ভিনুর মানকাডিং আউট

সোমবার রাতে আইপিএলের ম্যাচে রাজস্থান রয়ালসের ব্যাটসম্যান জশ বাটলারের আউট নিয়ে ক্রিকেট দুনিয়া শুরু হয়েছে হৈচৈ। এদিন কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের বোলার রবি চন্দন অশ্বিন বোলিংয়ের সময় ননস্ট্রাইকিং প্রান্তের ব্যাটসম্যান বাটলারকে আউট করেন। বোলার বল ডেলিভারি দেয়ার আগেই বাটলার ক্রিজ থেকে কিছুটা বেড়িয়ে যান। এটা দেখে বল না ছুড়ে স্ট্যাম্প ভেঙে দেন অশ্বিন। ক্রিকেট আইনে এটি বৈধ আউট হলেও অনেকে বলেন এই আউট ক্রিকেটের স্পোর্টি স্পিরিটের সাথে যায় না।

এটিকে বলা হয় নাম মানকাডিং আউট। ভারতীয় ক্রিকেটার ভিনু মানকড়ের(vinoo mankad) নামানুষারে আউটটির নামকরণ হয়েছে।
কোনও ব্যাটসম্যান নন-স্ট্রাইকার প্রান্তে থাকাকালীন বোলারের ডেলিভারির আগে যদি ক্রিজ থেকে বেরিয়ে যান, তখনই মানকাডিংয়ের প্রসঙ্গে উঠতে পারে। কারণ সেই মুহূর্তে বোলার বল দিয়ে স্ট্যাম্প ভেঙে দিলেই ওই ব্যাটসম্যান আউট হয়ে যান। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে নন-স্ট্রাইকার এন্ডে থাকা ব্যাটসম্যানদেরই এই প্রবণতা বেশি দেখা যায়। রান নেওয়ার জন্য সদা প্রস্তুত থাকেন তারা। স্ট্রাইকার ইশারা করলেই দৌড় লাগান।



ইংল্যান্ডের ম্যারিলেবোন ক্রিকেট ক্লাবে (এমসিসি) রয়েছে ক্রিকেটের রুলবুক। যেখানে স্পষ্ট ভাষায় লেখা রয়েছে, নন-স্ট্রাইকার প্রান্তের ব্যাটসম্যান যদি বল ডেলিভারির আগেই ক্রিজ ছাড়েন, তবে সাধারণত বোলার বলটি ডেলিভার করে দেন। তবে এক্ষেত্রে ওই ব্যাটসম্যানকে রান আউট করার অনুমতিও রয়েছে বোলারের। বোলারের চেষ্টা সফল হোক বা ব্যর্থ, সেই বলকে ওভারের একটি ডেলিভারি হিসেবে ধরা হবে না। যদি বোলার আউট করতে ব্যর্থ হন, তবে আম্পায়ার সঙ্গে সঙ্গে ডেড বলের সঙ্কেত দেন করতে পারেন।

তবে ২০১৭ সালে এই আইনে কিছুটা পরিবর্তন আনে এমসিসি। নতুন নিয়মে আরও খানিকটা ছাড় দেওয়া হয় বোলারকেই। এর আগে ডেলিভারির জন্য বোলারের দৌড়ের সময়ের মধ্যেই নন-স্ট্রাইকিং প্রান্তের ব্যাটসম্যানকে আউট করা যেত; কিন্তু পরিবর্তিত নিয়ম অনুযায়ী, বোলার যদি ডেলিভারির জন্য খানিকটা হাত ঘুরিয়েও ফেলেন, তারপরও রান আউটের সুযোগ পাবেন তিনি। আসলে ব্যাটসম্যানকে সতর্ক করতেই ৪১.১৬ ধারার আইনে বদল আনা হয়েছিল;

নামকরণ
ঘটনা ১৯৪৭ সালের ১৩ ডিসেম্বরের। প্রথমবার বাইশ গজে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে এই ঘটনা ঘটিয়েছিলেন ভিনু মানকড়। নন-স্ট্রাইকার প্রান্তে থাকা বিল ব্রাউনকে এই ভঙ্গিতেই আউট করেছিলেন ভিনু। সেই সময় অস্ট্রেলীয় সংবাদমাধ্যমের কড়া সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল তাকে। তবে এমন পরিস্থিতিতে অজি অধিনায়ক ডন ব্র্যাডম্যানকে পাশে পেয়েছিলেন মানকড়। ব্র্যাডম্যানও বলেছিলেন, এক্ষেত্রে স্পোর্টসম্যান স্পিরিটের প্রশ্ন ওঠার কোনও মানে নেই। ক্রিকেটের রুলবুকেই এই নিয়ম স্পষ্ট উল্লেখ করা আছে।



এত বছর পর একই ঘটনা ঘটিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের সমালোচনার মুখে পড়লেন অশ্বিন। কিন্তু তিনিও নিজের আচরণে অনুতপ্ত নন। তার দাবি, তিনি নিয়মভঙ্গ করেননি। তিনি ম্যাচ জিততে মাঠে নেমেছেন, আর তাই আউট করে ম্যাচ জেতায় দোষের কিছু দেখছেন না এই ভারতীয় স্পিনার।

২০০৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মুলতান টেস্টে একই ধরেন ঘটনায় পাকিস্তানের ব্যাটসম্যান ওমর গুলকে আউট করার সুযোগ পেয়েও করেননি বাংলাদেশী স্পিনার মোহাম্মদ রফিক। তিনি বল করা থামিয়ে গুলকে সতর্ক করে দেন। ওই সময় গুলকে আউট করে দিলে বাংলাদেশ হয়তো এই টেস্ট জিতে যেত। কিন্তু রফিক স্পোর্টি স্পিরিটের বাইরে যাননি। সেই ঘটনায় বিশ্ব ক্রিকেটে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছিলেন রফিক।

১৯৮৭ বিশ্বকাপে নক আউট ম্যাচে পাকিস্তানের সেলিম জাফরকে ম্যানক্যাডিং আউট করার সহজ সুযোগ পেয়েও ছেড়ে দিয়েছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসার ও বর্তমানে বাংলাদেশের বোলিং কোন কোর্টনি ওয়ালশ। সেদিন ব্যাটসম্যানকে ক্রিজে ফিরে আসার অনুরোধ করেছিলেন তিনি। সে মুহূর্তে উইকেটটা খুব দরকার ছিলো ওয়েস্ট ইন্ডিজের । খেলাটা হয়েছিলো পাকিস্তানের লাহোরে। দূর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি যে সেই ম্যাচে হেরে গিয়ে বিশ্বকাপ থেকে ঝরে পড়েছিলো হট ফেভারিট ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে ক্রিকেটপ্রেমীদের মন জিতে নিয়েছিলেন ওয়ালশ।

 

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত