তো অমৃতই। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলো নদীর পারে , এবার সে বললো চলো ফেরা যাক,এমন সন্ধ্যায় এই জায়গা থাকা ঠিক নয়।আমরা ফিরতে থাকলাম, মাঠের গরু ঘরে ফিরছে সোনালী আলো মেখে, রাজহংস ডেকে ডেকে কোমর দুলিয়ে সার বেঁধে ঘরমুখী। আমি বললাম আমার একটি হংস চাই, সে হেসে বললো তুমিই যে আমার রাজহংস। এবার সে গাড়ি চালালো, অন্ধকার রাস্তায় আমি তার পিঠে মাথা রেখে ফিরে এলাম ঘরে। ঘরে ফিরে বললাম তুমি কি ক্লান্ত ? সে বললো না এসো গল্প করি। তার মনে কত গল্প জমা থাকে, তার জীবনের ছোট ছোট ঘটনা একের পরে এক বলতে থাকে। আমি আবদার করলাম চলো ঘরে বসে গল্প নয় ছাদে গিয়ে মাদুর পেতে খোলা আকাশের নীচে জোৎস্না গায়ে মেখে আমরা গল্প করবো। তুমি বলবে আমি শুনবো! আমরা দুটিতে মিলে জোৎস্নায় স্নান করলাম, আমার হালকা মাথা যন্ত্রনা করছিলো সে আমার কপালে হাত বুলোতে বুলোতে চুমু দিয়ে বললো আগুন যদি পাশে থাকে মোম কি জ্বলে ওঠে না! আমি  মোমকে আরও জ্বালিয়ে দিলাম,মোমের অস্তিত্ব জ্বলনে মিশে গেলো, শেষে ক্লান্ত হয়ে চোখে চাঁদ নিয়ে শুয়ে রইলাম পাশাপাশি।
আমার খুব কষ্ট হতে থাকলো, অজানা যন্ত্রনায় আমার চোখ ভিজে যেতে থাকলো। সে আমাকে আদর করতে গিয়ে বললো একি তুমি কাঁদছো কেন? আজ সারাদিনে তুমি যা চেয়েছো তাই তো করেছি।আমি তাঁকে জড়িয়ে, তার ভেতর মিশে গিয়ে বললাম আমার যে খুব ভয় করছে গো! সে বললো কেন হঠাৎ ভয় কেন? আমি বললাম এখন রাত তিনটে বাজে, আর কিছু সময় পর ভোরের আলো ফুটবে, তখন যদি তোমাকে আমি হারিয়ে ফেলি! যদি সংসার আমাকে, তোমাকে টেনে নিয়ে যায় যার যার নিজের জায়গায়! যদি আমরা বাস্তব হয়ে উঠি! যদি হঠাৎ তোমায় হারিয়ে ফেলি! যদি হঠাৎ তোমাকে খুঁজে না পাই! এই ভোর হতে দিও না! এসো আমরা আজীবন কল্পনায় বেঁচে থাকি! সে এইবার নিরুত্তর রইলো, তার ও চোখে জল।সূর্য বুঝি পুব আকাশে উঁকি দিলো !

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত