ভাষা দিবসের প্রার্থনা

 

বড়প্রাচীন এই ভাষাসকল । কত ভাষার দেহ জুড়ে জুড়ে তৈরি। আমার শাশুড়ি ভোজপুরিতে বলতেন “কাপড়া পসার দো”। মানে কাপড় নেড়ে দাও। জানতাম না, পালি ভাষায় ও তাই বলা হতো, সেই জাতক গ্রন্থিত হবার সময় থেকে (অবশ্যই আরও আগে থেকে)। পসারেতি মানে “to stretch out”, “to spread out”. ধাঁ করে মাথায় এসে গেলো প্রসারিত।তাই তো!

পড়াশুনো শিকেয় তুলে দিয়েছ, যখন মা বলতো! জানতাম কি, সেই শিকে, সেই দড়িতে ঝোলানো পাত্র, ঋকবেদের সময়ের সংস্কৃততেও শিক্য নামে বহুল ব্যবহৃতছিল (অবশ্যই আরও আগে থেকে)। বেড়ালের ভাগ্যে শিকে ছিঁড়েছে বলি যখন, জানিই না কত প্রাচীন এই শব্দ ।

শাশুড়ি যখন বলতেন “ঊন লেকে আও”, ভাবতাম উলকে বুঝি ভুল উচ্চারণ করে বা দেশী উচ্চারণে তাই বলে। জানতামইনা, সংস্কৃতে ঊর্ণ, পালিতে উন্না, ভোজপুরিতে ঊন, সেই একই প্রাচীন শব্দ। বহুবহু বছরের আগের। সেই শিকারী-সংগ্রাহকদের সময়ের থেকে হয়তো এর উদ্ভব। যখন কার্পাস চাষ শুরু হয়নি। জামাকাপড় হয় গাছের ছাল নয় পশুর লোম থেকে বোনা।ঊর্ণনাভ মানে যার নাভিতে উল, সেই মাকড়শা। মাকড়শা তাই অনেক ধর্মে, সংস্কৃতিতে, আরলোককথায় বুননের দেবীও  বটেন।

এই সব শব্দ, আমাদের প্রাণের শব্দ। আমাদের আত্মায় শরীরে অঙ্গাঙ্গী!  এদের ভুলে গেলে ভুলে যাবো নিজেদেরই।উদ্ভিদ যে মাটি ভেদ ক’রে অভিকর্ষের উলটো দিকে প্রাণের নিয়মে বড় হয়, সেই তথ্য ভুলে যাবো, যদি শুধু tree আর plant বলতে থাকি।পৃথিবীর গোল হবার সত্য যে ভূগোলেই নিহিত আছে, তা জানবেনা আমাদের বাচ্চারা যদি শুধু জিওগ্রাফি বলা শেখে।

ঘর্ম বা ঘাম বলতে আমরা বাঙালিরা আজকের দিনে মূলতঃ স্বেদই  বুঝি। ভোজপুরীতে লোকে বলে “ঠণ্ড মেধুপকা ইয়ে ঘাম বড়া আচ্ছা লগ রহাহ্যায়” , মানে গরম । কি আশ্চর্য , ঋকবেদেঘর্ম অনুষ্ঠান খুব গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে অশ্বিনীকুমারদ্বয় কে খুব গরম দুধ নিবেদন করা হয়, এক বিশেষ প্রক্রিয়ায় খুব উচ্চ তাপ সৃষ্টি ক’রে। অর্থাৎ ঘর্ম মানে গরমই ছিল অতি প্রাচীন কাল থেকে।ঘর্ম আর গরম, একই ধ্বনি, একই অর্থ সেই কবে থেকে ।

তাই, সেইজন্যই – ফ্রেন্ড নয় বন্ধু, হট নয় গরম, ফিল করছি না অনুভব করছি। ভব কে আমার মধ্যে যে ভাবে পাচ্ছি, বা বাইরের হওয়া বাদে যেমন যেমন হয়ে উঠছি ->অনুভব । শুরু করি আবার আজ থেকে ।প্লিজ (এই রে )!দয়া ক’রে!আমরা আর আমাদের বাচ্চারাও, সব্বাই ।

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত