অন্ধ পালক

‘এ-কোন সকাল রাতের চেয়ে অন্ধকার… ‘
কখনো কখনো সকালগুলো এভাবেই আলকাতরায় আপাদমস্তক ডুবে থাকে। আসলে আলোর নামে আমরা পার করে চলি একটার পর একটা নির্ভুল অন্ধকার ! যখন সম্বিত ফেরে,তখন হোঁচটে -হিসেবে নয় -ছয়! নয় আর ছয়, চিরপরিচিত সংখ্যাযুগলকে পাশাপাশি নিতে নিতে ফ্লাইওভার পেরিয়ে যায় অন্ধ-পালক। পালক আবার অন্ধ হয় নাকি? হয়। হয়। হতে হয়। পালক পালকি থেকে পড়ে গেলেই হারায়।
কী? চোখ নয়, বালাইষাট, চোখ নয়।শুধুই দৃষ্টি! সাথে শক্তিও। চোখ যথাস্থানে যথাযোগ্য আকৃতি নিয়ে, মেজাজে হুঁকোর পাইপ ঠোঁটে রাখে আর গড়্গড় শব্দে ফুসফুস টেনে নেন তিনকাল -তিনতাল। সামনে খবরের কাগজ। বলি, আমি আশ্চর্য হয়ে যাই, অক্ষরগুলোর কি ঘর-দোরে শুয়ে থাকা ছাড়া আর কাজ -টাজ নেই নাকি! সবসময় চিৎ হয়ে, পাশ-ফিরে শুধুই শুয়ে থাকা! আর নির্লজ্জের মতো সে-শোয়ার গন্ধ নিই,অনুবাদ করি আমরা!
তারপর, সারাক্ষণ শুধু সেসব মাথা-মুণ্ডুতে ঢুকিয়ে রাখা… আর সুযোগ পেলেই ওইসব। কেনবাপু, কী দরকার ছিল ওকে পালকিতে চাপানোর? তা, ও-তো কতকীরই ইচ্ছে প্রকাশ করতেইই পারে, তাইবলে!? ক’টা বলতো সত্যি সত্যি পেরেছো? কথায় কথায় মল্লিকাবনের প্রথম কুঁড়িটা নিয়ে টানাটানি করে থার্ড ল’ অব নিউটন আওড়ালেই হবে না, তার বাইরেও অনেককিছু থেকেই যায়! ল’ মেনে জীবন!? ও মধুমিতাদি, তোমার সকালের ‘ গুডমর্নিং ‘ পোস্ট! এইখানে হৃদয়ও খঞ্জ ভিখিরি!
শুধুই ব্ল্যাক আন্ড হোয়াইট হেলমেট!! ভিখিরির পৌঁছুতে পৌঁছুতে রাত কে যেন ইরেজার দিয়ে মুছে দেয়! কিন্তু খঞ্জ ভিখিরি এসে পৌঁছোয়নি বলে, আবার কে যেন কালো রং ফিল করে দেয় মাউসের এক-ক্লিকে! কারণ, সেই ভিখিরির কাছে ‘ হৃদয়’ আছে… অপেক্ষা তো করতেইই হবে! অন্ধ পালক এসে দাঁড়ায় ভিখিরির কাছে। কাঁধ থেকে গলাসহ আস্ত হেলমেট ভিখিরি খোয়াইয়ের জলে ভাসিয়ে দেয়।
কতগুলো চেনা হাড় ভেসে যায়… খঞ্জ ভিখিরি দু’হাতে পালকটিকে বুনে দেয়, তার দু’কাধের মাঝে… মিনিট দু-একের মধ্যেই পালকটি হঠাৎ ভেজা গলায় চিৎকার করে ওঠে – আমি আবার সব দেখতে পারছি! আমি এ-পৃথিবীর সেরা সুখী! মিনিট দু-এক যেতে না-যেতেই পালকটি চুপ হয়ে যায়। ভিখিরি তাকে বলে – চলো আমার হৃদয় নিয়ে আমার কাঁধবাগানের পালক-গাছ, তোমাকে সারা পৃথিবী ঘুরিয়ে আনি… চলো! পালকটি চুপ। আবারও বললো ভিখিরি, পালক আবারও চুপ। কিছুক্ষণ পর পালক বুজে আসা গলায় বললো- আমি কিচ্ছুটি দেখতে চাই না! তুমি আমার দৃষ্টি নিয়ে নাও। দেখার চেয়ে না-দেখাই ঢের ভালো… ঢের ভালো… ঢের..

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত