বাংলাদেশের লোকধর্ম (পর্ব-৭)

Reading Time: 28 minutes

ভগবানিয়া সম্প্রদায়ের পদের গান ও তার সাহিত্যমূল্য সপ্তম অধ্যায়

শ্রী চৈতন্যের অন্তর্ধানের পর বাংলায় যে সকল লোকধর্মের উদ্ভব ঘটেছিলো তার মধ্যে কর্তাভজা অন্যতম। এ সম্প্রদায়টি শুরুতেই শিক্ষিত ও ভদ্রজনদের পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছিলো । তাছাড়া দুলালচাঁদ নিজেও একজন শিক্ষিত মানুষ ছিলেন। তাই তারঁ রচিত ভাবেরগীত অর্থাৎ শ্রীযুতেরগীত কর্তাভজাদের কাছে যেমন বিশেষ সমাদৃত আইনের বই তেমনি সাহিত্যামোদিদের কাছে রয়েছে এর বিশেষ গুরূত্ব। অন্যদিকে গুপ্তকর্তাভজা অর্থাৎ কানাই ঘোষের অনুসারী নবকিশোর গুপ্তের সাধুসঙ্গীতও একই মর্যাদা পাবার দাবী রাখে। ড. রতনকুমার নন্দী এই দুটিকে কর্তাভজা সম্প্রদায়ের সাহিত্য বলে উল্লেখ করেছেন। সেই তুলনায় বাংলাদেশের ভগবানিয়া সম্প্রদায় নিতান্তই অবহেলিত। কোন সুপন্ডিতের কৃপা দৃষ্টি এদের দিকে পড়েনি। তা হলেও বাংলাদেশে শিবরামকে অবলম্বণ করে ভগবানিয়া ধারাটি তাদের আচার বিশ্বাস ও সংস্কার-প্রথা আকঁড়ে আজো টিকে আছে। এদর লিখিত কোন বিধান নেই। এরা কাজের অনুষ্ঠানে যে ভক্তির গান গায় তা লোকপরাম্পরায় চলে এসেছে। এগুলোকে তারা বলে মহাজনী গীত বা ঢেউ পদ। এসব গানই তাদের আইনের গান। কর্তভজাদের মধ্যেও মহাজনী পদ রয়েছে তবে কর্তভজাদের এসব মহাজনী পদে পদকর্তাদের নাম জানা যায় যেমন এদের মধ্যে আছেন- মনুলাল মিশ্র, গোবর্ধনচক্রবর্তী, ক্ষ্যাপা গোঁসাই,দীন মিত্র প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ।তবে ভগবানিয়াদের মহাজনী গানগুলো মূলত মৌখিক ধারায় প্রচলিত। এগানের রচয়িতার নাম জানা যায় না। ফলে এগানগুলোকে লোকসঙ্গীত বলা অসঙ্গত হবে না। সম্প্রতি এসব গান সংগ্রহ করে বই বের করেছেন মণিরামপুরের সত্য সদানন্দ সরদার। তার এই বইটিতে সংগৃহিত হয়েছে প্রায় তিনশতাধিক মহাজনী গান। তার এই বইটির নাম ‘সত্য ধর্মের সত্য আইন’। শ্রীযুতের গানের বই যেমন ভগবানিয়াদেও আইন পুস্তক ভগবানিয়াদেও এই লোকগানগুলোই তাদের আইন। এগুলোকে শিবরামের গীতও বলা হয়। তবে এগুলি নিয়ে আমরা এদাবী করতে পারি না যে, ভগবানিয়া সম্প্রদায়ের যে পদের গান তা আসলে ‘ভাবেরগীতের’ মত বিশেষ কোন সাহিত্য নিদর্শন হিসেবে বিিেচত হতে পারে। তবে একথা ঠিক, কর্তাভজাদের মত বা গুপ্ত কর্তাভজাদের মত কোন বিশেষ রচনা ভগবানিয়াদের না থাকল্ওে তাদের মধ্যে প্রচলিত যে সকল লোকগান রয়েছে তার রস গ্রহণের ক্ষেত্রে কোন বাঁধা নেই। এসব গানের ভাষায় এমন কতগুেিলা বাক্ভঙ্গি আছে যা পাঠককে মুগ্ধ না করে পারে না। তাছাড়া এসব গানে যে সব উপাদানকে ধর্মতত্ত¡ বোঝানোর জন্য রূপক ও উপমা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে সেগুলি বাঙলার সমাজজীবনেই দীর্ঘকাল ধরে প্রাধন্য পেয়ে আসছে। এসব পদের গানগুলি আবার তার বিষয় অনুযায়ি নানা নামে পরিচিত যেমন- বৈঠকী পদ: যে গানগুলি ফকির ঠাকুর বা আউঁলেচাঁদ তাঁর বাইশ ফকিরের সঙ্গে বসে গাইতেন সেই গানগুলিই বৈঠকী পদ নামে পরিচিত।

বন্দনা পদ: যে গানগুলি শিবরাম ফকির ঠাকুরকে বন্দনা করে গেযেছেন অথবা ভক্তরা শিবরাম ফকির বা ফকির আউলেচাদকে বন্দনা করে গেয়ে থাকেন তাকেই বন্দনা পদ বলে। এসব পদের মধ্যে আছে আবির্ভাব পদ, পরিচয় পদ, আগমনি পদ, হালিশ^রেরপদ, মহাজন পদ, বিরহ পদ ইত্যাদি।

কৈবেত পদ: শিবরাম ফকির ছিলেন কৈবর্ত সম্প্রদায়ের মানুষ। তাই তাকে অনুরোধ করে যে সব বিশেষ প্রার্থনা পদ রচিত হয়েছে তাকে ভক্তরা কৈবেত পদ বলে।

কটির পদ: এই গানগুলি ধর্মীয় বিধিনিষেধ নিয়ে রচিত। এগুলিকে মহাজনী আইন পদও বলা হয়।

পারের সাট পদ: যে সব গানে মুক্তি পাবার উপায় বর্ণিত হয় সেই সব গানগুলি পারের সাট পদ নামে পরিচিত। এসব গানে মানুষ ভজনা, গুরুমাহাত্ম্য, সহজিয়াতত্ত্ব ও সাধনা প্রাধন্য পায়।

এছাড়া আছে প্রার্থনা পদ, ভক্তি পদ, প্রভাতী পদ ইত্যাদি।

তবে উল্লেখ্য যে ভগবানিয়াদের পদের গানে যে সব সাধনতত্ত্বের ইঙ্গিত পাওযা যায় তাতে আাসলে বাউল ফকিরদের মত ‘গুহ্য সাধনার’ ভাব প্রকট নয়। ভগবানিয়ারা মূলত গৃহী তাই দেহতাত্তি¡ কলাকৌশলের রূপকার্থক বর্ণনায় তাদের ব্যাখ্যা খুবই সাদাসিধে। তবে এসম্পর্কিত প্রচুর দ্বার্থক শব্দের নজির রয়েছে ভগবানিয়াদেও পদের গানে যেমন- কেনা-বেচার মূল্য কি কেউ দিতে পারে না?( ১৭ নং পদ)। কিংবা – তুমি খাচ্ছ সদায় কাইন মাছের ঝোল ( ২১ নং পদ)। অথবা- ছীকের পরে ব্যাসাল ছিল, দৈব্য সে ছীক ছিড়িল (২৯ নং পদ)। এবাবে- প্রেমের পাখি, চাল- সিঁধে, কান্ডারি, সপ্তদিনের কাদেম, নতুন রাজা, মায়া নদী, কৈবেত, মানুষ চাঁদ, তর্কবাদী, আলেক-মালেক ইত্যাদি শব্দ গুলি বিচার করলে দেখা যাবে যে এই রূপকের অন্তরালে একটি বিশেষ অভিপ্রায রয়েছে। এরকম একটি রূপক সঙ্কেতের অন্তরালে ভগবানিয়াদের পদের গানে প্রকাশিত হয়েছে তাদের লৌকিক জগৎ ও ধর্ম দর্শন। একটি পদের অংশ বিশেষ-

ঐ আমি করি কী উপায়, খেটে পাইনে রোজের কড়ি, এভাবে বড় বিষম দায়\ আমার খাটতে খাটতে জীবন গেল, খাটি কী আশায়? যার ক্ষেতে খাটি সদায় গৃহস্ত সে কথা না কয়, বাঁচিনে দুঃখের জ্বালায়\ যখন-ই দিবা গত হয়, ঐ আমি শূন্য হাতে যেয়ে পথে খাব কী বাসায়?(৭৩ নং পদ)

এই প্রার্থনার পদটিতে একটি লৌকিক চিত্র ফুটে উঠেছে। এক গার্হ্যস্থ জীবনের বাস্তব ও নিঁখুত বর্ণনার মধ্য দিয়ে আধ্যাত্ম চেতনার ছবি ফুটিয়ে তোলা হযেছে। সারা দিনমান ধরে পরিশ্রম করেও কড়ি উপার্জন হয় না। যদি কড়িই উপার্জন না হলো তা হলে কিসের আশায় এই খাটাখাটুনি? আবার যার ক্ষেতে খাটছেন সেই ক্ষেতের মালিকও যদি কথা না বলে তা হলে দিন শেষে শূন্য হাতে ফিরতে হবে বাসায়। আর শূন্য হাতে বাসায় ফিরে কী খাবেন? ভগবানিয়ার ধর্ম গৃহীর ধর্ম হলেও সংসার ধর্ম পালন করলেই তার চলবে না। সংসারের এই খাটাখাটুনিও বৃথা যাবে যদি তাতে মালিক কথা না বলে, কড়ি না দেন। তাই তাকে গুরু ধরতে হবে আর ভজনা করতে হবে গুরুর নাম। এরকম আর একটি পদ- জলের মধ্যে ফুল বাগিচা, পাতায় পাতায় মেয়ে। জলের মধ্যে আগুন দিয়ে, বাউল রইলো চেয়ে। বুঝ ভাব মনেতে ভাবিয়ে\ এখানে চিত্ত ও চিত্তজ ভাবের নির্বান প্রাপ্তি সম্পর্কে বলা হয়েছে। পদকর্তা জানেন কামনা- বাসনা আগুনের মতো। আর আগুন জলেই নির্বাপিত হয়। তাই কামনার আগুনকে চিরস্থায়ী করে নিজের ধ্বংস ডেকে না এনে জলের মধ্যে সে আগুন বিসর্জন দেয়া শ্রেয়। বিবাহ ভগবানিযা সম্প্রদায়ের আবশ্যক ধর্ম। জল রূপ নারী বা স্ত্রীর শরীরে মধ্যে যে আধার প্লাসেন্টা তার পাশে পাতায় পাতায় ডিম্বানুরূপ মেয়ে বসে আছে। সেখানে সেই ফুলবাগিচায় কামনার আগুন বিসর্জন দিয়ে চেয়ে থাকতে হবে গুরুর দিকে। বুঝতে হবে সৃষ্টিতত্ত্ব। সুগভীর কাব্যময় বোধের দা¦রা এখানে পদকর্তা যে তত্ত¡টি প্রকাশ করেছেন তার ভাষা ও শব্দ চয়ন অতি সহজ ও সরল কিন্তু ব্যঞ্জনা গভীর আর এখানেই এর সাহিত্যমূল্য। এরকম আর একটি গান- কেয়া ফুলের পেয়ে গন্ধ, ওরে আমার অলি রাজ রয়েছে বন্ধ, এমধুর ধ্বনি ভ’ষণ মাখা গায়\ … … … চাতক রইলো মেঘের আশে, ওরে বল মেঘ বর্ষিল কি অন্য দেশে? … … … আরে বারি বিনা না হয় ধান্য ওরে বল গুরু বিনে দেহ শূন্য আর শূন্য দেহ শূন্য জগৎময়\(৯৫ নং পদ) সহজিয়া সাধনতত্ত্ব মূলত বেদ বিরোধী ও অশাস্ত্রীয়। ভগবানিয়া সম্প্রদায় যদিও সহজিযা সাধনতত্ত্বাশ্রয়ী নয় তবুও বিশেষ রূপকাশ্রয়ের মাধ্যমেই পদকর্তাগণ তাদেও গুরুবাদী দর্শন চর্চা করেন। এরকম আর একটি রূপকাশ্রয়ী গান- প্রেমের সাগরে তরঙ্গভারী, এবারগুরু আছে নায়ের কান্ডারী, ও তুই কেন রইলি ভুলে, এবার তরী দেও খুলে। সুবাতাসে সহজ বাদাম নৌকায় দেও তুলে, ও মন গুরুকে কান্ডারী রেখে গুণটানো আর বাও তরী\(১৬০ নং পদ) এটি খুব সাধারণ গ্রাম্য চিত্র কিন্তু এর গভীর আধ্যাত্মিক ব্যঞ্জণা রয়েছে। একে পদকর্তারা পারের সাট গান বলেন। ভগবানিয়া সম্প্রদাযের মহাজনী পদেও গানে আছে আউলেচাঁদে, শিবরাম ফকিরের মাহাত্ম্য কীর্তন- ‘ শুন শুন ও ভাই সকল জীবের মিটে গেছে সব গন্ডগোল, এবার ফাল্গুন মাসে ঘোষ পাড়ায দোল করলেন সেই মহাজন\ সেই মানুষ এলো এই জগদানন্দকাঠি, এসে মহন্ত মহাশয়ের বাটি, চান না ডালিম তলার মাটি, কথায় হয় দুঃখ নিবারণ\;( ৩৭ নং পদ) কিংবা- জগদানন্দকাটি মানুষ বসিলেন যখন, এবার আর কিছু চান না তিনি চেয়েছেন কেবলি মন\ হাত কপাল ঘুচে গেছে, অখন্ড এই মন আছে, তাইতে তিনি মন চেয়েছেন মনগে তারে দেও। এবার দিলেরে মন রবে সে ধন, হবে দুঃখ নিবারণ\(৪১ নং পদ) অনুরূপ ভাবে শিবরাম ঠাকুরের বন্দনা ও মহিমা সম্পর্কেও রচিত হয়েছে মহাজনী পদ।

ঠাকুর তোমার সুখের জগদানন্দকাটি , আমি প্রণাম করি কোটি কোটি। ১১৫৯ সালে ঘোষ পাড়ায় পরিচয় দিলেন, এলেন ভাগ্য ফলে দাসের পোর বাটি। মানুষ লীলে বর্তমানে, করলেন ঠাকুর ভক্তের সনে, অধম বিশ্বাস জ্ঞানে বেঁধেছে সেই আটি। ( ৩৭ নং পদ) এপদে আউলেচাঁদের শিষ্য ফকির শিবরাম ঠাকুরের জন্মস্থানকে পবিত্র জ্ঞানে বর্ণনা করা হয়েছে। ঘোষ পাড়ায় রামশরণকে যে লীলা প্রকাশ করেছেন একই লীলা তিনি প্রকাশ করেন কৈবর্ত সন্তান তার শিষ্য ফকির শিবরাম ঠাকুরের কাছে। ফকির আউলে চাঁদ মিবরাম ঠাকুর ছাড়াও সতীমা, দুরার চাঁদেও অলৌকিক মহিমা ও বিচিত্র লীলা সম্পর্কেও ভগবানিয়াদেও মহাজনী পদ রচিত হয়েছে। তাদেও গানে বাউল সম্রাট লালন ফকিরের উদ্ধৃতিও লক্ষ করা যায়। ভগবানিয়া সম্প্রদাযের নিজস্ব কোন সাহিত্য নেই কিন্তু তাদের মধ্যে ব্যাপক ভাবে প্রচলিত ধর্ম নিরপেক্ষ পদের গানগুলির বিশেষ সাহিত্যমূল্য রয়েছে। বিভিন্ন বিষয় নানা উপমা, রূপক ও চিত্রকল্পের সাহায়্যে এসব লোকগানগুলিই লোকসংস্কৃতির একটি বিশেষ ধারাকে সম্প্রসারিত করে তুলেছে ও টিকিয়ে রেখেছে।

পরিশিষ্ট-

ভগবানিয়াদের পদের গান -১

তোমার জন্য পাগল আমি কান্দি সর্বদায় দেখা দিয়ে মনের কথা, ও ঠাকুর বলো আজ আমায় গো। বহু জনম করে ভ্রমণ এই মানব জনম হয়, শুভযোগে এলাম ভবে, ও ঠাকুর পেলাম তোমার পরিচয় গো। কাঙ্গালেরও ভাগ্যে ঠাকুর হইয়াছো উদয় আমার মতো কাঙ্গাল ভবে, ও ঠাকুর পাবা না কোথায় গো। মনের মনন তুমি, জান তোমার অগোচর তো নয় দিবা নিশি কান্দি বসে তোমার চরণের আশায় গো। সাধ্য-শক্তি-ভক্তি-যুক্তি আামার এই দেহেতে নাই নিজ গুণে দয়া করে ও ঠাকুর রাখ পদে আশ্রয় গো

,নতুন মানুষ ভবে এলো, জীবের সকল দুঃখ দূরে গেল। ও তার নতুন আচার, নতুন বিচার, নতুন এ ভাব জানাইলো ।।  শুনে মানুষের দৈব বাণি ভয়ে কাঁপে মহাপ্রানী। উদয় হলো দিনোমণি, জীবের অন্ধ ধন্দো ঘুচিয়ে গেল।।  কত দেব ঋষি মুনি গণে, তারাতো না পাইলো ধ্যানে, এবার এসে বর্তমানে জীবের এভাব জানাইলো ।।

 

০৩ ও যার ভরসায় জীব চার যুগ ছিল্ ও সে কি জন্য ভেকদারী হল ।। চার যুগে চার অবতার যত লীলা করেছিল, এবার কি ভাব ও ভাবিয়া মনে সকলি তারে দূষে দিলরে দুষে দিল ।।  আর ভারতিকে সঙ্গে পেয়ে গদাবরীর তীরে এল। ও সে গাধার গলায়, ভেকনি দিয়ে, সেই যে ফকির কোথায় গেলরে কোথায় গেল।। আর যেতে পথে রায়ের সঙ্গে দৈবযোগে দেখা হল, রায় জিজ্ঞাসে মনপ্রীতি কীর্তিগুন সে বলেছিলরে বলেছিল।। আর এই বাহ্য কহ আগে এই কথা রায় জিজ্ঞাসিল, আর এভাব নাহি জগতে অনায়াসে তাই বলেছিলরে বলেছিল।।

 

০৪

ও জীব চার যুগ ছিলে যার ভরসায়, সে এবার ফকির, না হন তিনি হিন্দুর দেবতা, না হন মুসলমানের পীর। চার যুগের যত হালচাল সব ত্যাজ্য করে হলেন আপনি ফকিরী, অনুগ্রহ হলেন এসে সারা জীবেরই, এবার এক আচান প্রেম লইয়ে বসেছেন,

শুষিবে শুষিবে প্রেম প্রকৃত হয়ে, এবার এ ভাবে দাঁড়ায়ে কি করিবে সে চৈতন্য আপনি আসিয়ে , ওসে চৈতান্যে, সে যে চৈতন্য হয়ে এসেছে, এবার না রাখলেন, অন্যের জাহিরী ।। চার যুগের যত লীলা সকলি অনিত্য , এবার এই লীলা সত্য, বৃন্দাবনে কিছুকাল হইল পরমার্থ, সে ভাব না জানে রাধিকা, কৃষ্ণ, তারা, না জানে দেবতা পীর।।  পুরুষ প্রকৃতি না হয় সে অতি দূরাদূর , সে হয় গুণের সমুদ্দুর, জ্যান্ত মরে ভজ তারে, ভক্তেরই স্বরূপ, ঐ স্বরূপে নিরিক রাখিয়ে এবার মন করো স্থির।।

অধর মানুষ ধরা দেছেন চারি যুগের পর, ও সে অধর মানুষ। জীবের প্রতি দয়া করে বসেছেন হালিশ্বর।। ও সে সাধ্য সাধনের মধ্যে নই সে ইচ্ছাময় মানুষ এবার। বেদে না জানে তারে, বেদ বিধির অগোচরে, আসিয়ে এই সংসারে বসলেন হালিশ্বর। এবার সে ৩৬ বর্ণের ভান ঘুচাইয়ে করতেছেন সে একাকার ।। চারি বেদ চৌদ্দশাস্ত্রে ধরা না পাইল যারে, সেই মানুষ এই সংসারে করতেছেন বিহার, আর চারি যুগের মধ্যে হইলো না যাহা, তাহা মনোবৃত্তি এবার তার ।। সেই মানুষের আজ্ঞা ছিল, তাইতে এই ব্রহ্মান্ড হলো, আলেক কে মালেক করে দিলেন এই সৃষ্টি ভার, আর সৃষ্টি করতে আজ্ঞা দিলেন, করতে চালেন সুখ বিহার ।। অন্ধকার, ধন্দকারও, কুয়োকার, আর নৈরেকারো চারিকারের পরের আকার ডিম্বরও আকার, অন্ধকারের আগের মানুষ এবার কীর্তি হল তার ।। ভোলানেড়া বলে এবারে কীর্তি হল তার।

 

ফকির, নতুন হাট বসালে তুমি, জগতে তা কেউ জানে না এই হাটে দেখি কেবল, গরীব দুঃখির বেচা কেনা ।। তোমার এই নতুন হাটে, দুঃখি তাপি, কতই জোটে, তুমি তাদের মহাজন বটে, তাদের নাইকো পুজির ভাবনা ।। হাট বসাইয়ে হুকুম দিলেন, দুঃখির দুঃখ ঘুচাইলেন, এখন তারে অবহেলায় কিনতেছে তামাগুনা ।। পূর্বে তোমার যে হাট ছিল, সে দোকানদার সব ফেল হইল কাঙ্গালের ভাগ্য ছিল, তাইতে করলেন এই কারখানা।। বেড়ায়ে সব ঘাটে ঘাটে, এলাম তোমার নতুন হাটে, শুনি তুমি দয়াল বটে, এই অধম চাচ্ছে চরণ দু’খানা।।

 

০৭ আর আমি তোমা বিনে আর জানিনে, নিজ গুনে ত্বরাও মোরে। আর আমি অপরাধী, নাই তার বিধি, আপনি দয়া করে লওগো পারে ।। তোমার নামে যে মহিমা, নাই তার সীমা, অধম কি তাই জানতে পারে। তুমি হয়ে সখা দেওহে দেখা, অধম ডাকে বারে বারে।। তুমি জগতেশ্বর ত্রিজগতের নাথ তোমা বিনে আর বলবো কারে, তুমি না করলে দয়া এই অধম পারে যাবে কোন সাধনে ।। তুমি দীন বন্ধু, কৃপা সিন্ধু, বিন্দু দয়া কর মোরে, আমার ভজন সাধন, সব বিস্মরণ, আছি তোমার চরণ আশা করে।।

 

০৮ ও জীব যার লাগিয়া, এই ভাবে আসা, তারে তুমি চিনলে না। তুমি অধ ধনের লোভি হয়ে পরামার্থ বুঝলে না।। আর ভাবলে না এক দিনের তরে, কে সৃজন করলো তোরে, যে দিন সমন এসে বাঁধবে জোরে, সে দিন কারও অনুরোধ শুনবে না।। আর বিষয় পেয়ে হলি পাগল, ভুলে গিলি এই সত্য বোল, তুমি খাচ্ছ সদায় কাইন মাছের ঝোল, কাটার ভয়তো করলে না।। আর মালিক এই জগতে আছে, বিশ্বাস হয় না কেন মনের কাছে, গোলে মালে তিন কাল গেছে শেষকালে, ভেবে কেন বোঝ না।।

০৯ মানুষ ধরা দেছেন সুখের আশায়, ও তার কথায় সুখ কি তার কাজে সুখ হয়, তার কিসে সুখ হয়?।।  আর কুমুরকে অন্য পোক ধরে, আপনারই বর্গ ফিরোই, ও সে যদি বর্গ নাহি ফেরে সেই কুমুরকের কি বলা যায় রে, কি বলা যায়? ।। আর মহাজনের গোলার এই ধান, কয়াল রেখে মাপিতে দেয়, ও সে, ষোলআনা না মাপিলে সেই যে জুলুম কার প্রতি হয়রে কার প্রতি হয়? এবার মহারাজা সহিস দেখে, ঘোড়া তৈয়ার করিতে দেই, ও সে, সময়মত সওয়ার না দিলে, সেই যে চাবুক কার পিষ্টে হয় রে আর পিষ্টে হয়? এখন ঘোড়ার নাম হইতেছে সন্ধ, আর সন্ধক লোনেরে কয়, এতো সময়মত হয় জোগাতে, যখন-যা ঠিক হয় এই সময়রে এই সময় ।।

 

১০ মানুষ ধরা এত মুখের কথা নয়, এবার তার পিরিতে মজতে হয়।। ষড় রিপু করে হীন, হয়ে তার অধিন, শয়নে স্বপনে তারে ভজ রাত্র দিন, এবার আপনি হয়ে তার অধীন, তারে অধীন করতে হয় ।। তনু মনু ধন, পুত্র পরিজন, সকলকে ঐ চরণে কর সমার্পণ, এবার আপনি মজে, তার পিরিতে, তারে মজাইতে হয়।।

 

১১ জীবের সাধ্য কিরে, বামন হয়ে গগনের চাঁদ ধরে, আপন কথায় আপনি ধরা দিছেন এই জীবেরে।। ছীকের পরে ব্যাসাল ছিল দৈব্য সে ছীক ছিড়িল, ব্যাসাল সমেত পাওয়া গেল জান এ বিচারে।। অগম্ভীর ভাবে ছিলেন, জীবের প্রতি সদায় হলেন, আপনি পরিচয় দিলেন, চার যুগের পরে।।

 

১২ এই কৈবেত এবার কর, ওগো তুমি সহায় থেক বরাবরি। আর রনে বনে যাই যেখানে তোমারিই নাম স্মরণ করি, তোমার এই নামে সুধনি হয় গো যেন, তুমি থেক রক্ষাকারী।।  আর এই সংসারে আছি কেবল তোমার চরণ ভরসা করি, তোমার ঐ চরণের নিকট রেখ যখন সময় হয় আখিরী ।। আর দিয়েছো ভার ভারের এভার আর কি এভার সইতে পারি, তুমি যা পার তাই করতে পার তুমি হও সেই মূল কান্ডারী ।। আর আইছি ভবে যাইতে হবে সময় হলে নাই আর দেরী, ওগো তোমার সঙ্গে তোমার দেশে, এবার যেন যাইতে পারি ।।

 

১৩ ওগো দয়া করো ঠাকুর, তুমি দয়া করো মোরে, তুমি না করলে দয়া, যাব কোথায় বলো মোরে \ তুমি হও জগতের পতি ওগো তোমার বিনে নাই আর গতি, করো একবার অনুমতি, ঠাকুর বলে ডাকি বারে বারে \ অধম তারণ নাম তোমারও, আমি জেনেছি মহৎ বিচারে, ভেবে অধিন কাঙ্গাল বলে চরণ দাও আমারে \ গৌতম মুনির অভিশাপে অহল্লা পাষাণ হলো, ও সে পাষাণ ছিল মানব হল, ঠাকুর তুমি দয়া করলে তারে \

Ñ১৪ ভাইরে ভেবে বুঝো আচান ভাব এ, আর কুমুর্কে পোকাই অন্য পোকা ধরে, আপনারী বর্গ ফেরাই, মেওে জীবন দান করে তেমনি মত হুকুমে এ \ আর নারিকেলের ফুল যখন হয়, তখন দেখ কিছুতো নয়, ক্রমে ক্রমে সাশ্বি দেখ হয়, তেমনি রুপে আসে সেতো \ আপনারে সুখের যুত হয় কুল পোকা দেখ বন্ধি রই, কোট করনি রাখলে বজায় তবে তারে পাওয়া যায় \

Ñ১৫ আমি সার করেছি যেনে শুনে, এবার আর উপয় নাই আর ঠাকুর বিনে \ সপ্তদিনের খামেদ সে হয় সবের মনের খরব জানে। ও তার সুনজরে সকলি হয় ঐ ধন পায় নির্ধনে \ বহু গুণের সমুদ্দুর সে এজগত বয় সেই গুনে। জীবের উপায় হবে মুক্তি পাবে এ হুকুম সে দেচ্ছে এনে \ এ হুকুম রাখলে বহাল তারে ছুঁইতে নাই শমনে, যে মনন যথা সিদ্ধি হবে যদি ভজন কর মানুষ চিনে \

১৬ চলোরে মন যাই ব্যাপারে। অতি আড়াআড়ি পথ হয়েছে যাইতে এবার সুখ সাগরে \ ও সেই আনন্দ সাগরের পথে, এবার সকল ঘাট ঘাটে লুটে নিয়েছে এক নতুন রাজার নামাতে। এবার নতুন রাজার নামেতে \ যাইত হবে আনন্দ সাগর, তরি লাগবে যেয়ে সুখ সাগরে \ যত ভারি (২) নদ নদী ছিল, ও তার নিকটে যাইতে মানা, এক নতুন পথ হল এবার, এক নতুন হল, পুরোন আমলা, সব তৈগির এবার নতুন আমলা বসেছেন শহরে \

১৭ দেশের কথা হইতেছে মনে সদাই ভাবি তাই যাই কেমনে \ মায়া নদী পার হতে হয়, সেই নদীর তুফান অতিশয় \ মায়া নদী ছাড়ান দিয়ে তরি সুখ সাগর যাই চল এক মনে \ সুখ সাগরে এক ফকির আছে, কৈবেত দিও তাঁহার কাছে, সঙ্গের সাথীকরে লবে, ভাল পথের খবর সেই জানে \

১৮ বসে রইছি পথে, তোমার সাথে তোমার দেশে যাবো, করবো তোমার চরণ সেবা আমি তোমার দাসী হয়ে রব \ নতুন পথ করে তৈয়ারী, চলেছেন বাহু পসারী সদায় এই কৈবেত করি আমি, এই অধমের দয়া কর মরে, আমি তবে সাধ পুরাবো \

Ñ১৯ সুখময় সুর বিরাজ করে, চল মন যাই সুখের নগরে ভবো সাগর পারে \ সে দেশে কেউ দুখি নয়, সবাই সুখি কেবল আঁখি জুড়ায় হেরে \ অপূর্ব ধন সবার ঘরে, চিন্তা মনে আলো করে, কি কাজ দিবা করে \ নিরানন্দ নাই সেখানে আনন্দ সবারই মনে কেবল সুখ তাই জানে, তারা সুখে চলে মুখে বলে, সদায় সুখ সাগরে সদাই করে \ ২০ বসে ঘাট কান্দায়, ডাকি তোমায়, আমায় পার করগো নায়ে। আমি দেশ বিদেশ ঘুরে বেড়াই, ঘাটের পথ না পেয়ে \ তোমার একখানা নৌকা ভবের ঘাটে, পার হবার লোক কত জোটে, যদি পার করো বটে আপনি দয়ালÑহয়ে, আমি পারের আশায় এলাম হেতায়, বন্ধু বান্ধব থুয়ে \ আমার পয়সা কড়ি নাইক হাতে কেবল কেন্দে ফিরি পথে (২) ভাবিয়ে তাই এখন তোমার সাথে বলছি ব্যাকুল হয়ে, এই নিকড়ের পার করে দাও চরণ তরি দিয়ে \

২১ এতুফানে ঠাকুর করবেন পার। দয়াল ঠাকুর বিনে আর, কেউ নাইরে আমার \ এত বড় বিষম নদী পার হতে চাই ছয়জন বাদী আমি কেঁন্দে কেঁন্দে, কুলে ফিরি মনরে ও বাদি মনরে আমার \ দয়াল চাঁদ কয় উচুস্বরে দুঃখি তাপি কে আছিসরে, তোরা কে কে যাবি ভব পারে মনরে ও বাদি মনরে আমার \ দয়াল নাম যার হৃদয় দোলে, বিপাদ নাই তার কোন কালে, আমি শুনেছি মহৎ বিচারে ও বাদি মনের আমার \

২২ সন্ধান জান, এ বিচারেতে আর সত্যে ত্রেতা দ্বাপর কলি, চারযুগ সবে বলাবলি, এই চারযুগের অধর ধন এবার ধরা দিয়েছে। আর দেবে তারে নাহি জানে, সেই এবার জীবেন সন্ধানে, ভেবে বোঝ মনে মনে, কার আগমন হয়েছে আর বহুদিনের পরে, এরবার পেয়েছো যারে, দেখ এই জগত সংসারে, চারযুগ হারাণ সে \ আর সৃষ্টি করলেন যিনি, সেই হইতে উৎপত্তি তিনি, ভেবে বোঝ মনে মনে, কার আগমন হয়েছে। ২৩ এই ফকির বলো যারে, দেখো সেই এক্তারে। আর রয়েছে সর্ব্বেশ্বর ধন, ফকির হয় জগতের মহাজন, জান এই বিচারে, অনুগ্রহ করে এবার এ ধন দেছেন যারে \ আর গতি মুক্তি উপায়, সংসারের পরিমাণ সবে চায়, এ সকলি ফকিরের হাত, যদি দয়া করে। আর সকলি বলতেছে নদের চাঁদ সে কে বা এলো, যে করেছে এই সৃষ্টি, সেই ফকির হইল। সত্য এইমালা ত্রেতার ধনুক, দ্বাপর তারপরে বাঁশি বাজায়ে, জীবের করতেছেন দয়া এখন ফকির হয়ে \

২৪ দুরাদুর তো নয় এই মানুষ জানিও নিশ্চয়, আবাসের জগত মেতেছে, ধরা কারোর নাহি দিলেন। এবার এসে ধরা দিছেন, যদি মনে বিশ্বাস হয় \ আর সত্য ত্রেতা দ্বাপর কলি, চারযুগ সবে বলাবলি, এই চারযুগের অধর এধন এবার ধরলে ধরা যায় \ আর জগত জুড়া যে মানুষ হয়, ভুক্ত হয়েছেন চৌদ্দ পোয়ায়, মেউলির গলায় এই জয় ঘণ্টা, দিয়াছেন আপনি ইচ্ছাময় সেই যে মানুষ এখন কোথায় রয় \

২৫ দুগ্ধ অতি দুলর্ভ হয়, এই দুগ্ধের মধ্যে আছে ননী টানলে তারে পাওয়া যায় \ পাত্র ভাল ছাপাই করে, টানতে হবে সাদা দিয়ে সাদামনে টানলে দেখ তবে তারে পাওয়া যায় \ আর টানলে দেখ ওঠে ননী, কতই বা তার গুন বাখানি, চন্ডাল আনিলে ঘৃত ব্রাহ্মনে দেখ যে লয় \ আর এই ঘৃতের দাম অমূল্য,Ñঅস্পৃশ্য সে হয় না ছুলী, ঘোলের মূল্য হয় ডেড়বুড়ি(১পয়সার ৩০ ভাগের ১ ভাগ দাম) হঠাৎ ঘোলের জাত যায় \

২৬ ধান্য যখন থাকে ক্ষেতে ধান গোলায় চিটে পাটনা থাকে সকল একসাথে। আর গোন পাইয়া সব চাষাতে, আঁচাড়া বাসই দিয়ে ক্ষেতে, তিন দিকে যার শিকড় গেছে, সেই উঠে যায় আঁচড়াতে। আর মলন সারে, কুরো ধরে, চিটে ছাট তফাৎ করে \ ঢেঁকি ছাঁটা চাউল ভান্ডে, সেবা দাও পরমান্ন জেনে ফকিরকে, কাঠ পুতুলের জীবে পাপ খন্ডে \

Ñ ২৭ গেল দিন, এদিন রইবে নাতো, দুঃখি জনারে দুঃখ দেবা আর কত। যে জন চুরি অসৎ কর্ম্ম করে, দেখ সব লোকে ডরায় তারে দীননাথ হে নাথ \ আর এই সাধুর কর্ম্ম যে জন করে, সেইতি হল চোরের মত \ আর আশা পেয়ে রাজা হয়ে, বসে আছে তেনকা যত, তারা আশায় রাজা হলে, রাজ্য নাহি পেলে, আশা পেয়ে আমি চাহিব কত \

Ñ২৮ বেদশাস্ত্র ভারত পুরাণ মান্য হয় জগতে, তোমার হিসাব করে দেখে কি লিখেছে তাতে, আর জান এই বিচারেতে। আর উত্তম সহজ বস্তু মধ্যম ধ্যান ও ধারণা ,জপ, তপ, পুজা ধ্যান প্রভৃতি শাস্ত্রের চিন্তা ধাম, বিাচরে অধমের অধম, যার চরণের ধুলা লেগে পাষাণ মানব হলÑসেই যে ঠাকুর বিন্দের শাপে পাষাণ হয়ে রয়, কিসে তাই মানব হয় গৌণপত ও সৌর বৈষ্ণও পরমার্থ বিধ বল, শাক্ত, শৈব তাšিন্ত্রক গুরু বৈষ্ণব আচারণ করতে, এবার বলতেছেন সবেরে বৈষ্ণব কিবা আচারণ করে নবগুন হয় ব্রাহ্মান, শত গুনে হয় বৈষ্ণবের। ২৯ গুরু নিন্দা অধঃগতি এই এক কথা বলে সবে, শিব নিন্দা শুনে সতী দেহ ত্যাগ করিল। আর সেই যে দেহ একান্ন পিঠ হল, পতিনিন্দা কথা সতী কর্নেতে শুনিল \ আর এই যে নিন্দা শুনে সতী দেহ ত্যাগ করিল, চক্রে কেটে দেখ তার খান বিখান হল \ আর দেবগণের গুরু হচ্ছে শিব সকলিত জান, তবে দক্ষর যজ্ঞ যায়ে তারে নিন্দা করিল কেন \ কি জন্যে এত আলাতাল সৃষ্টিতে না রাখিলে সেই যে শিবিরে সে বসত করে ত্রি শূলের পরে থেকে সমুদ্রি একটি নয়া সৃষ্টি করি না পুজিয়া জল গ্রহণ নাই সেথা ছিড়ে ফেলাইল \

Ñ৩০ গুরু কর শত শত মন্ত্র করিও সার, মনের ব্যথা যে ঘুচাবে দোহাই দিও তার। আর জানগে এই এক কথা বিচারে চরনা স্রেত, অধরা স্রোত, আজকে পত্রের শেষ, গুরু চিনে না নিলে, হয় নরকতে প্রবেশ, যে দেবে যেবা নেবে দুয়অরী এক লেশার \ আর গঙ্গা জলে স্নান করিলে পাপী যে তরে যায়, শুনি যোগেতে না লেগে তাহারি ফল নাহি পাওয়া যায়, গঙ্গার সাহিত্য যে লেখা যায়, পাপীর মাংস কাকে খেয়ে যদি গঙ্গার জল খায় সেই পাপী অনায়াসেতে স্বর্গেতে চলে যায়, গঙ্গা সে সামন্য মেয়ে তো নয়, বস্তু গুনের হাকিম যে জল হয় সে করেছে এই সংসার \

মহাজনী পদÑ৩১ অনুরাগে কর গে ভজন, তবে পাবে সেই রূপ দর্শন। ও তোর মানব জনম সফল হবে, ও তারে ভক্তির ডোরে দেও বন্ধন \ আর ভাবের ভাবিক অনুরাগি হও, এভাবে সেভবের তার যুগোল করে লও, ও সেই ভাবের মানুষ ভাব ধরিয়ে কর তাহার নিদর্শন \ আর সত্য কর মিথ্যা, সাবধান, নিষ্কাম হয়ে সদায় বস সেই ধ্যানে। আর মানুষ নিত্য হুকুম সত্য, সুখি বিরাজ করে বেদ ছাড়া তার করণ \ আর প্রবর্তক, সাধক, কিংবাভাব শুসিদ্ধি স্বরুপেতে, হয়ে তবে ছাড়গে স্বভাব, মানুষ রুপেতে মিশে ঝলক দিচ্ছে তার নয়নের কিরণ \

৩২ ভাবিলে ভাবনা পালায়, ওসে চিন্তামনে চিন্তা করলে এসে হয় উদয়। আর এই স্বর্গ মত্ত¡, পাতাল আদি, সৃষ্টি করেন যতবিধি, অনন্ত, অনাদি দয়াময়, কটাক্ষে করতে পারেন লয, প্রলয়। শুনি বেদের অগোচর, বিশ্বব্রহ্মান্তের উপর, অধর বলে কেবল জীবেকে সুধায় \ দেখ এই যে ভবের হাট, যেন নাটুরায়র নাট্, মায়া অবিলম্ব, নাট্টকার বৃথা কেবল, এই ভবের আশায় বিষয়, যদি চিন্তা মনির চিন্তা হয় সকল চিন্তা দূরে যায়, নিত্যধামে জায়গা পায় অন্তিম সময় \

৩৩ দয়াল রে, তোর চরন ধরী, আমি আপন দোষে আপনি মরি। আমি অজ্ঞানে করেছি পাপ, সেই অজ্ঞানের জ্ঞান দেওহে তরি \ গোপাল অধিন ভেবে বলে, আমি আর যাব না চোরের দলে, আর ছয় জন চোরাই করলো চুরি ভাঙ্গল এসে আমার এই ঘর বাড়ী। এখন সমনের দায়, দিলাম তোর দোহাই, এখন শুকন ডাঙ্গায়, হাতড়ে মরি-দে তোর চরণ তরী \ ৩৪ অধর মানুষ ধরা এবার ভার হয়েছে গো। মানুষ ধরি ধরি করি, ধরিতে না পারি গো। এই যে মানুষ ধরবার বেলায় অবুঝ মনে চেতন থাকে না \ সহজ মানুষের রঙ্গ রসেরি তরঙ্গগো এই যে মানুষ রসের আশ্রায় ডুবে রয়েছে \ সহজ মানুষের ধরা বেদবিধি ছাড়াগো, এই যে মানুষ রতœ বেদের উপর বিরাজ করতেছে গো \

৩৫ জগতে কে আনিলোরে, সুধা মাখা সহজ মানুষের নাম। কিবা মধুর নাম, জীবের পক্ষেমুখ্যধাম, দিন অন্তে এ নাম, যে না করে ফকির তারে বাম \ এই নাম নিলে মুখে পরে এজনমে বিপদ খন্ডে, ভব রোগের হয় আরাম \ দেখ নামেরি গুনে দুর্জয় আগুনে বেদে ব্যক্ত প্রহ্লাদ, ভক্ত না মলো প্রাণে, এই নাম শুনলে কর্ণে বিপদ খন্ডে জপরে মন অবিশ্রাম \

৩৬ ফকির বিনে উপায় আর দেখিনে, ও ফকির বিনে, রসিকের মনে এই অভিলাষ, ফকির সামনে রেখে, এই মনের সাধ, গতানন্দযুতে, ভাবনা বুঝে পার ঘাটে যাবিনে। ভবে এসে মিছে খেলা করগো, ফকির দরশনে সদায় সত্য বল, ছাড়বে কুরোল, ধরবে সুবোল ফকির বিনে উপায় আর দেখিনে \

৩৭ জলের মধ্যে ফুল বাগিচা, পাতায় পাতায় মেয়ে। জলের মধ্যে আগুন দিয়ে, বাউল রইল চেয়ে, বুঝ ভাব মনেতে ভাবিয়ে \ আর পূর্বে ছিল নিরাকার, কিসে হলো আকার, কোথা হইতে এই যে ডিম্বু ভাসিতে ভাসিতে এলো, ডিম্বু কে বা ভাসাইল, আর সেই যে ফুলে কি নাম, এই ফুল কোথায় জন্মে ছিল \ যেখানে জন্মে হে এই ফুল, সেই খানে ফল আছে। সে ফুল কেউ পাবে কি, পেয়েছে, আর দেবের গুরু মহেশ্বর হয় কিঞ্চিত ভাব জানিয়ে।

Ñ৩৮ অনুরাগের, ঘরে বিচ্ছেদ যেন হয় এ না, বিচ্ছেদ হলে প্রাণে বুঝি আর সহেনা \ কেয়া ফুলের পেয়ে গন্ধ, ওরে আমার ওলিরাজ রয়েছে বন্ধ, মধুর ধ্বনি ভ‚ষণ মাখা গায়, যেন টোকিতে ভুল এ হয় না \ চাতক রইল মেঘের আসে, ওরে বল মেঘ বর্ষিল কি অন্য দেশে, অন্য দেশে মেঘ বর্ষিলে হেডমুন্ড সে করে না \ আর বারি বিনে না হয় ধান্য ওরে বল গুরু বিনে দেয় শূন্য দেহ শূন্য জগতময় ওতার গতি মুক্তি হয় না \

৩৯ এই মাটি করে খাঁটি, পড়াই কুমরে, বস্তু বিশেষ হয় তার ধনি সে থাকে স্থান অন্তরে \ একে কুমারী গড়াই পোড়ায় একই পোড়ে, যেমন উপরে তেমনি জাগায় রাখে আবার সবাই সেই কুমারে কেউ বা অট্টালিকায় বসত করতেছে, কেউ বা থাকে আদালে \ সতির জল সমুদ্রে পলি সোনা বলি তাই লোকে যতœ করে লয়, হাড়িতে হয় গুলি শামুক ছাইতি কিছু নয়, সতির জল জগতে বরষে নিসানা রয় চার জায়গাতে, হস্তির মস্তকে পলি হয় গজ মুক্তা, বাঁশে বংকোলচন হয় কলা গাছে পলি কপ্পুর ছাইতে কিছুত নয় \

৪০ এ ভাবের ভাবিক নইলে, ও তার ভাব জানা যায় কিসে গো, তার এক ভাব \ ভাবের উপর লাভের বসতি, তাহার উপরে ঢেউ গো, তাহার উপরে মানুষের বসতি এদেশে জানিয়ে আছে কেউ গো \ যখন না ছিল আসমান, না ছিল জমিনও পৃথিবী জন্মিল কিসেগো, আর কোথা হইতে আইল ডিম্বু ভাসিতে ভাসিতে গো \ আগেরও জনম এতিন ভুবনও মানব ও জনম শেষে গো, ঐজন্মে মধ্যে নতুন জনম আছে এ দেশে গো \ যেমন জমিনের উপরে গাছেরও বসতি তাহার উপরে ফুল গো ফুলের উপর ফলেরও বসতি তাহার উপরে কেউগো ও তোর বেদে কি তাই জানতে পারে কত পন্ডিত ঘুরে গেল গো \

৪১ দয়াময় দয়া কর, এবার মোরে রক্ষা কর নিজ গুনে, সর্বদা তোমার চরণ করি স্মরণ অধম তারন নামটি শুনে \ মন আমার আবগরজি গরজ বোঝে না, সুখের গরজ কইবা জানে। মন আমার মিছে পাজি হয় না রাজি তোমার ঐ ভজন সাধনে ও গো যেটুকখানি বুঝ চলে তা সমঝেতো চলতে পারিনে \

৪২ ঠাকুর গো আজ এই করিলে। তুমি জগত ও তরাইলে অবহেলে গো, আমার বেলায় আজ রইলে ভুলে \ যদি এই ডাঙ্গায় না দাঁড়াবে জল, ওগো তবে কেন বলবে লোকে কাঙ্গালের দুলাল, তবে কেন বলবে লোকে জগতের দয়াল \ ভ্রমের পথিক ভ্রমিক প্রেমের প্রেমিক ওগো বিন্দু দয়া কর মোরে \ যদি পাষানে বীজ না হবে অঙ্কুর, ওগো তবে কেন বলবে লোকে কাঙ্গালে ঠাকুর, বলবে কেন জগতের ঠাকুর, ঐ নাম শুনে কর্ণে ভরসা মনে ওগো তোমার লীলে ভাসাও সলীলে \

৪৩ মহারাজার এই নতুন কাছারী, নতুন আচার নতুন বিচার, নতুন বিহারী ওয়ে ও মন নতুন বিচারী \ অধর চাঁদ দিয়েছেন ধরা, আর সুখনয় এলো রতেœ তথা, কত মুনি গণে পাইনি তারে, ধ্যানও করে, ওরে ওমন ধ্যানও করে \ দেখতে গেলাম দু’নয়নে, আর নতুন বাজার লাগালো মনে, প্রাণ জুড়ালো বিচার শুনে, ওরে ওমন নতুন বিচারী \ শুনেছি মহৎ বিচারে, কান্দে বইয়ে ধুলি খেথা এবারে চারি যুগের পরে এসেছেন তিনি, ধ্যানে না পাইরে তিনে নতুন বিহারী ওরে ওমনÑ \

৪৪ আমি পড়ি এ বড় বিপদে, এই বিপদ রক্ষাকরো ধরি তোমার শ্রী পদে ডাকতেছি তোমায় বারে বারে, দেখা দাও এ অধীনেরে, পড়িয়ে অকুল পাথারে। তোমার কাঙ্গাল কাঁদে, মনে প্রাণে \ দয়াল ঠাকুর নামটি ধরে, ভক্তের বাঞ্ছা পূর্ণ করো অধীনের এই দরবারে, তোমার ঐ নাঙা পদে \

Ñ৪৫ আমার গুরু ধন, আমার অপরাধ, মার্জনা, করো তুমি হে। সেবা বাদী অপরাধী, চরণও ধরিয়া সাধি হে \ শুনেছি মহিমা বড়, ও আরে দয়াল পাতকি তরাতে পার হে \ যেমন পদ্মের পত্রতে জল, সদায় করে টলমল হে। জঙ্গলে ঘুরি, দয়াল এলো কেশও নাহি বান্দি হে \

৪৬ আলের আলো জ্বলবে ভাল, সেদিকে তাকাইও না, এই মহৎ মুখের আজ্ঞে ছিল। মরা সব উঠে যাবে, এমন গুন প্রকাশ হবে, সে দিকে না চায় যদি তবে বহল, আর নানা বিধ মত ঘটাবে, বহুগুন প্রকাশ হবে, সে সময় হয়ে এল \ যখন তৈয়ারী হয় খার সে আগুন হয় চমৎকার, ভেবে দেখ সেই খারে, কোন গড়ন না হল \ আর গড়ন দারের দোকানে দেখ, ভাই বোন যেনে শুনে সে আগুন লিপ্ত হবে, লৌহার বিড়ে গলিল \ দেখ এই ভ‚মÐে নুরলে আগুন জ্বলে, খনেক হয় ভারিপ্রভা, হঠাৎ কিছু নয়, আর পাথর চিনে যে রেখে, আগুন তার সঙ্গে আছে, ঠুকলে প্রকাশ হবে \ ৪৭ জগদাননন্দকাটি এসে, চার যুগের রীত করণী সকলি দিয়েছে দুধে \ চার যুগের যে তরনী, সকলি হইল বাছনী, বিচরে দেখ জানি, আনকা আদালতে এ আর, আনকা আদালত ভবিষ্যত তাই হয়ে এলো, সে সময় যার কণা সে এবার প্রকাশ করতেছে বসে \ প্রথম সাত কথা বল্লেন, এ জীবের মত লওয়ালেন, শেষে এবার দুষে বলেন অসতি বলিয়ে, তার পরে পাঁচ কথা বল্লেন, এ জীবের পাওয়ালেন, হালির শহর তিন কথা বল্লেন, ক্রমে সূ² করলেন এসে \

প্রার্থনা পদÑ৪৮ একান্ত ভরাস এবার আমার, তোমার ঐ চরণে, আমি অতি দিন হিনো, না জানি ভজন সাধন। যার আর কেউ নাই এ সংসারে, সে যদি আজ তোমায় ধরে গো, ভবে দুঃখ যায় তার দূরে, সে যদি তোমায় করে স্মরণ \ যে কালে গঙ্গা পার হলেন, আপনি তো বলেছিলেন গো, অনাথের নাথ হয়ে এবার দুঃখী জনার দুঃখ করিবা নিবারণ \

Ñ৪৯ আর আমি তোমা বিনে আর জানিনে, নিজ গুনে ত্বরাও মোরে। আমি অপরাধি, নাই তার বিধি আপনি দয়া করে লও গো পারে \ তোমার নামের যে মহিমা নাই তার সীমা, অধমে কি জানতে পারে। তুমি হয়ে সখা, দেও হে দেখা, অধম ডাকে বারে বারে \ তুমি জগতের সার, ত্রিজগতের নাথ, তোমা বিনে আর বলবো কারে, তুমি না করিলে দয়া, এ অধীন কোন সাধনে পায় তোমারে \ তুমি দীন বন্ধু, কৃপা সিন্ধু, বিন্ধু দয়া কর মোরে, আমার ভজন, সাধন, সব বিস্মরণ, আছি তোমার চরণ আশা করে \

৫০ মন আর কিসের ভয় ও যার নজরে জীব কৃতাত্ত¡ এই সেই দয়াময়, আপনি ইচ্ছা করে ধরা দেছেন কেবর সুখেল দায় \ দেখ আপন সুখের কারণে, কাটলেন ফুট বৃন্দাবনে, বৃন্দাবন দেখ এ ভক্তের মনে, ভক্তের ভুেেক্তা হয়ে বসে, নতুন বিচার কয় \ দেখ সদর মফঃস্বাল ছিল, ইচ্ছা ময়ের ইচ্ছা হল, সদরের কাজ এই মফঃস্বালে এলো, মফঃস্বলের হুকুম দিচ্ছে, ভক্তের দিলে তবে লয় \

৫১ দেরে ঘরের কপাট খুলে ও তোর মনের মানুষ আসুক চলে \ আসবে মানুষ বসবে ঘরে, দেখবিরে তুই নয়ন ভরে, এবার যতœ করে রাখ তারে, আসন দে তোর হৃদ কমলে \ প্রেম ডুবি চরণ ধরে বন্ধন কর পদ মূলে, এবার শক্ত করে দেরে গিরে ফাঁক পেলে সে যাবে চলে \ বাঁধ এটে না যায় ছুটে ওমন রেখ নয়ন খুলে এবার শক্ত করে দেরে গিরে মনের গিরে যেন না যায় খুলে \ সময় বুঝে ভোজন দিও স্নান করাও নয়ন জলে, মন ভক্তির ফল গড়াইয়ে মুখে তারে দিও তুলে \

৫২ প্রেমের সাগরের তরঙ্গ ভারী, এবার গুরু আছে নায়ের কাÐারী \ ও তুই কেন রইলি ভুলে, এবার তরী দেও খুলে, সুবাতাসে সহজ বাদাম, নৌকায় দেও তুলে, ওমন গুরুকে কাÐারী রেখে, গুন টানো আর বাও তরী \ দেখ বিনা বাতাসে ঢেউ হয়, কত পাষাণ ভেসে যায়, ভেবে দেখ সেই সাগরে শোলা ডুবে যায়, ওমন পাগলা দাড়ী করে তেড়ী তাই ভেবে সদায় মরি \

৫৩ ভক্তি বিনে না হয় ভজন, আর এই ভক্তি ভাবে বিশ্বাস হলে, মিলবে তবে এই মানুষ রতন \ আর দেখ বিচারেতে ধরা তো আছে, ভক্তি বিনে মুক্তি পথ কে কোথায় পেয়েছ, দেখ কে কোথায় পেয়েছ, আর ভক্তি হবে মুক্তি পাবে যার আছে একান্ত মনন \ এক মানুষ এখন ভক্তের প্রত্যাশি, তারে ভক্তি ভাবে করো সেবা হয়ে তার দাসী, করো সেবা হয়ে তার দাসী, স্বভাব ছাড়িয়ারে মন এবার এই মানুষ করো নিরিখ নিরুপন। Ñ৫৪ আছ যার আদরে আদরিনী, তারে রেখ সুখে, সময় জল আর সময় ফল দিও তার মুখে \ আর মন দিও বিবেচনা করে, রেখোতারে অন্তঃপুরে, স্বযতনে রেখো সদায় পরম কৌতুকে \ আর একটু বিবেচনা, যে করেছে এ ঘটনা, এমন সুহৃদ আর হবেনা ভেবে দেখ মনে \ আর করিয়া মনন একজন, মন সহিতে কর যতন, পরম আহ্লাদে সে ফল দিও সেই মুখে \

৫৫ যে করেছে এই ্উপকার, আধাঁর ঘরে জ্বেলে বাতি, ঘুচাইয়াছে মনের অন্ধকার , আর এই করিও বিবেচনা, এমন সুহৃদ আর হবেনা, চক্ষু দানও যে দিয়েছেন, মন যোগায়ে থেক তার \ আর তৃষ্ণাতে প্রাণ আকুল হইয়াছিলেন, সমুদ্র দেখাইয়া দিলেন, এবার তৃষ্ণা নিবারণ হইয়াছে চারিযুগের পর \ আর অনুগত হইয়ে, প্রেম সেবা লওগে চেয়ে, এড়াবা সমনের দায়, জনম হবে না আর \

৫৬ কোন প্রেমে, এই যে মানুষ বর্ত্ত-রয়, এ হচ্ছে প্রেমের ধর্ম এ কামির ধর্ম তো নয়।।  আর আপ্তমুখী যে সেই কামি, প্রভুর সুখী, যে সেই সেই প্রেমিক, তারে থাকতে বল্লে নাহি থাকে, তারে যেতে বল্লে নাহি রে যায়।। আর একেতো কুমোরে গড়ে, তৈয়ারী হয় এক পোড়ে, বস্তু বিশেষ হয় তার ধনি, স্থান্তারে গুন প্রকাশ হয় তার।। আর কমল থাকে সরোবরে, শশী লক্ষ যে জন করে, যে রুপেতে যুগল করে তেমনি মত হলে রে হয়।।

৫৭ মিছে কেন ভবের কান্ডে দেখে ঘুরে মর, দিন থাকিতে সত্য নামে বিশ্বাস কর গুরু ধর।। আর সৎ গুরুর উপদেশ, খন্ডে যায় দুঃখ অনায়াসে, যেতে হবে স্বদেশে যদি নিষ্পাম হইতে পার।।  আর যে মালমাল আছে ঘরে, গুরুকে দাও অর্পণ করে, উৎপল বলে এ সংসারে যদি দয়াল অনুগ্রহ করে।।

প্রার্থনা পদ ৫৯ করি এই মিনতি ডাকি আমি দিবানিশি তবু কেন ঘোচেনা দুর্গতি।। আর করিয়া তোমারি নাম সুধাপান, কত জনে পায় মোক্ষধাম।।  আর কত পাপী এই সংসারে, ডাকলে তোমার নাম ধরে, অনায়াসে পার কর তারে, এই তোমার সেই মহৎ রীতি।।

 

৫৮ ওই দেখ পূর্ণিমার চাঁদ উদায় হল, সুবাতাসে লেগে বিকার মেঘ সব কেট গেল।। আর দিবানিশি সমভাব যার অমাবস্যা চাঁদের আলো, মনের আঁধার ছিল, ঘুচে গেল, আজ সাধুর সঙ্গে দেখা হল।। আর বিকার মেঘ সব কেটে গেল, চেয়ে দেখ সে চাঁদের আলো, মনে থাকা বাঞ্ছা ছিল, সিদ্ধ হল, আজ মানুষ চাঁদের দয়া হল।।

 

৬০ চক্ষু থাকতে হয়রে কানা, যে জন প্রেমের ভাব জানে না, প্রেম পদার্থ সুধাময় কেবল জেনেছ ভাবুক জনা।। আর দিবা, নিশি, হৃদকোমলে করে শুধু আনাগোনা, মনের মানুষ কাকে বলে ভাবুক বিনে কেউ জানে না।। আর সদায় দিব্য চক্ষে নজর করে, দেখতে পায় সে চাঁদের কোনা, আর ভাবিক হলে ভাবের কথা কয়, সদায় করে আলোচনা, ওসে ভবের ঘাটে নৌকা বেধে করে হাটে বেচাকেনা।।

৬১ কুলমান ফেলে যে জন ভাবের গুন গায়, দয়াল চাঁদের হুকুম আছে, ওসে নিত্যধামে জায়গা পায়।। ওসে ব্রহ্মপদ তুচ্ছ করে ওযে সপে দেছে প্রাণ, নিত্যধনের ধনী হয়ে ও তার হরে গেছে জ্ঞান, হইলে তার প্রেমের প্রেমিক স্বভাব তেজ্য করিয়ে অটল বস্তু এই সংসারে ও ঢেউ লাগে অন্তরে।। আর নিষ্কামেতে সহজ হয়ে পরমার্থ করে সার, প্রেমফল খেয়ে এবার ঘুচে গেছে অন্ধকার। আর ঘোষ পাড়াতে যখন আলেন জগনন্দাকাটীতে দাসের পোতে মিশে ছিলেন ও ঠাকুর সহজ ভাবতে হয়।।

 

৬২ আমার মন পাখি, পড়েছে ফাফরে, মন পাখি এসে এসংসারে, ভাবতেছে কি ব্যাপার করে।। এসে পাখি করতে ব্যাপার, ও ভেবে টের পেলে না লাভ কি লোকসান, তাই ভেবে মন হচ্ছে ফাপর কি জবাব দিব হুজুরে।। কখনও মন হয় গো রাজা, কখন ভাবে কতই ভাবনা, কখনও হয় দিনের অধিন গাছ তলা সার করে।। ভেবে কাঙ্গাল বলে এবার রক্ষা করো মোরে, সদাই এই কৈবত দিচ্ছি হুজুরে এবার বজায় রেখো চরণে।।

 

৬৩ আমি অপরাধী, দিবানিশি গো আছি, বিচারে না দাবি মন হয়েছি।।  আমি না বুঝে মর্ম, ও গো করেছি কু-কর্ম, আমার উপায় ঠাকুর তুমি যা কর, আমি খনেক চেতন খনেক ভোলা, না জানি কি করগো তুমি।। তুমি ইচ্ছা করে আমায় রাখ বজরায়, তুমি কৃপা করে আমায় রাখ বজরায়, যেন করতে পারি তোমার সু-খ্যাতি।। শুনো কাঙ্গালের কথা, ঘুচাও এই মনের ব্যথা, তুমি নির্ধনের ধন সরৎসারকর্তা, কি উপয় কর গো তুমি।। শুনো অধমের কাহিনী, ঝরে এই চোখের বারী, না জানি কি কর গো তুমি।

 

৬৪ ঘরে যুত করে মানুষ রাখতে হয়, এবার রাখলে তারে, অন্ধকারে, হবে দিপ্তময়।। এসেছ মন ভবের হাটে, মানুষ নইলে কোন কাজ মেটে, এই মানুষে মানুষ সত্য বটে, চিনে লও মন তাই।। ভেবে দেখ মন এই জগতে, এসব হয় কার ইচ্ছামতে এই মানুষ-মানুষ রতন হয়েছে উদয়।। সত্য মানুষের সঙ্গে থেকে, সত্য সত্য বল মুখে, নিরবধি থাকবা সুখে, মানুষের আশ্রায়।।

 

৬৫ খুব হুসিয়ারী থেকো এবর মন, নইলে পাবি না তুই, সেই মানুষ দর্শন।। হুসিয়ারী থেকো এবার, থেকে কর সহজ ব্যাপার, এবার সহজ ধনে সহজ মনে, অন্য আশার নাই প্রয়োজন, হিসাবে কি তোর বাকি আছে, হিসাব দাও মন গুরুর কাছে।। ঐদেখ বসেছে তোর মহাজন, খাদবাটা ছাড়বে না তোর খোদ মহাজন।।

৬৬ সহজ মানুষ কি শুধু কথায় পাওয়া যায়, হলে আপনি সহজ তবে সহজ মানুষ পাওয়া যায়। সহজ সহজ বলতেছে সবাই, কে দেখেছো, কে শুনেছো, সহজ মানুষ রয়েছে কোথায়, ব্রাহ্মান্ডের উপরে মানুষরেÑঈশ্বর ও তার ধ্যানে রয়।।  সহজ প্রেম জীবে কি জানে, জেনে ছিল রূপ সুনাতন ভাইরে দুইজনে তারা দুই মনে এক মন মিশাইয়ে নিত্য বিন্দাবনে রয়।।  সহজ প্রেমের করে আস্বাদন, যেমন চন্ডীদাস হরে নিল রজকিনির মন, তারা অসাধ্যকে, সাধ্য করে সূক্ষ্ন দেহ দানও পায়।।

 

৬৭ ও যার রূপ রয়েছে ব্রহ্মান্ডে উপর। ইহার মধ্যে আছে মানুষ, ও তার মতলব বুঝা ভার।। অখন্ড গোলক নদী, তোমরা বুঝে দিও সাঁতার, ইহার মধ্যে আছে মানুষ, একেলা ঈশ্বর, ও তার মতলব বুঝা ভার।। আর গয়া গেলাম, কাশি গেলাম, আরও গেলাম বৃন্দাবন, সকল তীর্থ দেখে এলাম, আমার গুরুর চরণ।। নীর হতে নিরাঞ্জন পয়দা, নিচে মৃত্তিকার গঠন, ইহার মধ্যে আছে মানুষ, অমূল্য রতন সেই সেই নিরাঞ্জন।।

৬৮ যাহার হুকুমে, ঘর তৈয়ারী, বসত দাও মন তারে, যে ঘরে মানুষ বসত না করে, বসত করে জীব জানোয়ারে, যখন আসে ঝড়, উড়ে যায় খড়, তখন কে রক্ষা করে।। ঘরের যেমন আশায়, দেচ্ছেন খুঁটি, পাড় দিয়েছেন পরিপাটি, তীর আর বাইনে, অতি যুতি“ ঘর এ, এত কেবা বেযুত করে।। ঘরের যেমন রুয়ো তেমনি অটো সেলায় মুরষে বয়রা ছটন, অতি যুতি নর ঘর, এঘর কেবা বেযুত করে।।

 

৬৯ কি দিব, কি দিব, প্রাণ ধন আছে আমার, কি দিব কি দিব, যে ধনও তোমারে দিব, প্রাণ ধন সেই ধন আমার তুমি।। কি দিব কি দিব প্রাণ ধন কি ধন আছে আমার।। তোমারি ধন তোমার দিয়ে, প্রানধন দাাস্যগিরি করবো।। তোমার ধন তোমারি দিয়ে প্রাণধন দাস্যগিরি করব পায়।।

৭০ এবার গুরু সত্য নাম মুখে বলো রসনা। যে নাম করিলে যাবে জঠর যন্ত্রণা, শিয়রে কালে সমন বসে, কোন সময় বাঁধবে এসে।। ভুলে রইলি বিষয় বিষে দিশে হলো না আশি লক্ষবার ঘুরে এসে, মানব জনম পেলাম শেষে, এবার যেন হারাও না দিশে, গুরু সত্য নাম ভুলো না।। ভাই বন্ধু আদি, এজগতের সাথী, এরা কেউ হবে না, সঙ্গের সাথী কাঙ্গাল বলে, অন্তিমকালে , গুরু নাম ছাড়া কেউ যাবে না পারে।।

 

৭১ সহজ মানুষের সঙ্গ ধরো মন, যদি যাবি রঙ্গে প্রেম তরঙ্গে বৃন্দাবন।। আছে সাধ্য সাধন যার, সে মানুষ বিরাজের উপর বেদের লোকে জানবে কি তার গম্ভীর পাওয়া ভাব, বেদ খুঁজে, ভেদ কেউ পেল না সে বস্তু অতি গোপন।। আছে মানুষ অটল নগরে সে রুপেরই ঘরে, নয়ন তারায় না যায় ধরা সে যে অধর মানুষ, মনিপুরে বিরাজ করে নাম হলো তার মদন মোহন।।

 

৭২ যারে ডাকলে মনের দুঃখ যায় দূরে, কি জন্যে মন খুলে একাবর ডাকনা ভাই তারে।। সেই মহত নামের মহিমা সীমা দিবার নয়, মন নিরীক্ষণ কল্পে সারাক্ষণ বর্ত্তে সুখচয়।। যদি কপাট খুলে ডাকো দিন দয়ালেরে, সে কালে থাকতে কি পারে, সদা হৃদয় মাঝে বিরাজ করে আপনি দয়াময়।। সে যে অমূল্য ধন বিনা যত্নে বয় কোন ঠাঁই, যতন করলে বিনা মূল্যে পাবে তারে ভাই, এখন প্রাণ খুলে ডাকলে তারে পারের ভাবনা থাকবে না রে।। অধমের এই মিনতি, তুমি দয়া করিয়ে ঘুচাও এই ত্রিতাপের গতি , এবার শ্রী পদ পদ্মস্থানে দাও মোরে।।

 

৭৩ বড় বিবেচনায় কর্মএ বিবেচনার না থাকিলে, চোখ থাকিতে কানা সে।।  আর না বলতে কাজ যে করে, উত্তম ভক্ত হয় বিচারে, আর বললে কয়ে যে করে মধ্যম বলে তারে, আর কয়ে বলে যে না করে, নরাধম বলে তারে।।  তিন জন বিয়ানে ছিল, দুই তার অয়ানিত. বিবেচনা যার হইল, এই বস্তু সেই পেয়েছে। আর একটু বিবেচনা শূন্য হস্তে যায়তে মানা, একান্তির পর এক বিন্দু মাটি দিও নিচু জায়গা যেখানে।।

 

৭৪ যার যে মনন যাতা সিদ্ধি হবে, বিশ্বাস ও জানে। বহু জনম করে ভ্রমণ, পেয়েছো এই সাধের জনম, আর হবে না গর্ভের যাতন, মানুষ ভজন কর চিনে।। অগতির গতি হবে, অন্ধজনা চক্ষু পাবে, মরাতে এই জীবন পাইবে, এই মহতের নামের গুনে।। যার ভরসায় চারযুগ ছিল, সে করতেছে এই মানুষ লীলে, মনের কথা কও সব খুলে, দুঃখ যাবে বিচার শুনে।।

 

৭৫ যে দিন যায় মোর সেদিন ভাল। যদি আয়ছিস ভবে ওরে মন আমার, কাজ কি ভবে, ভাবলে কি আর হবে বলো।। ঐশ্বর্য করো ত্যাজ্য, সাধরে মন আপন কার্য, বাণিজ্য যা হবার হলো।। দরিদ্র যায় লঙ্কার পার লভ্য না হয়, শ্রমের সার, আমি কপাল গুনে মানিক পেলাম, সাধন বিনে ঘোলায় পরলাম।। গুপি বলে হায় কি হলো, সুখ চেয়ে মোর শাস্তি ভাল, আর এমন সুমুদ্ররে সজ্জা করে শিশিরের ভয় রাখতে হলো।।

 

৭৬ মন যদি, মনের মানুষ চেনে, ও তার অভাব হয় না এই ভূবনে। ওমন বোঝ যদি মর্ম এই সত্য ধর্মের কাজ কর্ম যে ধরনে। এই যে নিত্য ধন এই জীবের জীবন আছে সদ্য সর্বক্ষণ বর্তমান।।  সে যে সারের সার নাই তার পরস্পর, ওতার সহজ বিচার এই ভ‚বনে, ওমন কর যদি ভক্তি, মানুষের রিত পদ্ধতি, জানবে জ্ঞানে।। মন ভাব মনে মনে বসে নির্জনে যেতে হয় না দেশ ভ্রমণে, ও যার পায়ে বেড়ী, যায় না করোর বাড়ী, করে দৌড় দৌড়ি এক উঠোনে।। সতীর সত্য ধর্ম, যে সব কাজ কর্ম, করে যদি পতি চিনে, সদায় থাকে বাসায়, নাই তার অন্য আশায়, ও তার আশায় বিষয় ঐচরণে।।

 

৭৭ মানুষ চিন্তা করো রে মন অন্য চিন্তার কি প্রয়োজন, এই মানুষে আছে মিশে সেই মানুষ রতন।। আর অন্ধকারও ধন্ধকারও কুয়োকারও নইরেকারও, চারি কারের পরেরও কার ডিম্বুও আকার-ডিম্বুকারের আসন করে, শক্তি মুক্তির রতি ধরে করেছে এই জীবন সৃজন।।  অটল রতি বলো যারে, ভুলাইলে সে নাহি ভোলে, বন্ধু বলে বন্ধন দিলে খুললে খোলে না, অটলও টলিবে যেদিন ব্রহ্মান্ড খসিবে সেদিন, সেই দিন সবে নিসকিন হবে মালিক হবে চলিতন।। তার মকর কে বুঝতে পারে নইরে কার হয় কিস্তির পরে, হুকুমিতে এ সৃষ্টি করেছেন তৈয়ার, যার হুকুেম ফলও ধরে, সেই কি রতি দানও করে, ঐ রসও রতি সাধলে পরে, পাবানা তার অন্বেষণ।।

 

৭৮ ঠাকুর তুমি দয়াময়, সকলে তো কয়, তাইতে বাঞ্চা করি।। তুমি ত্রিজগতের সার মহিমা অপর, এভবেরও কান্ডারি।। তুমি ইচ্ছা করে এসে, জগদানন্দকাটি বসে, দিলেন পাপী উদ্ধার করিয়ে।। তোমার নামের গুন ভাব জেনেছে উদ্ধাপ আর জেনেছে হারী।। এক দিন বাকশায় যাওয়ার বেলায়, গাজীরও বটতলায় করেছিলেন কাছারী। সেই দিন মরায় জীবন পায়, তোমারও কৃপায়, রামদেব করলেন দেরি।। আশু মামুদ চরে, ছিল বড় দুঃখী, তুমি দয়া করিয়ে হুকুম দাও তাহার প্রতি, তাইতে এ কাছারী।। ছিল দাতারাম সাহা, তাহার যে দুর্দ্দশা ছিল বড় ভারী, ঠাকুর তুমি মহাজন দিলে পুঁজি ধন তাইতে আড়ৎদারী।।

৭৯ ভজো ফকির ঠাকুর, কহ ফকির ঠাকুর, লহো ঠাকুরের নাম রে।। যেজন আমার ফকির ঠাকুর ভজে, সেই তো আমার প্রাণও রে।। জগতের দয়াল, ফকির ঠাকুর ভজলে, পূর্ণ হয় মনোষ্কামরে।। জীবের লাগিয়া, সহজ হইয়া, এলেন ফকির ঠাকুর।। জগৎ গুরু বলিয়া, দুবাহু তুলিয়া, ফকির গুন গাওরে।। জীবেরী দুর্গতি, দেখিয়া ঠাকুর, উদয় হলেন নিত্য ধামেরে।। জয় ঠাকুর, ফকির ঠাকুর বলে, মন চল নিত্য ধামেরে।। চলে গেলেন জমিনি উদিল দিনমনি, অনায়াসে জীব যাবে ভবপারে রে।। এ শুভ লগনে, যে কোন সমনে, বসিয়া ফকির ঠাকুর গুন গাও রে।। জাগিও বিহাঙ্গ, একখানে বসিয়া, ঠাকুর গুন গাওরে।। ফকির ঠাকুর জগৎ গুরু, বাঞ্চা কল্পতরু, যে নামে সহজ প্রেম করেরে।। সে দিলে হৃদয়ের দরশন, ঘুচে যায় ভববন্ধন, ভব ভয় অমঙ্গল নাশেরে।। ফকির ঠাকুর পারের কান্ডারী, রসের ভান্ডরী, ভাসছে ঐ কমল কলি, কোম্পানীর নৌকায় রে।। নিত্য সত্য প্রেম পদার্থ আপনি কর্তা দয়াময়।।

৮০ মহারাজ এই কাছারী, আপনি বসে আছেন মহারাজ, আমি এই কৈবেত করি। ওগো কাছারী বসে আছেন আপনি, মোরে কৃপা করে দেও গো চরণ, আমি ভজন না জানি, আছি কেবল তোমার অধীনে, ভরসা কেবল তোমারি, ওগো তুমি সহায় থেকে বরাবরি। তোমার আপন কথা কওগো আপনি, ভক্তের মনে বসে কওগো বিচার, সবে তাই শুনি, আজ্ঞে হুকুম সবে তাই শুনি, অন্য আর সকলি ত্যাগি, আছি তোমার চরণ ভরসা করি।

৮১

নতুন ধ্বনী প্রকাশ করলেন, এসে নতুন মহাজন, তিনি কোন ধনে ও ধনী হয়ে দেছেন কোন ধনের দাদন এই কথাটি করো অন্বেষন। আর আলেন তিনি কলির শেষে, ফকির বেশে বঙ্গদেশে, প্রথম ঘোষপাড়ায় বসিয়ে বল্লেন বিবরণ, সেই হতে হয় এ ঘটনা করবে ভাই বিবেচনা, শুধু কথায় হয় না ধর্ম জানা জানতে হয় তার নিদর্শন। আর এক কথা এই হইল কোন জিনিসের দোকান দিল খদ্দের তাহার না জুটিল এ আবার কেমন, সে জিনিস কোথায় রয়েছে, এভাবও কি কেউ পেয়েছে, সে কোন ভাবের কোন কথা বলেছে সেইটা ভাবি সর্বক্ষণ। আর করলেন এসে প্রেমের বাজার, বসেছে নতুন দোকানদার, বেচাকেনা কোন জিনিস তার, না জানি কারণ, কেউ কখনও যা না দিয়েছে, কেউ কখনো যা না খেয়েছে, এমন কি জিনিস রয়েছে, ও তার মূল্য কি জগতে আছে, যে জানে সে বলে এখন। আর কোন কথায় বাংলা ব্যকুব হয়, সেই কথা বসে মহাজনে কয়, সে জিনিস কি গোপনে রয়, ভাবি তাই এখন, হয়না কি তার বেচা-কেনা মূল্য কি কেউ দিতে পারেনা, করি দিবা নিশি তাই ভাবনা নেয় না কেন সাধুজনা।।

৮২ রাজা বাহাদুর আসতেছে সে যে, করিতে বাদশাই, সেই হুকুম হইতেছে জারি ভবিষ্যতের আর দেরী নাই। আসিতেছেন শ্বেত হস্তির পরে, এই জগৎ সংসারে, ইচ্ছা করে করবেন, বাদশাই, চার যুগের পরে, যার যে পতি, এবার চিনে হবে লতি, নিরাপন রাখিও তাই। যে যা বলিবে আমায়, সব হইবে খামার, নিলাম করে ধরে লবে, করিয়ে বিচার, ও যার এক ডাকে হয় জগৎ কম্পয়, এবার শত শত ডাকবেন তাই। বিচার আছে শুনতে পাই, ও যার বড় মুখের কথা তাই, পাপ দেহে থাকিতে বাংলায়, করবেন না বাদশাই, দৈবি লংকারেরা আসিবে যখন, পাপ দেহ রাখবেন না। যখন ভুমি কম্পো হবে, এজীব অচেতন হবে, সত্য স্বধর্ম বহাল যার, সেই দেখতে পারবে, ওসে নিত্য পদে, এবার যেজন সুপিয়াছে ও সেই বজায় রবে শুনতে পাই।

৮৩ যাহার ও কৃপায় এজগতে সকল হয়, ফকির বেশেতে আসলেন ঘোষ পাড়ায়। ও তার কোন বিষয় অভাব ছিল কি জন্যে ফকির হল, কুঁড়ে রলেন্ কিসের দায়। নদেতে বের হয়ে, কাঞ্চন নগর যেয়ে, হাল খাল সব গাধার গলাতে দিয়ে, ফকির এসে হলেন গঙ্গাপার, ধরা দিলেন হালিশ্বর, নতুন কথার ভাব জানায়। কিছু দিন সময়, যাতেন ঐ ঘোষপাড়ায়, পালের পোর (রামসরণ) সাথে পথে দেখা হয়। ছিল দৈব যোগের ঘটনা, যশোদার কোলে সোনা, চাঁদের কোনা হয় উদয়। পালের পো তখন, পেয়ে এই জীবন ধন, কুঁড়ে বান্ধে দিলেন ততক্ষণ, ফকির কুঁড়ের মধ্যে বাস করেন মা বললেন দিয়ে সতীরে, তাপিত প্রাণ শীতল হয়।

৮৪ এই সৃষ্টির সংসার যে করেছেন, এসেছেন তিনি। কারোর সুখের আশায়, ফকির বেশে ধরা দেছেন আপনি। এই ফকির কে দিয়েও সর্বভার এই কথা মূলাধার, খেতে বসতে চলতে পথে সঙ্গে লবা তার, আর কর্ম ফলের যার ভাগ্যে যা আছে ও তা সকলি ঘুচাবেন ইনি। এই ফকির কে রেখ যতনে, মনের হরিষে, পাপ তাপ সব যাবে দূরে, তাহার আদেশে, ও তার সুখের অন্তে, যে কথা বলেছেন তা কেবলি জানে উনি।

৮৫ ফকির, নতুন হাট বসালে তুমি, জগতে তা কেউ জানে না এই হাটে দেখি কেবল, গরীব দুঃখির বেচা কেনা। তোমার এই নতুন হাটে, দুঃখি তাপি, কতই জোটে, তুমি তাদের মহাজন বটে, তাদের নাইকো পুজির ভাবনা। হাট বসাইয়ে হুকুম দিলেন, দুঃখির দুঃখ ঘুচাইলেন, এখন তারে অবহেলায় কিনতেছে তামাগুনা। পূর্বে তোমার যে হাট ছিল, সে দোকানদার সব ফেল হইল, কাঙ্গালের ভাগ্য ছিল, তাইতে করলেন এই কারখানা। বেড়ায়ে সব ঘাটে ঘাটে, এলাম তোমার নতুন হাটে, শুনি তুমি দয়ল বটে, এই অধম চাচ্ছে চরন দু’খানা।

৮৬ ফকির হালিশ্বরে যখন আলেন, এসে জীবের প্রতি সদয় হলেন, (সদয় হলেন গো, সদয় হলেন)। আর আসতে পথে দৈব যোগে শুভদ্রার সঙ্গে দেখা হলো, ফকির জায়গা পেয়ে কিঞ্চত থুয়ে স্থানান্তরে চলে গেলেন গো, চলে গেলেন। আর দাতা তুতা কিংকর ভোলা, আরো তাতে হটু ছিল, ফকির এ সকলকে ত্যাজ্য করে, পালেরপোতে (রামসরণ) ভুক্ত হলেন, গো ভুক্ত হলেন। বসিয়ে হুকুম দিলেন কুঁড়ে একখান বেঁধে দিলেন, ফকির কুঁড়ের মধ্যে বাস করেন, মা বললেন সতীরে, (সতীরে)। আর অমৃত ঘটি হাতে লইয়ে পৌছালেন গিয়ে কুড়ের দ্বারে, ও সে মানুষেরী সুখ মিটায়ে স্থানান্তওে চলে গেলেন গো, চলে গেলেন।

৮৭ যদি এসছো, ঠাকুর দয়াকরে এই সংসারে। তবে করো কৃপা দান, অধমের বিধান, জুড়াক তাপির প্রাণ, তোমার নজরে। আর ঘোষপাড়াতে এসে দিলেন এভাবের পরিচয়, কত মহাপাপী, সে পাপ তোমার নামেতে খন্ডে যায়। আমি তাইতে আকিঞ্চন করিতেছি এখন জুড়াক তাপিত প্রাণ তোমার নজরে। ওগো ডাকিতেছি সদায় হয়ো না নিদয়, এই অধমের প্রতি। আমার মত পাপি এ ত্রিসংসারে আর নাই, এই সব দুঃখের কথা কেবল তোমার কাছে জানাই, যদি চরণ পাই, বাসনা পুরাই, এই কৈবেত কেবল তোমার হুজুরে।।

৮৮ ঐক্য নইলে তো হবে না। প্রমাণ হালিশ্বরের ষোল হাজার বত্রিশ জনা। যেখানে ঐক্য ছিল, সেখানে আপনি এলো কতজন আশায় ছিল, কেউতো পেল না, ভাব না বুঝলে লাভ হবে না। বোঝ ভাব ভেবে ভেবে, ভাবের ভাবিক হও যে জন। হালিশ্বরে বলে ছিলেন, ঐখানে বিচার হল, বিচারে সই না পলো হলো বাছনি, এবার সারামতে ভিয়ান হবে না, ধন তলার মাঠদে গেলে ধন তো পাবে না। একর্ম যে জন করো, সে সদায় করো , জলকাটলে ভাগ রবেনা প্রীতি ফাঁক সবেনা, রিত বুঝে করো পিরিত, ভাবের ভাবিক হও যে জন। বিবেচনা আর যে হয়, ভাবের মহাজন সে সদায়, সেই অনুগত রাখ নিরিখ নিরাপন বিচার করো বিবেচনা। সেই মুখে যা, হৃদয়ে কর অক্যি, মনেতে রাখ স্বাক্ষী, আর না করো অন্য আশা, বসে নতুন স্বরে নতুন বেনে, সই করিবেন পরগ জেনে, রং তামা লবে চিনে প্রয়োগে যাবে জানা।

৮৯ এই জাহির করলেন ফকির, কিসেরি কারণ, সেই কথাটি ভাই সকল বসে করো বিচক্ষন। চার যুগ গিয়েছে যার রাজত্ব ভাবেতে, সে কিসের অভাবে কলির শেষে ফকির বেশেতে, আলেন কি জন্যে, এই কথাটির ঠাহর হইলে সফল হবে জনম। যার হুকুমিতে সৃষ্টি হয়, পলক প্রলয় তিনি কি গরজের দায়, জীবের দ্বারে, চাল সিধে, আপনি চেয়ে লয়। এবার সে কথাটি বিশেষ রুপে জান নইলে জনম হবে অকারণ।

৯০ নতুন ধ্বনী প্রকাশ করলেন, এসে নতুন মহাজন, তিনি কোন ধনে ও ধনী হয়ে দেছেন কোন ধনের দাদন এই কথাটি করো অন্বেষন। আর আলেন তিনি কলির শেষে, ফকির বেশে বঙ্গদেশে, প্রথম ঘোষপাড়ায় বসিয়ে বল্লেন বিবরণ, সেই হতে হয় এ ঘটনা করবে ভাই বিবেচনা, শুধু কথায় হয় না ধর্ম জানা জানতে হয় তার নিদর্শন। আর এক কথা এই হইল কোন জিনিসের দোকান দিল খদ্দের তাহার না জুটিল এ আবার কেমন, সে জিনিস কোথায় রয়েছে, এভাবও কি কেউ পেয়েছে, সে কোন ভাবের কোন কথা বলেছে সেইটা ভাবি সর্বক্ষণ। আর করলেন এসে প্রেমের বাজার, বসেছে নতুন দোকানদার, বেচাকেনা কোন জিনিস তার, না জানি কারণ, কেউ কখনও যা না দিয়েছে, কেউ কখনো যা না খেয়েছে, এমন কি জিনিস রয়েছে, ও তার মূল্য কি জগতে আছে, যে জানে সে বলে এখন। আর কোন কথায় বাংলা ব্যকুব হয়, সেই কথা বসে মহাজনে কয়, সে জিনিস কি গোপনে রয়, ভাবি তাই এখন, হয়না কি তার বেচা-কেনা মূল্য কি কেউ দিতে পারেনা, করি দিবা নিশি তাই ভাবনা নেয় না কেন সাধুজনা।

৯৫ একান্ত ভরসা আমার এবার, তোমার ঐ চরণও, আমি অতি দিনোহীনও, না জানি ভজন সাধনও। যার আর কেউ নাই এ সংসারে, সে যদি আজ তোমায় ধরে ওগো, তবে দুঃখ যায় তার দুরে, করলে তার নাম স্বরণও। যে কালে গঙ্গা পার হলেন, আপনি নিজে বলেছিলেন গো, অনার্থেও নাথ হয়ে এবার, দুঃখী জনার দুঃখ করিবা নিবারণও।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

You may use these HTML tags and attributes:

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>