ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের এক মহানায়িকা

আমাদের সমাজের ইতিহাস লেখার দৃষ্টিভঙ্গি মূলত পুরুষতান্ত্রিক। পুরুষদেরকেই আমরা ইতিহাসের নায়ক বা খলনায়ক হিসেবে দেখে অভ্যস্ত। কিন্তু ইতিহাসের নানান বাঁকে নারীরাও রেখেছিলেন গৌরবোজ্জ্বল অবদান। এমনই এক মহীয়সী নারীর নাম লীলাবতী নাগ।

প্রতি বছর হাজারো নারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী নিয়ে বের হচ্ছে। দেশের সবচেয়ে বড় বিদ্যাপীঠের শিক্ষার্থী হিসেবে উচ্চতর জীবনদর্শন ও উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত এই নারীগণ দেশে ও বিদেশে নিজ নিজ ক্ষেত্রে যথেষ্ট অবদান রেখে চলছে। এই গৌরবময় ইতিহাসের সূচনা করেন লীলা রায়। তিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী, তাঁর হাত ধরেই ঢাবিতে নারী শিক্ষার সূচনা। ডাকসুর কেন্দ্রীয় সংগ্রহশালায় লীলা নাগের ছবিসহ এই গৌরবোজ্জ্বল তথ্যটির উল্লেখ আছে। শুধু এই একটি কারণেই নয়, তাঁর ঘটনাবহুল সংগ্রামী জীবনের কারণেই তিনি সর্বাধিক আলোচিত ও পরিচিত। তিনি একাধারে ছিলেন একজন সাংবাদিক, জনহিতৈষী ও রাজনৈতিক আন্দোলনে সক্রিয় ব্যক্তিত্ব, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে বিপ্লবী অগ্নিকন্যা, বাংলার নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ। তিনি উপমহাদেশ বিখ্যাত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর সহকারী হিসেবেও কাজ করেছেন। উপমহাদেশে বিখ্যাত আরেক বিপ্লবী অগ্নিকন্যা প্রীতিলতা এই লীলা নাগের কাছেই বিপ্লবী চেতনার দীক্ষা লাভ করেন।

এই মহীয়সী নারীর পৈত্রিক নিবাস বৃহত্তর সিলেটের মৌলভী বাজার জেলার রাজনগর উপজেলার পাঁচগাঁও ইউনিয়নের পাঁচগাঁও গ্রামে। তাঁর পরিবারবর্গ ছিলেন বৃহত্তর সিলেটের এক সংস্কৃতিমনা ও উচ্চ শিক্ষিত মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্য। লীলা রায় ১৯০০ সালের ২ অক্টোবর পিতার কর্মস্থল আসামের গোয়ালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা গিরীশচন্দ্র নাগ অসম সরকারের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেই সুবাধে চাকরি সূত্রে লীলা রায়ের পরিবার আসামের বাসিন্দা হয়। তাঁর মাতা কুঞ্জলতা নাগ ছিলেন সুগৃহিণী, তবে তিনিও ছিলেন স্বাদেশিকতার আন্দোলনে দীক্ষিত। মায়ের প্রভাবে তিনি ত্যাগ ও সংগ্রামের আদর্শকে জীবনের ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেন। তাঁর পরিবার প্রদত্ত তাঁর নাম ছিল শ্রীমতী লীলাবতী নাগ। তিনি বিপ্লবী অমিত রায়কে বিয়ের পর স্বামীর বংশ পদবি গ্রহণ করে তাঁর নাম হয় লীলা রায়। পরবর্তীতে লীলা রায় নামেই তিনি পরিচিত হয়ে ওঠেন।

১৯০৫ সালে আসামের দেওগড় বিদ্যালয়ে লীলার শিক্ষাজীবন শুরু হয়। সেখানে দু’বছর অধ্যয়নের পর ভর্তি হন কলকাতার ব্রাহ্ম গার্লস স্কুলে। ১৯১১ সালে তিনি ভর্তি হন ঢাকার ইডেন হাইস্কুলে। ১৯১৭ সালে সেখান থেকে কৃতিত্বের সাথে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে উচ্চ শিক্ষার জন্যে কলকাতার বেথুন কলেজে ভর্তি হন। পড়াশোনায় তার গভীর আগ্রহ ছিল। খেলাধুলাতেও উৎসাহ কম ছিল না। নিয়মিত টেনিস, ব্যাডমিন্টন ও হাডুডু খেলতেন লীলা। শিক্ষকদের কাছে বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী লীলা ছিলেন প্রিয় ছাত্রী।

শিক্ষা জীবন থেকেই তার মধ্যে বিপ্লবী চেতনার স্ফুরণ ঘটেছিল। কলেজে অধ্যয়নকালীন সময়ে বড়লাটের পত্নীকে নতজানু হয়ে অভিবাদন জানানোর প্রথা বাতিলের আন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ১৯১৯ সালে ২০ টাকা বৃত্তি পেয়ে আইএ পাশ করেন লীলা। এরপর ১৯২১ সালে বেথুন কলেজ থেকেই বি.এ পাশ করেন তিনি। পরীক্ষায় তিনি মেয়েদের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেন এবং ‘পদ্মাবতী’ স্বর্ণপদক লাভ করেন। একই বছর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিষয়ে এম.এ করার জন্যে ভর্তি হন।

তখনও ঢাবিতে সহশিক্ষার প্রচলন ছিল না। তার জেদ, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই পড়বেন। মেয়েরা কেন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পারবে না এই মর্মে লীলা চ্যান্সেলর (বাংলার গভর্ণর) ও ভাইস চ্যান্সেলরের সাথে দেখা করে নিজের কেস প্লীড করেন। তৎকালীন ভাইস চ্যান্সেলর পি জে হার্টজ লীলার মেধা ও আকাঙ্খা বিবেচনা করে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার বিশেষ অনুমতি প্রদান করেন। তার ভর্তি ক্রমিক নাম্বার ছিল ২৫। এভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সহশিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন তিনি।

অবশ্য লীলা একাই সেই সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিলেন না। সেই শিক্ষাবর্ষে (১৯২১-২২) ঢাবির অর্থনীতি বিভাগে বি.এ (সম্মান) প্রথম বর্ষে ভর্তি হন আরেকজন ছাত্রী, সুষমা সেনগুপ্ত। সুষমা ছিলেন সেই সময় ঢাবির আইনের অধ্যাপক ও জগন্নাথ হলের প্রথম প্রাধ্যক্ষ নরেশচন্দ্র সেনগুপ্তের মেয়ে। সুষমা সেনগুপ্তের নিজস্ব স্মৃতিচারণ থেকে জানা যায়,

আইএ পড়তে পড়তে আমার বিয়ে হয়ে গেলো। ঢাকায় ইউনিভার্সিটি হলো। বিএ পড়তে ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হলাম। সে বছর লীলাও এমএ ক্লাসে ভর্তি হলো। ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে আমরা দুজন প্রথম ছাত্রী। এক কমন রুমে বসতাম দুজন। ক্লাসে যাবার সময় অধ্যাপক আমাদের ডেকে নিয়ে যেতেন।

অর্থাৎ, প্রথম ছাত্রী হবার তকমা লীলা নাগ ও সুষমা সেনগুপ্ত দু’জনকেই দেয়া যায় বৈকি।

লীলা নাগ কর্মজীবনে মহিয়সী ছিলেন, বিপ্লবী হিসেবেও তিনি পরিচিত। অপরদিকে সুষমা সেনগুপ্ত একজন সাধারণ ছাত্রী ছিলেন। বি.এ পাশ করার পর তিনি আর পড়াশোনা করেছেন কিনা তাও জানা যায় না। তাই লীলা নাগ এককভাবে বারবার এসেছেন আলোচনায়, লাভ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রীর মর্যাদাও। বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাডমিশন রেজিস্টার থেকে এই তথ্য পাওয়া যায়। এরপরের তিন শিক্ষাবর্ষে আর কোনো ছাত্রী ভর্তি হয়নি। ১৯২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে তৃতীয় ছাত্রী হিসেবে ভর্তি হন ফজিলাতুন্নেসা। এরপর ১৯২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত ছাত্রীরা আসতে শুরু করেন। ১৯২১ থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত সর্বমোট ৭১১ জন ছাত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী থাকা অবস্থাতেই লীলা কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় ও ঋষি রামানন্দের সাহচর্য লাভ করেন। ১৯২৩ সালে তিনি ইংরেজীতে ২য় বিভাগে মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করেন। তিনিই ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম এমএ ডিগ্রীধারী। শিক্ষাজীবন শেষ করে লীলা নারী শিক্ষার প্রসার ও স্বদেশের স্বাধিকার আদায়ের আন্দোলনে ব্রতী হন। নারীদের অশিক্ষার অন্ধকার থেকে মুক্ত করার জন্য ১২ জন সংগ্রামী সঙ্গী নিয়ে তিনি গড়ে তোলেন ‘দীপালি সংঘ।’ এই সংঘের মাধ্যমে তিনি দীপালি স্কুল ও আরও ১২টি অবৈতনিক প্রাইমারি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। নারী শিক্ষা মন্দির ও শিক্ষাভবন নামেও দুটি স্কুল তিনি প্রতিষ্ঠা করেন। ঢাকায় তাঁর প্রতিষ্ঠিত স্কুল দীপালি-১ পরবর্তীতে নাম বদলে হয় কামরুন্নেসা গার্লস হাই স্কুল, আর নারী শিক্ষা মন্দির নাম হয় শেরে বাংলা বালিকা মহাবিদ্যালয়। এ ছাড়াও ঢাকার আরমানিটোলা বালিকা বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতাও তিনি ছিলেন। বিয়ের পর লীলা কলকাতায় চলে যান এবং সেখানেও বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এ ছাড়াও তিনি দীপালি ছাত্রী সংঘ ও মহিলা আত্মরক্ষা কেন্দ্রও গড়ে তোলেন। বিপ্লবী পুলিন দাসের নেতৃত্বে মেয়েরা এখানে অস্ত্র চালনা ও লাঠিখেলা শিখতেন।

দীপালি সংঘ তৈরির আগে থেকেই লীলা বিপ্লবীদের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়ে ছিলেন। ১৯২৮ সালে কলকাতা কংগ্রেস ও বাংলার অন্যান্য বিপ্লবী দলগুলো নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর চারপাশে সমবেত হতে থাকে। স্বামী অনিল রায় এবং লীলাও উপস্থিত হন সেখানে। নিখিল ভারত মহিলা সম্মেলনে বাংলার নারী আন্দোলনের ইতিহাস বলার সময় লীলা মঞ্চে ওঠেন। তাঁর বিপ্লবী জীবনের পথ এর মাধ্যমে প্রশস্ত হয়। নেতাজীর অনুরোধে তাঁর প্রকাশিত ইংরেজী সাপ্তাহিক ফরওয়ার্ড ব্লকের সম্পাদনার ভার নেন লীলা। পরবর্তী কয়েক বছরের মধ্যে দীপালি সংঘের বৈপ্লবিক পরিবর্তন হতে থাকে। দলে দলে মেয়েরা এর পতাকাতলে সমবেত হতে থাকে। অসম ও বাংলার বিভিন্ন স্থানে এর শাখা বিস্তৃত হতে থাকে। নারী সমাজের মুখপাত্র হিসেবে ‘জয়শ্রী’ নামে একটি পত্রিকাও বের করেন তিনি। ছাত্রীদের সুবিধার জন্য কলকাতায় একটি মহিলা হোস্টেল তৈরি করান তিনি। বিপ্লবী নেত্রী লীলা রায়ের কাছে দলের ছেলেরাও আসতেন নানা আলোচনার উন্মুখতা নিয়ে। প্রীতিলতার মতো সুপরিচিত নারী বিপ্লবীরাও এই দীপালি সংঘের মাধ্যমেই বিপ্লবের পাঠ নিয়েছিলেন লীলা রায়ের কাছ থেকে। দীপালি সংঘ ছাড়াও বিপ্লবী অনিল রায়ের শ্রীসংঘের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি।

১৯৩০ সালে সব বিপ্লবী দলের নেতাদের ইংরেজ সরকার একযোগে গ্রেফতার করা শুরু করলে অনিল রায়ও গ্রেফতার হন। ফলে শ্রীসংঘের দায়িত্ব পুরোটাই এসে পড়ে লীলার ওপর। শ্রীসংঘের সদস্যরা সশস্ত্র সংগ্রাম পরিচালনার জন্য অস্ত্র সংগ্রহ ও বোমা তৈরির কাজ করতেন। বোমার ফর্মুলা নিয়ে কাজ করতেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ছাত্র অনিল দাস ও শৈলেশ রায়। ১৯৩১ সালে বিপ্লবীদের কার্যকলাপ আরও জোরদার হয়। পরপর বেশ কিছু জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা জজ বিপ্লবীদের হাতে নিহত হন। এর মধ্যে কুমিল্লার জেলা জজ স্টিভেন্সের হত্যার সঙ্গে দু’জন তরুণী জড়িত থাকার সন্দেহে পুলিশ তৎপর হয়ে ওঠে। ১৯৩১ সালের ২০ ডিসেম্বর দীপালি সংঘের কাজ সেরে বাড়ি ফেরার পথে লীলা নাগকে গ্রেফতার করা হয়। ১৯৩১ সালের ২০ ডিসেম্বর থেকে ১৯৩৭ সালের ৭ অক্টোবর পর্যন্ত লীলা ঢাকা, রাজশাহী, সিউড়ী, মেদিনীপুর জেল ও হিজলী বন্দীশালায় আটক ছিলেন। ভারতবর্ষে বিনা বিচারে আটক হওয়া প্রথম নারী রাজবন্দী লীলা রায়। পরবর্তীতে আরও অনেকবার কারাভোগ করতে হয় তাকে।

জেল থেকেই লীলা সাংগঠনিক সংহতিকে এ্যাকশন ওরিয়েন্টেড করে বৈপ্লবিক সংঘাত পরিচালনার প্রয়াস চালান। জেল থেকে মুক্তি পাবার পর পুনরায় লীলা পূর্ণোদ্যামে কাজে নামেন। ১৯৪৭ এর দেশভাগের পর অনিল-লীলা দম্পতি পূর্ববঙ্গে বসবাসের উদ্যোগ নেন। পূর্ব বাংলার সংখ্যালঘু রক্ষা ও শরণার্থীদের পুনর্বাসনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন তারা। এ সময় কবি সুফিয়া কামাল কলকাতা থেকে ঢাকায় চলে এলে লীলা নাগ তাকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। ১৯৫১ সালে ভারত সরকার প্রণীত উদ্বাস্তু উচ্ছেদের বিলের বিরোধিতা করে আবারও গ্রেফতার হন লীলা। ১৯৫২ সালে লীলা নাগের স্বামী অনিল রায় ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। বিয়ের মাত্র ১৩ বছরের মাথায় অকাল বৈধব্য ও বহুদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের সঙ্গীকে হারিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন লীলা। তবে কম সময়ের মধ্যেই শোক কাটিয়ে স্বদেশের বৃহত্তর স্বার্থে পুনরায় মনোনিবেশ করেন তিনি।

১৯৫২ সালের খাদ্য আন্দোলনেও তিনি সক্রিয় ছিলেন। ১৯৫৪ সালে তিনি প্রজা সোশ্যালিস্ট পার্টিতে যোগ দেন এবং পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হন। এরপরে তিনি উক্ত পার্টির সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৬০ সালের আগস্ট মাসে অসমের উপদ্রুত অঞ্চলের আক্রান্ত বাঙালীদের কাছে ছুটে যান। ১৯৬৪ সালের ২৫ মার্চ ‘পূর্ববাংলা বাঁচাও কমিটি’র আন্দোলনের নেতৃত্বদানকালে তিনি কলকাতায় গ্রেফতার হন। ১৯৬৬ সালে ছাড়া পাবার পর তিনি শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন। ১৯৬৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি সকালে তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লে তাকে কলকাতার পিপি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ২৩ দিন পর সংজ্ঞা ফিরে এলেও বন্ধ হয়ে যায় তার বাকশক্তি। শরীরের ডান অংশ সম্পূর্ণরূপে অচল হয়ে যায়। এভাবেই আড়াই বছর চলার পর ১৯৭০ সালের ১১ জুন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের এক মহানায়িকা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী, উপমহাদেশের নারী সমাজের জাগরণের প্রথম অগ্রদূত, বিপ্লবী অগ্নিকন্যা লীলা রায় পৃথিবী থেকে বিদায় নেন। তিনি এসেছিলেন একটি ঘুণে ধরা সমাজের পরিবর্তন করতে। বাংলার নারী সমাজের

অগ্রদূত হিসেবে তিনি এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। লীলা রায়ের বিপ্লবী চেতনা ও নারী জাগরণের বিস্ময়কর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত