| 4 মার্চ 2024
Categories
পাঠ প্রতিক্রিয়া প্রবন্ধ ভ্রমণ সাহিত্য

ভ্রমণ সাহিত্যের সেরা বই

আনুমানিক পঠনকাল: 3 মিনিট

।।ফারজানা ইসলাম।।

ভ্রমণ বিষয়ক লেখা আসলে কী? কখনো এ লেখায় থাকে ভ্রমণের গল্প, নিজেকে হারিয়ে খোঁজার গল্প, কিংবা রোমাঞ্চকর অভিযানের গল্প। আবার কখনো নিরেট ভ্রমণ-অভিজ্ঞতাও লিপিবদ্ধ হয়। ভ্রমণসাহিত্যের এসব বই পড়েই যেন চলে যাওয়া যায় অদেখা-অজানা স্থানে। ভ্রমণসাহিত্যের সেরা বই কোনগুলো? এই নিয়ে আলোচনা করতে গেলে সামনে চলে আসবে শতাধিক বইয়ের নাম। তবে এর মধ্যে থেকে সেরা ১০টি বই, যেগুলো পাঠক ও সমালোচক-মহলে সমান জনপ্রিয়তা পেয়েছে, সেগুলো হলো—

ফিকশন

জ্যাক কেওয়াকের অন দ্য রোড

খোলা সড়কের প্রতি আমেরিকানদের আসক্তি জ্যাক কেওয়াকের আবিষ্কার নয়, তবে ভ্রমণের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সামষ্টিক জটিল চরিত্র তিনি ধরতে পেরেছিলেন। ‘অন দ্য রোড’ বইতে ডিন মোরিয়ার্তি ও স্যাল প্যারাডাইস চরিত্র দুটির মধ্যে তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন ভ্রমণ ও রোমাঞ্চপ্রিয়তার বৈশিষ্ট্য। বইতে এই দুই চরিত্র স্যান ফ্রান্সিসকোয় অন্ধকারের উন্মোচন এবং বিস্মৃত স্থান আবিষ্কার, ক্যালিফোর্নিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে অভিবাসী প্রমিকদের একটি শিবিরের সন্ধান পায়। অন দ্য রোড আমেরিকা জুড়ে কেওয়াক ও তাঁর বন্ধুদের ভ্রমণ-অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে রচিত হয়েছে। এই বইতে যুদ্ধপরবর্তী ভিন্ন এক প্রজন্মের জীবনধারার স্পন্দন প্রতিফলিত হয়েছে বলে মনে করেন সমালোচকেরা। ১৯৫৭ সালে বইটি প্রকাশিত হয়। এটা ছিল কেওয়াকের দ্বিতীয় উপন্যাস। টাইম ম্যাগাজিনের ১৯২৩ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত সেরা ১০০ ইংরেজি ভাষার বইয়ের তালিকায় ঠাঁই পায় এই বই।

আর্নেস্ট হেমিংওয়ের দ্য সান অলসো রাইজেস

১৯২৬ সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়। আমেরিকান লেখক আর্নেস্ট হেমিংওয়ের লেখা এই বইতে নির্বাসিত একটি দলের, যারা আমেরিকান ও ব্রিটিশ, এক স্থান থেকে অন্যস্থানে যাওয়ার গল্প উঠে এসেছে। হেমিংওয়ের জীবনকারক জেফ্রি মায়েরসের মতে, ‘দ্য সান অলসো রাইজেস’ বইটি হেমিংওয়ের সেরা লেখাগুলোর একটি। আর হেমিংওয়ের সাহিত্য নিয়ে গবেষণাকারী লিন্ডা ওয়াগনার-মার্টিন এই বইটিকে ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপন্যাস’ বলে মনে করেন। ১৯২৫ সালে হেমিংওয়ের স্পেন ভ্রমণের ওপর ভিত্তি করে দাঁড় করানো হয় দ্য সান অলসো রাইজেসের গল্প।

অ্যালেক্স গারল্যান্ডের দ্য বিচ

ইংরেজ লেখক অ্যালেক্স গারল্যান্ডের ‘দ্য বিচ’ উপন্যাসটি প্রকাশ পায় ১৯৯৬ সালে। এক তরুণের থাইল্যান্ডের একটি কাল্পনিক সমুদ্রতীর, যা ছিল শান্ত এবং পর্যটকদের অগোচরে, খোঁজার গল্প এটি। এই গল্পটি এতটাই রোমাঞ্চকর যে, ২০০০ সালে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয় এই গল্পের ওপর ভিত্তি করে, যার পরিচালনায় ছিলেন ড্যানি বোয়েল এবং অভিনয় করেছেন লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও।
প্যাট্রিসিয়া হাইস্মিথের দ্য ট্যালেন্টেড মি. রিপলে
আমেরিকানরা ইউরোপকে সবসময়ই উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণের স্থান হিসেবে দেখেছে। ইতালি পর্যন্ত এক বিনাখরচার ভ্রমণ টম রিপলেকে সেই কাঙ্ক্ষিত সুযোগটাই এনে দেয়। এরপর রিপলের জীবনে ঘটতে থাকে নানা ঘটনা, তিনি যেতে থাকেন এক স্থান থেকে অন্যস্থানে। এই গল্পটাই বর্ণিত হয়েছে প্যাট্রিসিয়া হাইস্মিথের ‘দ্য টেলেন্টেড মি. রিপলে’ উপন্যাসে। মনঃস্তাত্ত্বিক রোমাঞ্চকর এই উপন্যাসটি ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত হয়। এই গল্পেই হাইস্মিথ তাঁর বিখ্যাত চরিত্র টম রিপলের সঙ্গে পাঠকের পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর রিপলে আন্ডার গ্রাউন্ড (১৯৭০), রিপলে’স গেম (১৯৭৪), দ্য বয় হু ফলোড রিপলে (১৯৮০) এবং রিপলে আন্ডার ওয়াটার (১৯৯১) উপন্যাসগুলোয় টম রিপলের দেখা মেলে। এই পাঁচটি উপন্যাসকে একসঙ্গে বলা হয় ‘রিপলেইড’।

ইসাবেল আলেন্দের ডটার অব ফরচুন

ইসাবেল আলেন্দের ‘ডটার অব ফরচুন’ উপন্যাসটি রচিত হয়েছে চিলির ভালপ্যারাইসো এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের স্যান ফ্রান্সিসকোর প্রেক্ষাপটে। ১৯৯৮ সালে স্প্যানিশ ভাষায় প্রকাশিত হয় এই উপন্যাস। সাত বছর সময় লেগেছে লেখকের উপন্যাসটা রচনা করতে। আত্মজ্ঞানের সন্ধানকারী এক তরুণীর গল্প উঠে এসেছে এখানে। লেখক আলেন্দে মনে করেন, তাঁর নিজের জীবনের টানাপোড়েনগুলো এই গল্পে প্রতিফলিত হয়েছে।

নন-ফিকশন

পল থেরোক্সের দ্য গ্রেট রেলওয়ে বাজার

এই বইতে লেখক এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি লিপিবদ্ধ করেছেন। তিনি এশিয়ার সম্ভাব্য প্রতিটা কোণের কথা তুলে ধরেছেন এতে। বইটি ১৯৭৫ সালে প্রকাশিত হয়। ১৯৭৩ সালে ট্রেনে চেপে লন্ডন থেকে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, ভারতীয় উপমহাদেশ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় লেখকের ভ্রমণের ওপর ভিত্তি করে রচিত হয়েছে বইটি। এই বইকে অনেকেই ভ্রমণসাহিত্যে নতুন ধারার অবতারণা বলে মনে করেন।

জন ক্রাকরের ইনটু দ্য ওয়াইল্ড

জন ক্রাকরের ‘ইনটু দ্য ওয়াইল্ড’-এ ক্রিস্টোফার ম্যাকক্যান্ডলেসের রহস্যময় ভ্রমণের গল্প বর্ণিত হয়েছে। ক্রিস্টোফার ছিলেন ক্রাকরের সহকর্মী, যাঁকে আলাস্কার উপবনে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। এই বইটি ১৯৯৬ সালে প্রকাশিত হয়। ২০০৭ সালে এই বইকে উপজীব্য করে একটি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়, যার পরিচালনায় ছিলেন সিন পেন। আর ম্যাকক্যান্ডলেসের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন এমিলি হারশ। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ‘ইনটু দ্য ওয়াইল্ড’ সেরা বিক্রিত বইগুলোর একটি। ১৪টি ভাষায় প্রকাশিত এই বইয়ের ১৭৩টি সংস্করণ হয়েছে।

জন স্টেইনবেকের ট্রাভেলস উইথ চার্লি

পোষা কুকুর চার্লিকে নিয়ে পিকআপ ট্রাক আর ঘোড়ার পিঠে চেপে আমেরিকার সড়কে স্টেইনবেকের ১০ হাজারেরও বেশি মাইল ভ্রমণের অভিজ্ঞতা বর্ণিত হয়েছে ‘ট্রাভেলস উইথ চার্লি’ বইতে। ১৯৬০ সালের ভ্রমণ-অভিজ্ঞতা এটি। স্টেইনবেক বলেছেন, ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গিতে নিজের দেশকে দেখার মানসে তিনি ওই ভ্রমণে বেরিয়েছিলেন। এই বইতে তিনি তত্কালীন ‘নতুন আমেরিকা’ প্রসঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

বিল ব্রাইসনের ইন আ সানবার্নড কান্ট্রি

লেখকের অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণের অভিজ্ঞতা বর্ণিত হয়েছে এই বইতে। বইটি একদিকে যেমন মজার, একইভাবে এটি একটি দেশকে সূক্ষ্মদৃষ্টিতে বিচার-বিশ্লেষণ করেছে। অস্ট্রেরিয়ার ভৌগলিক পরিবেশ, ভীতিকর প্রাণী, যেমন—সাপ, হাঙর, কুমির ইত্যাদির বর্ণনাও উঠে এসেছে এতে। বইটি ২০০০ সালে প্রকাশিত হয়।

এডওয়ার্ড আবের ডেজার্ট সলিটেয়ার

আমেরিকান লেখক এডওয়ার্ড আবের ‘ডেজার্ট সলিটেয়ার’ বইটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়। এই বইয়ের মাধ্যমে সমালোচক মহলে এডওয়ার্ড সমাদৃত হন, সেই সঙ্গে পরিবেশ, রাজনীতি এবং দর্শন বিষয়ক লেখক হিসেবেও তিনি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। ১৯৫০-এর দশকে আর্চেস ন্যাশনাল মনুমেন্টে কাজ করার সময় লেখকের অভিজ্ঞতা এখানে উঠে এসেছে।

 

 

 

হাফিংটন পোস্ট অবলম্বনে

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত