| 21 এপ্রিল 2024
Categories
জীবন যাপন

ভিড়ে জোড়া মাস্ক পড়ুন

আনুমানিক পঠনকাল: 2 মিনিট

সব ধরনের অফিস-কাছারি খুলে গেছে।  গণ-পরিবহণ ও চালু হয়েছে। ফলে রাস্তাঘাট লোকারণ্য। এখানেই সিঁদুরে মেঘ দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। কেননা, করোনা এখনও রয়ে গিয়েছে বহাল তবিয়তে। অথচ নভেল করোনাভাইরাস প্রতিরোধের প্রধান তিনটি হাতিয়ারের অন্যতম ফিজিক্যাল ডিস্ট্যান্সিংয়ের দফারফা হচ্ছে। এই অবস্থায় হাত ধোয়া ও মাস্ক ব্যবহারের মতো কোভিড ঠেকানোর বাকি দুই অস্ত্রে আরও বেশি করে শান দেওয়ার নিদান দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

বস্তুত, বাড়ির বাইরে মাস্ক খুলতেই নিষেধ করছেন সংক্রামক ব্যাধি বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, নিজেকে বাঁচাতে হলে মাস্কের ব্যবহারকে এখন জামা-কাপড়-জুতোর মতোই অপরিহার্য করতে হবে। নিজের সুরক্ষার স্বার্থে পথেঘাটে বেরোলে মাস্ক পরতেই হবে। বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের শিক্ষক-চিকিৎসক আশিস মান্নার কথায়, ‘কোভিড আদতে শ্বাসনালীর সংক্রমণ। মনে রাখা দরকার, শরীরের যে সব ফাঁক-ফোঁকর গলে এই সংক্রমণটা হয়, তার মধ্যে সবচেয়ে চওড়া হল নাক-মুখ। তাই এই রাস্তাটি পাকাপোক্ত ভাবে বন্ধ না-রাখলে করোনা ঠেকানো অসম্ভব।’

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পৃথিবীর কোনও দেশেই ৬০-৭০ দিনের বেশি কড়া লকডাউন চলে না পুরোদমে। এ মুলুকেও তা-ই। তার পরেও সংক্রমণ ছড়ানোর নিরিখে এ দেশের লোকজনের ঝুঁকি অনেক বেশি বহু দেশের চেয়ে। জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর সোশ্যাল মেডিসিন অ্যান্ড কমিউনিটি হেলথের অধ্যাপক রাজীব দাশগুপ্ত বলেন, ‘চিন থেকে শুরু করে ইতালি, স্পেন–সবাই লকডাউনের কড়াকড়ি তুলেছে ৬০-৭০ দিনের মাথায়। কিন্তু তত দিনে ওদের করোনা গ্রাফ আর ঊর্ধ্বগামী ছিল না। আমরা কিন্তু লকডাউন তুলেছি এমন একটা সময়ে যখন করোনা গ্রাফ চড়াইয়ের পথে এবং লেখচিত্রের শীর্ষবিন্দু ছুঁতে এখনও দেরি। ফলে রাস্তাঘাটে এক জনের থেকে অন্য জনের সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি।’ পই-পই করে সতর্ক থাকতে বলছেন তিনি।

মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অরিন্দম বিশ্বাসের কথায়, ‘বাজার-দোকান, বাস-ট্রাম কিংবা রাস্তাঘাটে ভিড় এড়ানো এখন মুশকিল। ফিজিক্যাল ডিস্ট্যান্সিং শূন্য। তাই চোখে চশমা ও নাক-মুখে একটির বদলে দু’টি সাধারণ মাস্ক পরতেই হবে সবাইকে। সঙ্গে রাখতে হবে স্যানিটাইজার। তা দিয়ে অথবা সাবান-জলে হাত না-ধুয়ে কোনও অবস্থাতেই নাকে-মুখে-চোখে বা মাস্কের সামনে হাত দেওয়া যাবে না। মনে রাখতে হবে, সামান্য একটি ভুলও করোনার কবলে পড়ার জন্য যথেষ্ট।’ তাঁর পরামর্শ, বাড়ির বাইরে আশপাশের যে কারও থেকেই যে\R রোগটা যে কেউ পেতে পারে, সেটা মাথায় রাখতে হবে। এই মানসিকতা নিয়ে চলাটাই আসল সাবধানতা। ভাইরাসটা থাকতে পারে মাথার চুলে কিংবা জামাতেও। তাই কোনও কিছুকেই নিরাপদ দেখতে নিষেধ করছেন তিনি।

 ভিড়ের মাঝে নিজের সুরক্ষা

* বাড়ি থেকে বেরোনোর সময়েই দু’টি সাধারণ মাস্ক এক সঙ্গে পরে নিন

* বাড়ির বাইরে হাত পরিষ্কার না করে নাকে-মুখে-চোখে এক বারও হাত দেবেন না

* ভিড়ে অবশ্যই চশমা (পাওয়ারড বা পাওয়ারলেস) পরে থাকুন

* সঙ্গে অবশ্যই অ্যালকোহলযুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখুন

* বাতানুকূল গণ-পরিবহণ এড়িয়ে চলুন। নিজস্ব বাহন সবচেয়ে সুরক্ষিত

* পারলে ফুলহাতা জামা/সালওয়ার/ব্লাউজ পরুন

* লম্বা চুল বেঁধে নিন, অলঙ্কার এড়িয়ে চলুন

* বাসে-ট্রামে মাথায় টুপি বা ডিজপোজেবল ক্যাপ পরুন

* সঙ্গে টিস্যু পেপার রাখুন। অনেক কিছু ধরতে কাজে লাগবে

* নগদ টাকা যথাসম্ভব কম ব্যবহার করুন। করলেও হ্যান্ড হাইজিন মানুন

* বাড়ি ঢোকার আগে হাত পরিষ্কার করুন

* জুতো খুলুন যথাসম্ভব বাড়ির বাইরের দিকে

* বাইরের জামাকাপড় ছেড়ে আগে সাবানজলে ডোবান

* ব্যাগ, পার্স, ওয়ালেট, বাক্স, চাবির পাশাপাশি মোবাইল ফোন, ট্যাবও স্যানিটাইজ করুন

* পরিষ্কার হাতে মাস্ক খুলে, ফের একবার হাত ধুয়ে নিন

* বেডরুমে ঢোকার আগে অবশ্যই স্নান করুন

* পরিপার্শ্ব সম্পর্কে নিঃসন্দেহ না-হয়ে মাস্ক খোলা একেবারেই নয়

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত