মাধবী সিরাপ

১০.

মাধবী শুয়ে আছে। তার হাতে সিরাপের প্রণালী, বেশ নীল। মধবীর নীল, এবার  স্পর্শক। চলো ছুঁয়ে আসি ঐ নীলসমুদ্র বার্বাডোজের। অনেক দূরে, দূরেই তো মাধবী সিরাপের পিঠ। পিঠে আঠালো সূর্যোদয়। উদয়ের আগে যা ‘ভাটিয়ার’ আর ‘ললিত’-এর সীমান্তে খুলছিল, আর দুলছিল রোপওয়ে সেই মেরুহাড়ের রাস্তায়, বিনুনিয়া চুল মাধবীর। ভোর, ভোর রাত, সারারাতের ফোটা আর ফোঁটায় হুক খোলার অপেক্ষা। ভিভিয়ান রিচার্ডস নামছে। মাধবী ঘুমায়ে…

##

১১.

মাধবী-সিরাপে গুগলের পা আর টুটুলেরও পা। দুজনেই লাইন মারতো, জানতো না যে একটা গানও আছে, হে মাধবী দ্বিধা কেন

##

বন্ধুদের ভেতরে মাধবী ছিল, ‘ব্রেক-শ্যু’ও  মেনে নিত ছিল, আচমকা মারার সময়। সাইকেল, বিকেলের পাটায় তখন। মাধবী কোথায় যেন যাচ্ছে, সঙ্গে পুরো রাস্তা। পুরো ছায়াবীথি। সংক্ষিপ্ত মাধবী, তার অবহেলানো দুপাট্টায় নিরুদ্দেশ বিবাগী পাখির থেকে নেয়া। গুগল আর টুটুল ভেবেছিল নাকি ভাবে নি, যে সংক্ষেপ মানেই সারাংশ নয়..

##

সিরাপ বানানো ছিল মাধবীর নেশা, যারা যারা মাতাল হত, তাদেরই দুজন হত গুগল, টুটুল। তারা টলতো না। বলতো না। রাইফেলের নল বের করতো না। ভালবাসার জন্য তারা খুব ভাবতো, এরকমও ভাবতো যে সংক্ষেপ হল চাহিদা আর সারাংশ হল যোগান। মাধবী তাহলে কি? এই দ্বিধা ছিল তাদের, শুধু গানটা তারা জানতো না। খুব সহজে তারা লুম্পেন হয়ে গেল

##

১৬ অগাস্ট নাকি ২৭ জানুয়ারি, কবে যেন?

##

১২.

মাধবীরও বাড়ি আছে। এমনকি হলদেটে একটা বর। ওরা দুজনে একসঙ্গে থাকে কিন্তু গায়না। ‘হে মাধবী দ্বিধা কেন’, কক্ষনো না। আড়ালে হয়ত অমিত সিরাপ হলে লাবণ্য মাধবী।বরের নীলরঙা সাইকেল, কেরিয়ারে ‘লালছড়ি’ মাধবী। সত্তরের দেয়ালে লেখা, জাগো জাগো সর্বহারা…লেখাটা পাশে পাশে যায়।

##

সিরাপ, আত্মগোপনকারী। সিরাপই বুটের শব্দ। ভয়কাড়া শব্দে সিরাপেই নূপুর ঢোকে।নূপুর, পায়ের পাতা, বিলিবিলোনো ঘাস কি যে অনুপাতিক। ঝুঁকে থাকার এই অজুহাতে চরিত্র ঘামে, ‘কান্তা সেন্ট’ নার্ভাস হয়, পাতাগুলো মোহিনীঅট্টমে যেতে যেতে একেকটা আঙুলে পেস্তাবাদাম, নখ।

##

সিরাপ নলের সখা, ক্ষমতা রাইফেলের। সিরাপই ‘নলিনী’ সেই আঁখিছাঁকা টেগোর ছোকরার। রেউরে রেউরে মুসু মুসু হাসি, মাধবীর। বাড়ি হয় সিরাপঘেঁসা। মাধবীর বর টিশার্ট কেনে। বেশ লাল। ‘প্রিয়া’ স্কুটার আসে। দুজনে আবার বেরোয়।হাঁস তো! শাদা, ‘বাজাজ প্রিয়া’। প্যাঁক প্যাঁক প্যাঁক প্যাঁক, তৈরি হয় আজব সিরাপ। হংসধ্বনি..

##

গান গায়, দ্বিধাহীন মাধবী। আজ ফির জিনে কি তমান্না হ্যায়, মাধবীর বর বোতলে ঢালতে থাকে। হাসে।

১৩.

কিছুটা গড়িয়ে যায়। যায় না, যেতে হয় সূর্যকে। বাসি রোদ, ‘চালশে’ যেমন। আবছা। মাধবীর ঠেকে বিকেল তখন ঝিমোনো সিরাপ। ধূসর যখন হয়, তখন আউৎসভিচে পোড়ানো হচ্ছিল বারোশো লিঙ্গ, দেড়হাজার যোনী। হাড় ফাটছিল, তার রঙ, ধূসরতা। মাধবী আজ একটা সুর মেশাবে। অশ্রুনদীর, সজল নদের। নদী পেরিয়ে যে ছেলে আর মেয়েটা আসছে, তাদের দেবে। তারা হয়ত আরো গভীর হবে। অজানতেই তারা দুজনে রঙ হবে ধূসরতার। অন্য রঙে চলে যাবে মাধবীর গ্রীবাহারা দিন, যখন ছেলেটা হেসে উঠবে। মেয়েটা বলবে, বাস আসছে।

মাধবীও দেখে আসছে, সিরাপে আবার সন্ধ্যা। আর সেই কলার-উঁচু লোকটা, যে সিরাপ কেনেনা। তাকায়না মাধবীর দিকে….

১৪.

ফের, আবার, মাধবী। রুমালই যখন বাহানা, কুড়িয়ে দেয়া তো ক্রিয়া হবেই, শুক্রিয়াও হবে। ইস্পাহানি ছুরি লাগে, যখন সিরাপ বানায়, রুমালে মুখ মুছলেই ঘাম গর্জন-তেল হয়ে ওঠে। সিরাপ আলাদা, তেল আলাদা, শিশিতে। আবার মাধবী  মাধবীরই কারও জন্য ভারী হয়ে ওঠে, কেমন আছে রে এখন? বলে বাষ্পীয় মাধবী। ফের আমিও হাত দিই, সিরাপের শিউরে ওঠাও এত কাচ কাচ, মনে হয় ভেঙে যাবে, মাধবীর কিছুটা। লতার অংশে, ডালপালার সান্নিধ্যে, মিক্সির ঝটকায় মাধবীর কি যে হয়, ব’লে ওঠে লড়াই লড়াই লড়াই চাই

##

আঁচ সিরাপেও এবার, আঁচৈতি সিরাপ এবার, মাধবী ঘাম মোছে না, গড়াতে দেয়..

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত