কুলিকের কাছে কিছুক্ষণ

অরন্যে একা হতে ইচ্ছে হয়। পাখির মত একাকী ডানা মেলে নিঃস্ব যাপন। পাশেই শুয়ে আছে শান্ত নদীটি। অনন্ত সবুজ বুকে নিয়ে। পর্ণমোচী চিরহরিৎ বিছিয়ে দিয়েছে তার আদিম শয্যা। না জানি কত মায়া কুহকে কেটেছে অরণ্যের রাজার রাত্রদিন।

দোবরু পান্নারা জানে উত্তরাধিকার কত দন্ড! শুধু, নদীর কোন জন্মান্তর নেই। বয়ে চলেছে অনাদিকাল সাক্ষী হয়ে এক আবাদপ্রান্তরের গল্প নিয়ে। এ গল্পের নায়ক নেই নায়িকা নেই যারা দৃশ্যকল্প নিয়ে বিভাজিত। সভ্যতা আছে, আছে দিনরাত্রির ইতিকথা। তার পাশে পাশে জন্মেছে শুধু মায়ার আস্তরণ । অথচ যযাতির অভিশাপ নিয়ে নদী  সহস্রাব্দ বয়ে চলেছে স্থির ভাবে একক থেকে। রুপান্তরে নেই দৃশ্যান্তরে থেকে গেছে ঋতুজ সম্ভার। গ্লানিহীন অলস গমন।


এই একায়নের পাশে বর্ণহীনা হতে বিশ্বাস জাগে। খুলে ফেলতে ইচ্ছা হয় বসন আনুষঙ্গিক যাবতীয় অহং। কাঙ্গাল আমায়, কাঙ্গাল করেছ আরো, অন্তহীন আত্মসমর্পণের কাছে নিরন্তর এই আমি  বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে পথ রোধ করলে স্বামী জাগ্রত হন ধীরে! বোধ চেতনায় রাখেন আঙ্গুল! ফিকে হতে থাকে রোজের পরিচিত মুখ গুলি, সাদা কালো ছবির মত আবছা এক বহু চেনা বাড়ী। হাতছানি দিয়ে ডাকে অরন্যের পাখীরা। ফিরে যাই আলব্রাটসের ডানায় বসে দূর বহু দুর—ফিনিক্সের  শেষ গল্প টি শুনবার আশায়।

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত