| 27 ফেব্রুয়ারি 2024
Categories
গল্প সাহিত্য

শেষ বিকেলের গল্প

আনুমানিক পঠনকাল: 2 মিনিট
সন্ধ্যা সমাগত ! স্বর্ণদীপাধারে প্রদীপ জ্বলছে ! শাজাহানের শয্যাপার্শ্বে এসে বসলো জাহানারা ! ম্লান হাসলেন শাজাহান ! তারপর বললেন , “ আজ নহবতখানায় টোরি রাগে বাজছে সানাই , ঐ দেখ আলোকমালায় সেজেছে রাজমহল , শীষমহল থেকে ভেসে আসছে হীরাবাঈয়ের ঘুঙুরের আওয়াজ ! দেখ জাহানারা , তোমার আম্মি এসেছেন ! কি সুন্দর দেখাচ্ছে আমার মুমতাজ বেগমকে ! গোলাপি ওড়নায় সলমা, চুমকির কারুকাজ , ক্ষীণকটি ঘিরে চন্দ্রহার , গলায় বসরাই মোতির মালা , মণিবন্ধে হীরের কঙ্কন !” হাসলো জাহানারা ! তারপর বললো , “ কথা বলোনা আব্বু , তোমার কষ্ট হবে ! আমি বরং একটু দাওয়াই এনে দিই ।কক্ষে ক্ষণিকের নীরবতা । তারপর শাজাহান বললেন,” একবার অলিন্দে যেতে হবে বিটিয়া, ঐ শোন প্রজাদের জয়ধ্বনি , রাজদর্শনের জন্য ব্যাকুল হয়েছে ওরা ।ঐ তো আমার ময়ূর সিংহাসন , ঐ দেখ ,দেওয়ান ই খাসে আমার জন্য অপেক্ষারত আমীর ওমরাহ্ ।জাহানারা বুঝতে পারছিল পক্ষাঘাতগ্রস্ত মৃত্যুপথযাত্রী পিতার চোখের সামনে এখন শুধুই অতীতস্মৃতি । শাজাহানের শীর্ণ হাতদুখানি চেপে ধরল জাহানারা , তারপর বলল, “ তুমি ভুল দেখছ আব্বু । আজ নয় বছর আমরা তোমার কনিষ্ঠ সন্তান বাদশাহ ঔরংজেবের নির্দেশে আগ্রা দূর্গে বন্দী । বহির্জগত থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন ! “ সব বরবাদ হয়ে গেলো রে বিটিয়া “, ক্ষীণকণ্ঠ শাজাহানের ,অশ্রুপ্লাবিত দুচোখ ! কাশির দমকে আর কথা বলা হলোনা ! জলাধারে রাখা পানীয় স্বর্ণপাত্রে ঢেলে খাওয়ানোর চেষ্টা করলো জাহানারা কিন্তু অধর স্পর্শ করার আগেই হৃদস্পন্দন স্তব্ধ হলো তাঁর ! দীপ নিভিয়ে বসে রইলো জাহানারা ! ক্রমে গভীর হলো রাত্রি !নিস্তব্ধ রাত্রিতে দূর্গের প্রশস্ত দ্বারপথ দিয়ে নির্গত হলো অশ্বারোহীরা ! মিলিয়ে গেলো অশ্বক্ষুরধ্বনি।
হঠাৎ কক্ষের সম্মুখে পদশব্দ শুনে তাকালো জাহানারা ! দ্বারপ্রান্তে ভ্রাতৃঘাতক ঔরংজেবকে দেখে চমকে উঠলো একবার ! তারপর শেষবারের মতো চেয়ে রইলো একদা সম্রাট শাজাহানের দিকে ! চর্ম কুঞ্চিত , দেহ নিশ্চল তবু মুখে মলিনতার চিহ্নমাত্র নেই !
সংলগ্ন কক্ষে প্রবেশ করে করে দ্বার বন্ধ করলো জাহানারা ! আকাশে এখন মাঘী পূর্ণিমার পূর্ণচন্দ্র ! অদূরে চন্দ্রালোকস্নাত তাজমহল ! বহমান যমুনা সাক্ষী থাকলো সব প্রেম ভালোবাসা , লোভ লালসা , বিশ্বাসঘাতকতা আর উচ্চাকাঙ্ক্ষার ! নদীর স্বচ্ছস্ফটিক জলে তিরতির করে কাঁপছিলো দূর্গের দীপশিখার প্রতিফলন !

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত