সাজ্জাদ সাঈফের মা’কে লেখা কবিতা

মা আমার চেহারা ভেবে

জিয়ল মাছের পাতিল দেখিয়ে মা বলা কথা কানে বাজে আমারতোর বাপ আনছে তোর আওয়ার কথা হুইনা, কতদিন পর আইলি এইবার তুই, রোগা হৈয়া গেছত বাবা!

মা আমার শতমুখী ফুলের বাগান, মা আমার চেহারা ভেবে কত না আহত হন মনে, ধূসর বলাকা ডেকে ডেকে ক্লান্ত যেন তার সন্তানেরে সারা আসমানে; কত ফুল জলে ভেসে যায়, ঝড়ের আঘাত নিয়ে শতমুখী ফুলের বাগানে!

 

 

 

.

আসতেছি মা

ঘাড় বাঁকানো হাঁসের ছায়ায়, স্মৃতির কলস, জল ভরে যায়,

জল ক্ষয়ে যায়, দুই কিনারায়, ভরছে নদীর শ্যামলবিথী;

মসুর ডালের খেত ভাসিয়ে, বৃষ্টি হলো নাকি?

তোমার ভুবন শীতলপাটির, ফুল তোলা হাত, ছুঁইছে নাকি!

ডাকছে নাকি বাঁশবাগানে, হুতোম পেঁচা, খুব নিরালায়!

আসছি আমি নগর বেয়ে, দ্বিতল বাসের হাতল বেয়ে, ভাতপাতিলের

মাড়ের মতো উপচে পড়া সূর্যালোকে, স্মৃতির ভিতর ঢুকছি আবার

ডানে সিঁথির কিশোর চুলে, হাত তুলে ডাকতেছে মা

ব্রক্ষ্ম তিলক আঁকতেছে মা, কপাল ধরে খোকার!

 

.

 

হোস্ট

ঘুরে দেখি এক বিষণ্ণ মোমবাতি

আলো জ্বেলে রেখে দাঁড়িয়ে আছেন মা, কি এমনতর অগ্নিভাষ্য মায়ের! কি যে ঢেউ ওঠে! কি যে শোর, বাতাসের!

হরতন ফেলে কোনদিকে গেলে মাঝি

এ নদী বিশাল? এ নদীর তুলা রাশি!

কাছ থেকে দেখি, কানের দুলে লেগে

বাঁক নেয় হাওয়া, মা’কে ঘিরে সেও বাঁশি!

পাখিবর্জিত বনের চাহনী মায়ের

চারপাশে তার কাতর হচ্ছে নদী;

মা বুঝি’বা নদীর ভিতর গভীর

কোনো গান-স্মৃতি, কোনো প্রার্থনা-বেদী;

ঘুরে দেখি মা, নির্ঘুম ল্যাম্পপোস্ট;

সারা রাত আলো, সারা বাড়ি চমকালো-

আমার গায়ে ফুলছায়া, সাদা-কালো;

জীবন, খেলা; মা, খেলাটার হোস্ট!

 

 

.

মায়ের বয়স

একটি সাদা চুল পরে আছে মায়ের বালিশে, বিকালের আলো মুখে নিয়ে জ্বলজ্বল করছে ঘর-
একইভাবে মায়ের বয়স হওয়া দেখতে দেখতে বালিশের নিচেই রেখে দেই সেই চুল, মা আমার ঘুমাতে গেলেই যেন গতকালকের ঝরা চুলের বয়স ছুঁয়ে থাকে মাকে!

কি যে ভয় পাই মাঝেমাঝে, কোনও গন্তব্য জুটাতে পারি নাই বলে মায়ের অপেক্ষাগুলো গজকচ্ছপের মত ভিড় করে অন্বিষ্ট আয়ুর ভিতর!

জলের প্রবাহ নিয়ে সারাদিন একটি কূপ দাঁড়িয়ে থাকে বোধে, গভীর হয় মায়ের দৃষ্টি, এলাকার পাখিগুলা হীরণ্য সূর্যের আলো পেয়ে ওড়ে৷

 

.

মা

একদিন হেমন্তফুল এনে দিবো মা, তোমার শিয়রে;

হৃদয়ের উপর থেকে সব ধুলা, সব অভিসম্পাত আর করুণাপিষ্ট

কবিতার লাইন, সব ঝেরে মুছে সাফ করে দিবো, এরকম ভাবি;

তুমি কিনা জেনেই গিয়েছো সব, সব বিধি বিধান

সব নীতি নিদান, সব খুশখুশে কাশির নিয়তি আমার!

তবু দেখো

আমার অভ্যন্তর

কি রকম ঘন কুয়াশায় ঢাকা

পাতার ওপর ভিজছে পাতা, পানের বরজ;

নদী নাগিন ফুলে ফেঁপে ওঠে অস্তিত্বের রাগে!

কালো হয়ে যাওয়া সবুজ মসের দেয়াল

ধরে ধরে উঠে যাবো মা

তোমার শিয়রধারে;

স্মৃতিবিজড়িত কোরান পড়ে

শোনাব তোমায়, তারপর!

 

.

প্রচ্ছদ কৃতজ্ঞতাঃ সমর মজুমদার

 

 

 

 

 

One thought on “সাজ্জাদ সাঈফের মা’কে লেখা কবিতা

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত