বাংলাদেশের লোকধর্ম (পর্ব-৬)

ভগবানিয়া ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের তুলনামূলক আলোচনা
ষষ্ঠ অধ্যায়

বাংলাদেশের লোকধর্ম ও সংস্কৃতিরধারাগুলি সঙ্কীর্ণতা ও বিধিনিষেধ থেকে অনেকাংশে মুক্ত কেননা এদেশের লোকায়তধর্ম সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে আছে এদেশের পুরানো ধর্ম-সংস্কৃতির গৌরবোজ্জল ধারা। বৌদ্ধ- সহজিয়াদের দেহ সাধনা-তন্ত্রমন্ত্র বৈষ্ণবদের প্রেমবাদ বাউল ফকিরদের ধর্ম দর্শনের সংমিশ্রনে বিকশিত হয়েছে এদেশের লোকধর্ম ও সংস্কৃতি।

ষোড়শ শতকের চৈতন্য প্রবর্তিত উদার মানবিক লোকধর্ম-সংস্কৃতির পথ বেয়ে পরবর্তীতে এদেশে গোষ্ঠী কেন্দ্রিক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র লোক ধর্মের যে ধারা লক্ষ করা যায় তার মধ্যে কর্তাভজা ও ভগবানিয়া অন্যতম। ভগবানিয়া সম্প্রদায়টিকে যদিও কর্তাভজা সম্প্রদায়ের সাথে কখনো কখনো গুলিয়ে ফেলা হয় তবুও বাংলাদেশের এই সম্প্রদায়টি কর্তাভজাদের থেকে আলাদা এবং অনেকটাই স্বতন্ত্র।

কর্তাভজা ও ভগবানিয়া

তৎকালীন সামাজিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে রক্ষণশীল হিন্দুধর্মের বর্ণবাদের দৌরাত্ম্য, হিন্দু-মুসলিমদের দান্দ্বিক অবস্থান অন্তজ্য সম্প্রদায়কে ক্রমশই কোনঠাসা করে দিচ্ছিলো। সমাজে তাদের কোন মূল্যই ছিলো না। এঅবস্থায় চৈতন্যদেবের আবির্ভাবে প্রেম ও ভক্তিবাদী বৈষ্ণব আন্দোলন বেগবান হলেও তাঁর অন্তর্ধানের পর পূণরায় তা ক্ষমতাবান বৈষ্ণবদের কুক্ষিগত হয়ে যায়। ফলে চৈতন্য বৈষ্ণব আন্দোলন সামগ্রীক অর্থে তেমন সুফল বয়ে আনতে সমর্থ হয়নি। এরকম একটি পরিস্থিতিতে তাঁর আদর্শের অংশ বিশেষ লালন করে আউলে চাঁদের আবির্ভাব। বিশ্বাসী ভক্তরা তাকে স্বয়ং চৈতন্য বা চৈতন্যের অবতারাংশ হিসেবে মান্য করে। আউলেচাঁদ ঈশ্বরকে কর্তা বলতেন।১লালনের মতোই তিনি গানে গানে প্রচার করতেন তাঁর ধর্মমত। অনুসারিদের তিনি কর্তার উপাসনা করতে বলতেন।২ তাই লোকেরা তার সম্প্রদায়কে কর্তভজা নামে ডাকতে শুরু করে। আউলেচাঁদের প্রথম ও প্রধান শিষ্য ছিলেন রামশরন পাল। ১৭৬৯ খ্রিস্টাব্দের কোন এক সময় আউলেচাঁদের সাথে তার দেখা হয়। গোপাল চন্দ্র সরদার জানান-‘ ১৭৬৯ খ্রিস্টাব্দের কোন এক সময় রামশরন পালের সাথে আউল চাঁদ ফকিরের সাক্ষাৎ ঘটে এবং কর্তাভজা সম্প্রদায়ের উদ্ভবের প্রেক্ষাপট রচিত হয়।’৩কর্তাভজা সম্প্রদায়ের প্রথম দীক্ষিত ব্যক্তি রামশরণ পাল ছিলেন মুর্শিদাবাদের জগদীশপুরের বাসিন্দা।তিনি জাতিতে ছিলেন সদগোপ। রামশরণ পালের প্রথম স্ত্রী গৌরী মারা গেলে তিনি একই গ্রামের সরস্বতী দেবীকে বিয়ে করে কল্যানী থানার ঘোষপাড়ায় বসবাস করতে থাকেন। রামশরণ পাল আউলে চাঁদের কাছে দীক্ষা নেবার পর আউলেচাঁদ তাকে কর্তাবাবা উপাধিতে ভূষিত করেন। সেই থেকে কর্তাভজা সম্প্রদাযের গুরুরা ভক্তের কাছে কর্তাবাবা বা কর্তা মা নামে পরিচিত হন। কর্তাভজা সম্প্রদায় ঈশ্বরকে কর্তা নয় মালিক বলে থাকে আর এই মালিকের সন্ধান ও সান্নিধ্য লাভের পথ যিনি দেখান তিনি হলেন গুরু বা কর্তা। ভক্তরা তাকে ভক্তিতে কর্তাবাবা বা কর্তা মা বলে ডাকে। আউলেচাঁদ তাঁর মতাদর্শকে সহজ ও সাবলীল করে পালন করতে নির্দেশ দেন। কোন প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মমতের ক্রিয়াকলাপকে তিনি অনুসরণ করতে নয় বরং সহজভাবে কর্তাকে ভজনা করাই হলো তাাঁর সহজ ধর্ম। “ আউলেচাঁদের নির্দেশ ছিল এ মতাদর্শকে সহজভাবে পালন করতে হবে আর একারণে আউলে চাঁদ ফকির প্রবর্তিত ধর্মের নাম হলো সহজিয়া ধর্ম।”৪আউলেচাঁদ ফকিরের অনুসারী হিসেবে রামশরণ পালের কর্তা তথা গুরুর ভজনা করার মধ্য দিয়েই আউলেচাঁদের এই মত কর্তাভজা নামে প্রচার ও প্রসার লাভ করে।“ …কিন্তু পরবর্তীতে কর্তাবাবা রামশরণ পালের স্থুলদেহের ভজনার সূত্র ধরেই এ সম্প্রদায়ের নামকরণ করা হয় কর্তাভজা।”৫
তাহলে দেখা যাচ্ছে যে, চৈতন্য দর্শন থেকে খানিকটা সরে এসে আউলে চাঁদ যে সহজিয়া ধর্ম প্রচার করেন তারই উপধারা হল কর্তাভজা সম্প্রদায় যার প্রধান প্রচারক হলেন রামশরন পাল, সতিমা ও তাদেও পুত্র দুলাল চাঁদ।
আর ভগবানিয়া হলো আউলেচাঁদের ২২শিষ্যের অন্যতম শিষ্য শিশুরাম বা শিব ফকিরের প্রবর্তীত ধর্মমত। এছাড়া ভগবজ্জন বলেও একটি উপধর্ম সম্প্রদায়ের নাম শোনা যায় কর্তাভজা বা ভগবানিয়াদের মুখে।
বাংলাদেশে মুসলিম সংস্কৃতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা বেশি লক্ষ করা যায় শিবরাম ফকিরের অনুসারীদেও মধ্যে। মূলত মুসলিম রিচ্যুয়াল সমৃদ্ধ সহজ ধর্মমতই ভগবানিয়া বা ভগমেনে সম্প্রদায় রুপে পরিচিত। বাংলাদেশে এরা শিবরামপন্থি ও সংখ্যাগরিষ্ঠ। অপর দিকে হিন্দু সংস্কৃতির সাথে সংশ্লিষ্ট গুরুভজা বা কর্তাভজারা ভগবজ্জন বলে পরিচিত। এদেও রিচ্যুয়ালে হিন্দুর লোকাচার বেশি পরিলক্ষিত হয়। কার্যত আউলেচাঁদের শিষ্যদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত বলে উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রচুর সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়।
শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভ’র অনুসারীদের মধ্যে অনেকেই চৈতন্যের অবস্থান থেকে সরে এসে সহজিয়া ধর্মমতের দিকে ঝুকে পড়েছিলে এবং তারাই বৈষ্ণব- সহজিয়া আন্দোলনকে সচল রেখেছিলেন। তারা তাদের মতো করে তন্ত্রশাস্ত্রকে নিজ নিজ ঘরানায় প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেন। শ্রীখন্ড ঘরানায় চৈতন্য ও নিত্যানন্দের অনুসারী মুকুন্দদাস, নরহরি ও রঘুনন্দ গৌরাঙ্গ পুজার প্রচলন করেন।৬ অন্যদিকে নবদ্বীপের কুলিয়া ঘরানার রস-রাজ সাধনার অন্যতম প্রবর্তক বংশীবাদন ও তার পিতা চকরী-চট্ট। এভাবে বৈষ্ণব তান্ত্রিক সাধনা ছড়িয়ে পড়েছিল তাদেও শিষ্যদের মাধ্যমে সাধারণ লোকের মাঝে।
ঠিক একই ভাবে চৈতন্য ভাবাদর্শ থেকে সরে এসে এবং তান্ত্রিক সাধনার দিকে না এগিয়ে আউলেচাঁদ গৃহীদের জন্য প্রতিষ্ঠা করেন সহজ ধর্ম যা বৈষ্ণব সহজিয়া থেকে সম্পুর্ণ পৃথক। চৈতন্য মহাপ্রভুর অনুসারীদেও মতই আউলে চাঁদের অনুসারীগণও তাঁর মতাদর্শকে সামনে রেখ এক একটি ঘরানা তৈরী করেছেন যা এক এক জায়গায় এক এক নামে প্রচার ও প্রসার লাভ করেছে। এভাবে রামশরণ কতৃক রপ্রচারিত সহজ ধর্মের নাম হয় কর্তাভজা , ফকির শিবরাম কতৃক প্রচারিত সহজধর্মের নাম হয় ভগবানিয়া। বাংলায় যে সব ধর্ম ও উপধর্ম সম্প্রদায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তাতে শাস্ত্রীয় ধর্মের আধিপত্যবাদী ধর্মীয় চিন্তার বাইওে এসে সাধারণ মানুষের হাজার বছরের লালিত সংস্কারের মধ্য দিয়ে এই উপধর্মগুলো সমৃদ্ধ হয়েছে। বৃহত্তর বাংলায় কোন কালেই শুদ্ধ শাস্ত্রীয় ধর্ম প্রভাব বিস্তার লাভ করতে পারেনি বরং শুদ্ধ একরৈখিক শাস্ত্রীয় ধর্মের ধারা এখানে এসে বিচিত্র লোকসংস্কৃতির সঙ্গে মিলে মিশে লৌকিকধর্মে বিবর্তিত হয়ে গেছে। এভাবেই মূল খ্রিস্ট ধর্ম হয়েছে লৌকিক খ্রিস্ট ধর্ম , মূল ইসলাম ধর্ম হয়েছে লৌকিক ইসলাম। আর শাস্ত্রীয় বৈষ্ণব ধর্মের প্রবেশ করে তান্ত্রিক সাধনার ধারা প্রচার পেয়েছে সহজিয়া বৈষ্ণব ধর্ম বলে। তবে আউলেচাঁদ প্রবর্তীত ধর্মে তন্ত্রাচারের কোন স্থান নেই, এটি গৃহীর ধর্ম। ভক্তরা যেহেতু বিশ্বাস করে যে কর্তাভজা ধর্মের প্রবর্তক যে আউলেচাঁদ সে-ই পুরীধামে অন্তর্হিত শ্রীচৈতন্য আর তাই তাঁর প্রবর্তীত ধর্ম দর্শনে চৈতন্য দর্শন বা মতবাদের প্রভাব থাকা অস্বাভাবিক নয়। একইভাবে একই গুরুর শিষ্য হওযার জন্য শিবরামঠাকুর ও কর্তাবাবা রামশরণ পাল প্রবর্তীত ধর্ম সংস্কারেও কিছু সাদৃশ্য থাকাটাও স্বাভাবিক।

কর্তভজা সম্প্রদায় ভগবানিয়াদের মতোই সমন্বয়বাদী চেতনা লালন করে। উভয় সম্প্রদায়ই আধিপত্যবাদী ধর্মীয় কাঠামো থেকে স্বাধীন ও স্বস্তন্ত্র। কেননা প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের বিপরিতে অবস্থিত লোকধর্ম সাধারনত সমাজ বা গোষ্ঠীর পরম্পরাক্রমে প্রচলিত আচার- বিশ্বাস ও সংস্কারের উপর গুরুত্ব দেয়। এ কারনে কর্তভজা সম্প্রদায়ের যেমন লিখিত শাস্ত্র নেই তেমনি ভগবানিয়াদেরও লিখিত কোন ধর্মগ্রন্থ নেই। কর্তাভজা সম্প্রদায় তাদের শাস্ত্র বলতে বোঝে ‘ভাবের গীত’। দুলালচাঁদ রচিত ‘ভাবের গীত’ থেকেই তারা তাদেও ধর্মীয় নীতি ও অনুশাসন ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করে থাকে।
অন্যদিকে ভগবানিয়াদেরও কর্তভজাদের মতো কোন ধর্মশাস্ত্র নেই, তারাও গানের মাধ্যমে তাদের ধর্মকর্মের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ ও সামাজিক নীতি নির্ধারণ করে থাকে। ভগবানিয়ারা তাদের গানের সংকলনকে পদেরগীত বা সত্য আইন বলে থাকে। ভগবানিযারা যে গান গায় তার রচয়িতা ফকির শিবরাম ঠাকুর। ভগবানিয়ারা তাদের ধর্মীয় উৎসব অনুষ্ঠানে বাদ্যযন্ত্র ছাড়াই সব গান গেয়ে থাকে। পক্ষান্তওে কর্তা ভজা সম্প্রদায় কেবল মাত্র তাদের প্রার্থনা সঙ্গীত ব্যতীত সকল গানে বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করে। এ প্রসঙ্গে গোপাল চন্দ্র সরদার জানান-‘ এদের মধ্যে কর্তাভজা ভগবজ্জনেরা প্রার্থনা সঙ্গীত ছাড়া বাকী সকল প্রকার সঙ্গীত বাদ্যযন্ত্রসহকারে পরিবেশন করে। তবে ভগবানিয়ারা বাদ্যযন্ত্র ছাড়াই সঙ্গীত পরিবেশন করে এবং তার ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করে।’৬
এ থেকে প্রমান হয় যে, কর্তাভজা ভগবজ্জন সম্প্রদায়টি হিন্দু রিচ্যুযালকে বেশি গুরুত্ব দেয় অন্য দিকে ভগবানিয়া মুসলিম রিচ্যুয়াল বেশি অনুসরণ করে বলে সঙ্গীতে বাদ্যযন্ত্রকে তারা পরিহার করেছে।
কর্তাভজা সম্প্রদায় ঈশ্বরকে যেমন মালিক বলে সম্বোধন করে তেমনি ভগবানিয়ারাও ঈশ্বরকে মালিক বলে সম্বোধন করে। উভয় সম্প্রদায়েই ‘খাজনা প্রদান’ রেওয়াজ আছে। রাষ্ট্রে বসবাস করতে গেলে যেমন সরকারকে ট্যাক্স বা কর দিতে হয় তেমনি কর্তাভজা বা ভগবানিয়া সম্প্রদায় তার নিজ দেহে জীবাত্মা বা পরমাত্মার বসবাসের কারণ সরূপ মালিক বা ঈশ^রকে খাজনা দেয়। এ খাজনা তারা তাদেও গুরুকে প্রদান করে থাকে।
কর্তভজা ও ভগবানিয়া সম্প্রদায় গুরুবাদী ধর্ম। উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে হিন্দু গুরুর যেমন মুসলিম শিষ্য আছে তেমনি মুসলিম গুরুরও হিন্দু শিষ্য আছে। এরা গুরুকে মহাশয় বা ঠাকুর বলে থাকে আর শিষদের বলা হয় বরাতি। উভয় সম্প্রদায়েই নারী-পুরুষ নেতৃত্ব সমান ভাবে মান্য করে। উভয় সম্প্রদায়ই মূর্তিপুজা ও আনুষ্ঠানিক যাগযজ্ঞ বিরোধী। উভয় সম্প্রদায়ই ধর্মের বাহ্যিকতা অপেক্ষা আধ্যাত্মিকতাকে অধিক গুরুত্ব দেয়। তাছাড়া তারা কোন বিশেষ ধর্ম সম্প্রদায় ভিত্তিক নির্দিষ্ট বেশভ‚ষা পরিধান করা, কোন ধর্ম সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে শরীরে কোন চিহ্ন ধারণ করার পরিপন্থি।কেননা এগুলো কেবল মানুষে মানুষে ভেদাভেদই সৃষ্টি করে।
কর্তভজা ও ভগবানিয়া সম্প্রদায় কাল্পনিক দেবদেবীর পরিবর্তে মানুষকেই ঠাকুর জ্ঞানে সেবা-পূজা ও ভক্তি-শ্রদ্ধা নিবেদন করে। উভয় ধর্মই মানুষের মাঝে ঈশ্বর বিরাজ করেন এই দর্শন লালন করে।
কর্তাভজারা মৃতদেহ সৎকারের ক্ষেত্রে পরিবেশ পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে। তারা চাইলে মৃতদেহ মাটিতে সমাধিস্থ করতে পারে, শ্মশানে পোড়াতে পারে এমন কি সলীল সমাধি পর্যন্ত দিতে পারে।৭কিন্তু ভগবানিয়া সম্প্রদায় মৃতদেহ মুসলিম রীতিতে সমাধিস্থ করে।
উভয় সম্প্রদায়ই মৃতের বিদেহী আত্মার উদ্দেশ্যে কোন খাদ্য বা পানিয় পরিবেশন করে না। কারণ তারা মনে করে যে- পঞ্চ ভৌতিক দেহ ধারনের মাধ্যমেই জীবাত্মা তার সুখ-দুঃখ, ভালো-মন্দ উভয় কর্ম ফল ভোগ করে। বিদেহী আত্মার এমন পঞ্চ ভৌতিক দেহ থাকে না তাই তার ক্ষুধা-তৃষ্ণা, কাম-ক্রোধ, লোভ-মোহ কিছুই থাকে না। এজন্য বিদেহী আত্মার উদ্দেশ্যে খাদ্য বা পানিয় পরিবেশন করার কোন যৌক্তিক কারণ নেই।
কর্তভজা সম্প্রদায় যেহেতু সনাতন ধর্মের অংশ অর্থাৎ তারা যেহেতু হিন্দু রিচ্যুয়াল কেন্দ্রিক তাই তাদেও মধ্যে বিবাহিত নারীরা হাতে শাঁখা এবং কপালে সিঁদুর ব্যবহার করে। বিধাব নারীরা তা ব্যবহার করে না। এ দিকে ভগবানিয়া সম্প্রদায় সিঁদুরকে খুব গুরুত্বেও সাথে নিলেও শাঁখা ব্যাবহারে তেমন বাধ্যবাধকতা নেই। ভগবানিয়া সম্প্রদায়ের বিধবারা কর্তাভজাদের মতোই শাঁখা সিঁদুর ব্যবহার করে না কিন্তু যেকোন দর্মীয় ওসামাজিক অনুষ্ঠানাদিতে তাদের যোগদানের পূর্ণ অধিকার আছে। চাইলে তারা পূণরায় বিয়েও করতে পারে।
উভয় সম্প্রদায়-ই ধর্মীয় দিন হিসেবে শুক্রবারকে মান্য করে। তারা এই দিনে মালিকের নিকট প্রার্থনাকওে, কর্তাভজারা ভাবেরগীত ও ভগবানিয়ারা পদেরগান গায় এবং তার ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করে থাকে।
তারা আউলেচাঁদের অনুসারী হওয়ার জন্য মুসলিম সংস্কৃতি থেকে সরে আসতে চায়নি। যে কোন লোকধর্ম সম্প্রদায়ের উ™ব¢ ও বিকাশের ক্ষেত্রে শিষ্টধর্মের বিধিনিষেধের কঠোর মনোভাব, শ্রেণিবৈষম্য প্রতিবাদী লোক চৈতন্যে স্থান পেয়ে যায় ফলে জাতপাতহীন উদার ক্ষদ্র ক্ষুদ্র লোকধর্র্মীয় ধারা ও সংস্কৃতির পরম্পরা তাদের সত্বন্ত্র লোকায়ত সংস্কৃতির সাথে মিলে মিশে একাকার হয়ে যায়। বৈষম্যমূলক ব্রাহ্মণ্যবাদের বিপরীতে কর্তাভজা ও ভগবানিয়া ধর্মের আবির্ভাব। এভাবেই চার জাত ও ছত্রিশ বর্ণেও বিরুদ্ধে এই লোকধর্ম সম্পদায় প্রচার করে মানুষের জয়।

ভগবানিয়া ও বৈষ্ণব

এযাবৎকালে কর্তভজা নিয়ে যত গবেষণা হয়েছে বাংলাদেশে কর্তভজার সমজাতীয় ধর্মমত ভগবানিয়া সম্পর্কে কোন গবেষণা নজরে আসে না।
দীনেশ চন্দ্র সেন মনে করেন-
‘বর্তমান কালের বৈষ্ণব ধর্মের বহু শাখা বৌদ্ধমতেরই সাধনা করিতেছে ইহারা ‘সহজিয়া’ ‘কর্তাভজা, ‘রামবল্লভী’ ‘কিশোরীভজক’ প্রভৃতি বহু শ্রেণীতে বিভক্ত। চৈতন্যপ্রভুর নামাঙ্কিত হইয়া মেকী চলিয়া আসিতেছে।’৮

অনেকে কর্তাভজার মতই ভগবানিয়া সম্প্রদায়কে বৈষ্ণব ধর্মের শাখা হিসেবে মনে করেন। মূল কারণ ভগবানিয়া সম্প্রদায়ের আদিপ্রবর্তক আউলচাঁদকে চৈতন্যদেবের সঙ্গে অভিন্ন মনে করে। ধর্মীয় মতবাদের দিক থেকে ভগবানিয়াদের সঙ্গে গৌড়িয় বৈষ্ণব ধর্মেরও কিছু প্রত্যক্ষ সাদৃশ্য রয়েছে। এই দুইটি ধর্মমত-ই প্রেমধর্মের উপর প্রতিষ্ঠিত যেখানে সকল মতের সর্বস্তরে মানুষের প্রবেশাধিকার রয়েছে।

চৈতন্যের নির্দেশ-
চন্ডাল চন্ডাল নয় যদি কৃষ্ণ বোলে
দরিদ্র অধম যদি লয় কৃষ্ণনাম।
সর্বদোষ থাকলে যায় কৃষ্ণ ধাম

অন্যদিকে ভগবানিয়াদের শিবরাম সঙ্গীতে দেখি

কুলমান ফেলে যে জন ভাবের গুন গায়
দয়াল চাঁদের হুকুম আছে
ও সে নিত্যধামে জায়গা পায়।
ভগবানিয়া ভক্ত গেয়ে ওঠে-
মানুষ হয়ে মানুষ মানো
মানুষ হয়ে মানুষ জানো।
মানুষ হয়ে মানুষ চেনো
মানুষর তন ধন
কর সেই মানুষের অন্বেষণ।

এই উদার ও মানবিক আবেদনের জন্যই চৈতন্য সমাজের সাথে অন্তজ ও অবহেলিত মানুষের লোকায়ত উপধর্মগুলো মিলেমিশে এক হয়ে যায়।

তাছাড়া ভবানিয়া সম্প্রদায় গেয়ে ওঠেন-
‘বারে বারে যত লীলে, করে ছিলেন আপ্ত খেলে
এবার কলির শেষে সত্য বরে, পাপী তাপি হয় তারণ,
সত্য ত্রেতা দ্বাপারেতে, যে প্রেম ছিল ভক্তের সাথে-
এখন সেই প্রেমেতে প্রেমিক হয়ে করলেন সুধা বরিশন \

এই গানটি মূলত চৈতন্যদেবের অবতার রূপে খ্যাত
আউলচাঁদকে উদ্দেশ্য করে গেয়ে থাকে ভক্তরা। এটি তাই
আবির্ভাব পদ নামে খ্যাত।

একইভাবে ভগবানিয়ারা ফকির ঠাকুরকে
রামকৃষ্ণ পরম হংসদেব জ্ঞানেও স্মরণ করে থাকে।
“এই কৈবেত এবার করি, ওগো তুমি সহায় থেক বরাবরি।
আর রণেÑবনে যাই যেখানে তোমারই নাম স্মরণ করি,
তোমার এই নামে সুধনি হয়গো যেন,
তুমি থেক রক্ষাকারী।’

একারণেই চট করে গৌড়িয় বৈষ্ণব ধর্মমতের থেকে ভগবানিয়া ধর্মমতকে আলাদা করা মুসকিল হয়ে যায়।

অথচ গৌড়িয় বৈষ্ণব ধর্ম ভারতীয় বৈষ্ণম ধর্মেরই একটি স্বতন্ত্র শাখা। এর অনুসারীরা বিষ্ণুর আরাধনা করে এবং চৈতন্যদেবকে বিষ্ণুর অবতারবাদে বিশ্বাস করে ও স্বীকার করে যা মূল বৈষ্ণবদের থেকে গৌড়িয় বৈষ্ণবদের আলাদা করেছে। কিন্তু ভগবানিয়া প্রতিবাদী-ধর্মমত। যদিও তারা চৈতন্যের সাথে আউল চাঁদের অবতারত্বকে মেনে নেয় এবং চৈতন্যের সাথে নিজেদের যোগসূত্র স্থাপনের চেষ্টা করে তবুও ভগবানিয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে গৌড়ীয় বৈষ্ণবধর্ম সাধনা বা বৈষ্ণবীয় অর্থে রাধাকৃষ্ণের সাধনার গুরুত্ব পায় না। এছাড়া ভগবানিয়া সম্প্রদায়ের পদের গান বা শিবরামের গীত পুস্তকে বৈষ্ণব-সাধনার সক্রিয়তা লক্ষ করা যায় না। কয়েকটি পদে কৃষ্ণের প্রচ্ছন্ন উপস্থিতি থাকলেও তা শেষ পর্যন্ত ভিন্ন তাৎপর্যে ব্যবহৃত হয়। যেমন-
‘আর যত দেখ গুণ নিল সকলি সে দুসে দিল,
বিন্দাবনে নিগুণ মিলে যে মানুষ করেছিল \
আর আহ্লাদ করিয়া তার আলেক নাম কেউ রাখে ছিল,
সেই আলেক ব্রহ্মান্ডের মালেক কাজ তাহারি হাতে রাখিল \

এখানে ফকির ঠাকুর বা আউলেচাঁদের প্রতীক হিসেবে ‘কৃষ্ণ নামটি প্রচ্ছন্ন ভাবে ব্যবহৃত হয়েছে।
ভগবানিয়া ও বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের মধ্যে রয়েছে স্বাতন্ত্র্য। ভগবানিয়া সম্প্রদায়ের ‘শিবরামের গীত’ সত্য ধর্মের সত্য আইন নামে পরিচিত যা তাদের ধর্ম দর্শনের মূল ভিত্তি। তারা শুক্রবার ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করে এবং সেই অনুষ্ঠানে তারা ধর্মীয় সঙ্গীত পরিবেশন করে। অন্যদিকে বৈষ্ণব ধর্ম পুস্তক ভগবানিয়াদের কাছে শ্রদ্ধেয় হলেও তা তাদের ধর্মীয় আচারের সাথে সম্পৃক্ত নয় এবং গৌড়িয় বৈষ্ণব পুরহিতরা ভগবানিয়াদের কাছে আরাধ্যও নয়। বৈষ্ণবদের কাছেও গুরুত্ব পায় না ভগবানিয়াদের ‘সত্য ধর্মের সত্য আইন’ পুস্তকের গান। তারা আউলেচাঁদকে বা তার শিষ্য শিবরাম মোহন বা শিবরাম ঠাকুর বা শিবরাম ফকির বা তার ২২ ফকির সহ অন্যান্য ফকিরকে মহাজন হিসেবে গুরুত্ব দেন না।
বৈষ্ণবদের কাছে শুক্রবারের আলাদা কোন গুরুত্ব বা ভুমিকা নেই।
অতএব একথা নিশ্চয়ই বলা অযৌক্তিক হবে না যে-
বাংলাদেশে ভগবানিয়া সম্প্রদায় লোকায়ত একটি স্বতন্ত্র ধর্ম সম্প্রদায়। বৈষ্ণবদের সাথে কিঞ্চিৎ সাদৃশ্য থাকলেও দুটি ধর্ম দর্শনের মধ্যে বৈসাদৃশ্য অনেক বেশি।

ভগবানিয়া -ইসলাম

ভগবানিয়া সম্প্রদায়ের সাথে ইসলামের ঘনিষ্ঠ যোগসূত্র গবেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেÑএবং এটিই স্বাভাবিক। কেননা ভগবানিয়া সম্প্রদায়ের আদি প্রবর্তক আউলেচাঁদ মুসলিম সুফি সাধক। উলাগগ্রামে তার আবির্ভাবের দিন শুক্রবার এবং ভগবানিয়া সম্প্রদায়ের ধর্মাচারের জন্য নির্দিষ্ট দিন শুক্রবার। এদিন তাদের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ দিন। এছাড়া ভগবানিয়ারা দিনে পাঁচবার গুরুর নাম জপ করে যা ইসলামের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার পড়ার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।।
এছাড়া ভগবানিয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে নারী পুরুষের নাম রাখার ক্ষেত্রে কোন বাছ বিচার নেই। তারা হিন্দুয়ানী নাম বা মুসলমান নাম ব্যবহার করেন। এছাড়া মৃত্যুবিষয়ক সংস্কারের ক্ষেত্রে তারা মুসলিম রীতি অনুসরণ করেন। এ জাতীয় ইসলামী প্রভাব ভগবানিয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে থাকা সত্তে¡ও বাংলাদেশে ভগবানিয়া ধর্মমত ও ইসলামী ধর্ম সাধনা এক নয়। ভগবানিয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে বিবাহ সংস্কার সাধিত হয় পুরো হিন্দু রীতিতে আবার তারা নামাজ, রোজা কোনটাই করেন না। কোরানের কোন অংশের সাথে তাদের সম্পৃক্ততা নেই। এমন কি সুফি মতাদর্শের ইসলামের সাথে ‘ঈশ্বর প্রেম’ ছাড়া আর কোনো বিষয় সাদৃশ্য নেই। আউলেচাঁদ বাংলাদেশে শিবরাম ঠাকুরের মাধ্যমে যে ভগবানিয়া ধর্ম প্রবর্তন করে তা একটি লোকায়ত ধর্ম।

 

ভগবানিয়া বাউল

ভগবানিয়া সম্প্রদায়ের সাথে বাউল সম্প্রদায়ের উদ্ভব বিষয়ে মিল খুঁজে পাওয়া যায়। এ দুটি সম্প্রদায়ই কিংবদন্তি সূত্রে নিজেদের চৈতন্যদেবের সঙ্গে সংযুক্ত করে থাকেন। ভগবানিয়াদের মত বাউলরা মনে করেন তাদের আদি প্রবর্তক শ্রীচৈতন্যদেব। তাঁরা এক্ষেত্রে অদ্বৈতাচার্যের প্রহেলিকা ও শ্রীচৈতন্যের সহজ লীলা প্রসঙ্গে উদ্ধৃতি করেন।
ড. আহম্মদ শরীফ মনে করেন-
‘চৈতন্যদেবের একটি গুহ্য সাধন প্রণালী ছিল, এই সাধনা ছিল পরকীয়া মৈথুনাত্বক। রূপ, সনাতন, নিত্যনন্দ, জীব প্রমুখ বৈষ্ণব সাধকগণের পরকীয়া সঙ্গিনী ছিল। চৈতন্যদেব স্বয়ং মুসলমান আউল চাঁদ রূপে পুনরাবির্ভুত হয়ে এই সাধন প্রণালী সাধারণের মধ্যে প্রচার করেন।’৯
‘উপর্যুক্ত উদ্ধৃতি থেকে ভগবানিয়া ও বাউল এই দুই সম্প্রদায়ের আদি প্রবর্তক হয়ে দাঁড়ান আউলেচাঁদ। অর্থাৎ ভগবানিয়া সম্প্রদায়ের মত বাউল সম্প্রদায়ের আদি পুরুষ আউলেচাঁদ। কিন্তু ক্ষেত্রসমীক্ষা দেখা যায়Ñবাউলদের দুই ধরনের সাধনারীতি অর্থাৎ গৃহী ও বিবাগী থাকলেও ভগবানিয়াদের ক্ষেত্রে একটিমাত্র আচরণীয় ধর্ম রীতি তা হলো গৃহীধর্ম। কোনরকম বামাচারের সুযোগ সেখানে নেই।
এছাড়া বাউলদের কতগুলো বাহ্যিক চিহ্ন রয়েছে ‘এ সম্প্রদায়ীরা .. ..তিলক ও মালা ধারন করে এবং ঔ মালার মধ্যে স্ফটিক, প্রবাল, পদ্মবীজ রুদ্রাক্ষ প্রভৃতি অন্যান্য বস্তুও বিনিবেশিত করিয়া রাখে। ডোর কৌপীস ও বহির্বাস ধারণ করে এবং গাত্রে খেল্কা, পিরাণ অথবা আলকেল্লা দিয়া ও ঝুলি, লাঠি ও কিস্তি সঙ্গে লইয়া ভিক্ষা করিতে যায়।…মস্তকের কেশ উন্নত করিয়া একটি ধাম্মল্ল বাঁধিয়া রাখে।’১০(রতন, পৃ: ১০৩)
যা-হোক মোটকথা বাউলদের বহিধামে বিশেষ স্বাতন্ত্র থাকবেই কিন্তু ভগবানিয়াদের কোন নির্দিষ্ট বাহ্য লক্ষণ নেই যা দেখে বোঝা যাবে যে সে ভগবানিয়া। বাউল সাধন-পদ্ধতির সাথে ভগবানিয়া সম্প্রদায়ের সাধন-পদ্ধতির কেন মিল নেই। ভগবানিয়া সম্প্রদায় গুরু নির্দেশিত আচার আচরণ ও বিধি নিষেধ গুলোই কেবল মেনে চলে। অন্য দিকে বাউলরা, প্রকৃতি পুরুষ সাধনা, চার চন্দ্রের সাধনা এরূপ দেহ সাধনার বিভিন্ন পর্যায় অতিক্রম করে ……..’ । আবার বাউলরা ভগবানিয়া সম্প্রদায়ের পদের গানকে সত্য ধর্মের সত্য আইন বলে মনে করেন না।
তা সত্তে¡ও বাউলদের মানবতাবতাবাদী বক্তিমূলক গীতি ভগবানিয়াদের কাছে মান্যতা পেয়ে যায়। ফকির ঠাকুরকে নিয়ে লেখা সতীমা বা দুলাল চাঁদকে নিয়ে রচিত গান ও ভগবানিরা সম্প্রদায় মহাজনী পদরূপে গৃহিত হতে পারে। মানবতা প্রেমের বাণী লোকায়ত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের জন্য উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সাদৃশ্য লক্ষ করা গেলেও ভগবানিয়া ও বাউল দুটি আলাদা লোকধর্ম সম্প্রদায় হিসেবেই বিবেচিত হবে।

 

 

তথ্যসূত্র:
১. রতনকুমারনন্দী, কর্তভজা ধর্ম ও সাহিত্য, পৃ: ৪৯।
২. সিরাজুল ইসলাম, বাংলাপিডিয়া ১ম ও ২য় খন্ড।
৩. গোপাল চন্দ্র সরদার, কর্তাভজা সম্প্রদায়: একটি তাত্তি¦ক বিশ্লেষণ, রিডিং ক্লাব, ৬২ তম গণবক্তৃতা।
৪. প্রাগুক্ত।
৫. প্রাগুক্ত
৬. প্রাগুক্ত।
৭. প্রাগুক্ত।
৮. রতনকুমার নন্দী, প্রাগুক্ত, পৃ: ৯৮।
৯. প্রাগুক্ত, পৃ: ১০১।
১০. প্রাগুক্ত, পৃ: ১০৩।

 

 

 

 

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত