তিস্তা

 

১.
এরপর আর কোনো জনপদ নেই এখানে
এরপর আর কোনো রঙবদল নেই মনের
শুধু নির্বান্ধব আকাশ জুড়ে
কারা যেন নীল গুলেছে গামলাময়।
এখানে পাতার উপর পাতা সাজিয়ে সাজিয়ে
একটা বিছানা পাততে চেয়েছিলাম
উপন্যাস লিখে ফেলেছি ভুলবশত।
তিস্তা যে একটা নদী সেটা তখনই জানলাম,
যখন সে বলল
–এই যে মশাই, বেশি দূর হাত ডুবিও না কিন্তু। 
আস্তিন ভিজে যাবে।
আমি বললাম– ভিজলে ভিজুক।
সে বলল
–তোমার বৌএর শাপে মরুভূমি হয়ে যাই যদি!
এরপর আর কোনো কথা হয়নি আমাদের।

২.

আমি চিন্তা করে দেখলাম তিস্তা যদি নদী না হোতো
তাহলে ও হয়তো রাজনর্তকীও হতে পারতো
শরীরের প্রতিটি তরঙ্গ ছলকে উঠতো রঙিন পেয়ালার গায়ে
আর আমি নাচমহলে গাইয়েদের দলে
মিশে গিয়ে তারসানাই বাজাতাম একমনে
তারসানাইএর সুর তো আসলে একটা কান্নাই বলো।
ভেবে দেখলাম তিস্তা যদি নদী না হোতো
তাহলে হয়তো এই দুর্ভেদ্য বনানীর ভিতর
যাবতীয় সম্ভ্রম হারিয়ে এভাবে তাকে বস্ত্রহীন হতে হোতো না।
আমি চিন্তা করে দেখলাম তিস্তা যদি নদী না হোতো
তাহলে….

 ৩.

নৈঃশব্দের গভীরতা মাপতে গিয়ে একটি অরণ্যের ভিতর হারিয়ে যাচ্ছি ক্রমশ। এবং এযাবৎ আমি পাখিদের ভাষা বুঝতে শিখেছি বলে শুধু একটা ভ্রান্তি পুষে রেখেছিলাম। ওরা আসলে কোনদিনই চাইনি আমি ফিরে যাই, আমরা ফিরে যাই। সেই যে একটা ভিজে রেলগাড়ি এসে উগরে দিয়েছিল ভিড়। আমিও ছিলাম তাদের একজন। আর আমার পাশের সিটে বসা মেয়েটি। সে চাকরির ইন্টার্ভিউ দেবে বলে এসেছিল এখানে। তারপর স্টেশনমাস্টার আমাদের আর কোনো খোঁজ নেয়নি। শুধু একজন অঙ্কের স্যর লতাগুল্ম পরিহিত, আমাদের হাতে একটা করে গ্রাফ পেপার ধরিয়ে বলেছিল -এখন থেকে নৈশব্দ ভার্সেস গভীরতা প্লট করতে হবে তোমাদের। আর যেদিন দুজনের সরলরেখা সমাপতিত সেদিন এসে এটা জমা দিয়ে যেও। দেখলাম মেয়েটি অবাক বিস্ময়ে গ্রাফ পেপার হাতে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। মেয়েটিকে অনেকটা তিস্তার মত দেখতে।

৪.
ঘামে ভেজা পশমের উপর জেগে  উঠেছিল আদিম ট্যাটুর ভাষা। সে এক গোপনরাত্রি। যেন নোয়ার হাত ধরে নেমে আসা লুকানো মেঘরাশি। এই জনহীন গিরিপথে ঘুরতে ঘুরতে একদিন আমায় সমতলের রাস্তা জিজ্ঞাসা করলো। আর দলের সবচেয়ে লাজুক মেয়েটিকে সেদিন আমি সংকল্প করেছিলাম।  সে হঠাৎ একদিন লোকাল ট্রেনে আমার সামনাসামনি। কাঁধের ট্যাটুর দিকে তাকাতেই হেসে বলল –আপনার চোখদুটি আজও একই রকম আছে।

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত