| 28 ফেব্রুয়ারি 2024
Categories
এই দিনে কবিতা সাহিত্য

সোনালী চক্রবর্তীর গুচ্ছ কবিতা

আনুমানিক পঠনকাল: 3 মিনিট

আজ ২৫ জানুয়ারী কবি, অনুবাদক ও সম্পাদক সোনালী চক্রবর্তীর শুভ জন্মতিথি। ইরাবতী পরিবার তাঁকে জানায় শুভেচ্ছা ও নিরন্তর শুভকামনা।


 

 


পাঁজর


 

তুমি আমায় অজুহাত শব্দের বানান শেখাও,

আর আমি মহালয়ার ভোরে খুঁজি বিষণ্ণতা বার্ষিকী।

জমে থাকা কুয়াশায় টুরিষ্ট জুতো,

ইয়াবার মেঘে ক্রমশ একা থেকে একা।

অভিমান চিরদিন নিথর অজগর,

গিলে বসে থাকে যাবতীয় সত্যের শ্বাস।

তোমার গভীর নির্লিপ্তি থেকে ঝিকিয়ে ওঠা

নীল আঘাতেরা মনে পড়ায় দুর্বাসার তপশ্চর্যা,

তবুও কি ভীষণ মোহে আমার দিনাতিপাত…

আমি জানি,

ইভেরা এভাবেই মেনে নেয়,

পাঁজর নির্ভরতার ধারাপাত।

 

 

 


লীলা


 

নিবিড় ক্ষরণ নি:শব্দে অন্তের পর

গহীন হও তুমি,

উতরোল সোহাগে স্নাত ব্যথাদের,

অবগুন্ঠন খোলো ত্রাতার মসীহায়,

ক্ষতস্থান আমার অনাঘ্রাত নববধূ,

 

কে জানতো?

‘লবণ’ তোমার প্রিয় বিলাস।

 

 

 


মুর্খের শুভঙ্করী


 

আবছায়া হ্যালোজেনে ঠাহর খোঁজা চোখ,

‘ফিরলো সে?’

কোনও কোনও দিন মুহূর্তেরা অতিরিক্ত দীর্ঘ,

ধমনীতে স্পন্দন হঠাৎ দ্রুত,

‘আহা,আজ বড় শ্রান্ত’,

শুষে নিতে ইচ্ছে করে একশো বছরের প্রতীক্ষা

পলকের সম্মোহনে,

দুর্ভিক্ষ দৃষ্টিতে শান্তিবারি ঝরে

দিনান্তের সন্দর্শনে……

 

এই সবই ঠাস বুনোট হ্যান্ডলুম,

ফ্যন্টাসির ছায়াবাজি।

 

বাস্তব, সহ্যাদ্রির অধিক সহ্যশীল,

এখানে উন্মুক্ত অন্তর্জাল,

অবরোধহীন সংযোগসূত্রেরা পড়ে থাকে

পরিত্যক্ত কারশেডে,

ক্রমে নির্জন প্রেতপুরী।

‘ব্যথা খুব?’

এ জিজ্ঞাসা আপেক্ষিক,

দাসচুক্তির উলঙ্ঘনে আশঙ্কাদের অন্তর্ধান,

পরিচিত অভ্যাস।

আটান্ন ঢেউ এর ফেনায় অনার্দ্র থেকে যাওয়া,

লবণপীড়িত মহুলমাস……

 

পরিব্রাজন আদতেই সৎ ও স্মৃতিহীন প্রতারণা,

আধার সাপেক্ষে বদলে নেওয়া

মৌলিক চাহিদা,

‘মায়া’ শব্দের কল্প দায়ভার….

 

 

 


শ্বাস বৈকুণ্ঠগামী


 

কার্শিয়াঙের লাল কার্ডিগান আর রডোডেনড্রন,

অদ্ভুত ধন্ধে ফেলে এই বৈকুণ্ঠগামী তন্দ্রায়,

আসলে কি কোনোদিন ঘটেছিল এসব?

প্রদর্শকহীন পথে হেঁটে প্রথম শ্রেণী,

শুধুই ন্যাপথলিন ফাইলের টুরিষ্ট?

এ পৃথিবীতটে কবিতার বসন্ত উৎসবে,

যে প্রেমিক সম্রাটের নাম ভূমিকায়,

তার আলোকদশায় কোনোদিন প্রার্থনা

ছিলোনা কাণ্ডারির বালু সেতু বন্ধনের তবে?

ক্লিওপেট্রা মনে পড়ে।

সম্পাদনা,সৃষ্টিতত্ব নিছক ম্যানমেড বিলিফ।

সাড়ে চুয়াত্তর পৃথিবীর চোখে,

একা শিরদাঁড়ার যোনি শুধুই কলঙ্ক প্রসবিনী,

বৃষ্টি দুপুরে,প্রখর চাঁদে কখনো তাদের আত্মা কাঁদেনি।

অধিকারে নেই অভিমান,

শুধু বৃদ্ধ সাধু সঙ্গিনী।

 

পুরুষ কোনোদিন মানুষ হয়না এই নশ্বরতায়,

ফেলানির কাঁটাতার ঈদ দেখেছিল,

নষ্ট না হলে বুড়ি চাঁদকে জীবনানন্দও ছোঁয়নি।

 

 


হ্যালুসিনেশান


প্রবল উষ্ণতা আর সীমাহীন নেশা,
দুই এর অনুভব দ্বন্দ্বহীন সহোদরা।
অজস্র বিন্দু ঝাঁক বেঁধে বেঁধে
 ক্রমশঃ ছাইছে বঙ্গদেশ,
নাসা জানাচ্ছে এশিয়াটিক এরোসল,
ব্যাক্তিগত টেলিস্কোপের খবর,
তাদের দুই পা ফ্ল্যাশের তীব্রতা অনুযায়ী,
অজস্র মঞ্চে চলমান,আর,
এক হাতের ভাঁজে শৌখিন কলমদান।
শাতিল ইউনিফর্ম মাস্ক সরিয়ে,
প্রজাতি বিচারের আগেই,
তাদের আস্তিন থেকে ছোঁড়া বিষাক্ত আয়ুধে,
ভাঙলো লেন্স,
সংজ্ঞাহীন নির্বাসনের আগে মস্তিষ্ক 
নিয়েছিল শুধু-
“ধ্বংস করো,পুড়িয়ে দাও,
গোষ্ঠীহীন একাকী উন্মাদ,
লিখতে জানে……”

সহকবি


গভীর,ভীষণ গভীর থেকে,
অনেকক্ষণের একটা হাগ,
শেষ দেখা হয়েছিল,
বোধহয়,বছর আড়াই আগে।
বদলেছি কে কতটা,
এখন কে কোথায়,
এসব আর চিন্তায় আসেনা।
জিয়া নস্টাল এখন শুধু
সাদা কালো ফটোগ্রাফের 
গবেষণামূলক প্রদর্শনীতে 
আর মথ জারিত সাহিত্যে।
অনুষ্ঠান,পাশাপাশি আসন,
যখন তুমি স্পটলাইট,আমি দর্শক,
এবং ভাইসি ভার্সা।
এইসব কাব্যসভার একটা দুর্ধর্ষ গুন আছে,
নখ দাঁত লুকিয়ে কিভাবে
সৌজন্য প্রদর্শন করতে করতে,
আদতেই জড়ভরত হয়ে যেতে হয়,
সেই প্রশিক্ষণ গুলো অজান্তেই পাওয়া হয়ে যায়।
হলের এয়ার কন্ডিশন অফ হলে,
উদ্যোক্তা আর সর্বাধিক ঘনিষ্ঠরা
একসঙ্গে বেরোয়,
সেল্ফি,ওয়াটস্যাপ নম্বর,চা,
মিনিট দশেক বড়জোর,
এলাকা মরু সাহারা।
তোমার ইচ্ছে ছিলো হয়তো আকস্মিকতার,
যা জন্ম দেবে দীর্ঘ,রিলিজ না পাওয়া,
কোনও সিনেমার শুটিং পর্বের।
আমার অনায়াস আয়ত্ত
নিজেকে কৈফিয়তহীন খুলে নেওয়ার বাস্তবতা।
বলে এসেছি,নিরানব্বই পেরাও,
একশো তে আছি।
এ কথায় অরোরা বেরিয়ালিস দেখা যায়না,
তবে বাতিঘরের আলেয়া নাবিক মাত্রেই দেখে থাকে,ব্যতিক্রম ঘটেনি ।
এসব কোনও ঘটনা নয়,
বিদ্বজনেরা বলেন,কবিতায় ঘটনা থাকেনা।
প্রতি মুহূর্তেই কবিতা থাকে,
অথবা,প্রতি কবিতাই একটি করে মুহূর্ত।
কবিতা কখনও সত্যি হয়?

 


পূর্ব রাত


 

তবে কি চলেই যেতে হবে?

এই মায়াভূমি অনাথে সঁপে,

গোধূলির গুরুত্বহীন বাঁকে?

অধরা শরাবদানে ছেড়ে যাওয়া

সাকির বিষাদের মতো,

মুছে দিয়ে যাবতীয় চিহ্ন সমুদয়?

অথচ স্পর্শেরা পরিত্রাণকামী নয়।

এখনও প্রলয়তুচ্ছ অপেক্ষা ঘনায় এ হৃদে,

সদ্য কিশোরীর প্রথম মনখারাপের অসুখ,

কথা নেই বহুদিন,চোখে চোখ সুদূর অতীত।

 

আসছো না বলে প্লাবন বন্ধক পড়ে আছে,

চিতাসম্ভব সূর্যে পুড়ছে চক্রবৃদ্ধি ঋণ।

 

 

 

 

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত